Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

লক্ষ্ণীপুর বার্তা’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে জননন্দিত, র্শীষ-প্রবীণ রাজনীতবিদ
এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি

দশম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর অনুভূতি জানতে চাইলে এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, ১৯৭৩ সালে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তৎকালীন সংসদে মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলাম। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির পুনঃজাগরণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলাম বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে। দুঃখের বিষয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর বাংলাদেশের সব উন্নয়ন কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়ে, স্বার্থবাদী গোষ্ঠী উন্নয়নের চাকা পেছনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ার সব আশা-ভরসা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। শাহজাহান কামাল আরও বলেন, ১০ম সংসদ নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হয়ে আমার ভেতর অবশ্যই একটি অনুভূতি জেগেছে। ১৯৭৫ এর পর অনেক সময় পেরিয়ে গেছে, বিশ্বায়নে অনেক সমস্যা-সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে; সেগুলোকে নিয়েই আমাদের এগুতে হবে। দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে আপনি কী ভূমিকা রাখবেন -এমন প্রশ্নের জবাবে আশাবাদী রাজনীতিবিদ শাহজাহান কামাল বলেন, ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার পর লক্ষ্ণীপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা চেষ্টা করেছেন; কিন্তু সংগঠনের ভিত মজবুত করতে পারেননি। সাংগঠনিক তৎপরতা ফলপ্রসূ হয়নি। দেশপ্রেমী, জনদরদী কর্মীবাহিনী ছাড়া সংগঠন তৃণমূলে পৌঁছাতে পারে না। সংগঠনের নিয়মিত মিটিং করা হয়নি, কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। বেশ কিছুদিন নেতৃত্বের শূন্যতাও ছিল। আমি জেলা থেকে শুরু করে তৃণমূলে সাংগঠনিক ভিতকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা নেব। যাতে লক্ষ্ণীপুর বিএনপি’র ঘাটি, এ বদনাম ঘুচাতে সক্ষম হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি-জামায়াতের তান্ডবে লক্ষ্ণীপুর ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হয়েছে; এগুলো দূর করে লক্ষ্ণীপুরকে আবার শান্তির জনপদে ফিরিয়ে আনতে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি -এমন প্রশ্নের জবাবে জনপ্রতিনিধি শাহজাহান কামাল বলেন, সহিংস রাজনীতি, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, গাড়ি পোড়ানো, মানুষ হত্যা, পেট্রোল বোমায় জ্বালিয়ে দেয়া, নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলে অবরোধ করা -এগুলো কোনো সভ্য দেশের সভ্য লোকের কাজ নয়। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে তারা এমন ধ্বংসাত্মক কাজ করতে পারে না, এটা সন্ত্রাসীদেরই কাজ। জনগণকে এসব বুঝিয়ে জনগণ থেকে সন্ত্রাসীদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হবে। লক্ষ্ণীপুর সহিংসতায় কয়েকজন লোক মারা গেছে, তাদের জন্য আমি দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করছি। আওয়ামী লীগ অন্যান্য দলকে আহ্বান জানায় যাতে সাধারণ মানুষের স্বার্থের অনুকূলে কাজগুলো সহজে সম্পন্ন করা যায়। একাত্তরের চেতনায় বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে সন্ত্রাস দমনে আমি দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা চেয়েছি। আশা করি, আমরা সবার সহযোগিতায় লক্ষ্ণীপুরকে শান্তির আবাসভূমি তথা