Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
রোহিঙ্গা ইস্যুতে লক্ষ্মীপুরে স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার সংগঠনের মানববন্ধন  লক্ষ্মীপুরে সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক মহিলা সমাবেশ  বর্ণাঢ্য আয়োজনে লক্ষ্মীপুরে সোনাপুর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী  শিক্ষিকাকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জে সহকারী শিক্ষক সমিতির মানবন্ধন  লক্ষ্মীপুরে ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল 

বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উপযুক্ত বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে -এডভোকেট মোঃ আবদুন নূর দুলাল

কিংবদন্তি ফেলো-ফিলিংস এর গুণে গুণান্বিত বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতী সন্তানগণ ছড়িয়ে আছেন সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে। সরকারের অনেক দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে তাঁরা দেশ ও জনগণের সেবা করে যাচ্ছেন। বেসরকারি পর্যায়েও নোয়াখালীর অনেক সন্তান রেখে চলেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। এমনই এক ব্যক্তিত্ব এডভোকেট মোঃ আবদুন নূর দুলাল, যিনি একজন প্রাজ্ঞ আইনজীবী। এ পেশায় থেকেও তিনি দেশসেবার উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছেন। নিজ জন্মভূমি নোয়াখালী সম্পর্কেও তার চিন্তা-গবেষণা-পরিকল্পনা বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে। তাঁর ব্যক্তিগত শখ লেখাপড়া ও গবেষণা। মানুষ, মুসলমান এবং বাঙালি এই ৩ সত্ত্বা একই সময় তাঁর মাঝে কাজ করে। মানুষ হিসেবে তাঁর স্বপ্ন একটি ‘Good Earth’। মুসলমান হিসেবে তাঁর স্বপ্ন Intellectual Development of Muslims, যাতে মুসলমানরা বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে পারে। বাঙালি হিসেবে তাঁর স্বপ্ন একটি সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ; একটি আত্মমর্যাদাশীল ও সার্বভৌম জাতি, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমতার রাষ্ট্র।
মানুষ হিসেবে তাঁকে ব্যথিত করে হিরোশিমা, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। মুসলমান হিসেবে তাঁকে ব্যথিত করে ইরাক, আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিন। বাঙালি হিসেবে তাঁকে ব্যথিত করে ১৫ আগস্ট এবং বোন ফেলানির ঝুলন্ত লাশ।
প্রতিভাদীপ্ত প্রিয় এ মানুষটি সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। সাক্ষাৎকারের উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে সন্নিবেশিত হলো।
নিজ জন্মএলাকা সম্পর্কে ভাবছেন কি? এলাকার সাথে যোগাযোগ কেমন এবং সে যোগাযোগ কীভাবে রক্ষা করে থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে এলাকাপ্রেমী সচেতন ব্যক্তিত্ব এডভোকেট মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, অবশ্যই ভাবছি। বদল কোট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্য্যক্রমের সাথে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমি প্রায় প্রতিমাসে একবার বাড়ি যাই। তদুপরি আমার এলাকার সামাজিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে আমি জড়িত ছিলাম এবং আছি।
নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে কেমন বোধ করেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে নোয়াখালীর কৃতী সন্তান মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, নোয়াখালী একটি বর্ধিষ্ণু অঞ্চল। সেজন্য নোয়াখালী আমার গর্ব ও অহংকার। আমি এনএলএফ লইয়ার্স সলিডারিটির একজন সক্রিয় সদস্য ও সংগঠক। বৃহত্তর নোয়াখালীকে ঘিরে আপনার এমন কোনো স্মৃতি আছে কি, যা আজও আপনার মনে দোলা দেয় এমন প্রশ্নের জবাবে নোয়াখালীপ্রেমী মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, নোয়াখালীতে আমার শৈশব-কৈশোর ও যৌবনের কিয়দংশ কেটেছে। অসংখ্য স্মৃতি বিজড়িত নোয়াখালী। আমার শৈশবে সবচেয়ে আনন্দের দিন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। একটি জাতির জেগে ওঠা কাকে বলে, তা আমি দেখেছিলাম ১৯৬৯, ১৯৭০ এবং ১৯৭১ সালে। প্রতিরাত প্রতিটি গ্রামে মশাল মিছিল যে দেখেনি, তাকে তা বলে বোঝানো যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ এ জাতির সবচেয়ে বড় অহংকার এবং আমি তার প্রত্যক্ষ্য স্বাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধই আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি এবং পথ চলার প্রেরণা।
দ্বিতীয়বার আনন্দ পেয়েছিলাম ১৯৭৭ সালে, যেদিন আমার এসএসসি’র রেজাল্ট বের হয়। আমাদের সময়ে প্রথম বিভাগ ছিল একটি দুর্লভ বিষয়। কয়েকটি স্কুলে একজন হয়তো প্রথম বিভাগ পেতেন। আমি পেয়েছিলাম এবং আমাকে যে কত মানুষ দেখতে এসেছিল এবং স্কুলে সেদিন যে খুশির বন্যা বয়েছিল তা এখনো আমাকে প্রাণচঞ্চল করে।
আপনার নিজ এলাকার কোন্টিকে প্রধান সমস্যা বলে মনে করেন? এসব সমস্যার সমাধান না হবার কারণ কি? এ সমস্যা সমাধানে আপনার পরামর্শ বলবেন কি এমন প্রশ্নের জবাবে বৃহত্তর নোয়াখালী সম্পর্কে গভীর অনুসন্ধিৎসু মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, আমার নিজ এলাকার প্রধান সমস্যা কোনোটাই নয়। বাংলাদেশের স্বাভাবিক চিত্রের মতো অনেক সমস্যা আছে এবং দিনে দিনে তা সমাধান হয়েও চলেছে।
বৃহত্তর নোয়াখালীর মূল সমস্যা কী? নোয়াখালীর উন্নয়নে বাধা কোথায়? কী করে সে বাধা অতিক্রম করে বৃহত্তর নোয়াখালীকে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করা যায় এমন জিজ্ঞাসার জবাবে দূরদর্শী সমাজসচেতন ব্যক্তিত্ব মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীরও মূল সমস্যা বলে কিছু নেই। তবে নোয়াখালীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নোয়াখালীর তীর ঘেঁষে জেগে ওঠা বিশাল চরাঞ্চলের কার্যকর ও লাভজনক ব্যবহার। সরকারের সহযোগিতায় নোয়াখালীর সকল মেধাবী মানুষের এ বিষয়ে নজর দেয়া একান্ত আবশ্যক।
নোয়াখালী- লক্ষ্মীপুর- ফেনী, এই ৩ জেলাকে ঐক্যের চেতনায় উদ্দীপ্ত করতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় বলে আপনি মনে করেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে বৃহত্তর নোয়াখালীর কিংবদন্তি ঐক্যে বিশ্বাসী মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ফেনী ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে। পৃথিবীর অন্য যে কোনো অঞ্চলের তুলনায় এ ঐক্য সুদৃঢ়, মজবুত ও কালজয়ী।
আপনার নিজ এলাকায় কোনো জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে আপনি জড়িত রয়েছেন কিনা এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, আমি নিজ এলাকায় প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। বাল্যকাল থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে আমি জড়িত আছি। শিক্ষা বিস্তারে আমি কাজ করছি।
আপনি একজন বিদগ্ধ আইনজীবী হিসেবে জেলাবাসীর কল্যাণে আপনার আইন পেশা কতটুকু সহায়ক হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে আত্মবিশ্বাসী মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, শিক্ষা জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএল.এম ক্লাস করাকালীন সময় থেকেই আমি আইন পেশায় জড়িয়ে পড়ি। আমাদের দেশ যেভাবে এগুচ্ছে, সেভাবে এগুচ্ছে না আমাদের বিচারব্যবস্থা। আমাদের বিচারব্যবস্থা বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম নয়। বিচার ব্যবস্থা হওয়া উচিৎ আমাদের মুক্তি ও স্বস্তিলাভের উপায়। কিন্তু আমাদের বিচার ব্যবস্থার জটিলতায় বিড়ম্বনা ও কষ্টই বেশি। সেজন্য আমাদের মানুষ আদালতমুখী নয়, আদালতকে এড়িয়ে চলতে চায়। আদালতে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে মানুষকে আদালতমুখী করাই এখন আমার বড় চ্যালেঞ্জ। সে লক্ষ্যে আমি কাজ করছি এবং আমার একার কাজকে আমি সাংগঠনিক রূপ দেবার চেষ্টা করছি। সুন্দর আদালতের জন্য সুন্দর আইন প্রয়োজন। সেজন্য আইন শিক্ষাঙ্গন, জাতীয় সংসদ এবং বিচারব্যবস্থা সবখানে আমাদের যুগপৎ উন্নয়ন আবশ্যক।
