Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

পালপাড়া চৌধুরী বাড়ি ইতিহাস রয়েছে কাড়ি কাড়ি ॥ এ কে এম গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ ॥

ভূমিকা
নোয়াখালীর প্রবেশদ্বার নামে খ্যাত সোনাইমুড়ী উপজেলা। যে উপজেলায় রয়েছে শত বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানা উপাদান-উপকরণ। যেমন রয়েছে বজরা শাহী জামে মসজিদ, নবাবগঞ্জ শাহী জামে মসজিদ, চনুয়া পীর বাড়ি, বারাহী মন্দির, গান্ধী আশ্রম ইত্যাদি। তেমনি রয়েছে পালপাড়া চৌধুরী বাড়ি, যা ইতিহাসের উপাদান হিসেবে অন্যতম; আর উপকরণ হিসেবে পালপাড়া জামে মসজিদ এবং পালপাড়া জমিদার বাংলো নয় নগণ্য বরং গণ্য বলে এখনও ইতিহাস-প্রেমীরা আসেন দেখতে আর জানতে অতীতের স্বর্ণালী দিনের কথা।
অবস্থান
সোনাইমুড়ী উপজেলার ঢেউটি ইউনিয়নের ৬৯ নং পালপাড়া মৌজাধীন তথা বগাদিয়া আমিশাপাড়া সড়কের উত্তর পাশে পালপাড়া চৌধুরী বাড়ি অবস্থিত। বাড়িটি ২৫ একর ৫২ শতাংশ ভূমির উপর অবস্থিত।
চৌহদ্দি-১
পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির পূর্বে পালপাড়া জামে মসজিদের পূর্ব পাড়ের দীঘির পূর্ব পাড়ের রাস্তা, দক্ষিণে পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিমে জমিদার বাংলোর পেছনে পরিখা এবং উত্তরে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন সড়ক বিদ্যমান।
পালপাড়া নামকরণ
নাম হতেই বোঝা যায় একসময় এ অঞ্চলে হিন্দুদের আধিপত্য ছিল। হিন্দু পাল সম্প্রদায়ের বেশ বিচরণ ছিল বলে স্থানের নাম হয় পালপাড়া। পালপাড়া এত খ্যাত-বিখ্যাত হয়ে ওঠে চৌধুরী বাড়ির জন্য। চৌধুরীদের বিচার- আচার, খাজনা আদায়, জনহিতকর কার্যাবলি সবই ছিল বাড়ি কেন্দ্রিক। ফলে পরিচিতি পায় চৌধুরী বাড়ি তথা পালপাড়া।
পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির ইতিহাস কাড়িকাড়ি
কেয়াম উদ্দিন পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। তার জন্ম-পরিচয় সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি, তবে তিনি ১৮৩০-১৮৯০ সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তিনি অসীম সাহসী এবং বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি কোলকাতায় সুতার ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হন। অতঃপর সোনাইমুড়ীর নিজ বাড়ি কালিকাপুর থেকে প্রস্থান করে পালপাড়ায় চলে আসেন এবং প্রচুর ভূ-সম্পত্তি ক্রয় ও বসতি স্থাপন করেন। অসীম উদ্দিন তাঁর একমাত্র পুত্র। অসীম উদ্দিনের সময়কাল ১৮৫০-১৯২০ সাল পর্যন্ত। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হন। আনোয়ার ভূঞা, ইব্রাহিম ভূঞা এবং মিয়াজন ভূঞা তাঁর যোগ্য পুত্র সন্তান। তাঁরা সবাই শিক্ষিত এবং ধীশক্তির অধিকারী ছিলেন। সময়ের সাথে তাল দেয়ার ক্ষমতা তাঁদের তিনজনেরই ছিল। তাঁরা তিন ভাই বাংলা ১৩১৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভুলুয়া স্টেটের কাছ থেকে জমিদারি ক্রয় করেন। তখন এই বাড়িটি হয়ে ওঠে সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনের বিশাল সাম্রাজ্য। এলাকার মানুষের রীতিমতো খাজনা প্রদান, হুকুম বা নির্দেশ ফরমান, এমনকি বিচার-আদালত সবই এখানে সম্পন্ন করা হতো। এখানে ছিল শিক্ষা অর্জনের জন্য ছোট একটি পাঠশালা। সুশিক্ষিত হওয়ার বাসনা থেকে এলাকার মানুষ এখানে এসে শিক্ষা অর্জন করত। আর এসব তাগিদ থেকে এখানে নির্মিত হয় জমিদার বাংলো। সেই বংশ পরম্পরায় এসেছে আরো অনেক প্রজন্ম। এডভোকেট ফকরুল ইসলাম চৌধুরী, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী, সফিউল ইসলাম চৌধুরী, আবদুল লতিফ চৌধুরী, মফিজ উল্ল্যা ভূঞা এবং নজির উল্ল্যা ভূঞা। এডভোকেট ফকরুল ইসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ময়মনসিংহ জজ কোর্টে সুনাম ও দক্ষতার সাথে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জমিদারি কাজকর্ম দেখাশোনা করতেন। কিন্তু তাঁর অকাল মৃত্যুর পর ছোট ভাই কলিকাতা মেডিকেল স্কুল থেকে ডাক্তারী পড়াশুনা বন্ধ করে জমিদারি দেখাশোনা করার জন্য পালপাড়ায় চলে আসেন। হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সারির আমদানিকারক ছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল হেদায়েত এন্ড সন্স। তিনি ১লা সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। সফিউল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ইউনিয়ন ব্যাংকের জেনারেল ম্যানাজার। আবদুল লতিফ চৌধুরী আরেক প্রথিতযশা ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর দক্ষতা, যোগ্যতা ও সুনামের সাথে ঢেউটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি নোয়াখালী জেলায় জুরি বোর্ডের হাকিমও ছিলেন। ১৯৪৬ এর হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় তিনি বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে তা রোধ করতে চেষ্টা করেন। সে সময় তিনি পালপাড়া চৌধুরী বাড়িতে অনেক হিন্দুকে আশ্রয় দেন। পরবর্তীতে গান্ধীজীর সফর সঙ্গি হিসেবে তিনি নোয়াখালীর সর্বত্র ঘুরে বেড়ান এবং তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। অপর দিকে মফিজউল্ল্যা ভূঞা এবং নজির উল্লা ভূঞা দু’জনেই জমিদারি দেখাশোনা এবং স্থানীয় বিচারকার্য সম্পাদন করতেন । পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির পূর্বসূরিরা ছিলেন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির বর্তমান বংশধরদের মধ্যে নাছির উদ্দিন চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, শাহ আলমগীর চৌধুরী, শাহাব উদ্দিন চৌধুরী, শামছু্িদ্দন চৌধুরী, মফিজুল ইসলাম চৌধুরী, ফজলুল ইসলাম চৌধুরী, শাহাদাতুল ইসলাম চৌধুরী, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান চৌধুরী, সায়েদ্দুর রহমান চৌধুরী, আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, মাইনুল ইসলাম চৌধুরী স্ব-স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত ও সর্বজন পরিচিত।
