Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

সততা, নিষ্ঠা, কর্মস্পৃহা দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি; যাতে পাসপোর্ট অফিসে আসা যেকোনো ব্যক্তি আমার সেবা পায় -মোঃ মাকসুদুর রহমান

মোঃ মাকসুদুর রহমান
সহকারী পরিচালক, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, লক্ষ্মীপুর

চট্টগ্রাম বিভাগের পাসপোর্ট সেবায় শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হওয়ায় নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করে লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোঃ মাকসুদুর রহমান বলেন, আমার অনুভূতি খুবই ভালো। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ মূল্যায়ন খুবই বড় একটি অর্জন। শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। লক্ষ্মীপুর জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে শ্রেষ্ঠ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা নির্বাচিত হওয়া খুবই গর্বের এবং ভাগ্যের বিষয়। পববর্তীতে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে পূনরায় প্রতিযোগিতা করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচিত হওয়া আরো বেশি আনন্দের।
এই আনন্দের সংবাদে যাদেরকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালক ও উপ-পরিচালকবৃন্দ এবং সর্বশেষ বর্তমান সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) কে। এঁনাদের অনুপ্রেরণা ও নির্দেশনায় আমার এ অর্জন।
কার অনুপ্রেরণায় এবং কী উদ্দেশ্য নিয়ে বহিরাগমন ও পাসপোপর্ট অধিদপ্তরে যোগদান করেছেন -এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মাকসুদুর রহমান বলেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। মা-বাবার দোয়াই পৃথিবীতে সন্তানের জন্য বড় দোয়া। মা-বাবার ঐকান্তিক চেষ্টা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সম্মিলিত নির্দেশনায় এই অধিদপ্তরে আমি যোগদান করি।
মাকসুদুর রহমান বলেন, আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সেবা। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে যোগদান করি সেবাধর্মী সরকারি প্রতিষ্ঠান বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে। পাসপোর্ট সেবাকে বুকে লালন করে দিনের পর দিন সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। প্রত্যেক ব্যক্তিই তার কৃতকর্মের ফলাফল ভোগ করবে। আজকে আমি কাউকে সাহায্য-সহযোগিতা করলে অবশ্যই কেউ না কেউ আমাকে সাহায্য করবে -এটি আমার বিশ্বাস। নিজের সততা, নিষ্ঠা, কর্মস্পৃহা দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি; যাতে পাসপোর্ট অফিসে আসা যেকোনো ব্যক্তি আমার সেবা পায় অর্থাৎ তার অধিকার আদায় করতে পারে।
লক্ষ্মীপুর পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে আপনি কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন -এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মাকসুদুর রহমান বলেন, আমি অনেকগুলো পদক্ষেপই গ্রহণ করেছি; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ফেসবুক পেজ খোলার মাধ্যমে আবেদনকারীদের পোস্টকৃত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। পেজের নাম www.facebook.com/passportoffice Lakshmipur. সার্বক্ষণিক কর্পোরেট মোবাইল ফোনে তথ্য সেবা দেয়া। ই-মেইলের মাধ্যমে সেবা প্রদান। পাসপোর্ট তৈরি হলে কিংবা অনাকাক্সিক্ষত বিলম্ব হলে তা গ্রাহককে এসএমএস’র মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া। প্রতি মঙ্গলবার গণশুনানির ব্যবস্থা (সকাল ১০-১টা পর্যন্ত)। ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে ফরম পূরণের নমুনা অফিস আঙ্গিনায় ঝুলানোর ব্যবস্থা করা। অনলাইনে কীভাবে আবেদনপত্র পূরণ করতে হয়, তা ডিজিটাল বোর্ডে প্রদর্শন। পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ-২০১৬” জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা। অসুস্থ, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধিদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান।
এছাড়া যেসব পরিকল্পনা আমার রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- লক্ষ্মীপুরে নিজস্ব জমিতে পাসপোর্ট ভবন অর্থাৎ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ। পাসপোর্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সমৃদ্ধ ডিজিটাল নিয়ন স্ক্রল বোর্ড তৈরি করা। বিভিন্ন কলেজ, এলাকায় পাসপোর্ট সেবা সম্পর্কিত প্রচারণা করা। মাকসুদুর রহমান এর পরিচিতি মোঃ মাকসুদুর রহমান ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর পূর্বকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা- মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (মানিক) একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শিক্ষানুরাগী; তিনি স্কুল, গার্লস স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা; এটিএন বাংলার বরিশাল বিভাগের ‘সাদামনের মানুষ’ হিসেবে সংবর্ধিত; পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তাঁর মাতা- মিসেস মাহমুদা রহমান ‘রতœগর্ভা মা’ আজাদ প্রোডাক্ট কর্তৃক ২০১১ সালে সংবর্ধিত।
মাকসুদুর রহমানরা ৫ ভাই, ৪ বোন। বড় বোন- সেলিনা পারভীন সমাজসেবিকা। মেজ বোন- রেহানা পারভীন সমাজসেবিকা। সেজ বোন-ফারহানা আক্তার, সহকারী অধ্যাপক, ২৪ বিসিএস (শিক্ষা), টংগী সরকারি কলেজ। ছোট বোন- ফারজানা রহমান, সহকারী কমিশনার, ৩০ বিসিএস (প্রশাসন), গোপালগঞ্জ ডিসি অফিস। বড় ভাই লেঃ কর্ণেল মোঃ মাহবুবুর রহমান, ২৪ বিএম লং কোর্স, চট্টগ্রাম সেনানিবাস। মেজ ভাই- ট্রাফিক ইনসপেক্টর মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, সাভার হাইওয়ে। সেজ ভাই- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) নেত্রকোনা। ছোট ভাই- মোঃ মুশফিকুর রহমান, ২৮তম বিসিএস (প্রশাসন) শরীয়তপুর (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পদায়নের অপেক্ষায়)।
মাকসুদুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন বদরটুনী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিনাথপুর, হিজলা, বরিশাল থেকে। মাধ্যমিক- মুসলিম মর্ডান একাডেমী, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা। উচ্চ মাধ্যমিক- ঢাকা কলেজ, ঢাকা। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর-বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। স্নাতক- কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান; স্নাতকোত্তর- কৃষি অর্থনীতি (উৎপাদন অর্থনীতি)
মাকসুদুর রহমান ২০০৮ বিআরসি এর মাধ্যমে সিনিয়র অফিসার হিসেবে রূপালী ব্যাংকে যোগদান করেন। এরপর ২০১২ সালের ২২ জুলাই ৩০তম বিসিএস (নন ক্যাডার) থেকে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এ সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করে কিশোরগঞ্জ ও চট্টগ্রাম-চাঁদগাও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত আছেন।
মাকসুদুর রহমান ‘বাঁধন’ স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠন, বাকৃবি, কার্যকরী সদস্য এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। তিনি সরকারি কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ভ্রমণ করেন
মাকসুদুর রহমান এর ব্যক্তিগত শখ ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, টেনিস ইত্যাদি খেলা এবং টিভি দেখা। মাকসুদুর রহমানের স্ত্রী নাসরিন আক্তার একজন ব্যাংকার। তাঁদের এক কন্যা সন্তান- আর্শিয়া ফারিজা রহমান; বয়স ২বছর ৫মাস।