Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

ঐতিহ্যবাহী জেলা নোয়াখালী জোরালো হচ্ছে বিভাগ ঘোষণার দাবি

মাঠ পর্যায় থেকে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী জেলা বৃহত্তর নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবি ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে। মাঠের জনতা বড় নেতা শহরের মানুষদের দিকে অনেকদিন তাকিয়ে থেকে দেখেছে তাদের ব্যর্থতা ও উদাসীনতা আর অবহেলা। তারপর আর অপেক্ষা করে না থেকে নিজেদের প্রাণের দাবি নিয়ে মফস্বল শহর, গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লার রাস্তায় নেমে গেছে। কারণ মাঠের জনতার ধারণা দেশের প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালী জেলার মানুষের দাবিকে উপেক্ষা করবেন না। আর নেতারাও অস্তিত্ব রক্ষায় এ দাবির পাশে না এসে পারবেন না। কারণ রাজনৈতিক ও সামাজিক আকাক্সক্ষা থাকলেই বিভাগ আন্দোলনে আসতেই হবে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ১৮২১ সালে সৃষ্ট অতি প্রাচীন এ জেলায় জন্মেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সেনানী বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিন, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের কান্ডারী আওয়ামীলীগ (মালেক-এর) আব্দুল মালেক উলিকসহ অনেক ব্যক্তিত্ব, যাঁরা নিজ কর্মে কীর্তিমান। একদা এই জেলায় অহিংসার বাণী নিয়ে এসেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রায় এক কোটি মানুষের প্রাণের দাবি হচ্ছে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লার আংশিক ও চট্টগ্রামের মিরেরসরাই এবং সন্দ্বীপ নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ গঠন করা।
নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের এই ছয় জেলার মানুষের নোয়াখাইল্লা ভাষাভাষি অঞ্চল নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ জরুরি হয়ে উঠেছে। এদের জীবনযাপন সং¯ৃ‹তি, কৃষ্টি ও যাতায়াত সুবিধা বিবেচনা করে নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করলে অত্র অঞ্চলের প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষের চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসনিক কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হাতিয়া উপজেলায় বাংলাদেশের সমপরিমাণ ভূমির নতুন চর জাগছে ভবিষ্যতে বিশাল এ অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণে নোয়াখালী বিভাগ অতীব জরুরি। বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা এবং চট্টগ্রামের আংশিক এলাকাকে নিয়ে নোয়াখালী জেলাকে বিভাগ করা হলে এই বিভাগের আয়তন হবে প্রায় ১০,০০০ দশ হাজার বর্গ কি.মি.; যা আয়তনে সিলেট বিভাগ এবং বরিশাল বিভাগের চাইতেও বড় হবে। এই ছয় জেলা নিয়ে ‘নোয়াখালী’ বিভাগ গঠিত হলে প্রস্তাবিত বিভাগের জনসংখ্যা হবে প্রায় পৌনে দুই কোটি, যা সিলেট বিভাগের জনসংখ্যার চেয়ে দুই গুণেরও বেশি। তাছাড়া ১৮২৯ সালে যখন চট্টগ্রাম বিভাগ গঠিত হয় তখন বর্তমান বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ কোটি ৯০ লাখ। আর এখন শুধু প্রস্তাবিত বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম জেলার আংশিক অঞ্চলের জনসংখ্যা হচ্ছে পৌনে দুই কোটি। সর্বশেষ আদমশুমারী ২০১১ অনুসারে বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যা মাত্র ৮৪ লক্ষ, অথচ বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লার জনসংখ্যা হচ্ছে ১ কোটি ৭০ লক্ষ, যা বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যার দ্বিগুণ। সুতরাং এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে বিভাগীয় সেবা দিতে নোয়াখালী ভাষাভাষি অঞ্চলকে নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ গঠন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। মাত্র চারটি জেলা নিয়ে সিলেটকে যেখানে বিভাগ করা হয়েছে, সেখানে ছয়টি জেলা নিয়ে ‘নোয়াখালী’ বিভাগ গঠন অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত এবং সময়োপযোগী দাবি বটে। সুতরাং জনসংখ্যা ও আয়তন উভয় দিক বিচারে বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম জেলার আংশিক অঞ্চল নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ গঠন অত্যন্ত যুক্তিসংগত দাবি। আর তাতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ খুব সহজে বিভাগীয় পর্য়ায়ের সেবা পেতে সক্ষম হবে। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে জেলা আংশিক অঞ্চলের এই ছয় জেলার মানুষকে বর্তমানে বিভাগীয় কাজকর্ম সারতে বহুকষ্ট এবং সময় অর্থ নষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক ভোগান্তি সহ্য করে চট্টগ্রামে যেতে হয়, যা নিছক হয়রানি বটে। উল্লেখিত ছয় জেলাকে নিয়ে নোয়াখালীকে বিভাগ করা হলে এ ছয় জেলার দুই কোটি মানুষকে চাকরির পরীক্ষাসহ বিভাগীয় অন্যান্য কাজে বহু কষ্ট করে অর্থের অপচয় ঘটিয়ে চট্টগ্রামে যেতে হবে না। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে দরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের দোর গোড়ায় সরকারি, বেসরকারি তথ্য ও সেবা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বা মাধ্যম সৃষ্টি করা। আর এরমধ্য দিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সুষম ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং তৃণমূলের জনগণের ক্ষমতায়ন ঘটে। সুতরাং অত্র অঞ্চলের তৃণমূলের মানুষের ক্ষমতায়নের জন্যই বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের জনগণের বর্তমান সময়ের দাবি হচ্ছে, প্রস্তাবিত নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা।
নোয়াখালীর দক্ষিণে রয়েছে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত দ্বীপ নিঝুম দ্বীপ ও সাগরকন্যা হাতিয়া দ্বীপ। আর তাই নোয়াখালীকে বিভাগ করা হলে অত্র উপকূলীয় অঞ্চল কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে বলে এখানকার সুধীজনেরা মনে করেন। পরিশেষে জনসেবার জন্য প্রশাসন এবং তৃণমূলের জনগণের দোরগোড়ায় বিভাগীয় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছাতে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুপ্রাচীন জেলা নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি।