Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

নোয়াখালীর সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র মুছাপুর ক্লোজার

॥ এ কে এম গিয়াস উদ্দিন মাহ্মুদ ॥
মুছাপুর ক্লোজার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে এক মনোরম বেলাভূমিতে অবস্থিত। এটি এখন বৃহত্তর নোয়াখালীর অনেকের কাছে আকর্ষণীয় ভ্রমণস্থান। প্রতিদিন হাজার হাজার ভ্রমণ-পিয়াসী এখানে আসেন প্রকৃতি এবং নদীর সাথে কিছুক্ষণ আলিঙ্গন করতে আর লাভ করতে বিমল আনন্দ। গত কয়েক বছর হতে ছোট ফেনী নদীর মুছাপুরের অংশটা ভাঙ্গতে থাকে এক পর্যায়ে ২০০৫ সাল হতে ২৩ ভেন্টারেগুলেটর স্থাপন করা হয়। প্রায় ৫ কি.মি দৈর্ঘ্য ও ৩ কি.মি. প্রস্থের সমুদ্র সৈকতের যে কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়।
মুছাপুর ক্লোজ এলাকায় চরের মধ্যে দক্ষিণ মুছাপুর মৌজায় ৮২১.৫৭ একর, চর বালুয়াদিয়ারা মৌজায় ১৮০০.১০ একর এবং চর বালুয়া মৌজায় ৬০০.১৫ একর, সর্বমোট ৩২২১.৮২ একর বনবিভাগের জমি জুড়ে মনোরম পরিবেশে বনাঞ্চল রয়েছে।
২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন হতে মুছাপুর ক্লোজারে মানুষ দলে দলে ছুটে আসছে একটু স্বস্তির জন্য, একটু আনন্দের জন্য, একটু বিনোদনের জন্য। নোয়াখালীতে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র তেমন না থাকায় মানুষ যায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে। বর্তমানে রাজনৈতিক ও দেশের দাঙ্গাঁ-হাঙ্গাঁমা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ দূর দূরান্তে যেতে ভয় পায়। তাই এই ঈদে নোয়াখালীবাসী দূরে কোথাও না গিয়ে মুছাপুর ক্লোজারকে পর্যটন স্পট হিসেবে বেছে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকেও প্রতিদিন আসছে অনেক ভ্রমণ-আমোদী মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ স্থানের ব্যাপক পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল এ স্থানটি পর্যবেক্ষণ করে বেশ প্রফুল্ল হয়েছেন এবং তিনি মাননীয় সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদেরের সাথে মুছাপুর ক্লোজারকে একটি পর্যটন স্পট হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
মুছাপুর ক্লোজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পর্যটন পুলিশ বা স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। বাংলাবাজার হতে মুছাপুর পর্যন্ত রাস্তাটি ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। পর্যটকদের বসার জন্য স্থায়ী ছাউনী ও টয়েলেটিংয়ের সুব্যবস্থা থাকতে হবে। স্বল্প মূল্যে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। নদীতে ভ্রমণের সময় খুব সতর্ক থাকতে হবে। যারা সাঁতার জানে না প্রয়োজনে তাদের লাইফ জ্যাকেট পরতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ হতে সর্বদা পর্যটকদের বিরত থাকতে হবে।
দিন দিন ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। মানুষ একটু প্রশান্তি চায়। চায় নীরবে-নিভৃতে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে। সে রকম উপভোগ্য একটি স্থান মুছাপুর ক্লোজার। পর্যটকরা যাতে এখানে নিরাপদ-নির্বিগ্নে যাতায়াত ও চলাফেরা করতে পারে সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আশু ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।