Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

লক্ষ্মীজেলার শীর্ষ ৩০ সমাজসেবী পুরস্কার ও সম্মাননা ২য় পর্ব

২০ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর বার্তা কার্যালয়স্থ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় লক্ষ্মীপুর জেলার শীর্ষ সমাজসেবীগণকে সম্মাননা জ্ঞাপনের ২য় পর্ব। লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার ৩০ বর্ষ উপলক্ষে লক্ষ্মীজেলার শীর্ষ ৩০ সমাজসেবীকে পুরস্কার ও সম্মাননা জ্ঞাপন এবং জেলার ৩০ সূর্য-সন্তানকে অভিবাদন জ্ঞাপন অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন। জন্মস্থানের সেবা ও কল্যাণ-চিন্তায় তথা নিজ জেলার উন্নয়নে সবাইকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতে, পৈত্রিক ভিটামাটির প্রতি আগামীর প্রজন্মকে আগ্রহী ও মনোযোগী করতে এরূপ সম্মাননা জ্ঞাপন, পুরস্কার অর্পণ, সংগীতানুষ্ঠান ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন।
সম্মাননা জ্ঞাপনের ১ম পর্ব আয়োজিত হয় গত ১৮ নভেম্বর এবং ৩য় পর্ব আয়োজিত হবে আগামী ২৮ এপ্রিল। ২য় পর্বে ২০ জানুয়ারি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী, বিশ্ববরেণ্য গণিতবিদ ও অর্থনীতিবিদ, টরোন্টো ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস প্রফেসর ড. ওয়াহিদুল হক; গেস্ট অব অনার ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন এর মহাসচিব প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খ্যাতিমান শিক্ষাদ্যোক্তা ও সমাজসেবী, ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন এর মহাসচিব এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল।
২০ জানুয়ারি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা লাভকারী ব্যক্তিত্বগণ হলেন লক্ষ্মীপুরের শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ, সততা ও নীতিনিষ্ঠায় প্রোজ্জ্বল, দেশপ্রেমী ও কল্যাণব্রতী, দুদক’র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান; জন্মস্থানের সেবা ও কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ, আধুনিক ধ্যান-ধারণার শিক্ষাদ্যোক্তা, সাহিত্য-সাংবাদিকতা-ক্রীড়া ও সংস্কৃতির একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, মানবতাবাদী, উদারপ্রাণ শিল্পপতি সৈয়দ বদরুল আলম; জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যশস্বী ক্রীড়া সংগঠক, প্রগতিশীল রাজনীতিক, উদারপ্রাণ সমাজসেবী, বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী ব্যক্তিত্ব, সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ; লক্ষ্মীপুরের শিক্ষা-সংস্কৃতিতে নতুন ধারার প্রবর্তক, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণসহ লক্ষ্মীপুরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান সৃষ্টিকারী চৌকস ও স্মার্ট সচিব মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ; ত্যাগী-নিষ্ঠাবান-মানবপ্রেমী রাজনীতিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ও তুখোড় ছাত্রনেতা, সততা ও নীতি-আদর্শে প্রোজ্জ্বল মোহাম্মদ নোমান এমপি; উদারপ্রাণ সমাজসেবী, কল্যাণকামী শিল্পপতি, এলাকাপ্রেমী ও দুস্থ-অসহায়দের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ, রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার মোহাঃ মোহাব্বত উল্যাহ; বিদ্যোৎসাহী-সমাজসেবী ও আধুনিক ধ্যান-ধারণার মূর্ত প্রতীক, বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী ও কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মুকতাদির বেলাল।
তাছাড়া এ অনুষ্ঠানে ২ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। তাঁরা হলেন শিক্ষা ও গবেষণায় যশস্বী ব্যক্তিত্ব, খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের নিউমারি প্রফেসর মরহুম ড. মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ; মানবিকতায় পরিপূর্ণ, পরোপকারী- কল্যাণকামী, সহজ-সরল ও স্পষ্টবাদী ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব সরকারের সাবেক উপ-সচিব মরহুম মোঃ সফিক উল্যাহ।
