Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

হাতিয়ার জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়ার স্বর্ণালি অধ্যায়

॥ এ কে এম গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ ॥
ভূমিকা
বৃষ্টি প্রকৃতিকে জীবন্ত করে, সিক্ত করে পরিবেশ। পরিবেশের জন্য বৃষ্টি, বৃষ্টির জন্য পরিবেশ। অন্যদিকে সমাজের জন্য গুণী জন, গুণীজনের জন্য সমাজ। কারণ গুণীজনদের চিন্তা-চেতনা, দান-দক্ষিণা, দেশ-দশের মূল চালিকাশক্তি। জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়া তেমন গুণীজন যার পদচারণায় হাতিয়া হয়েছে সিক্ত। প্রকৃতির করতলে অবস্থিত হাতিয়া দ্বীপের শিক্ষা, সাহিত্য-ধর্মীয় মূল্যবোধ ও চেতনাবোধের উৎকর্ষ বৃদ্ধির পাশাপাশি জনপদে বিপন্ন-নিরন্নদের কল্যাণার্থে তার এবং তার পূর্বপুরুষদের অবদান সর্বজনগ্রাহ্য।
স্বর্ণালি অধ্যায়
আজহার উদ্দিন মিয়া হাতিয়ার এক কিংবদন্তী। তার পিতার নাম আফাজ উদ্দিন মিয়া এবং মাতার নাম আম্বিয়া খাতুন। আফাজ উদ্দিন মিয়া ১৯৩৫ সালে সূর্যাস্ত আইনে জমিদারি খরিদ করেন। তার মৃত্যুর পর ওয়ারিশরা তার ভূ-সম্পত্তি ওয়াকফ করে যান। যার নাম ‘হাজী আফাজ উদ্দিন ওয়াকফ এস্টেট’। হাতিয়ার শুকচর ইউনিয়নের এক সম্ভান্ত পরিবারে ১৯০০ সালে আজহার উদ্দিন মিয়া জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষগণ সন্দ্বীপ হতে আগত। শৈশবকাল থেকেই তার দয়া-দাক্ষিণ্যের হাত ছিল অত্যন্ত দরাজ। দাতা হিসেবে প্রবাদ প্রতিম পুরুষে পরিণত হয়েছেন তিনি। তার পিতা আফাজ উদ্দিন মিয়া এবং চাচা মফিজ উদ্দিন মিয়া যৌথভাবে বিশেষ করে আফাজ উদ্দিন মিয়ার পরিবার ধর্ম-কর্মে, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সমাজ সেবায় হাতিয়ায় অনেক অবদান রাখেন। হাতিয়ার ইতিহাসে আফাজ উদ্দিন মিয়া ও মফিজ উদ্দিন মিয়ার নাম ভিন্ন আঙ্গিঁকে অনন্য সম্মান ও শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হওয়ার দাবি রাখে। তৎকালে এ পরিবারের চেয়েও অনেক সম্পদ ও প্রভাবশালী পরিবার হাতিয়ায় ছিল, কিন্তু হাতিয়ার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে আফাজ উদ্দিন মিয়া এবং মফিজ উদ্দিন মিয়াদের একক ভূমিকার সাথে অন্য কারো ভূমিকার তুলনা করা কষ্টকর। পুরো হাতিয়ায় তারা ১০০টির অধিক মসজিদ, ২০টির অধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাছাড়া এ পরিবার হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত অনেকগুলো মাদ্রাসা, মক্তব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির বিনির্মাণ, প্রচার ও প্রসারে সাহায্য করেছেন। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে আফাজ উদ্দিন মিয়া ও মফিজ উদ্দিন মিয়ার নাম হাতিয়ার ইতিহাসে সপ্রশংস শ্রদ্ধায় লেখা থাকবে। শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে এ পরিবারকে আধুনিক হাতিয়ার পথিকৃৎ বলা যায়।
আফাজ উদ্দিন মিয়ার সুযোগ্য পুত্র আজহার উদ্দিন মিয়া মসজিদ, মক্তব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট, সেতু-পুল, গণকবরস্থানসহ অসংখ্য সামাজিক ও জনহিতকর কাজে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। জনদরদি আজহার উদ্দিন মিয়া প্রথম জীবনে শুকচর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি তৎকালীন নোয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্যও নিযুক্ত হন। ১৯৫৪ সালে তিনি যুক্তফ্রন্টের, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। হাতিয়ার