Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

ক্ষুদে লেখক



ফারস হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুটে ভীষণ আনন্দ অনুভূতি


॥ ওয়াসির হেলাল ॥
৫ম শ্রেণি, সহজপাঠ স্কুল, ঢাকা

বাবার সঙ্গে কিছুদিন আগে আমি ফারস হোটেলে গিয়েছিলাম। এ হোটেলটি বাবার অফিসের খুব কাছে। আমার বাবার অফিস হচ্ছে জাতীয় প্রেসক্লাবের কাছে, বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিপরীতে, ৩৩ তোপখানা রোড তেরো তলায়। এটি বাবার নিজস্ব অফিস। সেখানে ক্যাম্পাস সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার অফিস। বাবা ক্যাম্পাস সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর মহাসচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক। তাছাড়া বাবার আরেক প্রতিষ্ঠিত লক্ষ্মীপুর বার্তা’র অফিসও এখানে। লাইব্রেরি, নিজস্ব অডিটোরিয়াম ও সাউন্ড সিস্টেমসহ সবকিছুই আছে বাবার অফিসে। এমনকি দেড়শ জনের খাবার আয়োজনের ক্রোকারিজ, চেয়ার-টেবিল ইত্যাকার ব্যবস্থাও আছে এখানে। এত্তকিছুতে ভরা এসব প্রতিষ্ঠান বাবার নিজের হাতে গড়া। বাবার অফিস থেকে একটু সামনে পল্টন, আর পল্টন থেকে আরেকটু সামনে বিজয়নগর রোডে ফারস হোটেল। বাবার অফিসে আসা-যাওয়ার পথে হওয়ায় ফারস হোটেলটা দেখার ইচ্ছে আমার অনেক আগে থেকেই ছিল। তাই ১ মার্চ ২০২০ হঠাৎ করে বাবা যখন ফারস হোটেলে আমাকে নিয়ে থাকার কথা বললেন, তখন আমার আনন্দ আর ধরে না!

ঐদিন বিকেলবেলা আমি বাবার অফিসে যাই এবং বাবার অফিস থেকে ফারস হোটেলে যাই। আমাদের সঙ্গে বাবার বন্ধু ড. খ ম কামাল আঙ্কেলও ছিলেন। কামাল আঙ্কেল লন্ডনে থাকেন। তিনি মাত্র ৫ দিনের জন্যে বাংলাদেশে এসে একদিন আমাদের সাথে ফারস হোটেলে থেকেছেন। বাবা আমাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্যে বলেন তুমি যেহেতু সব জায়গায় ভিভিআইপি হয়ে বাবার সাথে থাকতে চাও, তাই এখানেও তোমার জন্যে সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ স্যুট বুকিং দিয়েছি; যার নাম প্রেসিডেন্ট স্যুট। ফারস হোটেলটি ফোর স্টার। হোটেলের বাইরের দিকটা যত সুন্দর, ভেতরটা আরো বেশি আকর্ষণীয়। চারিদিক খুবই ঝকঝকে তকতকে; লেটেস্ট ফার্নিচার ও বাথরুম ফিটিংস; আর খুব সুন্দর করে সাজানো-গোছানো।

আমরা চেক-ইন সেরে প্রেসিডেন্ট স্যুটে গিয়েছি। স্যুটটা ছিল অনেক বড়, আর খুবই চমৎকার-সুন্দর! স্যুটে ছিল দুইটা বেডরুম; একটা অনেক বড়, আরেকটা মিডিয়াম। আরো ছিল দুইটা বাথরুম, একটা লিভিংরুম। স্যুটটা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। রুমে জামা-কাপড় চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে তারপর আমরা ডিনারে গিয়েছি। সেখানে ছিল বুফে ডিনারের বিশাল আয়োজন। ১১১ আইটেমের খাবার ছিল বুফে ডিনারে। একটা মজার স্পেশাল চিকেন ছিল। চায়নিজ চিকেন, রাইস আর স্পেশাল বারবিকিউ ছিল খুবই সুস্বাদু! ডাইনিং হলটা ছিল অনেক বড়। নানারকমের মজাদার খাবারের ঘ্রাণে ডাইনিং রুমটা ভরে গিয়েছিল।

