Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

লক্ষ্মীপুর ৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা
মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন)

জন্মস্থানকে ভোলেননি, ভোলেননি নিজ এলাকার খেটে খাওয়া সংগ্রামী মানুষদের। নিজ মেধা ও চেষ্টায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন; কিন্তু নিছক ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির ভেতরে নিজেকে আটকে না রেখে মানবকল্যাণ ও জনসেবায় সম্পৃক্ত রেখেছেন। মাটির টানে, এলাকার মানুষের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে বার বার ফিরে এসেছেন নিজ জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন সক্রিয়ভাবে। দেশপ্রেমের যে চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, সে চেতনা এখনও তাঁকে উজ্জীবিত করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে। রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন সমাজসেবা ও মানবকল্যাণের মাধ্যম হিসেবে। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে সক্রিয় হয়ে বিগত নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকার উন্নয়ন, গণমানুষের উন্নয়নই হলো তাঁর ধ্যান-জ্ঞান।
প্রিয় পাঠক এতক্ষণ যাঁর কথা বলছি, তিনি হলেন মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) এমপি; বৃহত্তর নোয়াখালী বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলাদ্বয়ের উন্নয়ন তাঁর ভাবনায় স্থান করে নিয়েছে। সম্প্রতি তাঁর সাথে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র প্রতিনিধি রাজিব গুপ্ত ও জাহাঙ্গীর লিটন একান্ত সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। তাঁদের আলাপচারিতার উল্লেখযোগ্য অংশ লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সহকারী সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফার অনুলিখনে এখানে সন্নিবেশিত হলো।
নিজ জন্মস্থান ও জন্মভূমির প্রতি মানুষের হৃদয়ের একটা আলাদা টান থাকে; জন্মভূমি বা জন্মস্থান আপনার অনুভূতিতে কীভাবে নাড়া দেয় এমন প্রশ্নের জবাবে এলাকাপ্রেমী সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) বলেন, আমার জন্ম লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়নের উত্তর বড়খেরী গ্রামে। এ এলাকাটি ১৮টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত। ঘূর্ণীঝড়- জলোচ্ছ্বাসের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে এখানকার সংগ্রামী মানুষ। তারা নিত্য নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে গৃহহারা, ভিটেমাটি হারা হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এতে ধারণা করা যায়, ৩০ থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আমরা হারিয়েছি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের এই অসহায়ত্বের সাথে আমার পরিচয় নতুন নয়। শৈশব-কৈশোরে বেড়ে উঠেছি এলাকার গৃহহীন মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা দেখে। গৃহহীন মানুষ কখনও কখনও বেড়িবাঁধে, নতুন চরে বা কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনার পাশে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছে।
শৈশব ও কৈশোরের এমন কোনো স্মৃতি আছে কি, যা আজও আপনার মনকে দোলা দেয় এমন প্রশ্নে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) এমপি বলেন, ছোটবেলার কথা তেমন কিছু মনে না পড়লেও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি স্মৃতির কথা মনে পড়ছে। আমরা থানা আক্রমণ করে পাকিস্তানিদের অস্ত্র লুট করার সিদ্ধান্ত নেই। সেই প্রেক্ষিতে এক রাতে আমরা পাকিস্তানিদের ক্যাম্প এ্যাম্বুশ করি। সেটি ছিল একটি টিনের চালা মাদ্রাসা ঘর। আমরা একসাথে গুলি চালালে যে শব্দ হয়, তা আমার কাছে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে; সে বিশেষ শব্দটা এখনও আমার কানে বাজে; আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় গৌরবদীপ্ত মুক্তিযুদ্ধের কথা, লক্ষ প্রাণের আত্মদানের কথা, মা-বোনের ইজ্জত হারানোর কথা। অবশ্য সে ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে পাকিস্তানিদের গুলিতে একজন সাধারণ লোক নিহত হয়েছিল।
আপনার এলাকার প্রধান সমস্যা কী কী; জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন বা নেয়ার পরিকল্পনা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে দেশপ্রেমী সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) বলেন, রামগতি- কমলনগরের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙ্গন। ভাঙ্গনের মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মতিরহাট থেকে চরগাজী (রামগতি বাজার) পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার রাস্তা, এক সময় এখানে বেড়িবাঁধ ছিল; পরবর্তীতে তা ভেঙ্গে গেছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি সহজেই ফসলের মাঠে ঢুকে পড়ে। এ অবস্থায়ও সংগ্রামী মানুষ জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তারা সরকারি খাস জমিতে ও নতুন চরে আবার বসতি গড়ে তুলছে। রামগতি- কমলনগরে এমন কোনো ঘর-বাড়ি পাওয়া যাবে না, যা কোনো না কোনো সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ বিবেচনায় ৩৮ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙ্গন রোধ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে সাড়ে তেরশ’ কোটি টাকার প্রকল্প আমরা সাবমিট করেছি। রামগতিতে সাড়ে ৩ কিলোমিটার, কমলনগরে ২ কিলোমিটার- মোট সাড়ে ৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কাজটা করানো হচ্ছে। এ বাঁধটা মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। বাঁধটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে রামগতি- কমলনগরের ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হবে। নদী ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান সময়ে রামগতি- কমলনগরের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ২০১৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত রামগতি-কমলনগর এলাকার কোনো জনপ্রতিনিধি এ সমস্যা সমাধানে তৎপর হয়নি। এখানে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট ছিল জরাজীর্ণ, খানা-খন্দে ভরা; আমি এগুলোর সংস্কার করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এলাকার উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সমাজসেবী জনপ্রতিনিধি মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) বলেন, এলাকার উন্নয়নে গতিবেগ সঞ্চারিত হয়েছে। জরাজীর্ণ অবকাঠামোর জন্য যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা বিঘিœত হচ্ছিল, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো- উন্নয়ন অব্যাহত আছে। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নেও আমরা কাজ করছি। বর্তমানে রামগতি হেলথ কমপ্লেক্সটিকে ২০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট করা হয়েছে; কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জবাবে মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) বলেন, আমাদের ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৭টিতেই ছিল বিএনপিপন্থী চেয়ারম্যান; একটিমাত্র ইউনিয়ন, যেটি আমার ইউনিয়ন, সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা ফেরদৌস হাসান মাহমুদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিএনপিপন্থীরা দীর্ঘকাল ক্ষমতায় ছিল, তারা বিভিন্ন রকম কলাকৌশল খাটিয়ে নির্বাচন বন্ধ রেখেছে। পরবর্তীতে নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগ সমর্থিতরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে গণবিরোধী চক্রকে উৎখাত করে দিয়েছে।
নিজ এলাকায় আর কী সমস্যা আছে এমন জিজ্ঞাসার জবাবে এলাকাপ্রেমী জনপ্রতিনিধি মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) বলেন, আমার এলাকার সমস্যা অনেক। আগে এখানে অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ছিলেন। তাঁদের কাছে জনগণের প্রত্যাশাও ছিল বেশি; কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা এলাকার আশানুরূপ উন্নয়ন করেননি বা করতে পারেননি। তিনি বলেন, এলাকার সাথে আমার যোগাযোগ থাকলেও আমি ছিলাম ব্যবসায়ী; রাজনৈতিক দলের সদস্য হলেও সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলাম না। এলাকার জনগণ নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি এখন এলাকার সমস্যা সমাধানসহ জনগণের আশা পূরণে সচেষ্ট রয়েছি।
এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এমন প্রশ্নে জনপ্রতিনিধি এমপি মামুন বলেন, রাস্তাঘাটের করুণ দশা দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, এখানে এককালে রাস্তা ছিল। এ রাস্তাগুলোর সংস্কার করতে পারলে আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন সফল হবে; জনগণ সে রাস্তা ব্যবহার করে আমার জন্য দোয়া করবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা রামগতিতে আরও আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এশিয়ার বৃহত্তম আশ্রয়ণ প্রকল্প রামগতিতে গড়ে উঠেছে। গত ২ বছরে সেখানে ১৬০টি পরিবার বসতি স্থাপন করেছে। এছাড়া আরও ১০টি প্রকল্প আমরা পেশ করেছি।