বংশতালিকা
কেয়াম উদ্দিনের এক ছেলে (অসীম উদ্দীন)
অসীম উদ্দিনের তিন ছেলে
(আনোয়ার ভূঞা, ইব্রাহিম ভূঞা, মিয়াজন ভূঞা)
আনোয়ার ভূঞার পাঁচ ছেলে
(এডভোকেট ফকরুল ইসলাম চৌধুরী, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী, সফিউল ইসলাম চৌধুরী)
ইব্রাহিম ভূঞার এক ছেলে
(আবদুল লতিফ চৌধুরী)
মিয়াজন ভূঞার দুই ছেলে
(মফিজ উল্ল্যা ভূঞা, নজির উল্ল্যা ভূঞা)
মফিজ উল্ল্যা ভূঞার দুই ছেলে
(নাছির উদ্দিন চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী)
নজির উল্ল্যা ভূঞার চার ছেলে
(শাহজাহান আহম্মদ, শাহ আলমগীর চৌধুরী, শাহাব উদ্দিন চৌধুরী, শামছু্িদ্দন চৌধুরী)
এডভোকেট ফকরুল ইসলাম চৌধুরীর দুই ছেলে
(মাহমুদুর রহমান চৌধুরী, সায়েদ্দুর রহমান চৌধুরী)
তাজুল ইসলাম চৌধুরীর দুই ছেলে
(শামছূল ইসলাম চৌধুরী, ফজলুল ইসলাম চৌধুরী)
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর দুই ছেলে
(মোতাহের হোসেন চৌধুরী, আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী
হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীর দুই ছেলে
(মফিজুল ইসলাম চৌধুরী, শাহাদাতুল ইসলাম)
সফিউল ইসলাম চৌধুরীর পাঁচ ছেলে
(জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মাইনুল ইসলাম চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম চৌধুরী)।
জমিদার বাংলোঃ অনন্য স্থাপনা
কোলকাতার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পালপাড়ার জমিদার বাংলো নির্মাণ করেন, যা বাংলা ১৩১৩ সনে স্থাপিত। বর্তমানে বাংলোর সামনে যে দীঘিটি রয়েছে, বাংলোর জন্য মাটি কাটতে গিয়ে এই দীঘির সৃষ্টি হয়েছে। দীঘি খনন করা মাটি এখানেই পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হয়। সেই ইট দিয়েই নির্মিত হয় পুরোনো ঐতিহ্যের ধারক এই বাংলো। আয়তকার বাংলোর দৈর্ঘ্য ১০০ ফুট, প্রস্থ ৬০ ফুট এবং উচ্চতা ১২ ফুট। বাংলোর অন্দরে রয়েছে বৃহৎ তিনটি কক্ষ। পূর্বদিক থেকে প্রথম কক্ষে ছিল খাজনা আদায়, বিচার কার্য এবং শিক্ষা অর্জন কেন্দ্র। ২য় কক্ষে তিন ভাই রাত্রি যাপন তথা অবস্থান করত। আর ৩য় কক্ষে আহার, পারিবারিক বৈঠক এবং আধার মানিক নামে একটি ছোট কক্ষও ছিল, ছিল উপরে ওঠার সিঁড়ি।
প্রধান প্রবেশদ্বার বেশ আকর্ষণীয়। এতে আটটি স্তম্ভ এবং কারুকাজ খচিত নকশা রয়েছে। প্রধান প্রবেশদ্বার ছাড়াও আরও কয়েকটি দরজা ও জানালা বিদ্যমান। ভূমি হতে ভিটির উচ্চতা ১.৫ ফুট। দেয়ালের ঘনত্ব প্রায় চার ফুট। ছাদ মজবুত লোহা এবং কাঠের বিম দ্বারা নির্মিত। দেয়ালে এবং ছাদের অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় ১২০ বছর আগে নির্মিত জমিদার বাংলো অযতœ-অবহেলায় এখন ক্লান্ত হয়ে বিবর্ণরূপ ধারণ করেছে। জমিদার বংশের উত্তরসূরিরা জমিদারিত্ব নিয়ে গল্পের ছলে স্মৃতি মন্থন করতে গিয়ে এখনও দ্বন্দ্ব প্রকাশ করলেও জমিদারির স্মৃতিটুকু রক্ষা করায় তাঁদের কোনো উদ্যোগ বা পরিকল্পনা নেই!