তাছাড়া দেশপ্রেমী ও জনদরদি শিল্পপতি, সহজ-সরল ও উদার মানবিকতায় পরিপূর্ণ, শিক্ষানুরাগী ও কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব মরহুম ইব্রাহিম মিয়াকেও মরণোত্তর সম্মাননা অর্পণের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু তাঁর পক্ষে সম্মাননাপত্র গ্রহণের জন্য তাঁর জেষ্ঠপুত্র এম এ হাসেমকে নিমন্ত্রণ করা হয়। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত হননি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম প্রফেসর নূরুল ইসলাম, সরকারের যুগ্মসচিব আবুল কালাম আজাদ, এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক এম সামছুল আমিন, বুয়েট’র প্রফেসর ড. মাশফিকুস সালেহীন, ভাইরোলজিতে পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত ও পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা ফেলো ডাঃ এএসএম আলমগীর হোসেন কাঞ্চন, লালবাগ মডেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম ফিরোজ, সরকারের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালক ও বিআইডিএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি মোশারেফ হোসেন চৌধুরী, রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম, ওয়ার্ল্ড-ওয়াইড ফ্যামেলিলাভ মুভমেন্ট এর চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কনসালটেন্ট খন্দকার নাজির আহমেদ, এডভোকেট এম এন জামান, এডভোকেট রেজাউল করিম নিজাম, কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা ও ছড়াকার মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন শিশু-কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আনতারা রাইসা এবং উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্র, স্কাউট লিডার ও শিশু-কলামিস্ট মাহীর হেলাল।
অনুষ্ঠানমালার বিভিন্ন পর্বে ছিল সম্মিলন ও আপ্যায়ন পর্ব (স্যুপ-স্ন্যাকস-ব্রেড), সংবর্ধিতগণকে একে একে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার অর্পণ, আলোচনাপর্ব ও আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে রিফ্রেশমেন্ট (ফ্রেঞ্চ ড্রেসিং সালাদ, কাবলি), সুরের অনুরণনে অতিথিবরণ (সংগীতসন্ধ্যা), র্যাফেল ড্র এবং লাকিপার্সন অব দি ইভেন্ট নির্বাচন ও পুরস্কার বিতরণ, সবশেষে নৈশভোজ (চিকেন বিরিয়ানি, দই-শসা সালাদ, সুইট এন্ড ন্যাচারাল ইয়োগাট ও পুডিং)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বৃহত্তর নোয়াখালীর উপর লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সদ্য প্রযোজিত থিম সং পরিবেশিত হয় এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে দেখানো হয় লক্ষ্মীজেলা ও লক্ষ্মীপুর বার্তা’র উপর নির্মিত খসড়া ডক্যুমেন্টারি, যার চূড়ান্তরূপ শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে। এরপর শুরু হয় সম্মাননা জ্ঞাপন ও পুরস্কার অর্পণ পর্ব। প্রথমে সম্মাননা লাভকারীগণের জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত আলাদা আলাদা ভিডিও ডক্যুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়; পরে তাঁরা একে একে মঞ্চে এসে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী গ্রহণ করেন। তাঁদেরকে সম্মাননাপত্র অর্পণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রফেসর ড. ওয়াহিদুল হক; ক্রেস্ট অর্পণ করেন অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল; উপহার হিসেবে ক্যাম্পাস জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত সৃজনশীল ও আত্ম-উন্নয়নমূলক ১৭টি বইয়ের সেট অর্পণ করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া এবং ক্যাম্পাস’র মডেল ও সিডি সেট অর্পণ করেন এলবিএফ’র মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল।
