Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

কুমার পরিবারগুলোতে চলছে দুর্দিন ॥ লক্ষ্মীপুরে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

কালের আবতনে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলো। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির প্লাষ্টিক সামগ্রীর কদর বাড়ায় এবং আধুনিতকার করালগ্রাসে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে এই শিল্প আঁকড়ে থাকা লক্ষ্মীপুরের সবকয়টি উপজেলার কুমার পরিবারগুলোর জীবনে নেমে এসেছে দুর্দিন।
বাপ-দাদার কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া এই কর্মই কালের আবর্তে যেন মরণ বোঝা হয়ে চেপেছে তাদের ঘাড়ে। কোমলমতি ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাতসহ তাদের চরম দুর্দিন যাচ্ছে এখন। দিন যতই যাচ্ছে ততই যেন ঘিরে আসছে তাদের চারপাশে ভয়ানক অন্ধকার। অথচ একসময় লক্ষ্মীপুর জেলার মৃৎশিল্প কারিগরদের এমন দুরবস্থা ছিল না। সবসময়ে তারা কাজ আর কাজ করে ব্যস্ত সময় পার করত। মাটি সংগ্রহ এবং ওই মাটি দিয়ে খামির তৈরি এরপর সাঁচে বসিয়ে ইচ্ছেমতো নানান রকম হাঁড়ি-পাতিল, কলস, বাসন, মাটির ব্যাংক, হান্ডি, শিশুদের নানা রকমের খেলনা থেকে শুরু করে পরিবারের প্রয়োজনীয় নূনের বাটিটি পর্যন্ত মাটি দিয়ে তৈরি হতো। ৮০’র দশকে গ্রামবাংলার বিশেষ করে বৃহত্তর নোয়াখালী জুড়ে ১৬ আনাই মাটির জিনিসপত্র ব্যবহার করা হতো। তৎকালীন সময়ে বিয়ে, কুলখানি, কাঙ্গালীভোজ, মসজিদের শিরনী থেকে শুরু করে সব সামাজিক অনুষ্ঠানে এই মাটির জিনিসপত্রের ব্যবহার হতো।
কুমাররা জানান, আগে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ১৬ আনাই মাটির জিনিসপত্র তৈরি করতাম। তখন এই জিনিসগুলো বানাতে যে মাটি লাগত, তা আমাদের এই অঞ্চলে পাওয়া যেতো। এখন আর মাটি এই জেলায় পাওয়া যায় না। তাই এখন মাটি আনতে হয় চাঁদপুর, হাজিগঞ্জ, নোয়াখালীসহ অন্যন জেলা থেকে। এতে আমাদের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। এদিকে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির প্লাষ্টিক দ্রব্যের কদর বাড়ায় আমরা এখন বানাচ্ছি মাত্র ১-২ রকম জিনিস। কালের আবর্তনে আর আধুনিকতার কারণে আমরা মৃৎশিল্পীরা যে স্বপ্ন দেখেছি, সেই স্বপ্নগুলো যেন স্বপ্নই থেকে গেলো। আর সেই থেকে আমাদের মৃৎশিল্পীদের পরিবারে দুর্দিন শুরু হয়েছে। আগে কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকতাম, কিন্তু এখন যে কাজ তা অতিসামান্য যা দিয়ে আমাদের জীবন চলাই দুষ্কর।
তবে এসব পরিবারগুলো মনে করেন যে, বর্তমান যুগে মৃৎশিল্পের পুনঃজাগরণ কিংবা এ পেশায় তাদের সুদিন ফিরে আর আসবে না। তবুও বাপ-দাদার হাতে শিক্ষা নেয়া ওই শিল্পকেই আঁকড়ে ধরে মরতে চান তারা।
-জাহাঙ্গীর লিটন