Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

নোয়াখালী ভাষাভাষী অঞ্চল নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবি

চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক দিয়ে অন্যতম বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা। নোয়াখালী এখন অত্যধিক জনসংখ্যা এবং রাজনৈতিক সচেতন জেলায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনিক অবকাঠামো, অত্যধিক জনসংখ্যা, ভৌগোলিক সীমারেখা, যাতায়াত-যোগাযোগ সমস্যা প্রভৃতি কারণে বৃহত্তর নোয়াখালীর ৩ জেলার সাথে চাদপুর, কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ, লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম ও লাঙ্গলকোট এবং চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও সন্দ্বীপ উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী আঞ্চলিক ভাষাভাষী মানুষের এক অঞ্চল হিসেবে নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন করা আজ জরুরি। এ অঞ্চলকে নিয়ে একটি আলাদা নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবি দিনদিন জোরদার হচ্ছে। বর্তমান নোয়াখালী জেলা, লক্ষ্মীপুর জেলা, ফেনী জেলাসহ চাঁদপুর, কুমিল্লার আংশিক এবং চট্টগ্রামের আংশিক এলাকা নিয়ে নোয়াখালী ভাষাভাষী মানুষদের একটি আলাদা বিভাগ প্রশাসনিকভাবে জরুরি হয়ে পড়েছে।
নোয়াখালীর দক্ষিণে বিশাল চরাঞ্চল জেগে ওঠায় দক্ষিণে দেশের আয়তন বেড়ে যাওয়ায় বেগমগঞ্জ চৌরাস্তাকে বিভাগীয় সদর দপ্তর করে আলাদা নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের। বৃহত্তর নোয়াখালীকে বিভাগ হিসেবে দাবি করে আলাদা আন্দোলনও পিছিয়ে নেই। তবে সদর দপ্তর যেখানেই হোক না কেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর দক্ষিণে চরাঞ্চলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এলাকা একা নিয়ন্ত্রণ করার কথা মাথায় রেখে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা দাবি এখন এ অঞ্চলের মানুষের গণদাবিতে রূপ নিতে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ উপজেলা, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর জেলা এবং কুমিল্লার লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম ও লাঙ্গলকোর্ট নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ হতে পারে। ১৯৯১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লার আংশিক অঞ্চলের লোকসংখ্যা চট্টগ্রাম বিভাগের ৫টি জেলার লোকসংখ্যার চেয়ে বেশি। আয়তনের দিক থেকেও বিভাগ দাবিকৃত অঞ্চল দেশের অন্যান্য বিভাগ থেকে অনেক বড়। শুধু হাতিয়াতেই এখন একটা বিভাগের আয়তন রয়েছে!
পরিসংখ্যান অনুসারে দেখা যায়, দেশের অনেক বিভাগের চেয়ে আয়তন, জনসংখ্যা, প্রশাসনিক কাঠামো, যোগাযোগ, যাতায়াত, ভৌগলিক অবস্থান, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প সম্ভাবনা সবদিক দিয়েই চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, আংশিক কুমিল্লাকে নিয়ে আলাদা নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার যথার্থ দাবি রাখে। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগ ও জেলার প্রায় সব অফিস-আদালত, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত হবার কারণে প্রতিদিন শহরমুখী জনস্রোত বাড়ছে ভয়াবহভাবে। পরিবহন, রাস্তাঘাট, সংশ্লিষ্ট অফিস সবকিছুই এ বিশাল জনচাপে নুয়ে পড়ছে। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার অজস্র প্রতিষ্ঠানের কাজ সামাল দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে জেলা অফিসগুলো। চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ এতদঞ্চলের মানুষ বিভাগীয় কাজে চট্টগ্রামের অফিসে যাতায়াতের কারণে মফস্বলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘন্টা। অর্থেরও অপচয় হচ্ছে বেশুমার। তাছাড়া কর্মমুখর মহানগরে কর্মজীবী-পেশাজীবীদের আধিক্যের কারণে আবাসন সমস্যাও দিন দিন বাড়ছে মারাত্মকভাবে। ক্রমবর্ধমান এসব চাপ মোকাবেলায় চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও আংশিক চট্টগ্রামকে নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষিত হওয়া জরুরি। বেগমগঞ্জ চৌরাস্তাকে বিভাগীয় সদর দপ্তর করে আলাদা একটি নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি এখন সর্বমহল থেকেই উঠছে। নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় সব উপকরণই বিদ্যমান। বিভাগীয় সদর দপ্তর করার মতো এখানে প্রচুর সরকারি ভূমিও রয়েছে যা নোয়াখালী সদর দপ্তর করার জন্য নেয়া হয়েছিলো। অন্যথায় ৬ জেলার মোটামুটি মধ্যভাগ বিবেচনায় নিয়ে যে কোনো স্থানে করা যেতে পারে।
এ অঞ্চলের সড়ক ও নদীপথ, প্রচুর বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বিভিন্ন সরকারি অফিসের প্রধান বা উপ-কার্যালয়, প্রচুর সরকারি জায়গা, বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, শিল্প কারখানা গড়ে তোলার সহজ সুযোগ, নিঝুমদ্বীপের অবারিত পর্যটন আকর্ষণের পাশাপাশি একাধিক পর্যটন শিল্পবিকাশের অবারিত সুযোগ, বিশাল কৃষি সম্ভার, দ্রুত বর্ধমান জনসংখ্যার পাশাপাশি শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির হার প্রভৃতিই নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রবল দাবিকে আরও বেশি বলিষ্ঠ করে তুলছে। নোয়াখালীতে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসকূপের হাতছানি, অবারিত পলি, নদীবিধৌত অঞ্চলে বিধাতার উর্বর দান, সোনার মতই দামি গাছে ভরা বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়ক, প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে ও জোরারগঞ্জ সড়ক, নিঝুমদ্বীপের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ও মায়াময় পর্যটন অঞ্চলে যাতায়াতের সুযোগ সংবলিত নোয়াখালী স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে দেশমাতৃকারই লাভ হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন এ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা বলেছেন, আর ক’বছর পর সরকারকে এমনিতেই বাধ্য হয়ে জনসংখ্যার চাপে এ অঞ্চলে আলাদা বিভাগ ঘোষণা করতে হবে। তবে তা করতে দীর্ঘ সময় নিলে সবকিছু হ-য-ব-র-ল হয়ে যাবে। কারণ এ অঞ্চলের সরু সংকীর্ণ রাস্তাঘাটের আশেপাশের সরকারি-বেসরকারি জমিগুলোতে দ্রুত অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে উঠছে। দখল বা ভরাট হয়ে যাচ্ছে পুকুর, ডোবা, জলাশয়, খাল, বিল, নালা প্রভৃতি। একসময় তা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করবে। তাছাড়া নতুন পরিকল্পনা নিয়ে একটি যুৎসই জনপদ গড়ার সুযোগ ততদিনে হাতছাড়া হয়ে যাবে।