Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

বিশিষ্টজনদের ঈদ ভাবনা

রমজান শেষে আসে ঈদ। ঈদ আসে ঐক্য, সংহতি, ভালোবাসা আর অপার আনন্দের বার্তা নিয়ে। ঈদ মুসলিম জাহানের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। ঈদের আনন্দ ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, এটি সামাজিক উৎসব। সবার মাঝে আনন্দ ভাগ করে দেয়া। সবার সাথে শেয়ার করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে ঈদ-উৎসবের তাৎপর্য।
রমজান মানুষকে পরিশুদ্ধ করে নবশক্তিতে উজ্জীবিত করে। রোজা পালনের মাধ্যমে আর্ত-পীড়িত-বুভুক্ষু মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করা যায়। একমাস রমজানের কঠোর সিয়াম সাধনার পর মু’মীন মুসলমান বছরের বাকি ১১ মাস সুন্দর, সুষ্ঠু ও সুনিয়ন্ত্রিত পথে চলার শপথ গ্রহণ করে। এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকায় বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের নিমিত্তে বৃহত্তর নোয়াখালীর বার্তা সম্পাদক জাহাঙ্গীর লিটন বিশিষ্টজনদের সাথে আলাপচারিতায় মিলিত হন। তাঁদের আলাপচারিতার উল্লেখযোগ্য অংশ নিচে সন্নিবেশিত হলো।
যাকাত গরিবের জন্য করুণা বা অনুকম্পা নয়; এটি তার অধিকার
মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী
জেলা প্রশাসক, লক্ষ্মীপুর

পবিত্র ঈদুল ফিতরে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি লক্ষ্মীপুরেই থাকব। লক্ষ্মীপুরের মানুষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ করতে চাই। আইন-শৃংখলা এবং প্রাকৃতিকভাবে সব মিলিয়ে যেন ঈদের সময়টা ভালো যায়, সুন্দর যায়, হাসি-খুশি-আনন্দের সঙ্গে যেন দিনটা আমরা পালন করতে পারি -দেশবাসী এবং লক্ষ্মীপুরের মানুষের জন্য এটিই আমার কামনা।
ঈদ মানে আনন্দ; তাই আনন্দের জন্য শিকড়ের কাছে যেতেই হয়। গ্রামই হচ্ছে আমাদের শিকড়। যারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছে, তারাতো বটেই; যারা শহরে জন্মগ্রহণ করেছে, তারাও বেশিরভাগ ঈদের সময় গ্রামের আত্মীয়-স্বজনের কাছে যায়। এখনো বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে গ্রামে ঈদের আনন্দ অনেক বেশি। আমি নিজেও গ্রামে ঈদ উদ্যাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
এক মাস কঠিন অনুশাসনের মধ্যে রোজা রাখা, সেহেরি খাওয়া, ইফতার করা, নামাজ-তারাবি পড়া; এরপর আসে ঈদের খুশি। এই এক মাস আপনাকে এমনভাবে অনুশীলন করতে হবে, যেন বাকী এগার মাস শয়তান আপনার কাছ থেকে দূরে থাকে। এটা হলো মূল তাৎপর্য। একমাসের বিশেষ শুদ্ধি অভিযানের পর আল্লাহ আমাদেরকে ঈদের আনন্দ উপহার দিয়েছেন। কিন্তু ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য অনেকের নতুন জামা-কাপড় কিংবা খাবার-দাবার কেনার সামর্থ থাকে না। তার সমাধান হিসেবে রয়েছে যাকাত বা ফেতরার বিধান। তাই তাদের দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, তাহলে ঈদটা হবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত একটি। তাই সঠিক হিসেবে সুন্দরভাবে যাকাত দিতে হবে। যাকাত প্রথমে দিতে হবে নিকটতম গরিব আত্মীয়দের; তারপর পাড়াপ্রতিবেশী। যাকাত গরিবের জন্য করুণা বা অনুকম্পা নয়; এটা তাদের অধিকার। কিন্তু আমরা এমন ভাব করি, যেন কাউকে করুণা করছি। আবার অনেককে দেখা যায়, মাইকিং করে লোক জমায়েত করে স্টেজে উঠে যাকাত দিতে। অনেক সময় পায়ের নীচে পড়ে মানুষ মরে, এ দৃশ্য অনাকাঙ্খিত। দেয়ার সময় মনের মধ্যে থাকবে, দিতে যে পেরেছি -এটাই আল্লাহর শুকরিয়া। খেয়াল রাখতে হবে, আমার সম্পদ মুক্ত হলো কিনা। যাকাত শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, দিলে বাড়তেই থাকে। যাকাত দিলে সম্পদ পবিত্র হয়। যাকাত কারুর জন্য দয়া নয়, এটা করুণা নয়; এটা তার হক। তাই যাকাত সম্মানের সাথে দিতে হবে, ইজ্জ্বতের সাথে দিতে হবে; খুশি হয়ে যাতে নেয়, আর আপনি দায়মুক্ত হন; সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মুসলমানদের ঈদ-উৎসব সকলের অংশগ্রহণে মিলনমেলায় পরিণত হয়
ডাঃ মোঃ শাহজাহান
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লক্ষ্মীপুর আধুনিক হাসপাতাল

ঈদ আমাদের মুসলমানদের একটি ধর্মীয় উৎসব। বছরে দুইবার ঈদ হয়। ঈদুল ফিতরে একটু আলাদা আমেজ থাকে; উৎসবের মতোই হয়। শহর-বন্দরে অবস্থানরত লোকজন ঈদের সময় গ্রামে আসে। সবাই একত্র হওয়ার ফলে একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়; সবার সাথে সবার দেখা হয়, সবার সাথে কুশল বিনিময় হয়। আমি বরাবরের মতো এবারও ঈদ গ্রামে উদ্যাপন করব বলে ভাবছি। শহরে ঈদ আর গ্রামের ঈদের মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। যারা শহরে থাকেন তারাও চান গ্রামে এসে ঈদ উদ্যাপন করতে। শহরের ৮০% লোকই নাড়ির টানে এলাকার টানে শহর থেকে গ্রামে আসেন আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সবার সাথে সবার একটা কুশল বিনিময় হয়। গ্রামের ঈদ উদ্যাপন করতে তারা আনন্দ অনুভব করেন বলেই তারা শহর ছেড়ে গ্রামে আসেন।
