Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

বিরল শিক্ষাদ্যোক্তার শ্রদ্ধাসিক্ত নাম প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী

কোনো প্রতিভার আবির্ভাবই বিচ্ছিন্ন নয়। সত্য, ন্যায় ও আদর্শবান মহান করে স্রষ্টা তাদের পৃথিবীতে পাঠান দেশ ও জাতির কল্যাণে এমনই একজন প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী। প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী এক সফল শিক্ষাবিদ, সফল উদ্যোক্তা, সত্যবাদী, কর্তব্যনিষ্ঠ, নীতিবান, পরিশ্রমী, পরম আদর্শবাদী একজন মানুষের নাম। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া গ্রামের কাজী বাড়িতে ১৯৪১ খৃষ্টাব্দের ১৫ মে সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম কাজী নুর মোহাম্মদ, মাতা মুরহুমা জয়নব বানু। বাল্যজীবন কেটেছে গ্রাম বাংলার তৎকালীন আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে একটি সাধারণ কিন্তু আত্মমর্যাদাসম্পন্ন পরিবারের বাঁধুনিতে। বাবা পেশায় ছিলেন চাকরিজীবী, মা ছিলেন গৃহিণী। বাবা বেশিরভাগ সময়ই চাকরির কাজে দেশের বাহিরে থাকতেন। সংসার দেখতেন মা; মা নিরক্ষর হলেও ছিলেন স্বশিক্ষিত। গ্রামের মা-বৌয়েরা আসতেন তাঁর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতে। তাঁর ছিল অসামান্য শিক্ষানুরাগ, কর্মস্পৃহা, ন্যায়পরায়ণতা আর শিক্ষার প্রতি অসীম অনুরাগ। মায়ের আশা ছেলে একদিন অনেক বড় হবে। তাই পড়ার জন্য সবসময় উৎসাহ দিতেন, প্রয়োজনে শাসন করতেন। প্রত্যেকদিন স্কুলে যাওয়া ছিল বাধ্যতামূলক, একদিনও স্কুলে অনুপস্থিত থাকা যেত না। একদিন প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী স্কুলে না গিয়ে পাড়ার ছেলেদের সাথে মাছ ধরে ঘরে নিয়ে আসলেন, আর মনে মনে ভাবলেন মা দেখে খুশি হবেন; কিন্তু মা দেখে খুব রাগ হয়ে মাছগুলো সব বাগানে ফেলে দিলেন এবং আর কখনো স্কুল বাদ দিয়ে এই সমস্ত কাজ না করার জন্য বারণ করলেন। প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী সবসময় বলেন, আজ আমার এতদূর আসার পেছনে আমার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। সাত ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ। শৈশব থেকেই কাজী ফারুকী ছিলেন সহজ-সরল ও কোমল স্বভাবের। সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মহান স্রষ্টা ও ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস প্রভৃতি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন প্রফেসর কাজী নুরুল ইসলাম ফারুকী। ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি ছিলেন খুব আগ্রহী ও মেধাবী। আর এই ইচ্ছা এবং আগ্রহ তাঁকে পূর্ণতা দান করে। তাঁর স্বীয় মেধা, প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে তিনি আরোহন করেছেন সাফল্য ও মর্যাদার স্বর্ণশিখরে। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের সাথে তিনি অযথা সময় কাটাতেন না। তবে বই ছিল তাঁর বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম, তাই যেখানেই যেতেন বই তাঁর সঙ্গেই থাকত।
পারিবারিক জীবন
প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী ১৯৬৯ সালের ৪ মে লালমাটিয়া নিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মরহুম আসাদুল্লাহ সাহেবের বড় মেয়ে শামছুন নাহারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর শ্বশুর মরহুম আসাদুল্লাহ সাহেব ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার। শামছুন নাহার ফারুকী লালমাটিয়া মহিলা কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেন। শামছুর নাহার ফারুকী বেশ কয়টি বই রচনা করেছেন, তার মধ্যে উলেখযোগ্য হলো আধুনিক গার্হস্থ্য অর্থনীতি নীতিমালা। তিনি পরীক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন। কাজী ফারুকীর দাম্পত্য জীবন খুবই সুখময়। তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী। ছেলে-মেয়ে সকলেই প্রতিভার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তাঁর ছেলে ডাঃ কাজী নুরুল ফেরদৌস ঢাকা শিশু হাসপাতালের একজন শিশু সার্জারী বিভাগের রেজিস্ট্রার, বড় মেয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক, মেজ মেয়ে ঢাকা কমার্স কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং ছোট মেয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজী (বিইউবিটি) এর হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত; বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অধ্যয়নরত আছেন। তাঁর পুত্রবধূ একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, বড় জামাতা ডায়বেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ এবং মেজ ও ছোট জামাতা প্রাইভেট কোম্পানি ও ব্যাংকে উচ্চপদে কর্মরত। ৯ জন নাতি-নাতনি নিয়ে প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী-দম্পতি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে বেশ আনন্দময় জীবনযাপন করছেন। একজন আদর্শ শিক্ষকের মতো তিনি সবসময় ছাত্রদের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষা, মানবিক গুণাবলির বিকাশেও সবসময় নজর দিতেন। প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে তিনি সবসময়ই ভাবতেন কী করে এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা যায়, যাতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উন্নতি সাধন করা যায় এবং জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন হয়। তাঁর এই চিন্তাশক্তি অবশেষে ১৯৮৯ সালে বাস্তবে রূপান্তরিত হয়। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, সাধনা ও চিন্তাশক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি আদর্শ শিক্ষাকেন্দ্র ঢাকা কমার্স কলেজ; যার প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে তাঁর কঠোর পরিশ্রম। সম্পূর্ণ বেসরকারি উন্নয়ন প্রচেষ্টার ইতিহাসে ঢাকা কমার্স কলেজের জন্ম, অগ্রগতি ও প্রসারে প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী যে ভূমিকা পালন করেছেন, প্রচলিত কোনো ভাষা দিয়ে তার ব্যাখ্যা দেয়া সত্যি খুব কঠিন কাজ। যে শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ৭ বৎসরের মাথায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট হতে ১৯৯৬ ও ২০০২ এ ২ বার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করে। উল্লেখ্য যে, ৪ নভেম্বর ১৯৯৬ প্রথম বারের মতো জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে এবং ২০০২ সালে দ্বিতীয় বারের মতো জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ঢাকা কমার্স কলেজ শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে। এই মহতী প্রতিষ্ঠানের সফলতার পেছনে যাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী। তিনি বাংলাদেশের বাণিজ্য শিক্ষার স্থপতি। বাণিজ্য শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান অসামান্য।
শিক্ষাজীবন ধর্মীয় শিক্ষাটুকু গ্রামের মক্তব ও মায়ের কাছ থেকে। ৫-৬ বছর বয়সে তিনি দক্ষিণ চরমোহনা সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯৬১ সালে দালাল বাজার এন কে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন (বর্তমান এসএসসি) এবং ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ হতে ইন্টারমিডিয়েট (বর্তমান এইচএসসি) পাস করেন। ১৯৬৭ সালে বি কম (অনার্স) পাস করেন, ১৯৬৮ সালে এম কম করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে। ১৯৬৯ সালে সরকারি কর্ম কমিশন পরীক্ষায় (বর্তমান বি সি এস) সফলতার সহিত উত্তীর্ণ হন। ছেলেবেলায় ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হবেন এবং দেশ ও দশের সেবা করবেন। মেডিকেল কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর মেডিকেলে পড়া হয়নি। বাবা এবং বড় ভাই মরহুম প্রফেসর আখতারুজ্জামান সাহেবের নির্দেশে বাণিজ্য শিক্ষায় ভর্তি হন। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধারা এবং স্তর পার করতে তাঁকে যে অধ্যবসায়, নিরলস অনুশীলন ও ধৈর্য্য ধারণ করতে হয়েছে তা সত্যিই বিস্ময়কর।
প্রশিক্ষণ নায়েম কর্তৃক পরিচালিত ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাসে শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।
রেডিও-টেলিভিশনে অনুষ্ঠান শিক্ষকতা জীবনে বহুবার তিনি বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
কর্মজীবন শিক্ষার মতো তাঁর কর্মজীবনও বর্ণাঢ্য ও বহু প্রশংসনীয়। ১ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে প্রভাষক পদে টিএন্ডটি কলেজে যোগদানের মধ্যদিয়ে তাঁর দীর্ঘ প্রায় ৪২ বছরের শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরবর্তীকালে প্রভাষক, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ; প্রভাষক, তেজগাঁও কলেজ; প্রভাষক, জগন্নাথ কলেজে (৫ বছর); সহযোগী অধ্যাপক এবং চেয়্যারম্যান, ডিপার্টমেন্ট অব ম্যানেজম্যান্ট, ঢাকা কলেজ (১৮ বছর); প্রফেসর ও অধ্যক্ষ, নাগরপুর সরকারি কলেজ, টাঈাইল; চেয়্যারম্যান, ডিপার্টমেন্ট অব ম্যানেজম্যান্ট, কবি নজরুল সরকারি কলেজে। অবশেষে ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা কমার্স কলেজের অনারারি প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন।
সামাজিক কর্মকান্ড বাল্যকাল থেকেই প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছেন, সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উপদেষ্টা সংগঠক, উদ্যোক্তা, আহবায়ক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকা কমার্স কলেজ; উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ঢাকা মহিলা কলেজ; উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি); অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, লালমাটিয়া সরকারি প্রাইমারি স্কুল; প্রতিষ্ঠাতা, চরমোহনা উচ্চ বিদ্যালয়; লক্ষ্মীপুর বার্তা’র উপদেষ্টা; লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির সভাপতি; সাবেক সদস্য, অর্থকমিটি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (৭ বছর); সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশ বাণিজ্য শিক্ষা সমিতির অন্যতম উদ্যোক্তা, কোষাধ্যক্ষ ও আজীবন সদস্য; ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম গভঃ কমার্স কলেজ এলামনি এসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য ও নির্বাহী কমিটির সদস্য; বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন স্বেচ্ছা রক্তদাতা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বেচ্ছায় রক্ত দেয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দিতেন। ঢাকা কমার্স কলেজ যুগোপযোগী বাণিজ্য শিক্ষার অনুকরণীয় এক মডেল। তিনি সর্বদাই বিশ্বাস করতেন যে, পরিশ্রম, দূরদৃষ্টি, সততা, সুপরিকল্পনা এবং কাজ করার আগ্রহ থাকলে যে কোনো অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। এই উজ্জ্বল প্রতিভা এতসব করেও ক্ষান্ত হননি, তাঁর জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরে “প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজ” নামে একটি অত্যাধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে।
প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী কেবলমাত্র একজন শিক্ষাবিদ-ই নন; তিনি একজন সাহসী শিক্ষা উদ্যোক্তা, নীতিবান মানুষ, দক্ষ শিক্ষা-প্রশাসক এবং একজন অনুপ্রেরণার প্রতীকও বটে। আর এই শিক্ষাবিদ সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতিতে মরণোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গীকারবদ্ধ। এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে বহুসংখক মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা ইত্যাদি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন জগন্নাথ কলেজে কর্মরত। তখন তিনি শিক্ষকতার আড়ালে বহুবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ বহন করে, ঔষধ দিয়ে এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন।
রাষ্ট্রীয় ও অনান্য পুরস্কার প্রফেসর কাজী ফারুকী দেশের এক উজ্জ্বল প্রতিভা। এই প্রতিভা ১৯৯৩ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ঢাকা মহানগরীর শ্রেষ্ঠ কলেজ-শিক্ষক হিসেবে স্বর্ণপদক ও সনদপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি লায়ন নজরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয় হতে স্বর্ণপদক লাভ করেন। বাণিজ্য শিক্ষার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য ধরিত্রী বাংলাদেশ থেকে ২০১০ সালে সম্মাননা ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন বহুবার।
এছাড়া তিনি ২০১১ সালে রায়পুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পুরস্কার, ২০১২ সালে প্রফেসর শাফায়ৎ আহমাদ সিদ্দিকী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট পুরস্কার লাভ করেন।
দেশ-বিদেশ ভ্রমণ প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকীর শখের মধ্যে ভ্রমণ অন্যতম। তিনি বিভিন্ন সময় সৌদিআরব, সিঙ্গাপুর, চায়না, ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশ ভ্রমণ করেন। শুধু বিদেশ নয়, প্রফেসর কাজী ফারুকী তাঁর কর্মব্যস্ত জীবনে প্রায়ই সুযোগ করে কখনো তাঁর পরিবার, কখনো সহকর্মীদের, কখনো প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে ভ্রমণে বেরিয়েছেন বহুবার। তাঁর রচিত বই নিয়ে একসময় দেশের প্রায় প্রতিটি জেলার বহু কলেজে গিয়েছেন তিনি।
প্রকাশনা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ৪০টির মতো প্রবন্ধ প্রকাশ ছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতকোত্তর শ্রেণির ২০টি পাঠ্য বইয়ের লেখক। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা, উচ্চ মাধ্যমিক ব্যাকিং ও বীমা, উচ্চ মাধ্যমিক বাণিজ্যিক ভূগোল, কারবার সংগঠন পরিচিতি, মৌলিক ব্যবস্থাপনা, উচ্চতর ব্যাংকিং ও বীমা, হিসাব রক্ষণ ও হিসাব বিজ্ঞান (১ম ও ২য় খন্ড), বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও সচিবের কার্যপদ্ধতি, উচ্চতর কারবার সংগঠন ও পরিসংখ্যান, বাণিজ্যিক ও শিল্প আইন, কোম্পানি আইন। কবিতার বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো একুশের সংলাপ ও বসন্ত সংলাপ। শুধু তাই নয়, তিনি বেশ কয়েকটি ইসলামিক বইও রচনা করেন; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এক নজরে হজ্জ ও জেয়ারত।
মহৎ ও অনন্য কাজী ফারুকী প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী মানুষকে ভালোবেসেছেন সর্বান্তকরণে। তিনি অত্যন্ত কঠোর, কিন্তু তাঁর মন খুবই কোমল। যদি কানে আসত যে, কোনো ছাত্র অর্থের অভাবে লেখাপড়া করতে পারছে না; বিষয়টি তিনি ভাবতেন এবং পরবর্তী সময়ে এমন একটি সিদ্ধান্ত দিতেন, যাতে তার লেখাপড়াও হয় আর অনান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করে। গ্রাম-সমাজের সবার এক আপনজন তিনি। তাই সুখে-দুঃখে তাঁর কাছে হাজির হতো তারা সবাই। খুব ধনী ঘরের সন্তান ছিলেন না তিনি; তবুও জীবনের সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী সবসময়। তিনি সারাক্ষণ কাজ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এর বাইরে আর কোনো কিছু নিয়ে ভাবতেন না। তিনি তাঁর জীবনযাপনের প্রতিটি মূহুর্তে একটি কথাই বলতেন, কাজ করে খাও, কর্মের মধ্যেই জীবনের স্বার্থকতা। কোনো কাজকেই ছোট করে দেখ না। তিনি একজন সৎ ও মহৎ গুণাবলির মানুষ। জীবনে কোনোদিন কারোর কোনো অপকার করেননি, উপকার ব্যতীত। তিনি কোনোদিন হারাম উপার্জনে নিজকে জড়াননি। তাঁর মনে কোনোপ্রকার হিংসা ও লোভ নেই। তিনি কোনোদিন কারোর নিকট কিছু চাননি। তিনি যা কিছুই চাইতেন, তা আল্লাহর দরবারে। কোনো কাজ আরম্ভ করার আগে এবং পরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য তিনি সিজদায় পড়তেন এবং আল্লাহর নিকট দোয়া প্রার্থনা করতেন। কেবলমাত্র ধৈর্য ও কর্তব্যনিষ্ঠা একজন মানুষকে কোনো শিখরে আরোহন করাতে পারে তার সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী।
কর্মই মানুষকে বিশাল করে, বৃহৎ করে, মহৎ করে। আজ এক গৌরবময় জীবনের মধ্যে বিরাজমান প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকী। শৈশব, কৈশোর, যৌবনের সেই সংগ্রামী দিনগুলোতে আজ এক অসামান্য মাত্রা দিয়েছে। দেশে ও বিদেশে শিক্ষায় তাঁর কর্মধারা খুবই অনুকরণীয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক কথায় সর্বক্ষেত্রে তাঁর বিচরণ ছিল সাবলীল ও গৌরবদীপ্ত।
মানুষকে ভালোবাসায় সিক্ত প্রফেসর কাজী মোঃ নুরুল ইসলাম ফারুকীর অগ্রযাত্রা আরো গৌরবমন্ডিত ও উজ্জ্বল হোক। আমাদের মতে তিনি বাংলাদেশের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও সংগঠক, বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর কাজী ফারুকী বর্তমানে পার্কিন্সন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। তিনি সকলের নিকট দোয়াপ্রার্থী।
প্রতিবেদকঃ মোহাম্মদ মোস্তফা এবং সফিউল আলম টিপু