Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

ইলিশের নদীখ্যাত লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে মেঘনা উপকূলীয় হাজার হাজার জেলে পরিবারের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। জেলে পল্লীতে বইছে আনন্দের বন্যা। দাদনের বোঝা ও সংসারের ঘানিতে দীর্ঘদিন ধরে জেলেরা দুঃসহ জীবনযাপন করে আসছে। বর্তমানে নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ পাওয়ায় তারা আনন্দে আত্মহারা। এদিকে বাজারে ইলিশের দামও বেশ চড়া থাকায় জেলেপল্লী নাইয়া পাড়াসহ উপকূলের জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রে জানাযায়, রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল, দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার ২শ ৮০ জন জেলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। মাছ ধরা ও বিক্রি করাই তাদের পেশা। কিন্তু গত ৪-৫ বছর ধরে নদীতে মাছ কম পাওয়ার কারণে পেশাদার ওই জেলেদের হারিয়ে গেছে সুদিন। জালে রূপালী ইলিশ ধরা না পড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা হতাশায় দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছিল। শেষ মূহুর্তে এসে যেভাবে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে, এটি অব্যাহত থাকলে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে। জেলে সজল আলী জানায়, কিছুদিন আগে ইঞ্জিন চালিত একটি ট্রলার নদীতে নিয়ে গেলে মাত্র ১৫টি মাছ পান। ট্রলারের জ্বালানী খরচ ও জেলেদেরকে পারিশ্রমিক দিতে গিয়ে পকেট থেকে ৫০০ টাকা গচ্ছা যায়। কিন্তু এখন ৬ ঝুঁড়ি মাছ পেয়েছেন তিনি। জালে ধরা পড়া মাছগুলোর সাইজ অন্যান্য বছরের মাছগুলোর থেকে অনেক বড়। সজল আলীর মতো একই অবস্থা মেঘনা উপকূলীয় জেলেদের। মেঘনা নদীতে মাছ ধরা অভিজ্ঞ জেলে চরবংশী গ্রামের গনি মিয়া (৭২) বলেন, গত ৫ বছরেও আংগোর (আমাদের) জালে এত মাছ লাগে ন’। সুদের উরপে টেয়া (টাকা) লই পোলাপাইন নিয়া কোনোরকম বাঁচি আছিলাম। অন বেশি মাছ পাওনের কারণে এলাকার বেকে (সবাই) খুশি। মাছ বেছি (বিক্রি) মহাজনের দেনা দিয়াম’। ক্রেতা বাস ষ্ট্যান্ড এলাকার আবু ড্রাইভার নতুন বাজার এলাকার গিয়াস খাঁ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বাজারে ইলিশের প্রচুর আমদানি। কিন্তু দামও বেশ চড়া। দাম ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাওয়ায় অনেক সাধারণ মানুষ ইলিশের স্বাদ ভুলতে বসেছে। বড় সাইজের এক হালি (৪টা) ইলিশ ৩ হাজার টাকা বললেও জেলে তা বিক্রি করেননি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, মেঘনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ছে। বাজারে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি। আগামী কয়েকদিন নদীতে পানি বেশি হলে জেলেদের জালে আরো বেশি মাছ ধরা পড়বে। মৎস্য বিভাগের ঝাটকা নিধন প্রতিরোধ অভিযানসহ নানা তৎপরতার কারণে ইলিশের উৎপাদন বেশি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
-জাহাঙ্গীর লিটন