ডিনার খেয়ে আমরা পুল সাইডে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেছি; দিনের ব্যস্ততার পরে রাতের সুইমিংপুল কীভাবে শান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে, তা ভালো করে দেখেছি। এ হোটেলের সুইমিংপুলটা ভবনের উপরে এবং খুবই সুন্দর! কিন্তু আমি সেই সময়ে সুইমিংপুলে নামতে পারিনি, কারণ তখন রাত হয়ে গিয়েছিল; আর সুইমিং করার জন্য আমি জামাকাপড়ও নেইনি। তাই আমার একটু মন খারাপ হয়েছিল। আমি সুইমিংপুলটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। বাবা তখন বলেছিলেন আবার যখন আমরা এখানে আসব, তখন তুমি নামতে পারবে। তারপর রুমে ফিরে এসে কিছুক্ষণ গল্প করি। বাবা আর কামাল আঙ্কেল লন্ডনের এবং বিভিন্ন দেশের বড় বড় হোটেলের গল্প করছিলেন। আমি তাঁদের গল্প শুনছিলাম। এরপর তাঁরা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন বলে বাবা আমাকে বেডের মাঝখানে শুইয়ে দিলেন এবং হাত বুলিয়ে আমাকে আদর করে দিতে দিতে আমার দ্রুত ঘুম এসে যায়। ঘুম ভাঙলো খুব ভোরে ফজরের নামাজের সময়। উঠে দেখি বাবা ও কামাল আঙ্কেল জামাতে ফজরের নামাজ পড়ছেন। কিছুক্ষণ গড়াগড়ি করার পর আমি বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে দাঁত ব্রাশ করলাম। বাবা আমাকে কুলকুচি করিয়ে হাত-মুখ মুছে দিলেন। আমরা সামান্য ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করলাম। তারপর বাথরুমে হট শাওয়ার নিলাম। তখন আমার খিদে পেয়ে গিয়েছিলো। বাবাকে সে কথা বলতেই বাবা বললেন দ্রুত চলো, আমরা ব্রেকফাস্টে যাই।

ব্রেকফাস্ট করার জন্য নিচের ডাইনিং হলে চলে এলাম। ডাইনিং হলেও ছিল বুফে ব্রেকফাস্টের চমৎকার ব্যবস্থা। অনেক আইটেম ছিল ব্রেকফাস্ট রাউন্ডে। গ্রিল চিলি চিকেন, চিকেন সাসলিক, চিকেন তন্দুরি, নান, ফ্রাইড রাইস উইথ প্রন, স্ক্র্যাম্বল্ড এগ, বিফ বার্গার, স্পেশাল ব্রেড উইথ জ্যাম এন্ড জেলি, অরেঞ্জ জুসসহ অনেক রকম ফ্রুট ড্রিংস, গ্রিন টি, আরো কত কি! আমি সেখান থেকে বেছে বেছে আমার পছন্দের আইটেমগুলো খেলাম। এরপর আমরা স্যুটে ফিরে আসি। এবার হোটেল ছেড়ে আমার যাবার পালা। কারণ আমার স্কুল খোলা; আমাকে স্কুলে যেতে হবে। বাবার প্ল্যান অনুযায়ী আগেরদিন আমার সাথে স্কুল-ড্রেস নিয়ে গিয়েছিলাম। বাবা আর কামাল আঙ্কেল দু’জনেই আমাকে সেই ড্রেস-জুতো সব পরিয়ে দ্রুত রেডি করে দিলেন। কিন্তু এত সুন্দর এই হোটেলটা ছেড়ে আমার যেতে ইচ্ছে করছিল না। বাবা মনে হয় আমার মনের কথা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই আমার পিঠে হাত বুলিয়ে বাবা বললেন তোমার যেতে ইচ্ছে করছে না, তাই না ওয়াসির? আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলতেই বাবা বললেন আচ্ছা ঠিক আছে, তোমার স্কুল বন্ধের কোনো একদিন এখানে আবার থাকতে নিয়ে আসবো, তখন অনেক সুইম ও জিম সবই করবে। তুমি মন দিয়ে লেখাপড়া করো, আমি তোমাকে তোমার ভালোলাগার সব দিবো। বাবার এ কথায় আমার মনে হলো

ফারস হোটেলে বাবা আর আমি!
সময়টা যেন আমাদের বড়ই দামী!!

ড. কামাল আঙ্কেল বললেন তুমি মন দিয়ে পড়াশুনা করো, এরকম হোটেলের মালিক তুমিও হতে পারবে। কামাল আঙ্কেলের কথা শুনে আমার মনে হলো সত্যিইতো আমি যদি ভালোভাবে পড়াশোনা করি, তাহলে আমার অনেক টাকা হবে; আর তখন আমি এরকম হোটেলে শুধু থাকাই নয়, পুরো হোটেলটাই কিনে ফেলতে পারব। তাই আমি মনে মনে ভাবলাম, আমাকে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। হোটেল থেকে নেমে গাড়িতে উঠে স্কুলে যাওয়ার পথেও বার বার মনে পড়ছিল ফারস হোটেলের প্রেসিডেন্ট স্যুটে বাবার সাথে আমার ব্যতিক্রম সময় কাটানোর কথা। আমার ভাবনার মতো করে কিছুদিন পর ঠিকই বাবা আমাকে আবার ফারস হোটেলে থাকতে নিয়ে গেলেন। এবারে আমি মনমতো সুইমিং করেছি, জিম করেছি, পুল সাইড রেস্টুরেন্টে মজার খাবার খেয়েছি। বাবা আমাকে জিম ও সুইমিংয়ের খুব সুন্দর অনেক ছবি তুলে দিয়েছেন। এভাবেই

হাসি-খুশি-আনন্দে অত্যন্ত রঙ্গিন,
ফারস হোটেলে আবারও একদিন!
বাবার সাথে ফারস হোটেলে মোট দু’দিন!
মনে রবে আমার চিরদিন অমলিন!!