মরণোত্তর ২ জনের পক্ষে সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন তাঁদের পরিবারের সদস্যগণ। মরহুম প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ এর পক্ষে সম্মাননাপত্র যৌথভাবে গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী বেগম সালেহা খাতুন এবং সুযোগ্য পুত্র প্রফেসর ড. মাশফিকুস সালেহীন; মরহুম মোঃ সফিক উল্যাহ এর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র, ভাইরোলজিতে পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত এবং পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা ফেলো ডাঃ এএসএম আলমগীর হোসেন কাঞ্চন।
এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির হাতে সম্মাননা-ক্রেস্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রবীণ ব্যক্তিত্বগণ; তাঁকে উপহার হিসেবে ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত ১৭টি বইয়ের সেট অর্পণ করেন ’৮০ এবং ’৯০ এর দশকে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র নির্বাহী সম্পাদক, পরবর্তীতে এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক সামছুল আমিন। গেস্ট অব অনার এর হাতে সম্মাননা-ক্রেস্ট তুলে দেন প্রফেসর ড. ওয়াহিদুল হক; তাঁকে উপহার হিসেবে ক্যাম্পাস’র জ্ঞানমেলা সিরিজে প্রকাশিত ১৭টি বইয়ের সেট অর্পণ করেন লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রকাশনা শুরুর সময়ের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী এবং তেজস্বী কলামিস্ট এডভোকেট এম এন জামান।
সম্মাননা ও উপহার সামগ্রী অর্পণের পর শুরু হয় বক্তৃতা পর্ব। সকল বক্তাই লক্ষ্মীপুর বার্তা’র এরূপ ব্যতিক্রমী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের অনেকেই বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্যদের সম্মাননা দিয়ে জন্ম-এলাকার প্রতি সেবার মনোভাব বাড়াতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করছে। এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে নিবেদিত লক্ষ্মীপুর বার্তা’র নানামুখী কল্যাণকর কর্মসূচির প্রশংসা করেন তাঁরা; জন্ম-এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র বিভিন্ন কর্মসূচির সাথে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেন এবং এরূপ কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য দেশপ্রেমী ও উদারপ্রাণ সমাজদরদি ব্যক্তিত্বগণের প্রতিও আহ্বান জানান।
আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় মনোমুগ্ধকর ও জমজমাট সঙ্গীতসন্ধ্যা। এ পর্ব পরিচালনা করেন অর্থনীতিবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. নাজনীন আহমেদ; সাথে ছিলেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী মেহেদী হাসান। ড. নাজনীন গেয়ে শোনান শোন শোন কথাটি শোন, বাঁশি শুনে আর কাজ নেই, একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে প্রভৃতি জনপ্রিয় গান। মেহেদী হাসান শোনান যুগে যুগে আমি তোমারই, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম ইত্যাদি শ্রোতাপ্রিয় গান। মুহুর্মুহু সঙ্গীতের মূর্ছনায় আবিষ্ট হয়ে উপস্থিতগণ নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।
নৈশভোজের পর অনুষ্ঠিত হয় র্যাফেল ড্র। এতে ১ম পুরস্কার লাভ করেন অনুষ্ঠানের সম্মাননা গ্রহণকারী রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার মোহাব্বত উল্যাহ; ২য় পুরস্কার লাভ করেন এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক সামছুল আমিন। এভাবে শীর্ষ ৩০ সমাজসেবী সম্মাননার ২য় পর্ব শেষ হয় আবেগ-উচ্ছ্বাসে ভরা বক্তৃতা, সুর-ছন্দময় গান, স্বাদে-গন্ধে বিভিন্ন খাবার উপভোগ, উপহার ও পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে। উপস্থিতদের বক্তৃতা ও কথামালা পর্বের অংশবিশেষ নিম্নে তুলে ধরা হলো।
সাবেক অর্থমন্ত্রী এমিরিটাস প্রফেসর ড. ওয়াহিদুল হক বলেন