শান্তির জনপদে পরিণত করতে পারব। লক্ষ্ণীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে জেলার উন্নয়নে কী কী কাজ করেছেন জানতে চাইলে শাহজাহান কামাল বলেন- জেলার ৭০/৮০টি স্কুল, কলেজ, মন্দির, সমজিদ, মাদ্রাসা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, চলাচলের রাস্তা, পুল-কালভার্টের উন্নয়ন করেছি। এছাড়া আমি ব্যাংকের ডিরেক্টর থাকাকালীন ৪০/৪৫ লক্ষ টাকা ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা-সহায়তা হিসেবে অনুদান দেয়ার ব্যবস্থা করেছি, জটিল রোগীদের লক্ষ্ণীপুর থেকে ঢাকায় পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।
বৃহত্তর নোয়াখালীর শিল্পোদ্যোক্তাদের নিজ নিজ এলাকায় দু’একটি কারখানা প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে কী উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন এবং এ ব্যাপারে আপনি কী ভূমিকা পালন করবেন -এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান কামাল বলেন, উদ্যোগ অবশ্যই নেয়া যায়, নেয়া উচিতও। এ ব্যাপারে লক্ষ্ণীপুর বার্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে আহ্বান করব, তারা যেন বিশিষ্ট শিল্পপতি- শিল্পোদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সেমিনারের আয়োজন করেন। সেমিনার সফল করতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। সেমিনার এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে দু’একটি শিল্প স্থাপন সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস। রাখালিয়ায়-নোয়াখালী টেক্সটাইল মিল পুনঃচালু করার ব্যাপারে তাঁর মতামত জানতে চাইলে শাহজাহান কামাল বলেন, নোয়াখালী টেক্সটাইল মিল প্রতিষ্ঠার সাথে আমিও জড়িত ছিলাম। আমি এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি, টেক্সটাইল মিল্স কর্পোরেশন চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়েছি, তাকে বলেছি এটির অনুমোদনের জন্য। শুরুতে‘ত ভালোভাবেই চলছিল এ মিলটি। বৃহত্তর নোয়াখালীতে ভারি শিল্প হাতে-গোনা, কাজেই এ মিলটি হওয়ায় নোয়াখালীর মানুষ আশান্বিত হয়েছিল। দক্ষ-অদক্ষ অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছিল, অনেকগুলো পরিবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে পেরেছিল। তবে এটা বন্ধ হয়ে যাওয়াটাও বিস্ময়ের ব্যাপার। কেউ কেউ বলেন, বিদ্যুতের অভাবে এ মিলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোকসানের অংক অনেক বেড়ে যায়। সরকার কোটি কোটি টাকা লোকসান দেয়ায় শেষ পর্যন্ত মিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হয়। নতুন মালিক মিলটিকে পুনঃউৎপাদনে নিতে পারেননি। মিলটি পুনরায় চালু হলে কর্মচ্যুত শ্রমিকরা কাজ পাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আপনার নিজ এলাকায় মূল সমস্যা কী এবং এর সমাধানে আপনার পরামর্শ কী -এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান কামাল বলেন, এখানে প্রধান সমস্যা বেকারত্ব। অনেক শিক্ষিত লোক বেকারত্বের অভিশাপ বহন করে চলেছে। এলাকায় কল-কারখানা নাই, কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। নোয়াখালী গরিব অঞ্চল। ছাত্র-যুবকরা পড়ালেখা শেষ করে চাকরির সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। বৃহত্তর নোয়াখালীর যেসব শিল্পপতি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য শিল্প এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করেছেন -তারা যদি সেখানে অগ্র্রাধিকার ভিত্তিতে নোয়াখালীর কিছু বেকারের কর্মসংস্থান করেন, তাহলে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে। লক্ষ্ণীপুর বিনোদন কেন্দ্র নেই বললেই চলে। এখানে কীভাবে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যায় -এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান কামাল বলেন, এব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করেছি। মজু চৌধুরী হাট এলাকায় শিশু পার্ক (ওয়ান্ডারল্যান্ড) ও বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে এর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
মজু চৌধুরী হাটে একটি নদীবন্দর স্থাপনের জন্য জনগণ দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছেন, এ ব্যাপারে আপনি কী কোনো ভূমিকা রাখবেন -এমন প্রশ্নের জবাবে নবনির্বাচিত এমপি শাহজাহান কামাল বলেন, এখানে বৃটিশ আমল এবং পাকিস্তান আমলেও নদীবন্দর ছিল; যেখান থেকে নৌপথে চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল প্রভৃতি এলাকার সাথে লক্ষ্মীপুরের যোগাযোগ ছিল। বর্তমানে ভোলা এবং বরিশালের সাথে লঞ্চ চলাচল আছে। নদীবন্দর করার আগে এখানে ড্রেজিং করতে হবে, তা না হলে বড় বড় লঞ্চ আটকে গিয়ে বিঘœ ঘটাতে পারে। আশা করি, নদী বন্দরটিকে চালু করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারব। নোয়াখালীর মানুষের কোন্ বৈশিষ্ট্য নিয়ে আপনি গর্ববোধ করতে পারেন -এমন জিজ্ঞাসায় শাহজাহান কামাল বলেন, তাদের মধ্যে একটা ফেলো ফিলিং থাকে। তারা কর্মঠ, দায়িত্ব-সচেতন ও অতিথিপরায়ণ। এলাকার লোকজন আপনার কাছে কোনো সমস্যা নিয়ে আসলে আপনি তাদের কীভাবে গ্রহণ করেন -এমন জিজ্ঞাসায় শাহজাহান কামাল বলেন, আমার এলাকার সমস্যা নিয়ে আমার সহযোগিতার জন্য কেউ আসলে আমি সানন্দে তাদের গ্রহণ করি। সমস্যা সমাধানে সাধ্যমত চেষ্টা করি। এলাকার মানুষের কোনো কাজ করে দিতে পারলে আমি আনন্দ অনুভব করি। লক্ষ্ণীপুর-৩ আসনের জনগণের উদ্দেশ্যে মূল্যবান পরামর্শ প্রদান প্রসঙ্গে স্থানীয় এমপি সক্রিয় রাজনীতিক শাহজাহান কামাল বলেন, এলাকার উন্নয়ন কাজে আমি জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা চাই। জনগণের কল্যাণে আসে এমন কাজের কথা তারা যদি আমার কাছে তুলে ধরেন -তাহলে আমি উপকৃত হব। এভাবে জনগণও আমাকে মূল্যবান পরামর্শ দিতে পারেন। এ ধরনের পরামর্শ আমার কর্মসাধনের পথে মূল্যবান ভূমিকা রাখবে; আমিও জনগণের কাছাকাছি থাকতে পারব।
আঞ্চলিক উন্নয়নে লক্ষ্ণীপুর বার্তা’র ভূমিকা কী হতে পারে -এমন প্রশ্নের জবাবে জননেতা শাহজাহান কামাল বলেন, আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন -এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে লক্ষ্ণীপুর বার্তা কাজ করছে। এ পত্রিকা বৃহত্তর নোয়াখালীর মুখপত্র, বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। আঞ্চলিক পত্রিকার ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত প্রথম ও নিয়মিত ম্যাগাজিন হিসেবে সর্বজনের কাছে সমাদৃত। লক্ষ্ণীপুর বার্তা’র আঞ্চলিক উন্নয়নের এই চেতনা অন্যান্য অঞ্চলের কাছেও অনুকরণীয়। লক্ষ্ণীপুর বার্তা’র অব্যাহত প্রকাশনায় আমরা গর্বিত। লক্ষ্ণীপুর বার্তা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বরাবরই দৃঢ়চিত্ত। সাংবাদিকতায় তাদের স্বচ্ছতায় সবাই মুগ্ধ। এ পত্রিকা বৃহত্তর নোয়াখালীর বিভিন্ন সমস্যা কর্তৃপক্ষের কাছে বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করে, অন্যদিকে বিভিন্ন বিষয়ে নোয়াখালীর সম্ভাবনার কথাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে এর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করে। বৃহত্তর নোয়াখালী, বিশেষ করে লক্ষ্ণীপুরের কৃতী সন্তানদের পরিচিতি তুলে ধরে ব্যক্তিত্ব কলামের মাধ্যমে। লক্ষ্ণীপুর বার্তা’র মুদ্রণ অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। উন্নত প্রকাশনার এ পত্রিকার অব্যাহত অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করি এবং পত্রিকা-সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।