Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগনের একুশ ভাবনা

১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে বাংলা ভাষাকে ঘিরে সৃষ্ট এ আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণদাবির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এ আন্দোলন চূড়ান্তরূপ ধারণ করলেও বস্তুত এর বীজ বপিত হয়েছিল বহু আগে, অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়া এবং ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তানের উদ্ভব হয়। কিন্তু পাকিস্তানের দু’টি অংশ পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে অনেক মৌলিক পার্থক্য বিরাজ করছিল। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানকারী বাংলাভাষী সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার হয় ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কার্যতঃ পূর্ব পাকিস্তান অংশের বাংলাভাষী মানুষ আকস্মিক ও অন্যায্য এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি। ফলস্বরূপ বাংলাভাষার সম-মর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন দ্রুত দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সমাবেশ-মিছিল বেআইনি ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮) এ আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল কিছু রাজনৈতিক কর্মী মিলে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে নিহত হন রফিক, সালাম, বরকতসহ আরও অনেকে। শহীদদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়ে ওঠে। শোকাবহ এ ঘটনার অভিঘাতে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলনের মুখে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার শেষাবধি নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং ১৯৫৬ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করে। মাতৃভাষার জন্য এমন আত্মত্যাগের ঘটনা বিশ্বে বিরল। বীর বাঙালি সেই বিরল ঘটনার জন্মদাতা। এই ঐতিহাসিক ঘটনাটির কথা জাতিসংঘের নজরে আসে। জাতিসংঘ বাংলার ভাষা শহীদদের চরম আত্মত্যাগের কথা জানতে পেরে এ ঘটনাকে বিশ্বে স্মৃতিময় করে তোলার উদ্যোগ নেয়। জাতিসংঘের অধিবেশনে ’৫২ এর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারাবিশ্বে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০০ সালে ইউনেস্কো বাংলাভাষা আন্দোলন, মানুষের ভাষা এবং কৃষ্টির অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিবছর গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপন করা হয়। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাভাষার মর্যাদা যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি বাংলাদেশকেও বিশ্বে গৌরবান্বিত করেছে।
২১শে ফেব্রুয়ারি পরম মর্যাদাপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হবে বাংলাদেশের সর্বত্র। বৃহত্তর নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলায়ও দিবসটি পালনের আয়োজন হচ্ছে। এ উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র বৃহত্তর নোয়াখালীর বার্তা সম্পাদক জাহাঙ্গীর লিটন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানগণের মতামত-অনুভূতি সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের মতামতের উল্লেখযোগ্য অংশ লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সহকারী সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফার অনুলিখনে এখানে সন্নিবেশিত হলো।
সারাবিশ্ব এখন ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে, এটি আমাদের জন্য গর্বের
এমরান হোসেন নান্নু
চেয়ারম্যান, উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে অনুভূতি ব্যক্ত করে উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমরান হোসেন নান্নু বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আর শুধু বাংলাদেশের নয়, স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এই বিশ্ব স্বীকৃতি আসে। সারাবিশ্ব এখন ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে, এটি আমাদের জন্য গর্বের।
আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির উপর একুশে ফেব্রুয়ারি কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে এমরান হোসেন নান্নু বলেন, মাতৃভাষার চর্চা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে প্রভাব বিস্তার করে। মাতৃভাষার সাথে শিক্ষার সরাসরি সংযোগ রয়েছে। মাতৃভাষা হিসেবে বাংলাভাষা মর্যাদা লাভের পর শিক্ষাক্ষেত্রে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে। মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি এবং ভাষা চর্চায় বাংলা ভাষাভাষীরা আন্তরিক হবার কারণে এক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে।
নিজ ইউনিয়নের সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে এমরান হোসেন বলেন, আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্টের বেহাল দশা ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা এগুলোর উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ব্যাপারে আমাদের সহায়তা করছেন। বিভিন্নক্ষেত্রে পরামর্শ দিচ্ছেন, টাকার বরাদ্দের ব্যবস্থা করছেন। এ ধরনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকলে উপজেলা, ইউনিয়ন সর্বত্রই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, প্রতিটি এলাকায় সুষম উন্নয়ন হবে।
এমরান হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নে বাল্যবিবাহ সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বয়স আঠারো বছর করে দেয়। এ প্রবণতা রোধ করার জন্য আমরা বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা অভিভাবকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তাদেরকে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করে তুলছি। উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আমরা সচেতন। বাজারগুলোর সংস্কার করছি; এতে ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা উভয়েরই সুবিধা হবে। ইউনিয়ন এলাকার মধ্যের রাস্তাগুলো জরাজীর্ণ, এগুলোর সংস্কার করেছি। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে উন্নয়নমূলক কাজে আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি।
নিজ ইউনিয়নের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে এমরান হোসেন বলেন আমাদের কাজের মাধ্যমে আমরা এ ইউনিয়নকে রোলমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবো সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সন্ত্রাস এবং মাদক প্রকট সমস্যা, এগুলো রোধ করতে আমরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলছি, যুব সমাজের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা চলছে। অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমাদের জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন ঠিকমতো করা হচ্ছে। ইউনিয়ন তথ্যসেবার কাজ সুষ্ঠুভাবে চলছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান এর কর্মমূল্যায়ন করে এমরান হোসেন বলেন, তাঁর গতিশীল পরিচালনায় আমার ইউনিয়নসহ সমগ্র উপজেলায় উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলার সব ইউনিয়নের জন্য তিনি বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছেন। ইউনিয়নের উন্নয়নে তাঁর নির্দেশনায় আমরা কর্মতৎপর রয়েছি।