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সাবেক অর্থমন্ত্রী, বিশ্ববরেণ্য গণিতবিদ ও অর্থনীতিবিদ, টরোন্টো ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস প্রফেসর ড. ওয়াহিদুল হক বলেন লক্ষ্মীপুরের কথা উঠলে ছোটবেলাকার স্মৃতি মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, যুদ্ধের সময় দেশে থাকাটা নিরাপদ মনে হয়নি। বর্তমান এমপি শাহজাহান কামাল একাত্তরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অফিসারের হাতে আমাকে তুলে দেন। আগরতলা থেকে কোলকাতা গিয়ে নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেনের সহযোগিতায় কানাডা যেতে সক্ষম হই। এরপর শিক্ষকতা কাজে আত্মনিয়োগ করি। তিনি বলেন গণিত আমার প্রিয়, আমি গণিত পাঠ করি, তৈরি করি। কারণ গণিত ছাড়া উন্নয়ন চিন্তা ও পরিকল্পনা অসম্ভব। ড. ওয়াহিদুল হক বলেন ড. এম হেলাল আমার অত্যন্ত প্রিয়। তাঁর নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রকাশনা এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন গতিশীল হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের শীর্ষ সমাজসেবীগণকে সম্মাননা দিয়ে বর্তমান ও আগামীর প্রজন্মকে জন্ম-এলাকার প্রতি আগ্রহী ও উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ড. হেলালকে ধন্যবাদ জানাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল
অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন এর মহাসচিব, শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ, তারুণ্যদীপ্ত, ছাত্রবৎসল ও ডায়নামিক শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন ড. হেলাল সেই ’৮০ এর দশক থেকেই লক্ষ্মীপুরের মানুষকে একত্রিত করেছেন; বর্তমানেও লক্ষ্মীপুরের সমাজসেবীগণকে সম্মাননা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে এলাকার উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাই ড. হেলালকে এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। ড. মাকসুদ কামাল বলেন লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে, নৈতিক শিক্ষার প্রচলন করতে হবে। সবচেয়ে শক্ত মানুষ তিনি, যিনি সবচেয়ে বিনয়ী। শিক্ষাই মানুষকে বিনয়ী ও নমনীয় হবার শিক্ষা দেয়। তাই জন্ম-এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে লক্ষ্মীপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বগণকে এগিয়ে আসতে হবে। ড. কামাল বলেন লক্ষ্মীপুরে রেললাইন হবে, স্পেশাল ইকোনোমিক জোন হবে চীনের সহযোগিতায়; সে লক্ষ্যেই আমরা যার যার অবস্থান থেকে কাজ করছি এবং করব। এরফলে লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া
ত্যাগী সমাজসেবী, শিক্ষার একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, উদারপ্রাণ শিক্ষাদ্যোক্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিল্প-বাণিজ্যের পুরোধা, লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির ডায়নামিক সভাপতি, ট্যাক্স-ভিআইপি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন ড. এম হেলাল লক্ষ্মীপুরের শীর্ষ সমাজসেবীগণকে সম্মাননা দিয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, আজকের সংবর্ধনা থেকে পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারবে কী কী গুণ ও কর্মের জন্য তাদের পূর্বসূরিরা সম্মাননা পেয়েছেন, যা তাদেরকেও উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করবে জন্মস্থানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে। ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন জন্ম-এলাকার জন্য কিছু করতে হলে এলাকায় যেতে হবে, এলাকার মানুষের চিন্তাধারা বুঝতে হবে, জানতে হবে প্রকৃত অবস্থা। বাস্তব অবস্থাকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে সমস্যার সহজ সমাধান হচ্ছে না। এজন্য গ্রামের সাথে আমাদের সবার যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ খালেদ মোহাম্মদ আলী
সাবেক এমপি, প্রগতিশীল রাজনীতিক, ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের অগ্রসেনানী খালেদ মোহাম্মদ আলী বলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. ওয়াহিদুল হক যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন, তখন আমি স্কুলের ছাত্র। তিনি আমাদের বাড়িতে যেতেন। ১৯৫৬ সালে তিনি আমাকে দাবা খেলা শিখিয়েছিলেন। এতদিন পরেও তাঁর হাসিখুশি, প্রাণবন্ত মনোভাব দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। জন্মস্থানের উন্নয়ন ও কল্যাণ-চিন্তায় নিয়মিতভাবে এরূপ মহতী আয়োজনের জন্য ড. হেলাল এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম
বিশিষ্ট সমাজসেবী, লক্ষ্মীপুর বার্তা’র অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ফজলুল করিম বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন নিজ জন্ম-এলাকার জন্য আমরা প্রত্যেকে যদি কিছু করতে পারি, তাহলে আমাদের জন্মস্থান লক্ষ্মীপুর হবে দেশের সেরা অঞ্চল, সুখী-সমৃদ্ধিশালী; দেশগড়ার কর্মযজ্ঞে আমাদের লক্ষ্মীপুর হবে একটি মডেল।
বিশ্বব্যাংক কনসালটেন্ট তাজকেরা খায়ের
বিশ্ব পারিবারিক ভালোবাসা আন্দোলনের চেয়ারপার্সন তাজকেরা খায়ের বলেন, সমাজ উন্নয়নের চেতনা তৈরিতে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ড. হেলাল লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ব্যানারে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন ছাড়াও ক্যাম্পাস’র ব্যানারে জাতীয় পর্যায়ে গণজাগরণমূলক বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এলাকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে বৃহত্তর নোয়াখালীর স্পিরিট বজায় রাখতে হবে। আমাদের সংগঠন পারিবারিক শিক্ষা ও ভালোবাসার আন্দোলন করে। বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের কর্মীরা কাজ করছে। পারিবারিক ভালোবাসার ওহঃবমৎধঃরড়হ এর দিক থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী এগিয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।
অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ
অর্থনীতিবিদ, সরকারের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পরিচালক, লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের অনারারি রিসার্চ ডিরেক্টর ড. নাজনীন আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন লক্ষ্মীপুরের শীর্ষ সমাজসেবীগণকে সম্মাননা জ্ঞাপন করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গৌরবান্বিত। তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। নোয়াখালীর মানুষের প্রতি তাঁদের দরদ, জন্মস্থানের প্রতি ভালোবাসা, নিজ এলাকার উন্নয়নে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা ইত্যাকার গুণের জন্য ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তারা অনুকরণীয়-অনুসরণীয় হয়ে থাকবেন। ড. নাজনীন বলেন লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকা, লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকা এবং ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার একই ছাদের নীচে অবস্থান করে হাতে হাত ধরে সমাজ উন্নয়ন, যুবউন্নয়ন ও দেশোন্নয়নে কাজ করছে। এ কল্যাণ-কর্মসূচিকে আরো প্রসারিত করতে উত্তরায় ১ বিঘা জমির উপর ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার নির্মাণ করা হবে, যেখানে চিত্তশালী-বিত্তশালী সমাজহিতৈষী মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি উপস্থিত সুধীমন্ডলীকে লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন এর অভিভাবক-পৃষ্ঠপোষক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে নিজ জন্ম-এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
এনএসআই এর অতিঃ পরিচালক এম সামছুল আমিন
লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রকশানার শুরুতে নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী, বর্তমানে এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক এম সামছুল আমিন বলেন, লক্ষ্মীপুর বার্তা’র অনুষ্ঠানে আসলে আমি আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। আমি লক্ষ্মীপুর বার্তা’র শুরুর দিনগুলোতে এ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলাম। পরবর্তীতে নিজের ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সার্বক্ষণিক থাকার সুযোগ হয়নি। ড. এম হেলাল অসীম ধৈর্যের অধিকারী বলে এতদূর আসতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে আজ লক্ষ্মীপুর বার্তা সগৌরবে নিজ পরিচয় দিতে পারে। লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তানদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে লক্ষ্মীপুর বার্তা এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের দায়িত্ব হলো ড. হেলালের নেতৃত্বে পরিচালিত দেশ-উন্নয়নের মহাকর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নিতে তাঁকে সহযোগিতা করা। তাই আমি সবাইকে লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশনের অভিভাবক-পৃষ্ঠপোষক সদস্য হওয়ার আহ্বান জানাই।
