Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

দেশপ্রেমী ও জনদরদি শিল্পপতি সহজ-সরল ও উদার মানবিকতায় পরিপূর্ণ শিক্ষানুরাগী ও কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব মরহুম ইব্রাহিম মিয়া

লক্ষ্মীপুর এক রতœগর্ভা অঞ্চল, জন্ম দিয়েছে অনেক কৃতী সন্তান; যাঁরা শিক্ষা- সাহিত্য- সংস্কৃতি- রাজনীতি- সমাজসেবা, ব্যবসা- বাণিজ্য এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বহুক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এমনই এক প্রতিভাদীপ্ত ব্যক্তিত্ব মরহুম ইব্রাহিম মিয়া, যিনি জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়ে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
ইব্রাহিম মিয়া মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েন; কর্মজীবনের শুরুতে কোলকাতায় চাকরি করেন বেশ ক’বছর। এরপর মাতৃভূমির টানে দেশে এসে ব্যবসা শুরু করেন এবং প্রভূত সাফল্যলাভ করেন, পরিচিতি পান মানবদরদি, দেশপ্রেমী শিল্পপতি হিসেবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে সাফল্যের বরমাল্যে ভূষিত হলেও ইব্রাহিম মিয়া বহু কল্যাণকর্মে সম্পৃক্ত থেকে উদার সহযোগিতায় ছিলেন অগ্রগামী।
ইব্রাহিম মিয়া ছিলেন অত্যন্ত শিক্ষানুরাগী। তিনি এলাকায় ইব্রাহিম মিয়া প্রাইমারি বিদ্যালয়, ইব্রাহিম মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, হাছানিয়া-ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, চন্দ্রগঞ্জে ইব্রাহিম মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, সেখানে তাঁর নামে একটি ছাত্র-হোস্টেল তৈরি করে দেন। এছাড়া তিনি গরিব লোকদের নানাভাবে সহায়তা দিতেন; চিকিৎসার জন্য অর্থ-সাহায্য দিতেন। মানুষকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তথা নিয়মিত রোজগারের ব্যবস্থা করে দেয়াকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিতেন। তিনি দি সিটি ব্যাংক লিঃ ও মেঘনা জেনারেল ইন্স্যুরেন্স লিঃ প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিভিন্ন মেয়াদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে এলাকার বিপুল সংখ্যক বেকার যুবককে এসব সেক্টরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে বহু পরিবারের আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধিতে সক্রিয় অবদান রেখেছেন। এছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিল্প-কারখানায় এলাকার লোকদের চাকরির ক্ষেত্রে সবসময়ই অগ্রাধিকার দিতেন।
দেশপ্রেমী ও রাজনীতি-সচেতন ইব্রাহিম মিয়া বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের লোক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু নোয়াখালীতে গেলে তাঁর জন্য নিজের ব্যবহৃত গাড়িটি ছেড়ে দিতেন মরহুম ইব্রাহিম মিয়া। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিবাহিনীকে অর্থ-সহায়তাসহ নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন।
জীবনযুদ্ধে জয়ী, জনদরদি ও কল্যাণকামী এ শিল্পপতি ১৯৯৭ সালে পরলোকগমন করলেও তাঁর কর্ম আজও ভাস্বর-দেদীপ্যমান। মরহুম ইব্রাহিম মিয়ার সেই প্রাগ্রসর ও প্রেরণাদায়ী কার্যক্রমকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে অনুকরণীয় ও স্মরণীয়-বরণীয় করতে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ৩০ বর্ষ উপলক্ষে তাঁকে অতল শ্রদ্ধা ও অসীম ভালোবাসায় লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শীর্ষ সমাজসেবী সম্মাননা (মরণোত্তর) জ্ঞাপন করছি। সেইসাথে তাঁর আত্মার মাগফিরাত ও অপার শান্তি কামনা করছি।