দ্বিতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী আফাজিয়া হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, বাপ-চাচার মতো তিনিও প্রায় ২০টি মসজিদ, মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। হাতিয়া হাই স্কুলের বিজ্ঞানাগারের জন্য তার অকাল প্রয়াত ছোট ভাই এরফান উদ্দিন মিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের নামে অনেক টাকা দান করেন। হাতিয়ার এতিমখানার জন্য তিনি এককালীন অনেক টাকা দান করেন। তার বাবার সময় থেকে তার বাড়ির বৈঠকখানার পার্শ্বে এক হাজার মণ ধারণক্ষম একটি গোলাঘর ছিল। গোলায় ধান মওজুদ রাখা হতো। আশ্বিন মাসের অভাবের সময় (মঙ্গাঁর সময়) এই গোলা থেকে গরিব-দুঃখীদের ধান সাহায্য করা হতো। তার নিজের জমির উপর দিয়ে শুকচর হতে বাথানখালী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেন।
তাছাড়া নন্দরোড থেকে ওছখালী পর্যন্ত এবং চরকৈলাস কালামিয়া রোডও তার জমির উপর নির্মিত। উল্লেখ্য যে, উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি প্রায় ১২০০ কানি (১ কানি = ১৬০ ডিসিমেল) ভূ-সম্পত্তির মালিক ছিলেন। তাদের জমিদারি প্রজাপত্তনির চেয়ে মূল নির্ভেজাল জমিই ছিল বেশি। যা নোয়াখালী জেলায় আর কারো ছিল না। জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়া খুব সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি ছিলেন। তিনি গান ভালোবাসতেন। তার একটি গ্রামোফোন এবং বড় বড় দু’তিনটি রেডিও ছিল। নোয়াখালী মাইজদী শহরের রৌশন বাণী সিনেমা হলের মালিক আবদুর রবকে পাকিস্তান আমলে এক লক্ষ টাকা দিয়ে ছিলেন। যার ফলে আবদুর রব জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়ার বড় ভাগ্নী রৌশন আরার নামানুসারে সিনেমা হলের নাম রাখেন ‘রৌশন বাণী টকিস’। মাইজদী বিশ্বনাথ কর্মকারের পশ্চিম পার্শ্বে তার দুই একর ভূ-সম্পত্তি ছিল। যা স্বনামে-বেনামে অন্যলোকেরা ভোগদখল করছে। ল’ইয়ার্স কলোনীর দীঘির উত্তর-পশ্চিম কোণে তার একটি বাসা আছে। যা বর্তমানে ‘অনাবিল’ নামে পরিচিত। তার ওয়ারিশগণ এটি ভোগ দখল করছে। আজহার উদ্দিন মিয়া তার জীবদ্দশায় মোট তিনবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। তার প্রথম স্ত্রীর নাম মফিজেন্নেছা। এ সংসারে তার ৬ পুত্র এবং ৩ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তারা হলেনঃ আলতাফ মিয়া, একেএম নবীর উদ্দিন সাফদার, নাজিম মিয়া, আলা উদ্দিন মিয়া, বেলাল মিয়া, জসিম মিয়া, আমনধন, জাহানারা বেগম এবং আইনুন্নাহার বেগম। দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ফিরোজা বেগম। এ সংসারে তার ২ পুত্র এবং ১ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তারা হলেনঃ ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ, জামাল উদ্দিন আহমেদ এবং শাকেরা খাতুন। তার তৃতীয় স্ত্রীর নাম নূর জাহান বেগম। এ সংসারে তার ৪ পুত্র ২ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তারা হলেনঃ আনোয়ার উদ্দিন স্বপন, সারোয়ার উদ্দিন মপন, রিয়াজ উদ্দিন রিপন, মহিউদ্দিন রূপন, বিলকিস জাহান বেগম, নারগিস জাহান বেগম।
জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়া বেশ রুচিবান ও শৌখিন লোক ছিলেন। জমিদার সুলভ আচরণ তার ছিল। তিনি জাঁকালো পোশাক পরিধান করে ঘোড়ায় চড়ে বেড়াতেন। শেষ জীবনে শৌখিন গরুর গাড়িতে চড়তেন। গরু ছিল অনেক মোটাতাজা, গরুর গাড়িতে তক্তার পাটাতন ছিল, পিছনে জানালা ছিল। পাটাতনের উপর ছিল মোটা তোশক, বালিশ এবং বিছানার চাদর। গরুর গাড়ির চাকার সাথে ঝুনঝুনি বাঁধা থাকতো। গরুগুলো লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। ধর্ম-কর্ম পালনেও আজহার উদ্দিন মিয়ার তুলনা মেলা ভার। তিনি নামাজ, রোজা পালনসহ দান খয়রাত করতে বেশি পছন্দ করতেন। ১৯৬৬ সালে তিনি পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন। প্রজাসাধারণের পানীয় জলের সুবিধার জন্য তিনি ৩/৪টি পুকুর খনন করেন। তার মধ্যে সুখচর দীঘি এবং চরঈশ্বর দীঘি অন্যতম। হাতিয়ার এই মহান ও উদার নৈতিক নেতা ১৯৬৮ সালে ইহধাম ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে এক স্বর্ণালি অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
এ কে এম নবীর উদ্দিন সাফদার
হাতিয়া অনেকের আদিভূমি। হাতিয়া অনেক ঋদ্ধ, প্রসিদ্ধ ব্যক্তির জন্মভূমি। ৭০-এর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে অসহায় মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ান একেএম নবীর উদ্দিন। তিনি সে সময় ১৭০০ মণ ধান দান করেন। যার জন্য এলাকার মানুষ তাকে সাফদার (গরিবের বন্ধু) উপাধিতে ভূষিত করেন। ফলশ্রুতিতে তার নাম গিয়ে দাঁড়ায় একেএম নবীর উদ্দিন সাফদার। আসলেই তিনি ছিলেন গরিবের বন্ধু, জনদরদি, জনসেবক এবং বিচক্ষণ এক মানুষ। তিনি ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আফাজিয়া হাইস্কুল হতে ১৯৬০ সালে মাধ্যমিক এবং জগন্নাথ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তি হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে লেখাপড়ার এখানেই ইতি টানেন, চলে আসেন হাতিয়ায়। জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী রাজনীতিতে। বঙ্গবন্ধুর সাথে তার অন্তরঙ্গঁতা ছিল। বঙ্গঁবন্ধু যখন হাতিয়ায় আসেন তখন তাদের বাড়িতে আহার, বিশ্রাম করেন এবং জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়ার কবর জিয়ারত করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে জন মানুষের সেবার জন্য ৩নং সুখচর ইউনিয়ন পরিষদের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। অতঃপর ১৯৭৩ সাল হতে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, তিনি ১৯৮৫ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। সে সময় জনগণের ৯০ শতাংশ ভোট পেয়েও স্বৈরশাসকের প্রহসনের নির্বাচনের ফল তার অনুকূলে আসে নি। সেই সংসদ নির্বাচনে নবীর উদ্দিন সাফদারের জনপ্রিয়তার কথা এখনো লোকমুখে শোনা যায়। জনপ্রিয়তায় এ কে এম নবীর উদ্দিন সাফদারের তুলনা একমাত্র তিনিই। তার নীতি ছিল দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন। তার সময়ে সুখচর ইউনিয়নের মানুষ সুখেই ছিল। এলাকায় কোনো চুরি, ডাকাতি হত না বলে অনেকে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারতো। ১৯৭১ -এর মহান মুক্তিযুদ্ধে নবীর উদ্দিন সাফদারের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। আর এ ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন রফিকুল আলম। তার নেতৃত্বে ৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিল। এ মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করতেন হাসনেয়ারা বেগম। এ কে এম নবীর উদ্দিন সাফদার হাতিয়ার বিভিন্ন সেবামূলক কাজের পরিধি বাড়িয়ে সু-নজর দেন হাতিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিও। যার ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সুখচর আজহারুল উলুম (বিএ) ফাজিল মাদ্রাসা, আফসানিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, আজহার উদ্দিন স. প্রা. বিদ্যালয় এবং আজহার উদ্দিন জামে মসজিদ, সাইফুল মালেক জামে মসজিদসহ আরো অনেক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চিন্তা-চেতনা, কর্ম-উদ্দীপনায় তিনি ছিলেন আধুনিক। হাতিয়ার রাজনীতিতে এ কে এম নবীর উদ্দিন সাফদার সর্বজন প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি পবিত্র হজব্রত পালন করেন। তিনি সংসার জীবন অতিবাহিত করেন হোসনেয়ারা বেগমের সাথে। তার চারপুত্র (আফসার উদ্দিন সাফদার, আজরুল উদ্দিন সাফদার, আজিম উদ্দিন সাফদার, আমজাদ উদ্দিন সাফদার) এবং এক কন্যা (সাইফুন নাহার লাকি) সন্তানের জনক-জননী। এ দরদি মানুষ সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে ১৩ অক্টোবর ২০০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
কৃতজ্ঞঃ এ কে এম আজরু উদ্দিন সাফদার
জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়ার বংশের যোগ্য উত্তরসূরী এ কে এম আজরু উদ্দিন সাফদার। জন্ম তার ১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ সালে। পিতা এ কে এম নবীর উদ্দিন সাফদার এবং মাতা হাসনেয়ারা বেগম। শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.কম। তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট -এর সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তিনি কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৯৬ সালে ফিল্ড অফিসার (হাতিয়া) হিসেবে, ১৯৯৯ সালে মনপুরায়, অতঃপর সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়ে চাঁদপুরে (২০০৪ সাল), নোয়াখালীতে (২০১০ সাল), কক্সবাজারে (২০১১ সাল), পিরোজপুরে (২০১২ সাল), লক্ষ্মীপুরে (২০১৩ হতে অদ্যাবধি) কর্মরত রয়েছেন। প্রাণবন্ত, কর্মচঞ্চল এবং অতিথিপরায়ণ এ মানুষটি চাকরিকালীন জার্মানী, শ্রীলংকা, নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাতার সফর করেন। ছেলিনা আক্তারের সাথে তিনি ৩১ মে ১৯৯৭ সালে যৌথজীবন শুরু করেন। নবীব উদ্দিন সাফদার শুভ এবং নসীব উদ্দিন সাফদার সাফি তাদের যোগসূত্রের ফসল। এ কে এম আজরু উদ্দিন সাফদার চিন্তা, চেতনায় একজন দেশ দরদি মানুষ।
সমালোচনা
যে মানুষ আত্মসর্বস্ব জীবিত থেকেও সে সবার আগে শেষ হয়ে যায়। তার অস্তিত্ব কেবল তার নিজের জন্যে। কিন্তু যে মানুষ সমাজের স্বার্থে ভাগীদার হয়, নিজের ভাগ্যকে মিলিয়ে নেয় সংখ্যাগরিষ্ঠ বঞ্চিতদের সঙ্গে তাকে কখনো চূর্ণ করা যায় না। বিস্মৃতির অতলে তিনি তলিয়ে যান না। জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়া ছিলেন এমনই মানুষ যিনি সমষ্টির সুখ-দুঃখকে নিজের সুখ-দুঃখ বলে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। তাই তার জীবন মৃত্যুতে শেষ নয়। তার মত ব্যক্তিদের জীবনের প্রভাব থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বিস্তৃত হয় -এ কথা আজ নিঃসন্দেহে বলা যায়।
উপসংহার
একনিষ্ঠ কর্তব্যপরায়ণ যারা
বৃহত্তর স্বার্থে জীবনের ঝুঁকি নেয় তারা।
এমন সন্তান যে পিতা-মাতার
আজহার উদ্দিন মিয়া নাম তার।
ছিলো তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব
রেখে গেছেন অপূরণীয় কৃতিত্ব।
দুস্থ মানুষের কল্যাণে
ব্যস্ত থাকতেন সর্বক্ষণে।
আপনার ভাবনা ভাবতেন না কভু
যা রেখেছে ভাগ্যে স্বীয় প্রভু।
প্রজাদের প্রতি এই নিঃস্বার্থ ভালবাসা
তবুও মিটলো না আপন মনের আশা।
সর্বোপরি প্রজাবৎসল ও সংস্কৃতিমনা
মহৎ জমিদার হিসেবে
আজহার উদ্দিন মিয়াকে যায় চেনা।