এডভোকেট এম এন জামান
লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রকাশনার শুরুর সময়ে সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী, সমাজসেবী ও কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব এডভোকেট এম এন জামান বলেন এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব এ কনসেপ্টে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র যাত্রা শুরু। লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার শুরুর সময়ে আমিও জড়িত ছিলাম। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে আর একনিষ্ঠভাবে থাকার সুযোগ হয়নি। ড. এম হেলাল সেই থেকে অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে এ প্রতিষ্ঠানকে এতদূর নিয়ে এসেছেন। ড. হেলালের কৃতিত্ব যে, তিনি লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ৩০ বর্ষে লক্ষ্মীপুরের শীর্ষ সমাজসেবীগণকে একই প্ল্যাটফরমে সমবেত করেছেন। এডভোকেট জামান বলেন ড. এম হেলালের নেতৃত্বে পরিচালিত দেশউন্নয়ন ও জাতিজাগরণমূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে ঢাকার বুকে স্টাডি সেন্টার তৈরির যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাতে নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতা করা আমাদের একান্ত কর্তব্য।
লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সম্পাদক ড. এম হেলাল
অনুষ্ঠানের সভাপতি, লক্ষ্মীপুর বার্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা ফাউন্ডেশন ও ক্যাম্পাস সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর মহাসচিব ড. এম হেলাল বলেন যাঁরা সম্মাননা পেয়েছেন, তাঁরা সবাই নিজ নিজ অঙ্গনে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, জন্ম-এলাকার উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ। সরকারের চৌকস ও স্মার্ট সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ সরকারি দায়িত্বরত অবস্থায়ও নিয়ম-নীতির মধ্যে থেকে জন্ম-এলাকার সহযোগিতায় সর্বদা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। লক্ষ্মীপুরে মহাপ্লাবনের সময় দুস্থদের সাহায্যের জন্য সৈয়দ বদরুল আলমের কাছে গেলে তিনি তাঁর ফ্যাক্টরির দরজা খুলে দিয়ে বলেন, তোমাদের যত কাপড় লাগে নিয়ে যাও। ড. হেলাল বলেন, আমাদের উচিত নতুন প্রজন্মের দিকে খেয়াল দেয়া; তাদেরকে এলাকার উন্নয়নকর্মে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করা। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমাজসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুদায়িত্বসহ বহুক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তানদের অবদান অনস্বীকার্য। লক্ষ্মীপুরের এসব সূর্য-সন্তান স্বীয় মেধা-প্রতিভা ও কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে যেমনি নিজে মহান হয়েছেন, তেমনি লক্ষ্মীপুরসহ সমগ্র জাতিকেই করেছেন মহিমান্বিত। এরূপ সূর্য-সন্তানদের প্রাগ্রসর ও প্রেরণাদায়ী কার্যক্রমকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে অনুকরণীয় ও স্মরণীয়-বরণীয় করতে আমাদের এ আয়োজন। যাতে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম পূর্বসূরীদের কৃতকর্ম টিকিয়ে রাখতে পারে, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে। ড. হেলাল বলেন, শীর্ষ ৩০ সমাজসেবী সম্মাননা অনুষ্ঠান ছাড়াও ২০১৭ সালে লক্ষ্মীপুর বার্তা আয়োজন করতে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর জেলার ৩০ সূর্য-সন্তানকে অভিবাদন জ্ঞাপন সম্মেলন। যাঁদের মধ্যে থাকছেন লক্ষ্মীপুর জেলার ২ প্রধান বিচারপতি, লেঃ জেনারেল, মেজর জেনারেল, পুলিশের সাবেক আইজি, জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ রাজনীতিবিদ- শিল্পপতি- সাহিত্যিক- বুদ্ধিজীবী- শিক্ষাবিদ, ভাইস-চ্যান্সেলর প্রভৃতি। এতে প্রধান অতিথি এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় স্পিকারকে নিমন্ত্রণ জানানো হবে।
সম্মাননা গ্রহণকারীগণের প্রতিক্রিয়া
দুদক’র সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বদিউজ্জামান
লক্ষ্মীপুরের শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ, সততা ও নীতিনিষ্ঠায় প্রোজ্জ্বল, দুদক’র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান বলেন নিজ জন্ম-এলাকার উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে। বড় কাজের মাধ্যমে না হলেও ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। এতে এলাকার মানুষের কল্যাণ হবে, জন্ম-এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে। তিনি বলেন ড. এম হেলাল যে উদ্যোগ নেয়, তা ব্যর্থ হয় না। তাই তার নতুন উদ্যোগ ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার একদিন অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে, হেলাল এটি করেই ছাড়বে। তার এ কল্যাণ-উদ্যোগকে সফল করতে আমাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
শিল্পপতি সৈয়দ বদরুল আলম
আধুনিক ধ্যান-ধারণার শিক্ষাদ্যোক্তা, সাহিত্য- সাংবাদিকতা- ক্রীড়া ও সংস্কৃতির একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, মানবতাবাদী, উদারপ্রাণ শিল্পপতি সৈয়দ বদরুল আলম বলেন দেশের জন্য কিছু করাকে আমি ফরজ বলে মনে করি, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজসেবায় সম্পৃক্ত হয়েছি। আমি মনে করি জাতির জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিক্ষা, সে শিক্ষা হবে সুশিক্ষা, জাতি গঠনে যা অপরিহার্য। আমি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েছি; লক্ষ্মীপুরের শিল্পপতি-ব্যবসায়ী বন্ধুদেরও আহ্বান করব নিজ নিজ এলাকায় দু’একটি শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র ৩০ বর্ষ উপলক্ষে আমাকে সম্মাননা দেয়ার জন্য ড. এম হেলালকে এবং লক্ষ্মীপুর বার্তা পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি লক্ষ্মীপুর বার্তা’র শুরু থেকে এর সাথে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও এ পত্রিকার উন্নয়নে আমার সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত থাকবে।
সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যশস্বী ক্রীড়া সংগঠক, প্রগতিশীল রাজনীতিক, উদারপ্রাণ সমাজসেবী, বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী ব্যক্তিত্ব, সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ বলেন ড. হেলাল গত ৩০ বছর ধরে নিরলস কাজ করে লক্ষ্মীপুর বার্তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। তিনি লক্ষ্যাভিসারী এবং পরম ধৈর্যশীল বলেই এ অবস্থানে আসতে পেরেছেন। শীর্ষ সমাজসেবীগণকে সম্মাননা দিয়ে লক্ষ্মীপুর বার্তা এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন; তাই আমাদের উচিত লক্ষ্মীপুর বার্তাকে অধিক সহযোগিতা করা। তিনি বলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববরেণ্য গণিতবিদ ও অর্থনীতিবিদ, দেশগৌরব ড. ওয়াহিদুল হক অনুষ্ঠানে যোগদান করে একে উজ্জ্বল ও আলোকিত করেছেন।
সরকারের সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ
লক্ষ্মীপুরের শিক্ষা-সংস্কৃতিতে নতুন ধারার প্রবর্তক, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণসহ লক্ষ্মীপুরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান সৃষ্টিকারী চৌকস ও স্মার্ট সচিব মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন ড. হেলাল নিজেই এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। তার দৃঢ়চিত্ততা, প্রবল আত্মবিশ্বাস, পরম ধৈর্য তাকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে; যেখান থেকে তিনি সমাজকে কার্যকর কিছু দিতে পারছেন। ক্যাম্পাস স্টাডি সেন্টার এক বিরাট উদ্যোগ। আমি এর সাথে সম্পৃক্ত হব এবং অন্যদেরও সম্পৃক্ত হবার আহ্বান জানাব।
