Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

বর্ষায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে লক্ষ্মীপুরের মানচিত্র ছোট হয়ে যাচ্ছে

বর্ষায় মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে লক্ষ্মীপুরের মানচিত্র দিন-দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে। উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর তীরবর্তী হাজারো মানুষের স্বপ্ন, ভিটে-মাটি, ঘর-বাড়ি। প্রতিনিয়ত নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাচ্ছে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার গ্রামের পর গ্রাম। নদী পাড়ের এমন দৃশ্য প্রতিনিয়ত দেখা যায় উপকূলীয় উপজেলা রামগতি ও কমলনগরে। এসব ভাঙনে নিঃস্ব হওয়া মানুষদের যেন দেখার কেউ নেই! সম্প্রতি মেঘনার ভাঙ্গনরোধের দাবিতে কমলনগরে ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন করে স্থানীয়রা।
কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকা থেকে কালকিনি সাহেবের হাট, চর ফলকন ও পাটারীর হাট এ চারটি ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা ভেঙ্গে গিয়ে মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টি আর বাতাসের বেগে মেঘনা নদী ক্রমান্বয়ে ভাঙ্গতে থাকে। নদী ভাঙ্গনের ফলে ঘর-বাড়ি, বসত-ভিটা, ফসলের মাঠ, গাছ-পালা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পূর্বপুরুষের শেষ ঠিকানা (কবর) টুকুও আজ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সবকিছু হারিয়ে পরের জায়গায় একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই নেয় অসহায় মানুষগুলো। এদিকে প্রতিনিয়ত গ্রামের পর গ্রাম গ্রাস করে নিচ্ছে মেঘনার প্রবল ঢেউ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওইসব গ্রামের হাজারো মানুষ। মেঘনা নদীর তীরে হাজারো পরিবারের স্বপ্ন আজ মেঘনায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমলনগর উপজেলার মতিরহাট বাজার এলাকায় নদীভাঙ্গনের এমন করুণ দৃশ্য। প্রতিদিন প্রবল জোয়ারের স্রোতে অসংখ্য ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এসব করুণ দৃশ্য স্বচক্ষে দেখতে গিয়ে হঠাৎ দেখা মিলে ৭০ বছরের বৃদ্ধ রমিজ উদ্দিনের সাথে। নদী ভাঙ্গন সম্পর্কে কথা তুলতেই কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, এ মেঘনা নদী এ পর্যন্ত ৭ বার আমার ঘর-বাড়ি ও জায়গা-জমি তলিয়ে নিলো। আমার বাবা-মা, পূর্বপুরুষ এমনকি স্ত্রী জাহেরা বেগমের কবরটাও এ মেঘনার ভাঙ্গনে হারিয়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে আজ আমাকে অন্যের জমিতে ঘর তুলে থাকতে হচ্ছে।