একুশ বাঙালির অহংকারের অনুষঙ্গ একুশ বাঙালি জাতিকে দিয়েছে বিশ্ব পরিচিতি
মীর শাহআলম
চেয়ারম্যান, দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে অনুভূতি ব্যক্ত করে দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর শাহআলম বলেন, একুশ বাঙালির অহংকারের অনুষঙ্গ, একুশ বাঙালি জাতিকে দিয়েছে বিশ্ব পরিচিতি। আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে করেছে আলোকিত। একুশে ফেব্রুয়ারি জাতি জাগরণের আলোকবর্তিকা, ভাষা শহীদরা চিরঞ্জীব।
আপনার ইউনিয়নে বর্তমানে কী কী সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলোর সমাধানে আপনি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহআলম বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় বড় সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা এবং রাস্তার পাশে অবৈধভাবে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ। জলাবদ্ধতা কৃষি উৎপাদনে আমাদের অনেক সম্ভাবনা নষ্ট করে দিচ্ছে। রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করে রাস্তা সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে লোক চলাচল এবং যান চলাচল দু’টোতেই সমস্যা হচ্ছে, মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। অবশ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের হাত থেকে সরকারি সম্পদ উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে; বেশকিছু সম্পদ উদ্ধার হয়েছে, বাকি উদ্ধারকাজ কিছুদিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
নিজ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে মীর শাহআলম বলেন, ১৯৯২ সালে যে রাস্তাটি পাকা হয়েছিল, আজ পর্যন্ত সেটির সংস্কার হয়নি; নন্দনপুর-মাজার সড়কটিরও সংস্কার হয়নি। ২০০১ সালে যে রাস্তা নির্মিত হয়েছে, তার সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এলজিইডি যেসব রাস্তা করেছে, এতকাল পরেও সেসব কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের উদ্যোগ নেই। পাকা রাস্তার সংস্কার না হবার কারণে খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে পুরো রাস্তা জুড়ে। যানবাহন চলাচলে এতে সমস্যা হচ্ছে, পায়ে হেঁটে চলাও কষ্টকর। জরুরিভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাগুলো মেরামত করা প্রয়োজন।
আপনার ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে মীর শাহআলম বলেন, আমি যে বিষয়ের উপর জোর দিতে চাই, তা হলো আমাদের কেরোলিয়া এলাকায় খালের উপর ২টি ব্রিজ পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে, সেগুলো জরুরিভিত্তিতে সংস্কার করা।
ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে মীর শাহআলম বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এলজিইডি বিভাগের ক্ষমতা সীমিত। একটা প্রজেক্ট করেই তারা থেমে যান। তাদেরকে আরও বেশি করে ক্ষমতা প্রদান করা উচিত, পর্যাপ্ত তহবিল তাদের থাকতে হবে, যাতে করে এলাকার জরুরি কাজগুলো তারা তাৎক্ষণিক অনুমোদন ও বরাদ্দ দিতে পারে। ইউনিয়নে দিন দিন জনসংখ্যা বাড়ছে, নতুন নতুন জায়গা যোগ হচ্ছে এজন্য যথাযথসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের লোকজন বাড়ানো দরকার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের কর্মমূল্যায়ন প্রসঙ্গে মীর শাহআলম বলেন তিনি একজন সৎ, দায়িত্ববান এবং জনদরদি কর্মকর্তা। এ উপজেলায় যেসব উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে, সব তারই নির্দেশনায় চলছে। তিনি উপজেলার আনাচে-কানাচে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর রাখেন। জলাবদ্ধতা এ এলাকার বড় সমস্যা; নুরুজ্জামান সাহেব তা দূর করার বাস্তব ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমাদের এ এলাকা ইলিশ-প্রধান এলাকা। নুরুজ্জামান সাহেব আমাদেরকে নিয়ে রাতের আঁধারে জাটকা ইলিশ রক্ষা; মা-ইলিশ বাঁচানোর জন্য যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা ফলপ্রসূ হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁর উপর খুব খুশি। তারা চান নুরুজ্জামান সাহেব দীর্ঘদিন এ উপজেলার দায়িত্বে থাকুন।
মাতৃভাষা বাংলার প্রভাবে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে উজ্জীবন ঘটেছে
কামরুজ্জামান সোহেল
চেয়ারম্যান, দালালবাজার ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
২১শে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করে কামরুজ্জামান বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারির কথা যখন ওঠে, তখন এ ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য যারা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, তাদের কথা মনে পড়ে। তাদের রক্তদান বৃথা যায়নি। বাংলার ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে মাতৃভাষার মর্যাদা পেয়েছে। ভাষার জন্য প্রাণ দিতে পেরেছে একমাত্র বাঙালিই। এসব কারণে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদদের কথা সবার আগে মনে পড়ে। তিনি বলেন, মাতৃভাষা বাংলার প্রভাবে আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতিতে উজ্জীবন ঘটেছে।
ইউনিয়নের সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে কামরুজ্জামান বলেন, পানি ও বিদ্যুৎ এ দু’টি চাহিদা মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এগুলোর অনেক ঘাটতি আছে এবং তা যথাযথভাবে পূরণ হলে মানুষ অনেক সন্তুষ্ট থাকবে। আমরা শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এ ক’টি সমস্যার সমাধান হলে আমরা অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকব। আমাদের সময়ে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছি, যেটা আগে ব্যাহত হয়েছিল। আশা করি, এটি আরো উন্নত হবে। স্বাস্থ্যও একটি মৌলিক অধিকার, এ ব্যাপারেও আমরা সচেতন। কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ যেরকম সেবা পাওয়ার কথা, সেরকম সেবা তারা এখনও পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমাদেরকে আরও তৎপর হতে হবে।
আপনার ইউনিয়নে অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্টি অগ্রাধিকার পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে কামরুজ্জামান বলেন যোগাযোগ, বিশুদ্ধ খাবার পানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ; এ ৫টি বিষয়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা নজর দেব। আমার ইউনিয়নে মানুষ যাতে জুলুম-অত্যাচারের শিকার না হয়, সেদিকে যেমন দৃষ্টি থাকবে; তেমনি অত্যাচারিত হয়ে কেউ যেন ন্যায়বিচার বঞ্চিত না হয় সেদিকেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে। এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা অনেক হ্রাস পাবে, মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। আরেকটি সমস্যা হলো, মাদক; মাদকের নীল ছোবলে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছে। মাদকের উৎস এবং পাচারের সহজ রুট চিহ্নিত করে মাদক-ব্যবসায়ী, পাচারকারীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে চুরি-ডাকাতি, নারী নির্যাতন, পারিবারিক অশান্তি অনেকটা দূর হয়ে যাবে।
ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন-পরিকল্পনা ব্যক্ত করে কামরুজ্জামান বলেন, প্রকৃতপক্ষে মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর পর অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে যখন দৃষ্টি দেয়া হবে, তখনই আসবে সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্ন। মৌলিক চাহিদা মেটানোর সাথে অবকাঠামো উন্নয়ন হতে থাকলে জনমনে স্বস্তি আসবে, শান্তি আসবে।যেসকল কাজ এখনও চলছে, বা শুরু হয়নি; সেগুলো সম্পন্ন করতে পারলে আমি স্বস্তিবোধ করব।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ইউএনও নুরুজ্জামানের কর্মমূল্যায়ন সম্পর্কে কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান সাহেব একজন দূরদর্শী মানুষ, উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি খুব আগ্রহশীল। তিনি তাঁর অধীনস্থ প্রতিটি ইউনিয়নের উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। নিজে খোঁজ-খবর নেন, কোনো কাজ নিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি করে দেন। আমরা তাঁর ব্যাপারে খুব আশাবাদী। তাঁর মতো একজন দায়িত্বশীল অফিসার প্রতিটি উপজেলায় থাকলে সমগ্র জেলার চেহারা পাল্টে যেতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না। এলাকার উন্নয়নের বাইরেও মানুষের কল্যাণে তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কথা এলাকার মানুষের মনে দীর্ঘদিন জাগরুক থাকবে।
মাতৃভাষা মায়ের প্রতীক; যারা মাকে ভালোবাসে, তারা মাতৃভাষাকেও ভালোবাসে
মোঃ হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী
চেয়ারম্যান, চররুহিতা ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করে হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন, মাতৃভাষা মায়ের প্রতীক; যারা মাকে ভালোবাসে, তারা মাতৃভাষাকেও ভালোবাসে। এ ভাষাকে ভালোবাসে বলে সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার-শফিউর ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। একুশের চেতনার ভেতর বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। স্বাধীন হবার কারণে আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারি, স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি, মত প্রকাশ করতে পারি। স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণের জন্য জীবন আমার ধন্য।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়লাভ করে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি, স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ পরিচালনায় অংশ নিয়েছে এদেশের মানুষ। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষা পেয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব।
আপনার ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা কী এবং তার সমাধানের ব্যাপারে আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন, এখানে মূল সমস্যা হলো যাতায়াত সমস্যা। আমরা দায়িত্বলাভের পর উন্নযনকাজে হাত দিয়েছি। চররুহিতা সড়কটি প্রশস্তকরণ ও পাকা করার পরিকল্পনা করেছি। চররুহিতাকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। টেন্ডার হয়েছে, কাজও শুরু হয়েছে।
আপনার ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিই। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। দেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে। সে লক্ষ্যেই সারাদেশব্যাপী কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। আমাদের ইউনিয়নও সেই উন্নয়ন ধারার বাইরে নয়।
ইউনিয়নের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন, আমি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ততার মধ্যে থাকলেও নির্বাচনী এলাকার লোকজনের অবস্থা জানতে এলাকায় প্রায়ই যাই। প্রতিমাসে এলাকার মুরুব্বীগণের সাথে দেখা করে আলাপ-আলোচনা করি, ছোট-খাটো সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিই। স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিই।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ইউএনও নুরুজ্জামানের কর্মমূল্যায়ন সম্পর্কে হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন আমি মনে করি, নুরুজ্জামান সাহেবের মতো অফিসার যদি সারা বাংলাদেশে থাকত, তাহলে বাংলাদেশ অনেক আগেই সোনার বাংলায় পরিণত হতো। আমাদের জেলা প্রশাসক ও ইউএনও অত্যন্ত সৎ, দক্ষ এবং নিষ্ঠাবান ব্যক্তি। তারা দু’জনই আন্তরিক এবং দায়িত্বশীল। সরকারের বিভিন্ন কাজ সময়মতো সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁরা সিরিয়াস। তাঁরা জনপ্রতিনিধিদের খোঁজখবর রাখেন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য।
বাংলা ভাষা বাঙালি জাতির জীবন ও স্বাধীনতার একটি অংশ
সালাউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া
চেয়ারম্যান, পার্বতীনগর ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে কী প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল ভাষা আন্দোলনের মধ্যে। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভাগকে আমরা মেনে নেইনি। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে অস্বীকারের প্রতিবাদে বাঙালি ছাত্র-যুবকরা আন্দোলন শুরু করে এবং আত্মাহুতি দেয়। সে আন্দোলন ধাপে ধাপে এগিয়ে যায় এবং মুক্তিযুদ্ধের রূপ নেয়। এজন্যই ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে। বাঙালি জাতি তার শিকড়ের সন্ধান পেয়েছে।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিলাভ করে। বাঙালি জাতি বিশ্বে গৌরবান্বিত হয়। বাংলা ভাষা বাঙালি জাতির জীবন ও স্বাধীনতার একটি অংশ।
আপনার এলাকায় কী কী সমস্যা আছে এবং সেগুলোর সমাধানে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে সালাউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, এখানে আগে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ছিল না, মাদকের প্রভাব ছিল বেশি। মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারী উভয়ের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রশাসন আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। আমার পদক্ষেপের ফলে মাদক ব্যবসা ও সেবন যথেষ্ট কমে গেছে; ৯০% সফল হয়েছি। মাদকব্যবসায়ীরা এখন জেলে, মাদকসেবনকারীরাও এ পথ থেকে সরে এসেছে। এ পরিবেশ-পরিস্থিতি ধরে রাখতে পারলে আগামীতে আমার ইউনিয়ন হবে শান্তির অভয়ারণ্য।
আপনার এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, আমার এলাকার রাস্তাঘাট সবচেয়ে অনুন্নত ছিল; এজন্য জনভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। সেসব রাস্তা ১০ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। স্কুলগুলোতে অবকাঠামোগত সমস্যা ছিল, এগুলো এর আগে সংস্কার হয়নি। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান সাহেব গত ৬ মাসের মধ্যে আমাকে যে বরাদ্দ দিয়েছেন, তাতে এ এলাকার উন্নয়ন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। একটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বৃষ্টির দিনে ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাসরুমে ক্লাস করত। আমি স্কুলটাকে এমনভাবে সংস্কার করে দিয়েছি, যারফলে আগামী ৫ বছরে ছাত্র-ছাত্রীদের কোনো অসুবিধা হবে না।
আপনার ইউনিয়নের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে সালাউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, খিলবাইছা, বশিকপুর, প্রভৃতি এলাকার রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।
নিজ ইউনিয়নের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যক্ত করে সালাউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন অতীতে যারা ছিলেন, তারা কাজ করলেও জনগণের চাহিদা পূরণ করতে পারেননি। আমি উন্নয়নের মডেল হিসেবে এ ইউনিয়নকে গড়ে তুলতে চাই। প্রতিটি স্কুল-মাদ্রাসাকে উন্নত করব। রাস্তাঘাটের উন্নয়নের চেষ্টা করছি।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করে সালাউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন তিনি অত্যন্ত দক্ষ অফিসার; সৎ, কর্মনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল। তাঁর তৎপরতায় আমার এলাকায় বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। তিনি বদলি হয়ে গেলে তাঁর মতো একজন যোগ্য, সৎ, ডায়নামিক অফিসার যেন এখানে আসেন সে কামনা করি।
বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি বলে আমরা শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হয়েছি
কাজী আনোয়ার হোসেন কাজল
চেয়ারম্যান, বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে অনুভূতি ব্যক্ত করে বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন কাজল বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মদান এবং বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাঙালি জাতির গৌরব বৃদ্ধি করেছে। ভাষা আন্দোলন আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে বিরাট প্রভাব ফেলেছে। বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি বলে আমরা শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হয়েছি। আপনার ইউনিয়নে উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি; এরপর স্বাস্থ্যের। স্যানিটারি ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে একশটি সেনিটারি ল্যাট্রিন তৈরির জন্য ঋণ নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের প্রতিটি হাউজহোল্ডে স্যানিটারি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা হবে, ইউনিয়নে আর কাঁচা ল্যাট্রিন থাকবে না। বর্তমানে ৪ হাজার টাকা জমা দিলে পূর্ণাঙ্গ ল্যাট্রিন সরকার সরবরাহ করবে। তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে।
কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়নকল্পে সরকারের তরফ থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দের সর্বোচ্চ ব্যবহারের দিকে তীক্ষè নজর রাখি। বরাদ্দ আসলে ওয়ার্ড মেম্বারদের প্রধান করে কাজের দায়িত্ব দিয়ে থাকি। আমার ইউনিয়নের সব ওয়ার্ড মেম্বার তদারকির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেন বলে কাজের মান ভালো হয়।
তিনি বলেন আমার ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যে দু’বার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়নের মর্যাদা পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়ে সনদপ্রাপ্ত হয়েছি। অনেকে হিংসা করে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে। ইউএনও নিজে এসে তদন্ত করে আমাদের মূল্যায়ন করে গেছেন। আমরা বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি। প্রশাসনের বাইরে থেকে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মসজিদের ইমাম স্কুলশিক্ষক, যুবকর্মী প্রভৃতিকে মেম্বার করে যে কমিটি করে দেয়া হয়, তারাই কাজের তদারকি করেন। আমাদের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকে বলে এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, আমরা পুরস্কৃত হই।
ইউনিয়নের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়ন ভবন ৩০/৩৫ বছর আগেকার অনেক পুরোনো। এটাকে আমার পূর্বেকার ইউপি চেয়ারম্যান পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অন্যত্র ৩/৪ বছর ইউনিয়ন পরিষদের কাজ চালিয়েছিলেন। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৬০/৬৫ হাজার টাকা ব্যয় করে মেরামত করার পর এখানে বসে কাজ করছি। দু’বছর আগে সরকারের বরাদ্দ পেয়ে ছাদ মেরামত করেছি। তবে নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছি। আশা করি, তাড়াতাড়ি আমরা অনুমোদন পেয়ে যাব। ইউনিয়নের যে ক’টি স্থানে সাঁকো দিয়ে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করছে, সেগুলো মেরামত করা, নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা এবং কাঁচা রাস্তাগুলো পাকা করা আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের কর্মমূল্যায়ন সম্পর্কে কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন নুরুজ্জামান সাহেব একজন কর্মপ্রিয় মানুষ; যখনই তাঁর কাছে কোনো কাজ নিয়ে যাই, তিনি তা করে দেন। ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে কী হচ্ছে, তার খোঁজ-খবর রাখেন। রাস্তার পাশে, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মিত হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল। নুরুজ্জামান সাহেব সাহসিক উদ্যোগ নিয়ে অনেক সরকারি সম্পদ উদ্ধার করেছেন অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে।
ভাষা শহীদদের সংগ্রামের চেতনা স্বাধীনতা সংগ্রামকে উজ্জীবিত করেছে
হাজী আবুল কাশেম জিহাদী
চেয়ারম্যান, বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে অনুভূতি ব্যক্ত করে বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেম জিহাদী বলেন একুশ বাঙালি জাতির জীবনে গৌরবোজ্জ্বল দিন। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলার দামাল ছেলেরা জীবন উৎসর্গ করেছিল। তাঁদের আত্মত্যাগে প্রতিষ্ঠিত ভাষা দিবস আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, ভাষা শহীদদের সংগ্রামের চেতনা স্বাধীনতা সংগ্রামকে উজ্জীবিত করেছে। বাঙালি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছে।
আপনার নির্বাচনী এলাকায় প্রধান সমস্যা কী, সেগুলোর সমাধানে আপনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আবুল কাশেম জিহাদী বলেন, আমার ইউনিয়নে বেশকিছু রাস্তার অবস্থা খুবই করুণ। এগুলোর সংস্কারের জন্য আমি গতবছর এবং তার আগের বছর এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত ফান্ড পাইনি। দ্বিতীয় সমস্যা মাদক। প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ উভয়ে মিলে প্রতিকারের ব্যবস্থা না হলে তা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। এছাড়া আমার ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা আছে, বর্ষাকালে এটি প্রকট হয়। কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত বাড়িঘর তুলে পানি চলাচলের সহজ পথ বন্ধ করার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলে এগুলো বন্ধ করা যায়।
আপনার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আবুল কাশেম জিহাদী বলেন, যোগাযোগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছি, কারণ এটি সকলরকম উন্নয়নের মাধ্যম। এ ইউনিয়নে ৪টি হাইস্কুল, ১টি কওমী মাদ্রাসা, ১টি কামিল মাদ্রাসা, ২টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। শিক্ষা বিস্তারে এসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আমরা আবেদন করেছি; আশা করি, আমাদের ইচ্ছা পূরণ হবে।
ইউনিয়নের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আবুল কাশেম জিহাদী বলেন, আমাদের ইউনিয়ন একটি আদর্শ ইউনিয়ন। একে অপরাধমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ার চিন্তা আমার রয়েছে। এ ব্যাপারে এলাকার মসজিদের ইমামদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছি, স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী জুমার দিন মাদক-বিরোধী ঘোষণা হবে এবং সে অনুসারে অভিযান চলবে। তিনি বলেন, আমাদের এখানে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ছিল, এখন ৮০% ভালো অবস্থানে আছে। প্রশাসনের নেক নজর থাকলে বাকিটুকু ঠিক হয়ে যাবে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের কর্মমূল্যায়ন করে বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেম জিহাদী বলেন তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব। ইউনিয়নে যত কল্যাণমূলক কাজ হয়, তিনি তার খোঁজ-খবর রাখেন, অগ্রগতি জানতে চান। কাজে কোনো জটিলতা বা সমস্যা দেখা দিলে আমরা তাঁর নজরে আনার সাথে সাথে তিনি ত্বরিৎ সমাধান দেন। এলাকার মানুষ তাঁর উপর সন্তুষ্ট, তারা চায় তিনি আরও বেশিদিন আমাদের উপজেলায় কর্মরত থাকুন।
একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির ইতিহাসে রক্তিম অক্ষরে লেখা একটি নাম
আহসানুল কবির রিপন
চেয়ারম্যান, দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করে আহসানুল কবির রিপন বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির ইতিহাসে রক্তিম অক্ষরে লেখা একটি নাম। ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ কালজয়ী এ গানের সুর জাতিকে স্পন্দিত করে, উজ্জীবিত করে। একুশ শিখিয়েছে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা। আমাদের শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে রয়েছে একুশের বিরাট প্রভাব।
আপনার ইউনিয়নে কী কী সমস্যা রয়েছে এবং এর সমাধানে আপনি কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে আহসানুল কবির রিপন বলেন, একসময় এ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থাকলেও বর্তমানে শান্ত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সমস্যা হচ্ছে মাদক। যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে সর্বনাশের পথে এগিয়ে চলেছে। আমরা শক্ত হাতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। আমি নিজে ৫ শতাধিক ইয়াবাসহ এক ব্যবসায়ীকে ধরে পুলিশে দিয়েছি। আমার ইউনিয়নের ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ রাতে প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছেন, পাহারা বসাচ্ছেন মাদক পাচারকারী, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য। জনস্বার্থে এ ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করি। এখন রাস্তাঘাটগুলো পাকাকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। এগুলো হয়ে গেলে আমাদের বড় কোনো সমস্যা থাকবে বলে মনে হয় না।
আপনার ইউনিয়নের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে আহসানুল কবির বলেন, আমি প্রথমে ৯টি ওয়ার্ডে মেম্বারদের কাছ থেকে কাজের অগ্রাধিকার তালিকা নিয়ে নিয়েছি, যাতে আমার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়। তারা চিহ্নিত করে দেবেন কোন্ কোন্ স্থানে নতুন ব্রিজ-কালভার্ট হবে, নতুন রাস্তা করতে হবে, কিংবা পুরাতন রাস্তার সংস্কার করা দরকার এটি মেম্বারগণ ঠিক করবেন।
ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আহসানুল কবির রিপন বলেন, এ পরিষদের মাধ্যমে এরই মধ্যে কিছু কিছু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সংস্কার করেছি। দু’টি টয়লেটের দরজা ছিল না, নতুন দরজা লাগিয়েছি। আরেকটা বাথরুম ভেঙ্গে ফেলে নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। ইউপি অফিসের দু’টি গলি কাঁচা রাস্তা ছিল, কাদা হয়ে মানুষের হাঁটতে কষ্ট হতো। এ দু’টি রাস্তা ইটসলিং করে দিয়েছি। এ ইউনিয়ন আগে সন্ত্রাসকবলিত ছিল, বর্তমানে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় নির্বাচিত সদস্যগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে আল্লাহর মেহেরবাণিতে আমরা আগামীতে এই ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ইউনিয়নে পরিণত করতে সমর্থ হবো।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের কর্মমূল্যায়ন সম্পর্কে আহসানুল কবির রিপন বলেন আমাদের ভাগ্য ভালো যে, আমরা নুরুজ্জামান সাহেবের মতো একজন দক্ষ, সৎ, দায়িত্বশীল ও কল্যাণকামী অফিসার পেয়েছি। তিনি বেদখল হয়ে যাওয়া সরকারের সম্পত্তি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উদ্ধার করেছেন। এ প্রক্রিয়া এখনও চলছে। তাঁর কাছে কোনো কাজ নিয়ে গেলে তিনি তা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেন। আমরা ডিসি সাহেবের কাছে অনুরোধ করব, নুরুজ্জামান সাহেব যেন আরও কিছুকাল এ উপজেলায় থাকেন। তিনি থাকলে সরকারি বহু সম্পত্তি, যা এখনো বেদখল আছে তা উদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন হবে।
ভাষা শহীদদের পবিত্র স্মৃতি আমাদের কাছে গর্ব ও গৌরবের বিষয়। তাঁদের অমর স্মৃতি আমাদেরকে নিয়ে যাবে উজ্জীবনের পথে
আবুল কাশেম চৌধুরী
চেয়ারম্যান, উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর

বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে অনুভূতি ব্যক্ত করে আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সালাম-বরকত-রফিক-জব্বারসহ আরও অনেকে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল। তাঁদের পবিত্র স্মৃতি আমাদের কাছে গর্ব ও গৌরবের বিষয়। তাঁদের অমর স্মৃতি আমাদেরকে নিয়ে যাবে উজ্জীবনের পথে। তাঁদের আত্মত্যাগের পবিত্র স্মৃতি কালান্তরে বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করবে।
তিনি বলেন ২১শে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগের বিরল ঘটনা বিশ্ববাসীর নজরে আসার পর জাতিসংঘ এ দিবসকে সারা পৃথিবীর মানুষের মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গণ্য করেছে। বাংলা ভাষার এ বিশ্বস্বীকৃতি আমাদেরকে গৌরবান্বিত করেছে। আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতিতে মাতৃভাষা দিবস কীরকম প্রভাব বিস্তার করেছে বলে মনে করেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, একুশ একটা চেতনার নাম। এটা ভাষার অধিকারে সীমাবদ্ধ থাকেনি, মৌলিক অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রেও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
আপনার নির্বাচনী এলাকার প্রধান সমস্যা কী, সে সমস্যা সমাধানে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নে সব বিষয়ে কিছু না কিছু সমস্যা আছে। রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ-মক্তব সবগুলোতে হাত দিতে হবে। কোনোটা স্বয়ংসম্পূর্ণ নেই। এজন্য আমরা পরিকল্পিতভাবে এগুচ্ছি। ৩৬টি রাস্তার সংস্কার করতে হবে। আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহায়তালাভের আশা করছি। জনজীবনে স্বস্তি দিতে হলে চলাচলের উপযোগী করতে হবে রাস্তাগুলোকে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি ইউনিয়নে যদি উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেন, তাহলে ইউনিয়নগুলো একএকটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত হবে। আপনার ইউনিয়নে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ের অগ্রাধিকার দেয়া হয় এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, ফান্ড হাতে আসলে প্রথমে রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্টের সংস্কার, পুনঃনির্মাণের কাজে হাত দেব। আমাদের ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ইউনিয়নে পরিণত করার শপথ নেব।
ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়ন সন্ত্রাস-কবলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে; এলাকার মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত ঘরের বাইরে থাকতে পারে, চলাচল করতে পারে। আমাদের ইউনিয়নকে একটি সুন্দর, মডেল ইউনিয়নে পরিণত করা আমার প্রত্যাশা। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ইউএনও নুরুজ্জামান এর কর্মমূল্যায়ন করে আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন তিনি একজন দক্ষ, বলিষ্ঠ চিন্তা-চেতনার মানুষ। এলাকার উন্নয়ন এবং মানবসেবা তাঁর লক্ষ্য। আমরা যারা মাঠে-ময়দানে আছি, তাদের সঙ্গে তিনি খুব আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার করেন। তিনি কাজের কথা নিয়ে গেলে খুশি হন, কাউকে ফিরিয়ে দেন না। এরকম একজন দক্ষ ও দায়িত্ববান অফিসার প্রতিটি উপজেলায় নিযুক্ত থাকলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে তিনি আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। আমরা চাই, তিনি আরও বেশিদিন এ উপজেলার দায়িত্বে থাকেন। তাঁর দীর্ঘায়ু-সুস্থ-সফল জীবন কামনা করি।
মাতৃভাষার মর্যাদার সংগ্রামে আমরা জিততে না পারলে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কঠিন হতো
নুরুল ইসলাম বাবুল
চেয়ারম্যান, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে অনুভূতি ব্যক্ত করে নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন ভাষা শহীদানের আত্মত্যাগের কারণে আমাদের ভাষা আন্তর্জাতিক মর্যাদালাভ করেছে; আমরা মাতৃভাষায় কথা বলতে ও মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছি। আমাদের স্বাধিকার, স্বাধীনতা সবকিছুর মূলে ছিল মাতৃভাষার চেতনা ও গৌরব। মাতৃভাষার মর্যাদার সংগ্রামে আমরা জিততে না পারলে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কঠিন হতো। আজ আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে যাচ্ছি, আমরা উন্নত দেশের সারিতে পৌঁছে যাব এ সবই মাতৃভাষা দিবসের প্রেরণা। ভাষা সংগ্রাম আমাদেরকে অধিকার আদায়ে সচেতন করেছে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করতে শিখিয়েছে। ভাষা শহীদদের প্রতি জানাই অশেষ শ্রদ্ধা।
আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে মহান একুশের কী প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে একুশের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তবে আমরা একুশের পূর্ণ মর্যাদা দিতে পারিনি। সর্বস্তরে মাতৃভাষা চালু হয়নি। কোর্ট-কাছারিতে, উচ্চশিক্ষালয়ে বাংলা ভাষা এখনও চালু হয়নি। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে বাংলার প্রচলন নাই বললেই চলে। সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রচলনের মাধ্যমে জাতীয় চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটাতে পারলে একুশের শহীদানের আত্মত্যাগ সফল হবে। নিজ ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা ও তার সমাধান সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবগত করেছি। গত বর্ষার সময় যেসব বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো অপসারণ করে পানি নিষ্কাশন সহজ করে দিয়েছি।
দ্বিতীয় সমস্যা হলো মাদক, যা যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রশাসনের সহায়তায় আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসায় চিঠি দিয়ে জনগণকে সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি।
ইউনিয়নে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমি অবকাঠামো সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিয়েছি। ৪টি রাস্তা ইতোমধ্যে পিচ ঢালাই হয়েছে, অন্যগুলোর উন্নয়ন কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। নতুন থানা চন্দ্রগঞ্জের উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হচ্ছে। আমাদের তহশীল অফিসের উন্নয়ন করতে হবে। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। উপজেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ইউনিয়নের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে নুরুল ইসলাম বলেন স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে আমরা ইউনিয়নের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আশা করি, আগামী ৫ বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো। চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে পরিণত করব, ইনশাল্লাহ। চন্দ্রগঞ্জকে আমরা ইতোমধ্যেই বাল্যবিবাহমুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করে নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন বর্তমান ইউএনও নুরুজ্জামান সাহেবের কাছ থেকে যে অনুপ্রেরণা লাভ করেছি, অতীতে তা পাইনি। এখন আমরা কোনো সমস্যা নিয়ে তাঁর সাথে খোলাখুলি আলোচনা করতে পারি, সমাধান খুঁজে পাই। তাঁর নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি আরও কিছুকাল আমাদের মাঝে থাকুন, সুস্থ থাকুন, দীর্ঘজীবন লাভ করুন এ আমাদের একান্ত কামনা।
একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির মাথা উঁচু করে দিয়েছে
মোহাম্মদ সাইফুল হাসান রনি
চেয়ারম্যান, ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস কী প্রভাব ফেলেছে বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নে তারুণ্যদীপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার্থে বাংলার ছাত্র-যুব সমাজ আত্মবিসর্জন দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ভাষা শহীদদের সেই অমর অবদানের কথা স্মরণ করে আমরা শহীদ দিবস পালন করি, তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করি। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করি।
তিনি বলেন, ভাষার জন্য আত্মত্যাগের গৌরব বাঙালি জাতির মাথা আরও উঁচু করে দিয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতিসত্তার পরিচয়কে সুস্পষ্ট করেছে, আমরা যে আলাদা সংস্কৃতির ধারক-বাহক তা পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক আমলে স্থিরকৃত হয়েছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, জাতিস্বত্তার এ পরিচয় ততদিন উদ্ভাসিত থাকবে।
আপনার ইউনিয়নে প্রধান সমস্যা কী, সেসব সমস্যার সমাধানে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল হাসান রনি বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা; যা মানুষের চলাচলে, কৃষি উৎপাদনে বিঘœ সৃষ্টি করছিল। আমরা এর সমাধানে কয়েকটি খাল খনন করেছি। ইউএনও নুরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্বে ভরাট খাল খনন করে পানি চলাচল সহজ করেছি। এখন সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে।
আপনার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে আপনি অগ্রাধিকার দেন এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল হাসান রনি বলেন, আমরা প্রথমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছি। এখন দৃষ্টি দিয়েছি অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে। জলাবদ্ধতার নিরসন হয়ে গেলে সারাবছর ধানপাটসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
এ ইউনিয়নের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে সাইফুল হাসান রনি বলেন ঊর্ধ্বতন মহল থেকে নির্দেশ এসেছে কোনো ব্রিজ-কালভার্ট ভঙ্গুর অবস্থায় থাকবে না, সব ব্রিজ-কালভার্টকে যানচলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ নির্দেশ শেখ হাসিনার কল্যাণ-চিন্তার প্রতিফলন। আমরা ইউএনও নুরুজ্জামান সাহেবের নেতৃত্বে এ কাজগুলো সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে করতে পারব বলে আশা করি। যেসব কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সচেষ্ট রয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের কার্যক্রম সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করে সাইফুল হাসান রনি বলেন, তিনি এ উপজেলা এবং সব ইউনিয়নের উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। তিনিই আমাদেরকে সক্রিয় রেখেছেন উন্নয়ন কর্মকান্ডে। কোনো উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর অনুমোদনের জন্য গেলে তিনি দেরি না করে অনুমোদন দিয়ে দেন। এজন্য আমাদের কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন হয়। তাঁকে ১৭নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নবাসীসহ লক্ষ্মীপুরবাসী সারাজীবন মনে রাখবে। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ছাড়াও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সহযোগিতা করে থাকেন। হাতছাড়া হয়ে যাওয়া অনেক সরকারি সম্পদ উদ্ধার করে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর পরিচালনায় উপজেলায় যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তাতে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি যেমন ছিল, তেমনি কাজগুলোর মানও উন্নত ছিল। ভাষা আন্দোলনের তীক্ষ প্রভাব আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে দিয়েছে দ্যুতিময় সমৃদ্ধি
মোঃ নুরুল আমিন
চেয়ারম্যান, কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে অনুভূতি ব্যক্ত করে কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল আমিন বলেন একুশ বাঙালি জাতির গর্বের ধন, জাতিসত্তার পরিচিতি যা আজ বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়ে জাতিকে করেছে ধন্য, সম্মানিত। তিনি বলেন ভাষা আন্দোলনের তীক্ষè প্রভাব আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে দিয়েছে দ্যুতিময় সমৃদ্ধি, একে দিয়েছে অতুলনীয় উৎকর্ষ।
আপনার ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা কী কী, সেগুলোর সমাধানে আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে নুরুল আমিন বলেন, আমার ইউনিয়নে রাস্তাঘাটগুলো কাঁচা থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে; জনগণের চলাচল স্বচ্ছন্দ হচ্ছে না। পাকা রাস্তা নেই বললেই চলে। এজন্য ইউনিয়নের অভ্যন্তরের রাস্তাগুলো পাকা করা জরুরি। রাস্তার কারণে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়ার পথে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাগুলো পাকা হয়ে গেলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বচ্ছন্দে, নিরাপদে আসা-যাওয়া করতে পারবে, সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারবে, ঝরে পড়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে। রাস্তাঘাটের সমস্যার কারণে বর্ষাকাল এবং পরবর্তী কিছুদিন ছেলে-মেয়েরা ঠিকমতো স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারে না। এতে সরকারের শতভাগ ভর্তি শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। এজন্য পড়ালেখার দিক থেকে আমার ইউনিয়ন পিছিয়ে আছে বলে আমি মনে করি। ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমতো ক্লাসে যোগ দিতে পারলে পড়ালেখার মানও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলে কৃষিক্ষেত্রেও এর ভালো প্রভাব পড়বে। উৎপাদক কৃষিজাত পণ্য সহজে ও স্বল্পব্যয়ে এলাকার বিভিন্ন মোকামে এমনকি উপজেলা ও জেলাকেন্দ্রে পাঠাতে পারবে। তিনি বলেন, কুশাখালী ইউনিয়ন থেকে লক্ষ্মীপুর সদর পর্যন্ত ২০ কি. মি. রাস্তা পাকা করা হলে লোক চলাচল, যান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হবে; কুশাখালী ইউনিয়ন একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত হবে। নতুন থানা চন্দ্রগঞ্জ থেকে কুশাখালীর দূরত্ব ১৫ কি.মি.। এ রাস্তাটুকু পাকা হয়ে গেলে এলাকার উন্নয়নে গতি আসবে। বর্তমানে রাস্তাগুলোর যে চিহ্নটুকু আছে, তার সংস্কার না হলে এগুলো আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাবে।
তিনি বলেন আমার এলাকার খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতার অবসান করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে ত্রিফসলি চাষাবাদ হবে, পানি সংরক্ষণ করে সেচকাজে ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো যাবে, মাছচাষ সহজ হবে।
আপনার ইউনিয়নের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে নুরুল আমিন বলেন, প্রথমে অগ্রাধিকার হলো রাস্তা পাকাকরণ; দ্বিতীয়ত জোর দেব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের উপর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে, সংস্কার জরুরি। তাছাড়া স্কুলের পরিচালনা কমিটিও নড়বড়ে, নতুন পরিচালনা কমিটি করে দিয়ে এগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে হবে। এলাকার যে খালগুলো আছে, সেখানে ব্রিজ করে দিতে পারলে মানুষ এবং যানবাহন চলাচলে অকল্পনীয় সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামানের কর্মমূল্যায়ন প্রসঙ্গে নুরুল আমিন বলেন তিনি দক্ষ, সৎ, কর্মঠ প্রশাসক, পরিকল্পনা মতো কাজ করেন, অন্যদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেন। তাঁর কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি রয়েছে। নুরুজ্জামানের মতো দায়িত্ববান কর্মকর্তা দেশের প্রতি উপজেলায় নিয়োজিত থাকলে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হবে বলে আমি মনে করি।
ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে এটা বাঙালি জাতির জন্য গর্বের ও গৌরবের
আবু ইউছুফ
চেয়ারম্যান, চর রমনীমোহন ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করে আবু ইউছুফ বলেন, ভাষা শহীদ দিবস আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারাবিশ্বে পালিত হয়। ভাষার জন্য বাঙালির এ আত্মত্যাগ বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে এটা বাঙালি জাতির জন্য গর্বের ও গৌরবের। এ দিনে ভাষা শহীদদের কথা মনে পড়ে। ভাষা আন্দোলনের সেই চেতনাই জাতিকে পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উৎসারিত করেছে।
আপনার ইউনিয়নে কী কী সমস্যা রয়েছে, সেসব সমস্যার সমাধানে আপনি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে চর রমনীমোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ বলেন, আমার ইউনিয়নে পূর্বথেকে ভাঙ্গা রাস্তাঘাট নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় সমস্যা ছিল। বিগত ৫ বছর সময়ের মধ্যে অনেকগুলো রাস্তার সংস্কার করায় লোক চলাচল, যান চলাচল সহজ হয়েছে। উপজেলার সুযোগ্য ইউএনও নুরুজ্জামান সাহেব আসার পর আমাদের কর্মকান্ড গতিবেগ পেয়েছে। এরই মধ্যে ৪৫ কি.মি. নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, ছোট ছোট কিছু কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান ইউএনও নুরুজ্জামান সাহেবকে কয়েকটি প্রজেক্ট দিয়েছি, আশা করি যথাযথ অনুমোদন শেষে সেগুলো কিছুকালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। ইউএনও তাঁর অধীন প্রতিটি ইউনিয়নের উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা রাখছেন।
আপনার ইউনিয়নের বর্তমান আয়তনের সাথে আরও কিছু জায়গা যোগ হতে যাচ্ছে, এ ব্যাপারে আপনার চিন্তা-ভাবনা কী এমন প্রশ্নের জবাবে আবু ইউছুফ বলেন, আমার ইউনিয়নের বর্তমান আয়তনের সাথে আরও ৫ কি.মি. এলাকা যুক্ত হতে যাচ্ছে। নতুন যারা আসবেন, তাদেরকে স্বাগত জানাব এবং ইউনিয়ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাব। আগে থেকে যারা ইউনিয়নে আছে, তারা নতুনদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবে, নতুনরাও এই যোগদানকে স্মৃতিবহ করে রাখবে। ৫ কি.মি. জায়গা ইউনিয়নে যুক্ত হলে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে আমাদের সুবিধা হবে। ইউনিয়ন অফিস নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়নের ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবো। ইউনিয়নকে নতুন করে সাজাতে পারব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুজ্জামান এর কর্মমূল্যায়ন করতে গিয়ে আবু ইউছুফ বলেন, নুরুজ্জামান সাহেবের গুণের শেষ নেই। তাঁর মতো ইউএনও খুব কমই এসেছেন লক্ষ্মীপুরে। অতীতের অফিসারগণ যদি তাঁর মতো কাজ করতেন, তাহলে এতদিনে লক্ষ্মীপুর সোনার লক্ষ্মীপুরে পরিণত হতো। তিনি উপজেলার আনাচে-কানাচে সবকিছুর উপর নজর রাখেন। উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে তাঁর একটা রূপরেখা আছে। এর বাইরেও যখন কোনো পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর কাছে যাই, তিনি তা অনুমোদন করে দেন। ডায়নামিক কর্মকর্তা নুরুজ্জামান লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসনে সাফল্য অর্জন করেছেন। সরকারের অনেক জমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গিয়েছিল, সেগুলোর অধিকাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। নুরুজ্জামান সাহেবের জন্য এটি একটি রেকর্ড। রাস্তাঘাটের উন্নয়নে তাঁর নির্দেশনায় কাজ করে আমরা সফল হয়েছি। তিনি যদি আর দু’বছর লক্ষ্মীপুরে থাকেন, তাহলে লক্ষ্মীপুর হবে সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত উন্নয়নের গণতন্ত্রের উজ্জ্বল নিদর্শন এক নতুন লক্ষ্মীপুর।
একুশ বাঙালি জাতির অহংকার আত্মপরিচয়ের ঠিকানা
সৈয়দ নুরুল আমিন (লোলা)
চেয়ারম্যান, টুমচর ইউনিয়ন পরিষদ, লক্ষ্মীপুর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে অনুভূতি ব্যক্ত করে টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল আমিন (লোলা) বলেন, একুশ বাঙালি জাতির অহংকার; আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। ভাষা আন্দোলনের এক পর্যায়ে বাঙালি ছাত্র-যুবকরা মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার্থে প্রাণ দিতে কুন্ঠিত হয়নি। তাঁদের আত্মদানের ফলে পাকিস্তান যুগেই অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পেয়েছিল বাংলা ভাষা। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন বাঙালি জাতির মাতৃভাষাই নয়, এটি বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসের বিরল সম্মান অর্জন করেছে। ভাষা শহীদদের মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণে আসলে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আপ্লুত হই, তাঁদের রূহের মাগফেরাত কামনা করি, তাঁদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে শরিক হই।
তিনি বলেন কোনো ত্যাগই বৃথা যায় না। একুশের শহীদদের আত্মত্যাগও বৃথা যায়নি। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনের দাবি ছিল ভাষা সংগ্রামীদের, যা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষার পর্যায়ে এখনও ইংরেজি ভাষার কার্যক্রম চলছে। আদালতের রায় বাংলায় দিতে না পারার যন্ত্রণার কথা প্রধান বিচারপতিই বলেছেন। অবশ্য এ দু’টো ক্ষেত্রেও মাতৃভাষা বাংলার প্রচলন অদূর ভবিষ্যতে করা হবে বলে আশা করা যায়।
আপনার ইউনিয়নে প্রধান সমস্যা কী, এর সমাধানে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নে সৈয়দ নুরুল আমিন বলেন, আমার ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্টগুলো জরাজীর্ণ। কোনো রকমে চলাচল করতে পারলেও সেটি স্বচ্ছন্দ নয়। এগুলো সংস্কার এবং আরো কয়েকটি রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে মানুষ এবং যানবাহনের চলাচল নিরাপদ হবে। উপজেলা ও জেলার সাথে ইউনিয়নের যোগাযোগ যদি সহজ, সচ্ছন্দ ও কল্যাণময় হয়, তাহলে ইউনিয়নবাসী সুখ-শান্তি ও স্বস্তিতে বসবাস করবে, ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে তারা অংশগ্রহণ করবে। আপনার ইউনিয়নের উন্নয়নে কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেন এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ নুরুল আমিন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রথম ব্যবস্থা নেব; এরপর শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করব। স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে আমার লক্ষ্য থাকবে। স্কুল কমিটিগুলো পুনর্গঠিত করব, প্রশাসন ভালোভাবে চলবে, শিক্ষকরা পাঠদানে আরো সিরিয়াস হবেন, ছাত্র-ছাত্রীরাও ক্লাসে নিয়মিত হবে। তাদের মধ্যে ঝরে পড়ার প্রবণতা যেন না জাগে এজন্য শিক্ষকরা তাদের উদ্বুদ্ধ করবেন।
এলাকার উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করে সৈয়দ নুরুল আমিন বলেন, এলাকার বেকার কর্মক্ষম যুবকদের কর্মসংস্থানের চিন্তাও আমরা করছি। লক্ষ্মীপুরের সন্তান শিল্পপতিগণ এলাকায় যদি দু’একটি শিল্প স্থাপন করেন, তাহলে বেকারদের কর্মসংস্থান সহজ হয়।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান এর কর্মমূল্যায়ন করে সৈয়দ নুরুল আমিন বলেন, নুরুজ্জামান সাহেব সারা উপজেলায় বিভিন্নমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন, বাল্যবিবাহ রোধ করেছেন। মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এজন্য কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।