Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

ফেনী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

ভ্রমণপিপাসু, বিনোদনপ্রিয় মানুষ প্রাত্যহিক জীবনে একটু পরিবর্তন চায়, শারীরিক-মানসিক চাপ থেকে চায় পরিত্রাণ। এজন্য তারা ভ্রমণ করেন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, উপভোগ করেন প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য। বৃহত্তর নোয়াখালীর ফেনী জেলায় রয়েছে এমন কিছু দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা, যা পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করতে পারে। এখানে সেরকম কিছু দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনার কথা তুলে ধরা হলো।
বিজয় সিংহ দীঘি
বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের অমর কীর্তি এ বিজয় সিংহ দীঘি। এ দীঘি ফেনী শহরের প্রায় ৩ কিঃমিঃ পশ্চিমে বিজয় সিংহ গ্রামে ফেনী সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থিত। দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যের আধার এ দীঘিটির আয়তন প্রায় ৩৭.৫৭ একর। অত্যন্ত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ দীঘির চৌপাড় খুব উঁচু ও বৃক্ষ শোভিত। ফেনীর ঐতিহ্যবাহী দীঘির মধ্যে বিজয় সিংহ দীঘি অন্যতম। এ দীঘি দেখার জন্য জেলার এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা আসে। প্রতিদিন বিকালবেলা পর্যটকের পদভারে মুখরিত এই স্থানটি মনে হয় যেন উৎসবস্থল। যারা এক বেলার জন্য প্রকৃতির কাছে যেতে চান কিংবা সময়টা কাটাতে চান শুদ্ধ জল ও বাতাসের সাথে, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
যেভাবে যেতে হবে
জেলা ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট কিংবা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজি যোগে যাওয়া যায় এখানে। অথবা রিক্সা যোগে মহিপাল ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে সার্কিট হাউজ রোড দিয়ে যেতে পারেন বিজয় সিংহ দীঘিতে।
রাজাঝীর দীঘি
ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে এ দীঘির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে, ত্রিপুরা মহারাজের প্রভাবশালী একজন রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার মানসে প্রায় ৫/৭ শত বছর পূর্বে এ দীঘি খনন করা হয়। স্থানীয় ভাষায় কন্যা-কে ‘ঝী’ বলা হয়। সেই সূত্রে এর নামকরণ করা হয় রাজাঝীর দীঘি। ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে তার সদর দপ্তর গড়ে তোলা হয় এই রাজাঝির দীঘির পাড়ে। দীঘির পাড়ে বর্তমানে ফেনী সদর থানা, ফেনী কোর্ট মসজিদ, অফিসার্স ক্লাব, জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশু পার্কসহ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন গড়ে উঠেছে। মোট ১০.৩২ একর আয়তন বিশিষ্ট এ দীঘিটি ফেনীর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের একটি।
কোথায় থাকবেন
- ফেনী সার্কিট হাউস (দর্শনীয় স্থান সংলগ্ন)
- জেলা পরিষদ ডাকবাংলো (দর্শনীয় স্থান হতে ৩ কিলোমিটার দূরে মিজান রোডে অবস্থিত, রিক্সা বা সিএনজি অটোরিক্সাযোগে আসা-যাওয়া যায়)।
-এলজিইডি রেস্ট হাউস (দর্শনীয় স্থান হতে ৪ কিলোমিটার দূরে ফেনী কুমিল্লা রোডের পাশে অবস্থিত, রিক্সা বা সিএনজি অটোরিক্সাযোগে আসা- যাওয়া যায়)।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস (দর্শনীয় স্থান হতে ২ কিলোমিটার দূরে শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার (এসএসকে) রোডের পাশে অবস্থিত, রিক্সা বা সিএনজি অটোরিক্সাযোগে আসা-যাওয়া করা যায়)।
-পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউস, মহিপাল মোড় হতে প্রায় ১.৫ কি:মি: দক্ষিণে হাইওয়ের পাশে অবস্থিত। (দর্শনীয় স্থান হতে ৪ কিলোমিটার দূরে ফেনী-কুমিল্লা রোডের পাশে অবস্থিত, রিক্সা বা সিএনজি অটোরিক্সা যোগে আসা-যাওয়া করা যায়)।
-হোটেল মিড নাইটঃ জহিরিয়া মসজিদ মার্কেট, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার রোড (দর্শনীয় স্থান হতে ২ কিলোমিটার দূরে এসএসকে রোডের পাশে অবস্থিত, রিক্সা বা সিএনজি অটোরিক্সাযোগে আসা-যাওয়া করা যায়)।
-হোটেল গাজী ইন্টারন্যাশনালঃ এসএসকে রোড, ফেনী (দর্শনীয় স্থান হতে ২ কিলোমিটার দূরে এসএসকে রোডের পাশে অবস্থিত, রিক্সা বা সিএনজি অটোরিক্সা যোগে আসা-যাওয়া করা যায়)।
পাগলা মিঞাঁর মাজার
দরবেশ পাগলা মিঞাঁর প্রকৃত নাম ছিল সৈয়দ আমীর উদ্দিন (রঃ)। ১৮২৩ সালে ফাযিলপুর ছনুয়া গ্রামে তাঁর জন্ম হয় এবং ১৮৮৭ সালে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবারে (তাঁর জন্মদিনে) তাঁর মাজারে ওরশ হয়। সেখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে হাজার হাজার লোক সমবেত হয়। তিনি আধুনিক ফেনী জনপদের মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর অপরিসীম প্রভাব রেখে গেছেন। তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পর্কে ফেনী অঞ্চলে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। এখনো প্রতিদিন তাঁর মাজারে মানুষ দলে দলে ফাতেহা পাঠ করে, জেয়ারত করে এবং ‘মানত’ করে।