তিনি বলেন, আমার জেলাবাসী আমার কাছে আইনের সমস্যা নিয়ে আসলে আমি অত্যন্ত যত্ন ও আন্তরিকতার সাথে তাদের সেবা দেয়ার চেষ্টা করি এবং এ ব্যাপারে বিশ্বাস করি, আমার সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশ আইন সমিতির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আইনজীবীদের কল্যাণে কী কী কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে পেশার প্রতি একনিষ্ঠ এডভোকেট মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, আমি বাংলাদেশ আইন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম ২০০০ সালে এবং সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলাম ২০১২ সালে। বাংলাদেশ আইন সমিতি একটি সম্ভাবনার জায়গা। একটি মেধাবী মানুষের বাগান। বাংলাদেশের বর্তমান স্পিকার, আপীল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের ২৬/২৭জন বিচারপতি, কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, অসংখ্য জজ ও আইনজীবী এবং কয়েকজন সচিব বাংলাদেশ আইন সমিতির সদস্য। সেজন্য এটি একটি মেধাচর্চার স্থান এবং বাংলাদেশকে বিশ্ব মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার একটি উজ্জ্বল প্রতিষ্ঠান। দু’মেয়াদেই আমি আইনের জটিল বিষয়ে অনেক সেমিনার আয়োজন করি। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের ক্যারিকুলাম সংশোধনের জন্য উদ্যোগী হই। বর্তমানে আমি নিয়মিত ‘বিচারব্যবস্থার সংস্কার’ নামে একটি ব্লগ লিখছি।
বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে এডভোকেট মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং যে সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ সৃষ্টি হচ্ছে, সে বাংলাদেশের উপযোগী করে বিচার ব্যবস্থা তৈরির জন্য আমাদের করণীয়কে তিন ভাবে ভাগ করা যায় যেমন স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি, দীর্ঘ মেয়াদি। তার জন্য প্রয়োজন বিচার ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের যেমন মাননীয় প্রধান বিচারপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রী, মাননীয় এটর্নী জেনারেল এবং আইনজীবীদের ভোটে নির্বাচিত সর্বোচ্চ প্রতিনিধি বার কাউন্সিলের মাননীয় ভাইস-চেয়ারম্যানগণের একযোগে প্রচেষ্টা গ্রহণ। উক্ত ৪টি প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব কিংবা কোনো ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির গুরুত্ব কম নয়। তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং স্বল্পতম সময়ের ব্যবধানে তাদের যৌথ বৈঠক সমৃদ্ধ বিচার ব্যবস্থার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রচেষ্টায় সিনিয়র আইনজীবীদের এবং সিনিয়র বিচারকদের যেমন সম্পৃক্ত করতে হবে, তেমনি নবীন আইনজীবীদের এবং নবীন বিচারকদেরকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। কারও থেকে কারও গুরুত্ব কম নয়। কেননা সিনিয়র আইনজীবীগণ এবং সিনিয়র বিচারকগণ যেমন আমাদের আইনের ভান্ডার এবং অভিজ্ঞতার ভান্ডার, তেমনি জুনিয়র আইনজীবীগণ এবং জুনিয়র বিচারকগণও তারুণ্যে এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এবং নব সৃষ্টির উন্মাদনায় ব্যাকুল। সবচেয়ে আশু করণীয় আমাদের কার্যপদ্ধতিগত আইন (Procedural Laws) নতুনভাবে তৈরি করা। যখন আমাদের দেওয়ানী কার্যবিধি আইন, ফৌজদারী কার্যবিধি আইন, স্বাক্ষ্য আইন ইত্যাদি তৈরি হয় তখন বৃটেনেও প্রায় একই আইন প্রচলিত ছিল। কিন্তু বৃটেন তাদের সকল আইন সম্পূর্ণ নতুনভাবে যুগোপযোগী করে তৈরি করেছে। এমনকি ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসেও তাদের একটি সম্পূর্ণ নতুন Criminal Procedure Rules তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো আমাদের পুরনো দেওয়ানী কার্যবিধি, ফৌজদারী কার্যবিধি এবং স্বাক্ষ্য আইনকে সংশোধনের মাধ্যমে যুগোপযোগী করার চেষ্টা করছি। এটি কেবলই একটি বাতুল এবং বাস্তবতা বিবর্জিত প্রচেষ্টা। এই প্রচেষ্টায় কস্মিনকালেও আমাদের কার্যপদ্ধতিগত আইন যুগের এবং সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হবে না। এর জন্য প্রয়োজন আমাদের সমগ্র দেওয়ানী কার্যবিধি, ফৌজদারী কার্যবিধি, স্বাক্ষ্য আইনসহ সকল পুরনো পদ্ধতিগত আইন একেবারেই ফেলে দিয়ে তার থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে সম্পূর্ণ নতুনভাবে তেরি করা।
আমাদের আইন প্রণয়নের সময় একই সাথে ২টি ভাষায় প্রণয়নঃ একটি বাংলা, অন্যটি ইংরেজিতে। বাংলায় প্রণয়ন আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর বোঝার সুবিধার্থে এবং ইংরেজিতে প্রণয়ন বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়, বিশ্ব প্রতিযোগিতার জগতে নিজের অবস্থানকে জানান দেয়ার জন্য। আইনকে সহজ সাধারণ ভাষায় নিখুঁতভাবে প্রণয়ন করা একান্ত আবশ্যক। বাংলাদেশে এমন অনেক আইন আছে, যা আইনজীবী এবং বিচারপতিদের কাছেও দুর্বোধ্য এবং দ্ব্যর্থবোধক। আইন মানার জন্য আগে আইন জানা আবশ্যক এবং তা যদি সহজ-সরল আইন হয়, তবে তা মানুষের জন্য পালন করা সহজসাধ্য হয়। আইন না জানলে নাগরিক কী করে আইন মানবে এবং কী করে আইন মান্যকারী ও সভ্য নাগরিক হবে।
আপনার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে বলবেন কি, বৃহত্তর নোয়াখালীর ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিগণ নিজ এলাকায় শিল্পস্থাপনে কেন এগিয়ে আসেন না, শিল্পস্থাপনে কীভাবে তাদের উদ্বুদ্ধ করা যায় এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আত্মপ্রত্যয়ী সমাজকর্মী মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, শিল্পপতিদের কাছে তাদের মুনাফাটাই বড়। যেখানে লাভ বেশি হবে, সেখানেই তারা শিল্প স্থাপন করবে। এটি দোষের কিছু নয়। বৃহত্তর নোয়াখালীতে যে শিল্প-কারখানা কম, তা নয়। তবে আরও বেশি হতে পারে এবং আমাদের শিল্পপতিগণ যে যেখানেই আছেন, তাদের কাছে বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীগণ চাকরি-বাকরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আনুকূল্য পেয়ে থাকেন।
বৃহত্তর নোয়াখালীর একমাত্র মুখপত্র লক্ষ্মীপুর বার্তা সম্পর্কে পরামর্শ রেখে মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর প্রাণের কথা বলে; নোয়াখালীবাসীকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করে। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র প্রকাশক ও সম্পাদক ড. এম হেলাল একজন সজ্জন, জ্ঞানী, শিক্ষানুরাগী এবং দেশ ও জাতির আদর্শিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিশীল মানুষ। লক্ষ্মীপুর বার্তা আমাদের একটি অহংকার। এম হেলাল একজন সমাজ সচেতন নাগরিক হিসেবে এবং তাঁর স্ত্রী ড. নাজনীন একজন প্রতিশ্রুতিশীল ও প্রাজ্ঞ অর্থনীতিবিদ হিসেবে দেশ ও জাতির সেবায় নিবেদিত।
নিজ স্বপ্ন ও জীবনধারা সম্পর্কে স্পষ্টভাষী মোঃ আবদুন নূর দুলাল বলেন আমি একজন মানুষ, মুসলমান এবং বাঙালি, এই তিনটি সত্তা আমার মধ্যে যুগপৎভাবে কাজ করে। মানুষ হিসেবে আমার স্বপ্ন একটি সুন্দর পৃথিবী। যুদ্ধ, হানাহানি, সন্ত্রাস, মাদক, ধর্মান্ধতা, বর্ণবাদমুক্ত একটি আলোকিত পৃথিবী। সেজন্য আমি নিয়মিত একটি ব্লগ লিখছি Good Earth এবং সে লক্ষ্যে সারাপৃথিবীর সৃজনশীল মানুষের সাথে মতবিনিময় করছি। আমি একজন মুসলমান, তবে ধর্মনিরপেক্ষ। আমি বিশ্বাস করি, মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিকশিত হলেই তাদের সার্বিক কল্যাণ হবে। সে লক্ষ্যে আমি একটি নিয়মিত ব্লগ লিখছি ‘Intellectual Development of Muslims’ এবং প্রচুর গবেষণা করছি এবং সারা পৃথিবীর জ্ঞান পিপাসু মুসলমানদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করছি। বাঙালি হিসেবে আমার স্বপ্ন একটি সুখী, সুন্দর, সমৃদ্ধিশালী ও আলোকিত বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমার বুকে দেদীপ্যমান। সে লক্ষ্যে আমার একাধিক ব্লগ আছে। Economic Emancipation of Bangladesh, Bangladesh View ইত্যাদি। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা সৃজনশীল বাঙালিদের সাথে আমার যোগাযোগ রয়েছে। ব্যক্তি জীবনে আমি সর্বাঙ্গীণ সৎভাবে জীবনযাপন করি। এটি আমার মায়ের শিক্ষা। আমি আল্লাহর কাছে সবসময় প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন আমৃত্যু আমাকে সৎভাবে জীবনযাপন করার তওফিক দেন। আমার সন্তানের রক্তে অসৎ টাকার একবিন্দু রক্তও যেন না জমে। আমি ধর্মভীরু এবং বাল্য বয়স থেকে নামাজ-রোজা পালন করছি, যাকাত দিচ্ছি এবং হজব্রত পালন করেছি।