Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

লক্ষ্মীপুরের শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ সততা ও নীতিনিষ্ঠায় প্রোজ্জ্বল, দেশপ্রেমী ও কল্যাণব্রতী দুদক’র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান

বৃহত্তর নোয়াখালীর গর্বিত সন্তান, দুদক’র সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বদিউজ্জামান। যিনি ব্যক্তিজীবনে সৎ ও নিষ্ঠাবান এবং কর্মজীবনে দক্ষ, স্বচ্ছ, সহজ-সরল ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক সুপরিচিত। তিনি সংকল্পে অটল, লক্ষ্যাভিসারী, দৃঢ়প্রত্যয়ী। দুদক’র দায়িত্ব পালনকালীন দুর্নীতি দমনের কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও তিনি ছিলেন নীতিনিষ্ঠায় অবিচল।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মোঃ বদিউজ্জামান এর জন্ম ১৯৪৪ সালের ৮ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর সদর থানার মজুপুর গ্রামে। তাঁর পিতা- মরহুম আবদুল গণি মিয়া ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক, আর মাতা- মরহুমা হাসনাবানু ছিলেন ধার্মিক সুগৃহিণী। ৬ ভাই ১ বোনের মধ্যে বদিউজ্জামান ৫ম।
বদিউজ্জামান ১৯৬৬ সালে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম নিবাসী অভিজাত পরিবারের সন্তান ফিরোজা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের তিন ছেলে। বড় ছেলে আলমগীর মোঃ আল ফারুকী; মেঝো ছেলে মঈন উদ্দিন মোঃ আল ফারুকী; ছোট ছেলে সিরাজুল মোস্তফা আল ফারুকী (সুজন)।
মোঃ বদিউজ্জামান ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৬৪ সালে উক্ত বিষয়ে এমএ পাস করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেসা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি ইপিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রশাসনিক ক্যাডারে নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৮ সালে অধ্যাপনা ছেড়ে সরকরি চাকরিতে যোগদান করেন। সরকারি চাকরিতে তিনি ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা প্রশাসক, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বৎসর দক্ষতার সাথে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনশেষে ১৯৮৭ সালের এপ্রিল মাসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব (প্রশাসন) পদে বদলি হন। ১৯৮৯ সালে উপ-সচিব হিসেবে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।
এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে ১৯৯২ সালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম-সচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। ১৯৯৯ সালের আগস্টে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।
বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ২০০১ সালের ৮ জানুয়ারি এলপিআরে যাবার কথা থাকলেও সরকার তাকে ২ বছরের জন্যে দুর্নীতি-দমন ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেন। পরবর্তীতে অবসর জীবনে তিনি বেশকিছু সংস্থায় চেয়ারম্যান, পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ১৪ মার্চ রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে দুদক’র কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন ২০১৩ সালের ২৪ জুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ২৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগলাভ করেন এবং ২০১৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
জনাব বদিউজ্জামান এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাঝেও নিজ জন্ম-এলাকার কল্যাণ-চিন্তায় ছিলেন একনিষ্ঠ ও আন্তরিক এবং এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে ছিলেন গভীর আশাবাদী। তিনি লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সুচিন্তিত বক্তব্যের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে পরামর্শ দেন; লক্ষ্মীপুরের শিল্পপতিগণকে নিজ এলাকায় শিল্প স্থাপনে উৎসাহ যোগান।
এলাকার কল্যাণ-চিন্তায় নিবেদিত জনাব বদিউজ্জামান নিজ এলাকায় স্কুল, কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠা করে গুণগতমানের শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রেখেছেন। এলাকার সামাজিক কল্যাণকাজে সহযোগিতায় তিনি সর্বদাই অগ্রগামী।
শিক্ষা-সমাজসেবা ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত মোহাম্মদ বদিউজ্জামান এর এরূপ প্রাগ্রসর ও প্রেরণাদায়ী কার্যক্রমকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে অনুকরণীয় ও স্মরণীয়-বরণীয় করতে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ৩০ বর্ষ উপলক্ষে তাঁকে অতল শ্রদ্ধা ও অসীম ভালোবাসায় লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শীর্ষ সমাজসেবী সম্মাননা জ্ঞাপন করছি। সেইসাথে তাঁর সুখ-সুস্বাস্থ্য ও অনন্ত সৃষ্টিশীল দীর্ঘজীবন কামনা করছি।