Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

চৌমুহনী খালে দখলের মহড়া

প্রায় শত বছর পূর্বে ছাতারপাইয়া, আটিয়াবাড়ী, চন্দ্রগঞ্জ খাল ও ফেনী নদীর মোহনা দিয়ে নৌ-পথে বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীর যাত্রা শুরু হয়। সড়ক ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ওইসময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল আসত নৌ-পথে চৌমুহনীর খাল দিয়ে। বর্তমানে দখলদারদের দখলের মহড়ায় এ খালটি সংকুচিত হয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলে পানিতে আটকা পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
একসময় বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লাবাসীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পালতোলা নৌকায় নিয়মিত চৌমুহনী খাল দিয়ে আসত। কিন্তু বর্তমানে চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের সামনে থেকে দক্ষিণ বাজার পর্যন্ত চলছে খাল দখলের প্রতিযোগিতা। প্রতিদিন স্থানীয় ও গোলাবাড়িয়া বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা ময়লা-আবর্জনা ফেলে খালটি ভরাট করে প্রতিষ্ঠান (দোকান) গড়ে তুলছে। অপরদিকে, চৌমুহনী পৌরসভার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তাদের নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে প্রতিনিয়ত এ খালের মধ্যে ফেলছে। যার ফলে আরও দ্রুত খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
এতে একদিকে বিলুপ্ত হচ্ছে চৌমুহনীর বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। অন্যদিকে চৌমুহনী বাজারের পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পরিবেশ নষ্ট ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় কষ্টে ফেলছে বিশাল জনগোষ্ঠীকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এক সময়ের বিশালাকার প্রায় ১০০ মিটার প্রস্থ এ খালে ছিল প্রবল স্রোত। কিন্তু দখলদারদের বেপরোয়া দখলে বর্তমানে খালটি সংকুচিত হয়ে ছোট ড্রেন ও নালায় পরিণত হয়েছে। যার প্রস্থ ১০/১২ মিটারে নেমে এসেছে। ফলে খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। দ্রুত খালটি দখলদারদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে এমনই প্রত্যাশা স্থানীয়দের। চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী নেতা আবুল মানছুর আজাদ জানান, খালে অবৈধ দখলের কারণে ৫ লাখ জনতার জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে পুনর্খননের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমন দাবি তার।
চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সাল পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, যদি কোনো পরিচ্ছন্ন কর্মী এমন কাজ করে থাকে, তাহলে খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া এ খালটি হচ্ছে চৌমুহনীর প্রাণ। খালটি না থাকলে পরিবেশ থাকবে না। কয়েকটি জায়গায় বর্তমানে অবৈধভাবে খালটি দখল হয়েছে। আমরা প্রশাসনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে খাল পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।