তিনি বলেন, আমাদের সম্মাননা দেয়া হয়েছে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র পক্ষ থেকে। সম্মাননা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। আমিও চাপ অনুভব করছি, এলাকার উন্নয়নে আরও সম্পৃক্ত হবার বিষয়ে। আমি সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন নানা সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে প্রত্যক্ষভাবে লক্ষ্মীপুরের জন্য তেমন কিছু করতে পারিনি। তবে এখন অবসরে আছি, তাই লক্ষ্মীপুরের জন্য প্রত্যক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, লক্ষ্মীপুরে রেললাইন স্থাপনের দাবি উঠেছে। চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হলে এ এলাকার শুধু উন্নয়ন নয়, বিপ্লব সাধিত হবে। মজুচৌধুরী হাটে নৌ-বন্দর স্থাপন করা হলে লক্ষ্মীপুরে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে, আসবে আর্থিক সমৃদ্ধি, সৃষ্টি হবে উন্নয়নের গতিবেগ। এভাবে ছোট ছোট কাজগুলো সম্পাদনের মাধ্যমে আমরা বৃহত্তর উন্নয়নের স্পর্শলাভ করতে পারি।
রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার মোহাব্বত উল্যাহ
উদারপ্রাণ সমাজসেবী, কল্যাণকামী শিল্পপতি, এলাকাপ্রেমী ও দুস্থ-অসহায়দের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ, রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার মোহাঃ মোহাব্বত উল্যাহ বলেন আমাদের কর্মক্ষেত্র অনেক বড়; সবকাজে যে সফল হয়েছি, তা নয়। কিন্তু আমরা ব্যর্থতাকে বড় করে দেখি না, সবসময় আমদের সামনে থাকে সাফল্যের চমক। জন্মস্থানকে ভালোবাসি বলেই লক্ষ্মীপুর বার্তাকে ভালোবাসি, এর কার্যক্রমের সাথে সর্বদাই যুক্ত থাকার চেষ্টা করি। আমাদের দান-অবদান সামান্য, তবে তাতে আন্তরিকতার মিশেল রয়েছে। তিনি বলেন লক্ষ্মীপুর একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল, লক্ষ্মীপুর বার্তা’রও রয়েছে প্রসারিত হবার প্রচুর সুযোগ। আমরা সুন্দর, সমৃদ্ধিশালী, দ্যুতিময় লক্ষ্মীপুর গড়ে তুলব এই হোক আমাদের আজকের শপথ।
ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মুকতাদির বেলাল
বিদ্যোৎসাহী-সমাজসেবী ও আধুনিক ধ্যান-ধারণার মূর্ত প্রতীক, বর্ণিল গুণাবলির কর্মযোগী ও কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মুকতাদির বেলাল বলেন ১৯৯২ সাল থেকে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সাথে আমার পরিচয়। তখন থেকেই দেখছি ড. এম হেলাল অসীম ধৈর্যের প্রতীক, যা তাঁকে লক্ষ্যাভিসারী করে তুলেছে। নতুন দিকদর্শন লাভ করে তিনি নতুন আন্দোলন গড়ে তুলে যুবশক্তিকে উজ্জীবিত করেছেন বিপুলভাবে। তাঁর এই যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য আমরা গর্বিত ও গৌরবান্বিত।
বুয়েট’র প্রফেসর ড. মাশফিকুস সালেহীন
প্রয়াত শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ এর সুযোগ্য পুত্র, বুয়েট’র প্রফেসর ড. মাশফিকুস সালেহীন পিতার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন আমার বাবাকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়ায় লক্ষ্মীপুর বার্তা পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমার বাবা মরহুম প্রফেসর হাবিবউল্লাহ ছিলেন একজন ঝবষভ সধফব সধহ. তিনি অনেক কৃতিত্বের অধিকারী; আমার মা-ও একজন বিদুষী নারী। তিনি আমাদের ভাই-বোনদের মানুষ করেছেন, সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। মানুষ গড়ার এ ধারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে পারলে ড. হাবিবউল্লাহর প্রতি প্রকৃত সম্মান জ্ঞাপন করা হবে। তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে বাবার মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে ভক্তদের কান্না দেখে আমি বুঝেছিলাম যে, তিনি কত জনপ্রিয় ছিলেন, গ্রহণযোগ্য ছিলেন। এ দৃশ্য দেখে তাঁর সন্তান হিসেবে আমাদের বুক গর্বে-গৌরবে ভরে উঠেছিল সেদিন।
প্রতিবেদনঃ মোহাম্মদ মোস্তফা ও মনিরুজ্জামান