আমরা এখন যে অবস্থায়, তাতে হিসাব করলে দেখা যায় ৫০% লোকও ঈদুল ফিতরের শিক্ষা ও তাৎপর্য মেনে চলি বলে আমার মনে হয় না। কেননা আমরা আসলে আল্লাহ প্রদত্ত ধর্মীয় শিক্ষা থেকে অনেক দূর চলে গেছি। তাই আমাদের আরো বেশি বেশি করে আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জানতে ও মানতে হবে। এভাবে যদি আমরা ভালো দিকে চলি এবং ভালো পথে চলি, তাহলে ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের সার্থকতা আসবে। যাকাতের নামে নিম্নমানের যে শাড়ী-লুঙ্গি দেয়া হয়, তা যাকাতের বিধানে কোথাও এরূপ কোনো কথা নেই; তারপরও মনের অনুভূতি থেকে যাকাতের অর্থ থেকে শাড়ী-লুঙ্গি দেই। এটা দেয়াতো নিষেধ না; তবে নিম্নমানের না দিয়ে কম সংখ্যাক লোককে দিব, কিন্তু ভালো মানের দিব। যাকাতের নামে নিম্নমানের শাড়ী-লুঙ্গি দিয়ে কাউকে লজ্জা দেয়া ঠিক না।
আল্লাহর বিধান মতো যাকাত দিলে আমাদের দেশে কোনো গরিব থাকত না
ডাঃ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক ভূঁইয়া
সিভিল সার্জন, লক্ষ্মীপুর

আমি আসলে ঈদুল ফিতরকে মনে করি মুসলমানদের জন্য আল্লাহর একটি বিরাট নিয়ামত। রোজার পর পর ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়। রোজা দিয়ে আমরা গরিবের দুঃখ-কষ্ট না খাওয়ার বেদনা উপলব্দি করতে পারি। ঈদুল ফিতরে যে ফেতরা দেয়া হয়ে থাকে, তাতে গরিব-ধনী নির্বিশেষে সবাই নতুন জামা-কাপড় পরে ভালোভাবে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে। আমাদের যাদের অর্থবিত্ত আছে এবং যাদের সামাজিক প্রতিপত্তি আছে, আমরা যেন আমাদের পাশবর্তী গরিব-দুঃখী-অসহায় মানুষদের দিকে খেয়াল রাখি। তারা যেন সুষ্ঠুভাবে-সুন্দরভাবে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে, সেদিকে সচেষ্ট হতে হবে।
আমি সবসময় আমার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কাউনিয়া ভূইঁয়া বাড়িতে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা উদ্যাপন করি। কোনো সময়ই এটার ব্যতয় ঘটে না। এবারও আমি আমার গ্রামের বাড়িতে ঈদ করব। আসলে আমরা যান্ত্রিক যুগে বাস করি, ঈদ উপলক্ষে আমার আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী বাড়ির লোকজনদের সাথে দেখা হওয়ার একটা বিরাট সুযোগ তৈরি হয়। আমি বাড়িতে গেলে আমার আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী গরিবদের কিছু সাহায্য হয়। কেননা ঈদের দিন, ঈদের আগের দিন এবং ঈদের পরের দিন আমি বিনা পয়সায় আমার গ্রামের বাড়িতে রোগী দেখে থাকি। আসলে শহরে ঈদ বলতে আমি ঈদই মনে করি না। গ্রামে ঈদ উদ্যাপনে করতে যেভাবে পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন আসে, সবার সাথে দেখা হয়, ছোটকালের স্মৃতিচারণ হয়; শহরে এসবের কিছুই হয় না। এজন্য আমি সবসময় আমার ছেলে-মেয়ে-পরিবার এবং ভাই-বোন সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে ঈদ উদ্যাপন করি।
আসলে ঈদুল ফিতরের শিক্ষা প্রত্যেকটা মুসলমান যদি সঠিকভাবে মেনে নিতাম, তাহলে হানাহানি থাকত না, আমাদের দেশে গরিব থাকত না। রোজা আমাদের পাকপবিত্র হওয়া, আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। তাই এ শিক্ষা নিয়ে আমরা গরিবের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করার জন্য কাজ করব। ঈদুল ফিতরে আমরা যাকাত আদায় করি এবং ফিতরা আদায় করি। আল্লাহ যেভাবে যাকাতের বিধান দিয়েছেন, সেভাবে যাকাত দিলে আমাদের দেশে কোনো গরিব থাকত না। আমরা যাকাতের কাপড় দেই অত্যন্ত নিম্নমানের। আমার সবচেয়ে বেশি বিরক্তি লাগে, যাকাতের কাপড়ের নাম শুনলে; যাকাতের জন্য আলাদা কাপড় থাকবে কেন! আমার কথা হচ্ছে আপনার সাধ্য থাকলে আপনি যে মানের কাপড় পরেন, সে মানের কাপড় দিয়ে যাকাত দেন; আপনি যে মানের খাবার খান, তাদেরও সে মানের খাবার দেয়া উচিত। যাকাত দিতে হলে এভাবে দিতে হবে যেন, একজন লোক স্বাবলম্বি হয়; যাতে পরের বছর ঐ লোকের কারুর কাছে হাত পাততে না হয়। আল্লাহর বিধান মতো যদি ফেতরা-যাকাত দান করতাম, তাহলে বাংলাদেশে আর বিদেশি সাহায্য দরকার হতো না। হাত পাতার মতো ভিক্ষা নেয়ার মতো লোক থাকত না।
ঈদুল ফিতরের শিক্ষা হচ্ছে সকল অন্যায় ও মাদক থেকে দূরে থাকা; দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো
মোঃ হাবিবুর রহমান সবুজ
উপাধ্যক্ষ
লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ

বাঙালি জাতির জন্য সার্বজনীন এক উৎসবের নাম ঈদ। ঈদ ধনী-গরিবের ভেদাভেদ দূর করে। সকল মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের ভাব ফুটিয়ে তোলে। একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ করে দেয়। এবারের ঈদে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলের সাথে সাক্ষাৎ করব এবং নতুন জামা দেয়ার চেষ্টা করব। আশা রাখি, নিজ বাড়িতে ঈদুল ফিতর উদযাপন করব।