জনহিতকর কার্যাবলি পালপাড়া জামে মসজিদ
সোনাইমুড়ীর ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলোর মধ্যে পালপাড়া জামে মসজিদ অন্যতম। মসজিদটি সবাইকে বিমোহিত করে। প্রায় ১২০ বছরের পুরানো পালপাড়া জামে মসজিদের স্থপতি কে, তা জানা যায়নি। তবে এ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা পালপাড়া চৌধুরী পরিবার। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১২ফুট। এর দেয়ালের ঘনত্ব ৪ফুট, মেঝে হতে মসজিদটির উচ্চতা ১৪ ফুট। মসজিদের মূল আকর্ষণ তিনটি গম্বুজ। মাঝের গম্বুজটি পাশের দু’টি গম্বুজ হতে বড়। গম্বুজ তিনটির বহিঃপ্রান্তের কেন্দ্র বরাবর ছোট ছোট কলস আকৃতির তিনটি বস্তু এবং তার ওপর ফুলের কলি সদৃশ্য একটি বস্তু বিদ্যমান। চার কোণের চারটি বড় স্তম্ভের উপর মসজিদটি দন্ডায়মান। তাছাড়া ছোট ছোট বারটি মিনার রয়েছে। ছাদের কার্নিশ বরাবর ফুলের সাদৃশ্য নকশা বিদ্যমান। মসজিদের তিনটি প্রবেশদ্বারের মধ্যে মাঝখানের প্রবেশদ্বারটি অন্য দু’টি দরজার তুলনায় বেশ আকর্ষণীয়। যার দৈর্ঘ্য সাত ফুট এবং প্রস্থ ৫ফুট। মূল মসজিদের উত্তর দক্ষিণে দুইটি ছোট ছোট জানালা রয়েছে। মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের স্থান সংকুলান হয় না বিধায় মূল মসজিদের পশ্চিমাংশ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ৩০ ফুট। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি পথচারি এবং ইতিহাসপ্রেমীদের চোখ জুড়িয়ে দেয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
এলাকার জনসাধারণকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য পালপাড়ার চৌধুরীরা প্রথমে জমিদার বাংলোর একটি কক্ষে ছোট একটি পাঠশালা এবং পাঠাগার স্থাপন করেন, যা শিক্ষা বিস্তারে এবং জনসাধারণকে উৎসাহিত করতে ব্যাপক অবদান রাখে। পরবর্তীতে ১৯১৫ সালে ৩৭ শতাংশ ভূমির ওপর পালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়, যা বর্তমানে পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত। এটির প্রতিষ্ঠাতা তাজুল ইসলাম চৌধুরী। প্রায় দুই দশক আগে এখানে স্থাপন করা হয়েছিল পালপাড়া জুনিয়র হাই স্কুল। কিন্তু সঠিক পরিচালনার অভাবে এটি বন্ধ হয়ে যায়। পালপাড়া জামিউল উলুম ইসলামি কওমী মাদ্রাসাটিও ১৯৯৬ সালে বাড়ির যোগ্য সন্তান তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও হেদায়েতুল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তাদের উত্তরসূরিরা এ মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছে। মাদ্রাসাটিতে প্রায় ২০০ জন ছাত্র এবং ৬ জন শিক্ষক রয়েছে। শিক্ষা বিস্তার এবং ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত করতে এ বাড়ি সুনাম অর্জনের দাবিদার।
পুকুর-দীঘি
জমিদারদের জমিদারি কিংবা প্রজা হিতৈষণার জন্য অনেকেই পুকুর-দীঘি খনন করেন। যার ব্যতিক্রম ছিল না পালপাড়া চৌধুরীরাও। তারা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ৮/১০টি পুকুর-দীঘি খনন করেন।
আমিশাপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান
পালপাড়া চৌধুরীদের দান করা ভূমির ওপর আমিশাপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান স্থাপিত, যা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনও দন্ডায়মান।
ভূঁঞার হাটখোলা
১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার পর লাল টুপি তথা ইংরেজ পুলিশদের ভয়ে মানুষ আমিশাপাড়ায় বাজার করতে যেত না। সে দিক বিবেচনা করে মিয়াজন ভূঁঞা তাঁদের বাড়ির সন্নিকটে ভূঁঞার হাটখোলাটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রারম্ভিকে হাটের অবিক্রিত মালামাল পালপাড়া চৌধুরী কিনে নিতেন। কয়েক বছর হাটটির বেচা-কিনা ভালোই ছিল। অতপর চৌধুরীদের কতিপয় বিরোধী পক্ষের প্ররোচনায় তা বন্ধ হয়ে যায়।
রাস্তা
