Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

লক্ষ্মীপুর স্বাস্থ্য বিভাগে ২৮৬ পদ শূন্য, সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি

লক্ষ্মীপুর স্বাস্থ্য বিভাগে ২৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সদর হাসপাতালসহ জেলার চারটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ২১টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, নার্স, স্বাস্থ্য সহকারীর ২৮৬ পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় জেলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষ নানাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সদর হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও নেই প্রয়োজনীয় জনবল। সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা গরিব রোগীদের অনেকে বিরক্ত হয়ে চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাৎ না করেই চলে যেতে বাধ্য হয়। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক কমলাশীষ রায় জানান, উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এ অঞ্চলে স্যানিটেশন সমস্যাসহ নানা কারণে রোগব্যাধির প্রকোপ এমনিতেই বেশি। এছাড়া জনসংখ্যা অনুপাতে চিকিৎসক ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই। সে কারণে জনসংখ্যার বড় একটি অংশ স্বাস্থ্যসেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে। জেলার প্রায় ৭০ হাজার মানুষের জন্য মেডিকেল অফিসার রয়েছেন মাত্র একজন করে। শূন্যপদের কারণে এ অনুপাত এখন দাঁড়িয়েছে লাখে একজন!
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়Ñ সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা সদর হাসপাতাল, ৪টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ২১টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারীর পদে ১ হাজার ১৯৮ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন ৮৭১ জন, শূন্য পদ ২৮৬। সদর হাসপাতালসহ অন্য সরকারি হাসপাতালে ১৩৩ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ৯৫ জন। অপরদিকে নিরাপত্তা প্রহরীর পদ না থাকায় হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এছাড়াও এক্স-রে মেশিন, ইসিজি, নেবুলাইজার মেশিন চালু থাকলেও দীর্ঘদিন আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। অপারেশন বিভাগ চালু থাকলেও সিনিয়র কার্ডিয়ালোজি কনসালটেন্টের পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে খালি। ফলে জেলার লোকজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম যেতে হয়।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তাছলিমা বেগম জানান, সরকারি হাসপাতালে স্বামীর ভালো চিকিৎসার জন্য ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু তা হচ্ছে না। প্রতিদিন একবার মাত্র ডাক্তার আসেন, নার্সদের খুঁজে পাওয়া যায় না। হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেয়া হয়, তা খুবই নিম্নমানের। হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা নুর নাহার বেগম জানান, তিন বছরের শিশুকে ভর্তি করিয়েছেন, তিনি জানতেন সরকারি হাসপাতালে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয়। কিন্তু এখানে বাইরে থেকে ওষুধ কেনার জন্য স্লিপ ধরিয়ে দেয়া হয়।
সিভিল সার্জন ডাঃ মোস্তফা খালেদ সাংবাদিকদের জানান, জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সদর হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও নেই প্রয়োজনীয় জনবল। শূন্যপদে লোক নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলার সমন্বয় সভায়ও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
-জাহাঙ্গীর লিটন