শহর ও গ্রামের ঈদ উদযাপনের মধ্যে পার্থক্য অনেক। আমার মনে হয়, শহরের ঈদ অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা, নিয়মের মধ্যে বাঁধা, আভিজাত্য খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু গ্রামের ঈদ হৃদয় নিংড়ানো ও আবেদনময়ী। গ্রামের ঈদ ছোট-বড়, ধনী-গরিব, প্রতিবেশী বিশেষ করে ছোট বেলায় বেড়া ওঠা মানুষের সাথে দেখা করার সুযোগ করে দেয়। সহজ-সরল ও দরিদ্র মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ হয় এবং সহযোগিতা করা সম্ভব হয়। এতে মনটা সজীব হয়ে ওঠে। এজন্য আমি গ্রামের ঈদে সাচ্ছন্দ্যবোধ করি। জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে ঈদুল ফিতরের শিক্ষা ও তাৎপর্য তেমন একটা মেনে চলি না। কারণ পুরো মাস সকল প্রকার অপরাধ থেকে মুক্ত থেকে সিয়াম পালনের চেষ্টা করি। ঈদের সময় তা ভুলে যাই। তবে এদেশের মানুষ আস্তে আস্তে ঈদুল ফিতর থেকে শিক্ষা নেয়া শুরু করেছে। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা হচ্ছে সকল প্রকার অন্যায় ও মাদক থেকে দূরে থাকা; ক্ষুধার্ত মানুষকে অন্ন দেয়া; দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেটি আগের তুলনায় বেড়েছে বলে আমি মনে করি।
প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর যাকাত ফরজ। যাকাতের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র হয়। ধনী দরিদ্রের মধ্যে ভেদাভেদ কমে। অথচ আমাদের দেশে যাকাত হিসেবে শাড়ি বা লুঙ্গি দেয়া হয়, যা মোটেও কাম্য নয়। অনেকে যাকাত হিসেবে কিছু নগদ টাকা দেন, এ টাকা দিয়ে তারা বিড়ি-সিগারেট কিনে সে টাকা শেষ করে ফেলেন। অনেক দোকানে লেখা থাকে, এখানে যাকাতের কাপড় বিক্রি করা হয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে যাকাতের আলাদা কাপড় আছে। যারা যাকাত নিবে তারা আলাদা শ্রেণির। ইসলাম শ্রেণি-বৈষম্য তৈরি করার জন্য যাকাতের ব্যবস্থা করে নাই। বরং শ্রেণি-বৈষম্য দূর করার জন্য যাকাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামে নির্ধারিত যে ৮টি খাত রয়েছে, তা অনুসরণ করে ইউনিয়ন-পৌরসভায় যাকাতদাতার তালিকা তৈরি করে যাকাত আদায় করতে হবে এবং তা থেকে প্রতিবছর এমন কয়েকজনকে যাকাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, যাতে পরবর্তী বছর তাদের যাকাত নিতে না হয়। শরীয়ত অনুমোদন করলে যাকাতের টাকা দিয়ে একটি আধুনিক যুগোপযোগী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যেখানে দরিদ্র ও মেধাবীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
যাকাতের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সঠিকভাবে যাচাই করে একেবারেই নিম্নবিত্তদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত
এড. মোঃ নূরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন
সাধারণ সম্পাদক, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ

শৈশবে ঈদ উদ্যাপন করেছি আমার গ্রামের বাড়ি চররুহিতায় এবং গত চল্লিশ বছর ঈদ উদ্যাপন করছি আমার লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে। পবিত্র মক্কা নগরীতে আগামী ২৭ জুন আমি ওমরা হজ্ব পালনের জন্য যাচ্ছি এবং হজ্ব শেষে এবারে ঈদুল ফিতরটা সৌদী আরবের মক্কায় উদ্যাপন করার কথা ভাবছি। শহরের চেয়ে গ্রামের ঈদের মজাটা একটু আলাদা, কারণ ঈদ উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে প্রবাসীরা যখন বাড়িতে আসে, তখন পারিবারিক একটি আমেজ তৈরি হয় এবং স্থানীয়ভাবে সামাজিক বলয় তৈরি হয়। যার কারণে পারিবারিক ও সামাজিক দু’দিক থেকেই গ্রামের ঈদটা অনেক বেশি আকর্ষণীয় এবং গ্রামের ঈদ অনেক বেশি আন্তরিক হয়। সেই কারণে গ্রামে ঈদ উদ্যাপন করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
জাতীয় এবং ব্যক্তি জীবনে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য অবশ্যই আছে, কারণ ঈদুল ফিতর হলো আমাদের মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব। ঈদের জামায়াতে নামাজ আদায়ের সাথে সাথে এলাকার লোকজন যখন সকলে একত্রিত হয়, তখন সেখানে একটি ভিন্ন পরিবেশ বিরাজ করে। ঈদুল আযহার সময় কোরবানী দেয়ার ব্যস্ততা থাকে বলে ঈদের জামাতে মানুষ সময় দিতে পারে না। ঈদুল ফিতরে সেদিক থেকে একটু বেশি সময় দেয়া যায় এবং মানুষের মধ্যে একটা পারস্পরিক যোগাযোগ, আলোচনা, সৌহার্দ্যময় পরিবেশ তৈরি হয়। যাকাত যারা দেয় তারা অনেক সময় দেয়ার জন্যই দেয়, আর যারা নেয় তারা অসহায় দরিদ্র বিধায় নেয়। সেক্ষেত্রে যাকাতের কাপড় যদি মানসম্মত হয়, তবে তারা হয়ত ছয় মাস এক বছর ব্যবহার করতে পারে। এজন্য পরিমাণে কম দিয়ে হলেও আমার মনে হয় এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত। কারণ যিনি নিবেন, তিনি যেন এটা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেন এবং অনেকদিন ব্যবহার করতে পারেন। যাকাতের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সঠিকভাবে যাচাই করে একেবারেই নিম্নবিত্তদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। অর্থাৎ যাদের পরনে কাপড় নেই, ঈদের দিন সেমাই কেনার সামর্থ্য নেই -ঐরকম হতদরিদ্রদেরকেই অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
শহরের ঈদ একটি বন্দিশালার মতো, নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্দিষ্ট এলাকায় আবদ্ধ; আর মফস্বল এলাকার ঈদ ব্যাপক-বিস্তৃত
মোঃ শামছুল করিম খোকন
সভাপতি, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন
লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিম্নমানের; মানুষের আর্থিক দৈন্যতার কারণে এবার ঈদের যে উৎসব, সে উৎসবের আমেজ পূর্ণাঙ্গভাবে আছে বলে আমি মনে করি না। ঈদ আমি বরাবরই নিজ এলাকায় পালন করি; আমার এলাকার মানুষদেরকে আমি ভালোবাসি। এলাকার গরিব-দুঃখী জনগণের সাথে ঈদ উদ্যাপন করতে ভালোবাসি; সুতরাং এবারও আমি এলাকার সকল মানুষের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করব ইনশাল্লাহ।
শহরের ঈদ একটি বন্দিশালার মতো, নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্দিষ্ট এলাকায় আবদ্ধ; আর মফস্বল এলাকার ঈদ ব্যাপক-বিস্তৃত। এখানে ঈদের দিন এলাকার জনগণের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে মিলন-মেলার সৃষ্টি হয়। সবার সাথে মনের ভাব বিনিময় করার আনন্দ উপলব্ধি করা যায়। জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে ঈদের আনন্দ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঈদ আমাদের জন্য প্রতি বছরই খুশির বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু যখন সাধারণ মানুষের দিকে তাকাই, তখন অনেকের মাঝে ঈদের খুশি পাওয়া যায় না। তখন মনে খুব দুঃখ বেদনা আসে। যাকাত ধর্মীয় একটি নির্দেশনা। যাকাতের অর্থ গরিব-দুঃখি মানুষের মাঝে বিলি করার নির্দেশনা রয়েছে। কেউ যদি নাম-যশ-খ্যাতির জন্য শাড়ী-লুঙ্গি বিতরণ করে, সেটা ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। গরিব-দুঃখিদের মাঝে সুন্দরভাবে নগদ অর্থ বিতরণ করাটাই আমি ভালো মনে করি। যাকাতের নগদ অর্থ গরিব-দুঃখিদের মাঝে বিতরণ করলে তারা তাদের প্রয়োজন মোতাবেক কাজে লাগাতে পারবে। কিন্তু শাড়ী-লুঙ্গি যদি যাকাতের টাকায় রাখা হয়, তাহলে ধর্মীয়ভাবে যাকাতের যে মৌলিক অর্থ, তা পালন হবে বলে আমার মনে হয় না।
ঈদের তাৎপর্য মেনে চললে আমাদের দেশ থেকে অনেক অসঙ্গতি দূর হয়ে যাবে
ডাঃ আনোয়ার হোসেন
মেডিকেল অফিসার
সদর হাসপাতাল, লক্ষ্মীপুর

ঈদ নিয়ে আমাদের আসলে বিশেষ ভাবনা করার সুযোগ খুবই কম; তারপরও ঈদের উপলক্ষে বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সম্মিলিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় বলে খুব ভালো লাগে। আমি সাধারণত বাবা-মায়ের সাথেই ঈদ উদ্যাপন করি। বাবা-মা গ্রামে থাকলে গ্রামে এবং বাবা-মা ঢাকায় থাকলে ঢাকায় ঈদ করি। এবারে বাবা-মা ঢাকায় থাকবে, তাই এবারের ঈদ ঢাকায় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শহরের ঈদ আর গ্রামের ঈদ দু’টির আমেজ দুরকম। গ্রামের ঈদ রুটের সাথে বা আত্মার সাথে সম্পর্কযুক্ত; এর অনুভূতিটা একটু আলাদা। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, তাদের সাথে দেখা হলে একটা অন্যরকম অনুভূতি আসে -এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অন্যদিকে শহরের ঈদ জাকজমকপূর্ণ থাকে, একটু হৈ-হুল্লুড় থাকে; কিন্তু গ্রামের ঈদটাই আমার কাছে পেবারেবল। ঈদের তাৎপর্যটা যদি আমরা জাতীয় এবং ব্যক্তিগত জীবনে মেনে চলি, তাহলে অন্তত আমাদের দেশ থেকে অনেক অসঙ্গতি দূর হয়ে যাবে, অনেক অসুবিধা হানাহানি কাটাকাটি অস্থিরতা দূর হয়ে যাবে।
আমাদের দেশে যাকাতের যে ব্যবস্থা শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ, আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়টা একেবারেই সমর্থন করি না। আর নিম্নমানের শাড়ি-লুঙ্গি দেয়াতো মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। এটা আসলে কিছুটা লোক দেখানো হয়ে যায়। মাইকিং করে লোক জড়ো করে যাকাত দিতে গিয়ে অনেক সময় কিছু অঘটন ঘটতেও দেখা যায়; এ সুযোগে অনেক বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতাও সৃষ্টি হয়। যাকাতের নামে হঠাৎ দু’চারটা শাড়ি-লুঙ্গি দিলে আসলে তা কোনো কাজে লাগে না। এটি না করে এ বছর সামর্থ্য অনুযায়ী দু’একটি পরিবারকে স্বাবলম্বি করে দিলে পরের বছর অন্য কোনো পরিবারকে স্বাবলম্বি করে দিলে তাদের আর পরবর্তীতে যাকাত নিতে হবে না। ভবিষ্যতে তারাও গরিবদেরকে যাকাত দিতে পারবে। এভাবে যাকাত দিলে সমাজ ও দেশের উপকার হবে বলে আমি মনে করি।
যাকাত এমনভাবে দেয়া উচিত, যাতে যাকাত গ্রহীতা পরনির্ভরশীল না থেকে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে
ডাঃ আশফাকুর রহমান মামুন
সভাপতি, বিএমএ, লক্ষ্মীপুর

ঈদ অর্থ খুশি; ঈদুল ফিতর আমাদের মুসলমান বাঙালির উৎসবের মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম উৎসবের একটি। আমরা ঈদুল আযহা পালনের সময় ত্যাগের মহিমাকে বড় করে দেখি এবং কোরবানীর একটা ব্যাপার থাকে। এখানে ব্যাপক সময় কোরবানীর সাথে কেটে যায়। ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার পর থেকে পুরা সময়টুকুই আমরা থাকি ফ্রি। সবাই সবার বাড়িতে যাই; আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাই, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করি এবং সেখানে কিছু মিষ্টিমুখ করানো হয় এবং কিছু খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় -এ রেওয়াজই দীর্ঘকাল যাবৎ চলে আসছে। আমি ডাক্তারদের সভাপতি, তাই ডাক্তারদের সাথে ঈদে সময় দেব, তাঁদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করব; ঈদের নামাজের পর এটাই আপাতত আমার ভাবনা।
লক্ষ্মীপুর ছাড়া পৃথিবীর কোথাও ঈদ উদ্যাপন করে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, তাই লক্ষ্মীপুরেই আমি ঈদ উদ্যাপন করব। সাধারণত আমি ঈদে দিনের বেলায় লক্ষ্মীপুরে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের সাথে ঈদ উদ্যাপন করি এবং বিকালবেলা বা সন্ধার পর আমি শ্বশুরালয়ে যাই এবং সেখানে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের সাথে ভাগাভাগি করে ঈদ উদ্যাপন করি।
আমি মনে করি- গ্রামে বা মফস্বলে ঈদ উদ্যাপনের যে আনন্দ, যে আন্তরিকতা, এর কোনো তুলনা হয় না। শহরে যারা ঈদ করে তাদের মধ্যে কোনো আনন্দ দেখি না। শহরে কেউ কারুর বাসায় যায় না, তারা বড়জোড় শিশুপার্কে যায় বা বিনোদন কেন্দ্রগুলিতে যায়; সেখানে তারা ঈদ উদযাপন করে; কিন্তু ওটার মধ্যে আন্তরিকতার ছোঁয়া থাকে না। গ্রামে বা মফস্বলে আমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে চিনি, শহরে কেউ কাউকে চিনে না। গ্রামে বা মফস্বলে ঈদের প্রধান আকর্ষণ হবে এখানে রাস্তায় দেখা হলেই কোলাকুলি করি; কিন্তু শহরে যেখানে কাউকে চিনেনই না, সেখানে কার সাথে কোলাকুলি করবেন। তাই শহরের চেয়ে গ্রামে বা মফস্বলে আমি ঈদ উদ্যাপনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। ঈদুল ফিতরের আগে আছে রমজান, রমজান মানে ত্যাগ; রমজান আমাদের শিক্ষা দেয় গরিব-দুঃখী মানুষের কষ্টটা অনুভব করতে। তাই সঠিক নিয়মে যাকাত দেয়ার মাধ্যমে গরিব-দুঃখীর দুঃখকষ্ট লাঘবের চেষ্টা করা উচিত বলে আমি মনে করি।
যাকাতের নামে নিম্নমানের শাড়ী-লুঙ্গি বিতরণকে আমি সমর্থন করি না এবং যাকাত দেয়ার কথা বলে মানুষকে জড়ো করা, একত্র করা ঠিক নয়। আর নিম্নমানের শাড়ী দেয়ারতো প্রশ্নই ওঠে না। আমি মনে করি, যাদের নিজেদের মধ্যে গরিব আত্মীয়স্বজন আছে এবং যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে তাদের দিকে আগে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের দুঃখ-দুর্দশা আগে দেখতে হবে, তারপর অন্যদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্নমানের শাড়ি-লুঙ্গি অনেককে না দিয়ে একজনকে ছোট একটা দোকান করে দেয়া বা অন্যভাবে স্বাবলম্বি করে গড়ে তোলা বেশি জরুরি বলে আমি মনে করি। এমনভাবে যাকাত দেয়া উচিত, যাতে সে সংসারে আয়বর্ধন করতে পারে; সে যেন পরনির্ভশীল না থেকে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। তাছাড়া একটা ছেলে যে লেখা-পড়া করার জন্য খরচ বহন করতে পারে না, তার বই-খাতা কিনে দেয়া দরকার কিংবা তার বেতন দেয়া দরকার। এভাবে যাকাতের টাকা বিতরণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
ঈদ-উল-আযহার তুলনায় ঈদুল ফিতর বেশি ভালোভাবে উদ্যাপন করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে আছি, সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে ঈদ উদ্যাপন করবে, সেটি ভাববার বিষয়। দেশে এখন হাহাকার চলছে; সারাদেশে যেভাবে গুপ্ত হত্যা হচ্ছে, যেখানে আইনের লংঘন হচ্ছে প্রতিমূহুর্তে, মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে; সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে ঈদ উদ্যাপন করবে। সাধারণ মানুষ ভালোভাবে ঈদ উদ্যাপন করতে পারলেই আমাদেরও ভালো লাগবে। আমি বরাবরই স্থানীয়ভাবে লক্ষ্মীপুরে ঈদ উদ্যাপন করি। এবারও পার্শ্ববর্তী মানুষের সাথে পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে মিলেমিশে ঈদ উদ্যাপনের ইচ্ছা আছে ইনশাল্লাহ।
শহর এবং গ্রামের ঈদের মধ্যে অবশ্যই অনেক পার্থক্য আছে বলে আমার মনে হয়। আসলে মানুষ শহরে বাস করে শহরে যায় রুটি-রুজির জন্য, ইনকামের জন্য। কিন্তু ঈদের সময় তারা ঠিকই গ্রামে এসে মা-বাবা-ভাই-বোনের সাথে, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সাথে ঈদ উদ্যাপন করে। কেননা সবার সাথে ঈদ উদ্যাপন করার আনন্দটাই ভিন্ন।
জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে ঈদুল ফিতরের যে শিক্ষা, সেটা আমাদের ভেতরে নেই বললেই চলে। আল্লাহপাক্ রমজান দিয়েছেন আমাদেরকে ধৈর্য ধারনের জন্য, রমজান দিয়েছেন আমাদের মধ্যে গরিব-ধনী এবং সমাজের উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণ মানুষের মধ্যে একটা পার্থক্য বোঝার জন্য। এই রমজান মাসে আমরা যে পার্থক্যটা বুঝি, সে পার্থক্যটাকে আসলে আমাদের ব্যক্তি জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করার মধ্যেই ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য রয়েছে। আমরা যারা সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত আছি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। রমজানের শিক্ষা এবং ঈদুল ফিতরের শিক্ষা গ্রহণ করে আমরা যেন সমাজকে এবং দেশকে কিছু দিতে পারি।
যাকাতের নামে আসলে নিম্নমানের শাড়ী লুঙ্গি বিতরণকে আমি কোনোভাবেই সমর্থন করি না। কারণ যাকাত দেয়া হয় বড় লোকের টাকা দিয়ে গরিব মানুষ তাদের অভাব দূর করবে, তারা স্বাবলম্বি হবে -এই জন্য। কিন্তু শাড়ী-লুঙ্গি দিলে সেটা কয়েকদিন ব্যবহার করল তারপর সেটা আর কোনো কাজে আসে না। আর নিম্নমানেরতো প্রশ্নই আসে না। যাকাতের নামে নিম্নমানের শাড়ী-লুঙ্গি বিতরণের জন্য আমাদের দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলা কিংবা বড়লোকরা যেভাবে মাইকিং করে বা প্রচার-প্রচারণা করে হাজার হাজার মানুষ একত্র করে এবং সেখানে পদদলিত হয়ে মানুষ মারা যায়, তা মোটেও কাম্য নয়। আরও দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে একটি শাড়ীর জন্য একটি লুঙ্গির জন্য সারাদিন অতিবাহিত করে সন্ধায় খালি হাতে ফিরে যেত, এটা জঘন্য সিস্টেম। সুতরাং যাকাত বিতরণের এই পন্থা অবশ্যই পরিবর্তন হওয়া দরকার; যাকাত রাষ্ট্রিয়ভাবে জমা দেয়া দরাকর এবং রাষ্ট্রিয় ফান্ডে জমা দিয়ে যাকাতের টাকা সুন্দরভাবে বন্টন করে নিম্নআয়ের মানুষগুলির অভাব দূর করা দরকার, মানুষের কাজের পরিবেশ তৈরি করা দরকার, যাকাতের টাকা দিয়ে একটি ভিন্ন ফান্ড গড়ে তুলে তা দিয়ে কারখানা তৈরি করে সেখানে মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করা দরকার। এভাবে করলে সমাজ ও দেশের উন্নয়ন হবে বলে আমি মনে করি।
যাকাত এমনভাবে দেয়া উচিত, যাতে যাকাত গ্রহীতা পরনির্ভরশীল না থেকে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে
ডাঃ আশফাকুর রহমান মামুন
সভাপতি, বিএমএ, লক্ষ্মীপুর

ঈদ অর্থ খুশি; ঈদুল ফিতর আমাদের মুসলমান বাঙালির উৎসবের মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম উৎসবের একটি। আমরা ঈদুল আযহা পালনের সময় ত্যাগের মহিমাকে বড় করে দেখি এবং কোরবানীর একটা ব্যাপার থাকে। এখানে ব্যাপক সময় কোরবানীর সাথে কেটে যায়। ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার পর থেকে পুরা সময়টুকুই আমরা থাকি ফ্রি। সবাই সবার বাড়িতে যাই; আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাই, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করি এবং সেখানে কিছু মিষ্টিমুখ করানো হয় এবং কিছু খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় -এ রেওয়াজই দীর্ঘকাল যাবৎ চলে আসছে। আমি ডাক্তারদের সভাপতি, তাই ডাক্তারদের সাথে ঈদে সময় দেব, তাঁদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করব; ঈদের নামাজের পর এটাই আপাতত আমার ভাবনা।
লক্ষ্মীপুর ছাড়া পৃথিবীর কোথাও ঈদ উদ্যাপন করে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, তাই লক্ষ্মীপুরেই আমি ঈদ উদ্যাপন করব। সাধারণত আমি ঈদে দিনের বেলায় লক্ষ্মীপুরে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের সাথে ঈদ উদ্যাপন করি এবং বিকালবেলা বা সন্ধার পর আমি শ্বশুরালয়ে যাই এবং সেখানে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের সাথে ভাগাভাগি করে ঈদ উদ্যাপন করি।
আমি মনে করি- গ্রামে বা মফস্বলে ঈদ উদ্যাপনের যে আনন্দ, যে আন্তরিকতা, এর কোনো তুলনা হয় না। শহরে যারা ঈদ করে তাদের মধ্যে কোনো আনন্দ দেখি না। শহরে কেউ কারুর বাসায় যায় না, তারা বড়জোড় শিশুপার্কে যায় বা বিনোদন কেন্দ্রগুলিতে যায়; সেখানে তারা ঈদ উদযাপন করে; কিন্তু ওটার মধ্যে আন্তরিকতার ছোঁয়া থাকে না। গ্রামে বা মফস্বলে আমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে চিনি, শহরে কেউ কাউকে চিনে না। গ্রামে বা মফস্বলে ঈদের প্রধান আকর্ষণ হবে এখানে রাস্তায় দেখা হলেই কোলাকুলি করি; কিন্তু শহরে যেখানে কাউকে চিনেনই না, সেখানে কার সাথে কোলাকুলি করবেন। তাই শহরের চেয়ে গ্রামে বা মফস্বলে আমি ঈদ উদ্যাপনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
ঈদুল ফিতরের আগে আছে রমজান, রমজান মানে ত্যাগ; রমজান আমাদের শিক্ষা দেয় গরিব-দুঃখী মানুষের কষ্টটা অনুভব করতে। তাই সঠিক নিয়মে যাকাত দেয়ার মাধ্যমে গরিব-দুঃখীর দুঃখকষ্ট লাঘবের চেষ্টা করা উচিত বলে আমি মনে করি।
যাকাতের নামে নিম্নমানের শাড়ী-লুঙ্গি বিতরণকে আমি সমর্থন করি না এবং যাকাত দেয়ার কথা বলে মানুষকে জড়ো করা, একত্র করা ঠিক নয়। আর নিম্নমানের শাড়ী দেয়ারতো প্রশ্নই ওঠে না। আমি মনে করি, যাদের নিজেদের মধ্যে গরিব আত্মীয়স্বজন আছে এবং যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে তাদের দিকে আগে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের দুঃখ-দুর্দশা আগে দেখতে হবে, তারপর অন্যদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্নমানের শাড়ি-লুঙ্গি অনেককে না দিয়ে একজনকে ছোট একটা দোকান করে দেয়া বা অন্যভাবে স্বাবলম্বি করে গড়ে তোলা বেশি জরুরি বলে আমি মনে করি। এমনভাবে যাকাত দেয়া উচিত, যাতে সে সংসারে আয়বর্ধন করতে পারে; সে যেন পরনির্ভশীল না থেকে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। তাছাড়া একটা ছেলে যে লেখা-পড়া করার জন্য খরচ বহন করতে পারে না, তার বই-খাতা কিনে দেয়া দরকার কিংবা তার বেতন দেয়া দরকার। এভাবে যাকাতের টাকা বিতরণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
সাধারণ মানুষ ভালোভাবে ঈদ উদ্যাপন করতে পারলেই আমাদেরও ভালো লাগে
জসিম উদ্দিন মাহমুদ
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন
লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা

ঈদ-উল-আযহার তুলনায় ঈদুল ফিতর বেশি ভালোভাবে উদ্যাপন করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে আছি, সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে ঈদ উদ্যাপন করবে, সেটি ভাববার বিষয়। দেশে এখন হাহাকার চলছে; সারাদেশে যেভাবে গুপ্ত হত্যা হচ্ছে, যেখানে আইনের লংঘন হচ্ছে প্রতিমূহুর্তে, মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে; সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে ঈদ উদ্যাপন করবে। সাধারণ মানুষ ভালোভাবে ঈদ উদ্যাপন করতে পারলেই আমাদেরও ভালো লাগবে।
আমি বরাবরই স্থানীয়ভাবে লক্ষ্মীপুরে ঈদ উদ্যাপন করি। এবারও পার্শ্ববর্তী মানুষের সাথে পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে মিলেমিশে ঈদ উদ্যাপনের ইচ্ছা আছে ইনশাল্লাহ।
শহর এবং গ্রামের ঈদের মধ্যে অবশ্যই অনেক পার্থক্য আছে বলে আমার মনে হয়। আসলে মানুষ শহরে বাস করে শহরে যায় রুটি-রুজির জন্য, ইনকামের জন্য। কিন্তু ঈদের সময় তারা ঠিকই গ্রামে এসে মা-বাবা-ভাই-বোনের সাথে, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সাথে ঈদ উদ্যাপন করে। কেননা সবার সাথে ঈদ উদ্যাপন করার আনন্দটাই ভিন্ন।
জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে ঈদুল ফিতরের যে শিক্ষা, সেটা আমাদের ভেতরে নেই বললেই চলে। আল্লাহপাক্ রমজান দিয়েছেন আমাদেরকে ধৈর্য ধারনের জন্য, রমজান দিয়েছেন আমাদের মধ্যে গরিব-ধনী এবং সমাজের উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণ মানুষের মধ্যে একটা পার্থক্য বোঝার জন্য। এই রমজান মাসে আমরা যে পার্থক্যটা বুঝি, সে পার্থক্যটাকে আসলে আমাদের ব্যক্তি জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করার মধ্যেই ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য রয়েছে। আমরা যারা সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত আছি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। রমজানের শিক্ষা এবং ঈদুল ফিতরের শিক্ষা গ্রহণ করে আমরা যেন সমাজকে এবং দেশকে কিছু দিতে পারি।
যাকাতের নামে আসলে নিম্নমানের শাড়ী লুঙ্গি বিতরণকে আমি কোনোভাবেই সমর্থন করি না। কারণ যাকাত দেয়া হয় বড় লোকের টাকা দিয়ে গরিব মানুষ তাদের অভাব দূর করবে, তারা স্বাবলম্বি হবে -এই জন্য। কিন্তু শাড়ী-লুঙ্গি দিলে সেটা কয়েকদিন ব্যবহার করল তারপর সেটা আর কোনো কাজে আসে না। আর নিম্নমানেরতো প্রশ্নই আসে না। যাকাতের নামে নিম্নমানের শাড়ী-লুঙ্গি বিতরণের জন্য আমাদের দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলা কিংবা বড়লোকরা যেভাবে মাইকিং করে বা প্রচার-প্রচারণা করে হাজার হাজার মানুষ একত্র করে এবং সেখানে পদদলিত হয়ে মানুষ মারা যায়, তা মোটেও কাম্য নয়। আরও দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে একটি শাড়ীর জন্য একটি লুঙ্গির জন্য সারাদিন অতিবাহিত করে সন্ধায় খালি হাতে ফিরে যেত, এটা জঘন্য সিস্টেম। সুতরাং যাকাত বিতরণের এই পন্থা অবশ্যই পরিবর্তন হওয়া দরকার; যাকাত রাষ্ট্রিয়ভাবে জমা দেয়া দরাকর এবং রাষ্ট্রিয় ফান্ডে জমা দিয়ে যাকাতের টাকা সুন্দরভাবে বন্টন করে নিম্নআয়ের মানুষগুলির অভাব দূর করা দরকার, মানুষের কাজের পরিবেশ তৈরি করা দরকার, যাকাতের টাকা দিয়ে একটি ভিন্ন ফান্ড গড়ে তুলে তা দিয়ে কারখানা তৈরি করে সেখানে মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করা দরকার। এভাবে করলে সমাজ ও দেশের উন্নয়ন হবে বলে আমি মনে করি।
ঈদুল ফিতর আমাদের শিক্ষা দেয় হিংসা-হানাহানি না করার
মোঃ কামাল উদ্দিন খোকন
প্যানেল মেয়র-১, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা

ঈদুল ফিতর নিয়ে আমার ব্যাপক ভাবনার কিছু নেই। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর যেহেতু আমাদের মাঝে আসে; তাই অন্যান্য বছর যেভাবে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করি, এবারও সেভাবে ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করব। ঈদের দিন আমরা সবাই নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করব, যেন আমরা সামনের একটি বছর ভালো থাকতে পারি। আমাদের আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব পাড়া-প্রতিবেশী সকলের সাথে কোলাকুলির মাধ্যমে একটি সোহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করব। আমার জন্মস্থান লক্ষ্মীপুর শমসেরাবাদ সাত নম্বর ওয়ার্ড। আমি আমার জন্মস্থানেই ঈদ উদ্যাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এলাকার আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব।
আমি শহরকেও ভিন্নভাবে দেখি না এবং গ্রামকেও ভিন্নভাবে দেখি না। যারা শহরে জন্মেছে, তারা তাদের মতো করে শহরে ঈদ উদ্যাপন করে; আর যারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছে, তারা গ্রামে ঈদ উদ্যাপন করবে। তাই যে যেখানে জন্মগ্রহণ করেছে, সেখানেই তার আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে ঈদ উদ্যাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বলে আমি মনে করি। এখানে পার্থক্য করার কিছু নেই।
আমরা মুসলমান; আমাদের কাছে বছরে একবার ঈদুল ফিতর আসে। এক মাস রোজা রাখার পরে আমরা ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করি। আমরা যেহেতু মুসলমান, তাই ঈদুল ফিতর থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। ঈদুল ফিতর আমাদের শিক্ষা দেয় হিংসা-হানাহানি না করা এবং বাস্তব জীবনে আমরা যেন ভালোভাবে, সুন্দরভাবে চলি। সামনের বছর আমরা ভালোভাবে কাজ করব, সমাজের উন্নয়ন করব, ব্যক্তির উন্নয়ন করব, পরিবারের উন্নয়ন করব; কিন্তু ঈদুল ফিতরের দিন এর ব্যতিক্রম কিছু দেখা যায়। আমরা অনেকে ঈদুল ফিতরের জন্য ভিন্ন চিন্তা করি; কেউ চিন্তা করি ঈদের দিন কোথায় জুয়া খেলব, কোথায় সিনেমা দেখব, কোথায় আড্ডা মারব। এসব পরিকল্পনা আসলে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্যের আওতায় পড়ে না। ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য হলো এক মাস রোজা রাখার পর ঈদের দিন সকাল বেলা ফজরের নামাজের পর ঈদের নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিব এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করব আমরা যেন ভালো থাকি এবং সমাজের সব স্তরের মানুষ যেন ভালো থাকে। সমাজে এবং দেশে যেন কোনো সন্ত্রাস না থাকে, হিংসা হানাহানি না থাকে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না থাকে -এটা হলো ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য ও শিক্ষা। আমরা সেভাবেই ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করব।
আমাদের দেশের অনেক বিত্তবান লোক নিম্নমানের শাড়ি-লুঙ্গি যাকাত হিসেবে দিয়ে থাকেন। তবে কেউ কেউ আবার ভালো মানেরও দেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মাইকিং করে লোক জড়ো করে একেবারে পাতলা শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেন। তিনি মনে করেন যে, দিয়েছেন এটিই অনেক। আসলে এটি হীন চিন্তা। ইসলাম এই হীন চিন্তার কথা বলে না। আমি তিনশত লোকেরে না দিয়ে পাঁচশ লোকেরে দেব, কিন্তু ভালো মানের দিব; যেন যিনি ব্যবহার করবেন তিনি তা পেয়ে খুশি থাকেন। শাড়ী-লুঙ্গি দেয়া আমাদের দেশে একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ইসলাম যে কথাটা বলে, সেটি হলো যাকাত ঐভাবে দেয়া উচিত, যে লোক যাকাত পেল, সে যেন একটা কাজে লাগাতে পারে। অর্থাৎ যাকাত এই পরিমাণ দেই, যেন যাকাতের টাকাটা দিয়ে সে একটা কাজ করতে পারে। হয় তারে একটা রিক্সা কিনে দেয়া। গরিব যেহেতু একটা রিক্সা কিনে দিলে তার একটা কর্মসংস্থান হলো। আরো কিছু টাকা বাড়িয়ে যদি অটোরিক্সা কিনে দেয়া যায়, তাহলে আরো ভালো। অথবা তাকে অন্তত এমনভাবে দেয়া উচিত, সে যেন একটি গরু কিনতে পারে; গরুটা পালন করে তার স্বাবলম্বি হওয়ার সম্বাবনা আছে। এভাবে যাকাত দিলে এবং এর মাধ্যমে লোকটি স্বাবলম্বি হলে তার আর যাকাতের টাকার প্রয়োজন হবে না সে ধনী হয়ে যাবে, সেও আবার একদিন গরিবের মাঝে যাকাত দেয়ার সমর্থ্য অর্জন করবে। আমি মনে করি, যাকাত এভাবে দিলে সবচেয়ে ভালো।
ঠিকমতো যাকাত প্রদান করলে বাংলাদেশের মানুষ হতদরিদ্র থেকে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারবে
আসাদুজজামান চৌধুরী
নির্বাহী পরিচালক, জেমস

আল্লাহর রহমতে গত বছরের চেয়ে এ বছরের ঈদুল ফিতর আমার পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে ভালো কাটাব বলে আশা রাখি। এ বছর আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উপযাপন করার পরিকল্পনা করছি। সকালে নিজ গ্রামের ঈদগাহ মাঠে গ্রামের সকল আত্মীয়স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী একই কাতারে দাঁড়িয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করব। তারপর সকলের সাথে কুশল বিনিময় করব।
শহরে ঈদ উদ্যাপন এবং নিজ গ্রামের ঈদ উদ্যাপনের মধ্যে আমি বিশাল পার্থক্য অনুভব করি। ঈদুল ফিতর আসলে নাড়ির টান অনুভব হয়। আমি ঈদের সময় গ্রামে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
ঈদুল ফিতরের শিক্ষা পরিপূর্ণভাবে মানা সম্ভব হয় না। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, আমাদের দেশটা অনেক গরিব, অর্থনৈতিকভাবে আমরা অনেক পিছিয়ে, যার জন্য জাতীয়ভাবে ঈদুল ফিতরের শিক্ষা ও তাৎপর্য মেনে চলতে পারে না। আমাদের দেশে অনেক গরিব আছে, যারা হতদরিদ্র, যারা দিন আনে দিন খায়, আবার খেতেও পায় না। তাদের জন্য ঈদ কি, বোঝার ক্ষমতা নাই। ব্যক্তি জীবনে চেষ্টা করি, ঈদুল ফিতরের শিক্ষা ও তাৎপর্য মেনে চলতে। ঈদ আসলে আত্বীয়স্বজন সবাইকে নতুন কাপড় দেয়ার চেষ্টা করি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যাকাত এবং ফিতরা ইসলাম এবং সরকারি নিয়ম অনুয়ায়ী দিয়ে থাকি। কতটুকু মেনে চলতে পারছি, সেটা একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন।
যাকাতের নামে নিম্নমানের শাড়ী-লুঙ্গি বিতরণকে আমি বিন্দুমাত্র সমর্থন করি না। যাকাত বিতরণে আমরা ভালো মানের শাড়ী ও লুঙ্গি বিতরণ করব। সরকারি-বেসরকারি এবং এতিমখানা আছে, যেখানে যাকাত দেয়া যেতে পারে। কিন্তু সবাই ভাবেন- ঐসব যাকাত ঠিকমতো বিতরণ করা হবেতো! এই অবিশ্বাস থেকে মানুষ যার যার মতো করে যাকাত বিতরণ করেন। যাকাত বিতরণে সরকারিভাবে একটি সুষ্ঠু নীতিমালা থাকা উচিত, যাতে যাকাত গ্রহণ করে হতদরিদ্র মানুষগুলো স্বাবলম্বী হতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, ঠিকমতো যাকাত প্রদান করলে বাংলাদেশের মানুষ হতদরিদ্র থেকে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারবে।