Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

লক্ষ্মীপুরে কুটির শিল্পের কারিগরদের দুর্দিন

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির প্লাষ্টিকের কদর বাড়ায় ও প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে লক্ষ্মীপুরের বাঁশ ও বেতের তৈরি কুটির শিল্পের কারিগরদের মাঝে নেমে এসছে দুর্দিনের ছায়া। কিন্তু কালের বিবর্তনের কারণে ব্যবহারিক জীবনে অতি প্রয়োজনীয় বাঁশ ও বেতের তৈরি কুটির শিল্প আজ হারিয়ে যাচ্ছে। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কুটির শিল্প সামগ্রীর চাহিদা কমতে থাকা, বাঁশ ও বেতের দাম বেড়ে যাওয়া, ঋণের ভার আর দাদনে যে তাদের কাঁধে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা যায়, বাঁশ ও বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িত শত শত পরিবার বর্তমানে চরম দুর্দিনের মধ্যে দিন যাপন করছে। এই অঞ্চলের শত শত পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ বাঁশ ও বেত শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে তারা নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রয়োজনীয় ঋণ, পুঁজি, মজুরি কম থাকার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শত শত শ্রমিক আজ প্রায় বেকার জীবনযাপন করছে। এসব শ্রমিক বংশানুক্রমে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। গ্রামের ঘরে এখন আর এগুলো আগের মতো চোখে পড়ে না। অথচ একদিন গ্রাম ছাড়া বাঁশ-বেতের জিনিস কিংবা এসব ছাড়া গ্রাম কল্পনা করাও কঠিন ছিল। যেখানে বসতি সেখানেই বাঁশ, বেতের তৈরির জিনিসপত্র কিন্তু আজ তা আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য থেকে মুছে যাচ্ছে। এই গ্রাম বাংলার কুটিরশিল্প নিয়ে কবি-সাহিত্যিক রচনা করেছেন কবিতা-গল্প। বাউলরা গেয়েছেন গান। আগে গ্রামের প্রায় বাড়িতেই বাঁশ, বেত দিয়ে তৈরি করা হতো হরেক রকমের সরঞ্জাম। জীবিকা অর্জনের মাধ্যমও ছিল বাঁশ-বেত। একসময় এ লক্ষ্মীপুর জেলার বাঁশের ব্যাপক চাষ করা হতো। সামান্য যতœ আর বিনা খরচে গড়ে ওঠত বাঁশের বাগান। আর পুকুর পাশে জন্ম নিতো বেত। কিন্তু আজ কালের বিবর্তনে সেই বাঁশ ও বেত বাগান বিলীন হতে চলেছে। তবুও থেমে নেই এখানকার কারিগররা। নারী-পুরুষ নির্বেশেষে প্রতিদিন গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরির কাজে ব্যস্ত তারা।
বিসিক শিল্প নগরী সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৩ শতাধিক কারিগর বাঁশের তৈরি গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন তারা।
জেলা সদরের চররুহিতা ইউনিয়নের চর লামচী, পশ্চিম লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার, তেওয়ারীগঞ্জের শহর কসবা, বাঙ্গাখা ইউনিয়নের বাবুপুর, রায়পুরের হায়দরগঞ্জসহ মোট ৮-১০টি গ্রামে নারী -পুরুষ তাদের নিপুণ হাতে তৈরি কুলা, চাঁটাই, হাঁস-মুরগির খাঁচা, সাজি, ঢাকনা, চালনি, পালা, খাঁচা, মোড়া বেতের ধামা, পাতিল, চেয়ার, টেবিল, দোলনা, খারাই, পাখা, বই রাখার র‌্যাক, ঘুনি, ডালা, ঝুড়ি ইত্যাদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় শিল্পসামগ্রী জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশ্বর্বতী জেলা ও বাজারগুলোতে বিক্রি করা হয়।
কুটির শিল্প কারিগররা জানান, পুর্ব পুরুষ থেকে এ পেশায় জড়িত রয়েছেন তারা। আগে এক একটি বাঁশ কিনতে হতো ৫০ থেকে ১২০ টাকা দরে। আর এখন প্রতিটি বাঁশ কিনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।
এক সময় গ্রামীণ বাজারে বাঁশের তৈরি পণ্যের বেশ চাহিদা থাকলেও বর্তমানে প্লাষ্টিক পণ্যের কারণে এ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। সেই সাথে বাঁশের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা সমস্যায় ভুগছেন, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাতসহ তাদের চরম দুর্দিন যাচ্ছে এখন। তারা আরো জানায়, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর অতি ব্যবহারে এখন এই অঞ্চলের বাঁশ ও বেত শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা এক প্রকার বাধ্য হয়ে তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
কারিগরদের দাবি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজশর্তে ঋণের সুবিধা পেলে পুনরায় উজ্জীবিত হবে এ শিল্প। বাঁশ শিল্প কেন্দ্রিক সরকারি-বেসরকারি উদ্যেগ গ্রহণে ভাগ্য বদল হতে পারে এ অঞ্চলের কারিগরদের।