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) বলেন, দেশের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ সয়াবিন রামগতি-কমলনগরে উৎপাদিত হয়; তাই সয়াবিনভিত্তিক একটি বড় প্রকল্প আমরা ঠিক করেছি। এখানে সয়াবিনভিত্তিক কারখানা স্থাপন হলে এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান হবে, যা পক্ষান্তরে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানকার অধিবাসীদের অনেকেই মৎস্যজীবী, যারা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ৩০ হাজার জেলেকে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে; যারা কার্ড পায়নি, তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে কার্ড দেয়া হবে। যে সময়টা মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, তখন উক্ত কার্ডধারীদের খাদ্যশস্য ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হবে। জীবিকার বিকল্প অবলম্বন না থাকায় জেলেদের জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক কাজকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, উপবৃত্তি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, ভিজিএফ কার্ড, মাতৃত্বকালীন ভাতা, কমিউনিটি ক্লিনিকের ফ্রি সেবা, ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্রের সেবা পাচ্ছে জনগণ। এসব জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের কর্মসূচি অব্যাহত আছে। যার প্রভাব আমার এলাকাতেও পড়ছে।
নোয়াখালী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনে জনগণ কতটুকু উপকৃত হবেন বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে জনদরদি ব্যক্তিত্ব এমপি আল মামুন বলেন, প্রস্তাবিত রেললাইন স্থাপিত হলে শুধু লক্ষ্মীপুর কিংবা বৃহত্তর নোয়াখালীই নয় -সারাদেশই উপকৃত হবে। এতে যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে, পণ্য পরিবহন সাশ্রয়ী হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত হবে।
লক্ষ্মীপুরের শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নে এলাকাপ্রেমী সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) বলেন, বেকার সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য আমাদের আছে। এলাকায় ছোট ছোট ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠলে বেকারদের কর্মসংস্থান সহজ হবে। সেক্ষেত্রে সবার আগে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে, রাস্তাঘাট প্রশস্ত ও পাকা করতে হবে। এসব সমস্যার সমাধানে আমি তৎপর রয়েছি।
এলাকার আইন-শৃংখলার উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে জনপ্রতিনিধি মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) এমপি বলেন লক্ষ্মীপুরের পরিচিতি ছিল সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে; রক্তাক্ত লক্ষ্মীপুর হিসেবেও এর কুখ্যাতি ছিল। বর্তমানে অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও জলদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা করছে। ফলে তারা নিষ্ক্রিয় ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাতে বর্তমানে এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে। জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ছে। তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। বর্তমান পুলিশ সুপারসহ আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিক। এক সময় চাঁদা না দিলে নদীতে মাছ ধরতে দিত না জলদস্যুরা। এখন অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সাঁড়াশী অভিযানের ফলে সন্ত্রাসীরা কেউ মরেছে, না হয় পালিয়েছে অথবা ভালো হয়ে হালাল রুজিতে জীবনযাপন করছে।
লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নে আপনার ব্যক্তিগত বা সার্কেলের কোনো ভূমিকা আশা করা যায় কি এমন প্রশ্নের জিজ্ঞাসায় আশাবাদী ব্যক্তিত্ব এমপি মামুন বলেন, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর একটা অনুন্নত অঞ্চল, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বসবাস। তবে সবার সহযোগিতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃপায় লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যে রামগতি-কমলনগরকে সর্বদিক দিয়ে আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই; যাতে উপজেলা দু’টি দেশের জন্য একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।
রামগতি-কমলনগরকে মডেল থানা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পাবেন কী এবং আগামীতেও এ আসন ধরে রাখতে পারবেন কী এমন প্রশ্নের জবাবে জননেতা মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁকে আমার প্ল্যান-প্রোগ্রাম বুঝিয়ে দিয়েছি। একনেক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর কাজ শুরু হবে। এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করছি; বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি। আমি আশাবাদী যে, পরবর্তী নির্বাচনে স্থানীয় জনগণ আমাকে বিবেচনায় রাখবেন। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য হিসেবে আমার কার্যকর ও নিবিড় গণসংযোগের ফলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন; তারা চান দেশের উন্নয়ন।
বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রিয় পত্রিকা লক্ষ্মীপুর বার্তা’র মূল্যায়ন প্রসঙ্গে লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) এমপি বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা সত্যিই বৃহত্তর নোয়াখালীর দর্পণ। এতে বৃহত্তর নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুরের সমস্যা এবং উন্নয়ন সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরা হয়। প্রকাশনাও উন্নতমানের। আশা করি, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পত্রিকাটি সাফল্যের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।
জনপ্রিয় প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) কর্তৃক রামগতি ও কমলনগর উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
নদী ভাঙ্গন রোধঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সহযোগিতায় ও অনুকম্পায় রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মতিরহাট থেকে বয়ার চর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গন থেকে রক্ষাকল্পে ১৩৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। যার ৫.৫০ কি.মি. নদী রক্ষা বাঁধের মধ্যে ৩.৫০ কি.মি. এর কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। বাকি ২ কি.মি. এর কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়াও রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নকে নদীভাঙ্গন থেকে রক্ষাকল্পে আরও ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণঃ দায়িত্ব গ্রহণের পরেই এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে বিশেষভাবে নজর দেন। তিনি এ পর্যন্ত রামগতি ও কমলনগরের শতাধিক রাস্তাঘাট-ব্রীজ-কালভার্ট নতুনভাবে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এলজিইডিতে আবেদন করেছেন। যার মধ্যে কিছু কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, কিছু চলমান রয়েছে এবং বাকি কাজও শীঘ্রই শেষ হবে। টিআর ও কাবিখা কর্মসূচিঃ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন) সরকারিভাবে প্রাপ্ত চাল, গম ও নগদ অর্থের মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব, মন্দির ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন। বিশেষ করে বরাদ্দকৃত টিআর প্রকল্পের আওতায় সরকারি নীতিমালার আলোকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিদ্যুৎবিহীন প্রতিটি ঘরে ঘরে সোলার বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রকল্প গ্রহণ করেন।
স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নঃ রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৪১টি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পথে। অন্যদিকে ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও দুই উপজেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ডিপিপিভুক্ত করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে দেশে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত ১০০টি কারিগরি স্কুল প্রতিষ্ঠার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তার মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলায় একমাত্র ১টি স্কুল এই রামগতিতে স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাজ চলমান রয়েছে।
কমলনগর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে উপকূল কলেজটিতে সরকারিকরণের উদ্যোগ নেন মোঃ আব্দুল্লাহ (আল মামুন), যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইতোমধ্যে সরকারি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া উভয় উপজেলায় শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে কমলনগর কলেজ, তোয়াহা স্মৃতি মহিলা কলেজ নামে ২টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বিবিধঃ এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ছাড়াও এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য রামগতিতে একটি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা; নদীভাঙ্গা ছিন্নমূল মানুষের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প; বিশাল জনগোষ্ঠীর বিশুদ্ধু পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন; দরিদ্র-অসহায় জনগণের জন্য ভিজিপি, ভিজিডি, ভিজিএফ বরাদ্দ; সন্তানসম্ভবা মহিলাদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান; গৃহহারা ও নিঃস্ব পরিবারের জন্য টিন বরাদ্দ; বিদ্যুতের ব্যবস্থা; মসজিদ-মন্দির উন্নয়ন; কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা; ঐচ্ছিক তহবিল থেকে নগদ অর্থ বিতরণ; ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণসহ ব্যক্তিগত উদ্যোগেও এই মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন।