Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল ও কলেজ রায়পুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালিয়েছে জ্ঞানের মশাল

দেশের শিক্ষার মান ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার রাখালিয়া গ্রামের এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ২০১১ খ্রি. প্রতিষ্ঠিত হয় প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজ। পশ্চিম রাখালিয়া ও চরমোহনা গ্রাম একটি বিশাল জনবহুল অঞ্চল। এ অঞ্চলে কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া তেমন কোনো উন্নত মানের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ছিল না। ফলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দূর-দূরান্তে গিয়ে লেখাপড়া করতে হতো। স্কুল ও কলেজের অভাবে অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করে শিক্ষা-জীবন থেকে ঝরে পড়ে। বাংলাদেশে ব্যবসায় শিক্ষা প্রসারের পথিকৃৎ খ্যাত প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী শিক্ষার এই সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে এলাকাবাসী ও তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে অত্র অঞ্চলে একটি যুগোপযোগী ও জাতীয় মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। শুরুতে তিনি প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি “ট্রাস্ট” গঠন করেন। সেই ট্রাস্টের অধীনে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ, এতিমখানাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি ২০১০ সালে ঈদগাহসহ মসজিদে বায়তুল মামুর নামে একটি সুসজ্জিত মসজিদ নির্মাণ করেন।
পরবর্তীতে তিনি তাঁর জন্মস্থানের দুস্থ ও গরিবসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১১ সালে স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত, নকল, ধূমপান ও রাজনীতিমুক্ত একটি জাতীয় মানের আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং প্রায় ২.১৫ একর ভূমি সংগ্রহ করে প্রস্তাবিত ৩টি ভবনের মধ্যে ১৫র্৫ ী ৩র্৩ বর্গফুট আয়তনের ৬ তলা বিশিষ্ট ১ নং একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। ভবনটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। যার সম্পূর্ণটাই বহন করেছে প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্ট। ২১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আরম্ভ হওয়া স্কুল ও কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী প্রায় ১১০০ জন। ৪ তলা বিশিষ্ট ২নং একাডেমিক ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে সেখানে প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজর প্রাইমারি শাখা কেএফএসসি শিশুকাননের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জন এ+ সহ সবাই এ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়।
প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামাঞ্চলে হলেও দেশের সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সেরা প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি সেকশনে মানসম্মত শিক্ষাদানের লক্ষ্যে অনধিক ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থীর পৃথক আসনের সুব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে দেশে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা বিস্তারে এবং বিজ্ঞান মনস্ক সুনাগরিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীরা পুরোবছর ধরে অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে প্রতিভা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে আয়োজন করছে বহুবিধ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানাদি। সাহিত্য অঙ্গনে এ কলেজের শিক্ষার্থীদের পদচারণা প্রশংসনীয়।
প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিটি ক্লাস ১ ঘন্টা করে নেয়া হয়। যার প্রথম ১৫ মিনিটি পূর্ববর্তী দিনের পড়া আদায়, পরবর্তী ৩০ মিনিট কোর্স প্ল্যান অনুযায়ী পরবর্তী দিনের জন্য পাঠদান এবং শেষের ১৫ মিনিট থাকে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রশ্ন-উত্তর পর্ব। ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ হয়ে যায়। তারপরও দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির পর শিক্ষার্থীদের মানউন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া হয়। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর কাজী ফারুকী অত্র প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকগণের প্রাইভেট পড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন। এরফলে ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকগণের মধ্যে একটি অন্যরকম অনুভূতির জন্ম নিয়েছে।
স্কুল ও কলেজের অন্যতম নিদর্শন হলো সিমেস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান, সপ্তাহে দু’টি টিউটোরিয়াল পরীক্ষার ব্যবস্থা, বাধ্যতামূলকভাবে মেকাপ ক্লাসে উপস্থিতি, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে আলোচনা সভা, ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও কোর্সপ্লান অনুযায়ী কলেজের শিক্ষাক্রম পরিচালনা ইত্যাদি। সাপ্তাহিক, মাসিক এবং পর্ব-পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। প্রতিটি টার্ম-পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফলের ভিত্তিতে সেকশন পরিবর্তন করা হয়। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ভালো ফলাফল করার জন্য প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদেরকে বর্তমান বিশ্বের তথ্য-প্রযুক্তির প্রতিযোগিতামূলক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে গড়ার লক্ষ্যে নিয়মিত মূল্যায়ন সভা, সাহিত্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাসিক পত্রিকা, বার্ষিকী, দেয়াল পত্রিকা, সেমিনার, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান ও দিবস পালন, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুুষ্ঠান প্রভৃতি শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কাজী ফারুকী স্কুল ও কলেজের রয়েছে পর্যাপ্ত বই সমৃদ্ধ সুসজ্জিত লাইব্রেরি। কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার অত্র প্রতিষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ।
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল আমিন বলেন শিক্ষাঙ্গনের তমসাচ্ছন্ন চাদর ভেদ করে আলোর এই সূর্য এনেছেন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগী জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী। গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার আলো জ্বালাতে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে সাধ্যের সবকিছু দিয়ে গড়েছেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, মনন, দক্ষতা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা দিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে। তারা জাতির প্রত্যাশা পূরণে সদা সচেষ্ট থাকবে। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষাদানে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
অবকাঠমো দিক থেকে কলেজটি অবশ্যই অনন্য সৃষ্টির দাবিদার। এত সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কলেজটি নির্মিত, যা জেলার অন্যতম কলেজ ভবন হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান একাডেমিক ভবন ছাড়াও নির্মিত হবে শিক্ষক আবাসিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রী হোস্টেল এবং অডিটোরিয়াম।
গ্রামাঞ্চল এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েদের যুগোপযোগী শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। পড়ালেখায় মনোযোগী-অমনোযোগী এবং অগ্রসর ও দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের যথাযথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে উপযুক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয় এই প্রতিষ্ঠানে। অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষকমন্ডলী তাদের প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি। কেননা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নির্ভর করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বিত নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আচার-আচরণের উপর। স্কুল ও কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম। ইউনিফর্ম পরিধান করা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। শিক্ষকদের জন্য রয়েছে সাদা রংয়ের এপ্রোন।
২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সবগুলো বোর্ড পরীক্ষায় উত্তম ফলাফল নিশ্চিত করে জেলায় শীর্ষস্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যার পেছনে রয়েছে প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকীর দক্ষ নেতৃত্ব, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং অধ্যক্ষের দক্ষ পরিচালনায় শিক্ষকগণের আন্তরিক প্রচেষ্টা।
এক নজরে স্কুল ও কলেজর ফলাফল উপস্থাপন করা হলো
জেএসসিঃ ২০১২ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ৩৩ জন, পাসের হার ১০০%; ২০১৩ সালে পরীক্ষার্থী ৭১ জন, পাসের হার ১০০%; ২০১৪ সালে পরীক্ষার্থী ১০৮ জন, পাসের হার ১০০%; ২০১৫ সালে পরীক্ষার্থী ১২১ জন, পাসের হার ৯৯.১৭%।
এসএসসিঃ ২০১৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ২৫ জন, পাসের হার ১০০%; ২০১৫ সালে পরীক্ষার্থী ৩৬ জন, পাসের হার ৯৫%; ২০১৬ সালে পরীক্ষার্থী ৮৩ জন, পাসের হার ৯৭%। এইচএসসিঃ ২০১৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১২৫ জন, পাসের হার ৯৪%; ২০১৫ সালে পরীক্ষার্থী ১১০ জন, পাসের হার ৯৯.০৯%; ২০১৬ সালে পরীক্ষার্থী ৮৮ জন, পাসের হার ৮৮.৬৪%। প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে সকলের লক্ষ্য। ইতোমধ্যে ২০১৬ সালে ‘রায়পুর ফোরাম’ কর্তৃক এই প্রতিষ্ঠান রায়পুরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।