Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যশস্বী ক্রীড়া সংগঠক, প্রগতিশীল রাজনীতিক, উদারপ্রাণ সমাজসেবী, বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়া সংগঠক, বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী, উদারপ্রাণ সমাজসেবী ও রাজনীতিক, শিক্ষানুরাগী ও কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব জনাব হারুনুর রশীদ; জনসেবা, কল্যাণ-রাজনীতি ও ক্রীড়া সংগঠন পরিচালনা যার অন্যতম শখ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে সুপরিচিত জনাব হারুনুর রশীদ লক্ষ্মীপুরেরও এক গর্বিত নাম।
জনাব হারুনুর রশীদ ১৯৪৭ সালের ৭ মে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরপাতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মজিবুল হক একনাগাড়ে ৩২ বছর রায়পুর ৫নং ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। সমাজসেবক, জনদরদী ও জনপ্রিয় মজিবুল হকও বহু প্রাইমারি, হাইস্কুল এবং মাদ্রাসা ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন। জনাব হারুনুর রশীদের মাতা মরহুমা মোবাশ্বেরা বেগম বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ইসলাম প্রচারক রায়পুরের কেরোয়া নিবাসী বুড়া হজরত পীর ফয়জুল্লাহ (রাঃ) এর বংশধর। জনাব হারুনুর রশীদের স্ত্রী মিসেস জেবুন্নেছা হারুন একজন সুগৃহিণী ও ব্যবসায়ী; তিনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হারুনুর রশীদের দু’কন্যা রাসনাত রশীদ (প্রেমা) ও নারমানা রশীদ (প্রমি)।
জনাব হারুনুর রশীদ ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬০ সালে রায়পুর মার্চেন্টস্ একাডেমীর ছাত্র থাকাকালীন তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এরপর ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত জগন্নাথ কলেজে এবং ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ছাত্র-নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১৯৬৫ ও ১৯৬৮ সালে ছাত্র আন্দোলনের কারণে দু’বার কারাবরণ করায় ঐ দু’বছর বার্ষিক পরীক্ষা দিতে ব্যর্থ হন। ১৯৬২ এর শিক্ষা-আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও অসহযোগ আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা ও নেতৃত্ব প্রদান এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগী যোদ্ধা হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সাল থেকে অদ্যাবধি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানেও দলীয় রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন এবং যথাক্রমে রায়পুর উপজেলা ও লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
ক্রীড়ামোদী মহলে বিপুল জনপ্রিয় হারুনুর রশীদ ১৯৬৪ সালে ঢাকাস্থ ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় বর্তমান ‘আবাহনী মাঠ’ এর স্থলে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান সরকার আবাসিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিলে তিনি প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। তাঁর অসীম সাহস ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ন্যায্য দাবি মানতে বাধ্য হয় এবং ১৯৬৬ সালে আবাহনী মাঠ প্রতিষ্ঠালাভ করে। মাঠের আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে তিনি ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আবাহনী সমাজ কল্যাণ সমিতি, যা ১৯৭২ সালে মরহুম শেখ কামালের প্রস্তাব অনুযায়ী আবাহনী ক্রীড়া চক্র নামকরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হারুনুর রশীদ বিভিন্ন মেয়াদে এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি, পরিচালক এর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
নন্দিত ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশীদ ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকসহ বর্তমানেও বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি, ঢাকা মহানগরী স্পোর্টস এসোসিয়েশনের সদস্য, প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ এর সম্পাদক ও সদস্য, এশিয়া যুব ফুটবল টুর্ণামেন্টের সম্পাদক ও সদস্য, আগাখান গোল্ড কাপ এর সম্পাদক, ফিফা-কোকাকোলা বিশ্ব যুব ফুটবল একাডেমীর সম্পাদকসহ বহু সংগঠনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও তিনি বহু সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, ঢাকা মহানগর লীগ কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার কমিটির সদস্য, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সদস্য প্রভৃতি।
ক্রীড়াঙ্গনের প্রজ্জ্বোল ব্যক্তিত্ব জনাব হারুনুর রশীদ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য, এএফসি সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান, এএফসি’র এশিয়া কাপ সাংগঠনিক কমিটির সদস্য, ফিফা’র মিডিয়া কমিটির সদস্য, বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় মিডিয়া কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হারুনুর রশীদ জাতীয় দলের দলনেতা ও আবাহনী দলের দলনেতা হিসেবে বহু দেশে ফুটবল প্রতিযোগতিায় অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও তিনি বহু দেশ সফর করেন। শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় পুরস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
ক্রীড়াঙ্গনের প্রিয়মুখ জনাব হারুনুর রশীদ ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বহু সামাজিক প্রতিষ্ঠানেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ধানমন্ডি ক্লাবের সাবেক সভাপতি, লক্ষ্মীপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আজীবন সদস্য, রায়পুর থানা জনকল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা, লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতি ও বৃহত্তর নোয়াখালী ছাত্র-কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা বোট ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনে গুরুদায়িত্ব পালন করে সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।