পুকুর, দীঘি, হাট-বাজার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পালপাড়ার চৌধুরীরা রাস্তাও নির্মাণ করেছেন। জনসাধারণের যাতায়াত এবং যোগাযোগের সুবিধার জন্য প্রায় চার মাইল রাস্তা (বগাদিয়া-আমিশাপাড়া) এক রাতে প্রায় অর্ধসহস্র শ্রমিক নিয়োগ করে নির্মাণ করেন। এ রাস্তা নির্মাণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন মিয়াজন ভূঁঞা।
কৃতজ্ঞ মফিজুল ইসলাম চৌধুরী
মফিজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৪৭ সালের ২২ এপ্রিল, বাংলা ৯ বৈশাখ, ১৩৫৫ সাল, তাঁর মাতুলালয় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবার ও বন্ধুমহলে জসিম নামে পরিচিত হলেও এম আই চৌধুরী নামেই বিশেষভাবে পরিচিত। নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার ৯নং দেউটি ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের চৌধুরী বাড়ি তাঁর পৈতৃক নিবাস। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১ম শ্রেণির আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা খাতুন চৌধুরীর দুই পুত্র ও চার কন্যার মাঝে তিনি প্রথম। পড়াশুনায় হাতেখড়ি বাবার কাছে এবং আরবী শিক্ষা লাভ করেন গ্রামের মক্তবে। পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। অতঃপর চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তীকালে ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক এবং ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (ওইই) হতে ডিপ্লোমা এসোসিয়েট অব দ্য ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (উঅওইই) ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬৮ সালের ১৪ অক্টোবর ঢাকায় তৎকালীন হাবিব ব্যাংক লিঃ এবং বর্তমান অগ্রণী ব্যাংক লিঃ এর কম্পিউটার বিভাগে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্পোরেট শাখাসমূহে সততার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক লিঃ এর প্রধান শাখা হতে অবসর গ্রহণ করেন। চাকরিকালীন সময়ে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৭৯ সালের ৫ নভেম্বর উপমহাদেশের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী বেদারউদ্দিন আহমেদ এর বড় কন্যা শাহানা বেগম এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। উল্লেখ্য, শাহানা বেগম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত সংগীত শিল্পী এবং পাশাপাশি ‘বেদারউদ্দিন সংগীত বিদ্যালয়’ এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই দম্পতির রয়েছে দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান।
মোঃ ফজলুল ইসলাম চৌধুরী
একজন শিল্প উদ্যোক্তা, দেশ ও জাতির বন্ধু।

কারণ তিনি দেশের বন্ধুর পথকে সমতল ও মসৃণ করতে চেষ্টা করেন তাঁর শিল্প সৃজন মনোভাব দিয়ে, শিল্প জ্ঞান-গরিমা দিয়ে, যেখানে কাজ করে দেশের হাজার হাজার শ্রমিক যাদের অন্ন যোগানদাতা হিসেবে ছায়াদান করে সে শিল্প উদ্যোক্তা। সে রকম এক শিল্প উদ্যোক্তার নাম মোঃ ফজলুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির যোগ্য উত্তরসূরী। তিনি ১৯৬২ সালের এক মাহেন্দ্রক্ষণে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আর মাতা শামছে আনোয়ারা বেগম। মোঃ ফজলুল ইসলাম চৌধুরীর নানা ফজলুল রহমান চৌধুরী, যিনি ফেনীর রাজাপুর জমিদার পরিবারের সন্তান। দুই ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে ফজলুল রহমান চৌধুরী সবার ছোট। প্রাথমিক শিক্ষা পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এরপর আমিশাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৭৮ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৮১ সালে তেজগাঁও কলেজ হতে স্নাতক এবং সর্বশেষ ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম কম (প্রিলিঃ) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে (ওঈগঅই) এর সদস্যপদ লাভ করেন। মোঃ ফজলুল ইসলাম চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এ ১৯৮৭ সালে কনসালটেন্সি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তৈরি পোশাক শিল্পের পথিকৃৎ সানম্যান গ্রুপে যোগদান করেন, যা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরার অধ্যায়। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে ১৯৯৫ সালে রিদম গ্রুপ নামক তৈরি পোষাক শিল্প গড়ে তোলেন, যা অদ্যাবধি সুনামের সাথে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মোঃ ফজলুল ইসলাম চৌধুরী লক্ষ্মীপুরের কাঞ্চনপুর দরগা বাড়ির মুসলিম পরিবারের সন্তান সৈয়দ রেজাউল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী শামছুন নাহার চৌধুরীর কন্যা সৈয়দা তাল্লাত জেবিনের সাথে শুভপরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন।
মোঃ ফজলুল ইসলাম চৌধুরী ওঈগঅই এর ফেলো সদস্য এবং ওঈগঅই এর চট্টগ্রাম-কাউন্সিল সদস্য। তাছাড়া তিনি ওঈগঅই চট্টগ্রাম শাখার ১৯৯৯ সালে চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রোটারিয়ান, নোয়াখালী সমিতি চট্টগ্রামের আজীবন সদস্য এবং চট্টগ্রাম খুলসী ক্লাবের স্থায়ী সদস্য। মোঃ ফজলুল ইসলাম চৌধুরী ১৮ জুন ২০১৫ সালে পালপাড়া চৌধুরী বাড়ি গিয়ে পেয়ে গেলাম তাকে। যাকে উদ্দেশ্য করে এত দূর পথ পাড়ি দেয়া। নাম তাঁর শাহাব উদ্দিন চৌধুরী। প্রথম সালাম বিনিময়। এরপর আসল উদ্দেশ্য বলার পর শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি আমাকে প্রায় দুই ঘন্টা সময় দেন। তাঁদের পারিবারিক তথ্য নেয়ার ফাঁকে ফাঁকে আমি তাঁর ব্যক্তিগত কিছু বিষয় জেনে নিই। যেমন- তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সাল, পিতাঃ নজির উল্ল্যা চৌধুরী, মাতা রৌশন আরা বেগম, শিক্ষা- স্নাতক, চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ, সাল ১৯৮০, সহধর্মিণী তাহামিনা বেগম, সন্তান মারজাহান আক্তার, শারমিন আক্তার এবং মাহমুদ হাছান, চাকুরীঃ প্রগতি ইন্ড্রস্ট্রি লিমিটেড। বেশ স্মরণশক্তি সম্পন্ন এবং এই উদার মানুষটি সবার শ্রদ্ধাভাজন।
মোঃ শামছুদ্দীন চৌধুরী
যে মানুষটি মেধাবী, যে মানুষটি কর্মঠ, পরিশ্রমী -সে মানুষটি আবার পরম অতিথিপরায়ণ। এমন মানুষ ক্ষণজন্মা। শামছুদ্দীন চৌধুরী তেমনই একজন। শামছুদ্দীন অর্থ দ্বীনের সূর্য। দ্বীনের সূর্যের মতো তিনি প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেশ-দশের খেদমত করেন। নামের সাথে কর্মের এমন যোগসূত্রের দেখা মেলা ভার। ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১ সালে পালপাড়া চৌধুরী বাড়িতে শামছ্দ্দুীনের জন্ম। নজির উল্ল্যা চৌধুরী এবং রৌশন আরা বেগমের তিনি কনিষ্ঠ পুত্র সন্তান। প্রাথমিক শিক্ষা পালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। অতপর ১৯৭৬ সালে আমিশাপাড়া কৃষক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক, চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ হতে ১৯৭৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৮০ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল হতে এম কম (প্রিলি) এবং সর্বশেষ এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। কর্মজীবন শুরু করেন ব্যাংকার হিসাবে, ১৯৮৫ সালে। যোগদান করেন অফিসার হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ এ, ১৯৮৫ সাল হতে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন। কর্মদক্ষতা ও ব্যাংকিং কার্যক্রমে বেশ পটু এ মানুষটি। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক লিঃ এ ১৯৯৯ সাল হতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন শাখায় উচ্চতর পদে কর্মরত ছিলেন। অতপর ২০০৫ সাল থেকে প্রিমিয়ার ব্যাংক লিঃ এ বিভিন্ন শাখায় কর্মরত থাকার পর বর্তমানে মতিঝিল শাখায় ম্যানাজার ও জোনাল প্রধান হিসেবে কর্মরত। তার বর্তমান পদবী সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট। জনসেবা, মানবসেবা তাঁর মন-মগজে তীরের মতো বিঁধে বলে সমাজসেবক হয়ে পর্দার অন্তরালে, নীরবে-নিভৃতে দান করেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাসী এ মানুষটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়নে বেশ উৎসাহী। রাজনীতি সচেতন শামছুদ্দীন চৌধুরী দৃঢ়কন্ঠে বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জন্য কলংকিত অধ্যায়। সেদিন আমরা হারাই জাতির পিতাকে, পথ প্রদর্শককে। তবুওতো আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এ বছরের (২০১৫ সাল) হরতাল, অবরোধ জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদির পরও আমরা বসে থাকিনি। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বাসনায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমাদের অর্থনীতি এখন অনেক চাঙ্গা। শিক্ষা-দীক্ষা আধুনিকতা এবং প্রযুক্তির দিক দিয়ে আমরা এখন অনেক অগ্রগামী। গ্রামের সাধারণ মানুষ ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে বেশ আগ্রহী। সর্বোপরি আমাদের ভালো নেতৃত্বের দরকার। দরদী মানুষ দরকার, দরকার সৃষ্টিশীল প্রজন্ম। যারা আগামীর পাথেয় এবং কান্ডারী। মোঃ মফিজ উল্ল্যা এবং গুলনাহার বেগমের কন্যা নাসিমা সুলতানা আঁখি এম.এস.সি(উদ্ভিদ বিজ্ঞান) তিনি সহধর্মিণী হিসেবে ১৯৯৩ সালে শামছুদ্দীন চৌধুরীর সাথে শুভপরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। সাইফ আহম্মেদ চৌধুরী (নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিঃ ২য় বর্ষ) তাদের শুভ বন্ধনের এক মাত্র যোগসূত্র। আতিথেয়তার গুণ শামছুদ্দীন চৌধুরী পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত। আপ্যায়ন করাকে তিনি পূণ্যের কাজ মনে করেন। অমায়িক, সদালাপী এ মানুষটি তাঁর কর্মগুণে আমাদের মনে অনুরণন তোলেন। সাবলীল, সুশ্রী এবং দেশের উন্নয়নের জন্য হোক তাঁর পথচলা।
সমালোচনা
শাসক যখন শাসিতে পরিণত হয়, তখন সমাজে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ৫০ পরবর্তী সময় দেশে সে রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যা ছিল জমিদার প্রথা বিরোধী। ‘৭১ এ তা চরম আকার ধারণ করে। তখন কতিপয় রাজাকার, আলবদর যারা জমিদার শ্রেণীদ্বারা শাসিত হয়ে ছিল তারা বিভিন্ন ফায়দা লোটার জন্য জমিদার বাড়িগুলো লুট করে, আক্রমণ করে। স্বাধীনতা পরবর্তী তারা আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। অর্থাৎ সেই শাসিতরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়, প্রশ্রয়ে অন্যায় কার্য সম্পাদন করে। যার দরুন জমিদারদের উত্তরসূরিরা নিজেদের জীবন রক্ষার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে বা তাদের সুবিধাজনক স্থানে কেটে পড়ে। পালপাড়া চৌধুরী বাড়ির বর্তমান বংশধরগণ স্মৃতি রক্ষার্থে তেমন সচেতন নয়। অযত্ন,অনাদর, অবহেলায় পড়ে রয়েছে জমিদার বাংলো। কারো কাছে নেই বংশ তালিকা। মুখে মুখে যতটুকু-ততটুকু। সবাই এখন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লায় বসবাস করে বলে বাড়িটি অনেকটা খালি হাড়ি। পূর্বসূরিদের ব্যবহৃত উপাদান তাদের কাছে অনুপস্থিত। স্মৃতি অনেকটা বিস্তৃতির অতলে হারিয়ে গেছে।
উপসংহার
আদি-অন্ত তবু নয় ক্ষান্ত
পূর্বসূরি-উত্তরসূরি এখনো জ্যান্ত।
তাদের স্মৃতি নয় ভ্রান্ত
থাক না যে প্রান্ত।
পূর্বসূরিদের জমিদারি নিয়ে স্মৃতি মন্থন করা ছাড়া আর কিবা করার আছে। এখন মন্তব্য অনেকের। তবুও সাধ্যের মধ্যে থাকলে তাদের স্মৃতি রক্ষা করা উত্তরসূরিদের অবশ্য কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এ কর্তব্য পালপাড়া চৌধুরী পরিবারের উত্তরসূরিদের বেলায় সমানভাবে প্রযোজ্য। কারণ পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরিদের মেলবন্ধন থাকে কাল -কালান্তর, যুগ-যুগান্তর। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অবক্ষয়, পরস্পর অশ্রদ্ধা আর মানুষের স্বেচ্ছাচারিতার জন্য জমিদার বাড়িগুলো আজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে।