Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

বৃহত্তর নোয়াখালীর র্সূযসন্তান, সারাদশেরে গৌরব ওবায়দুল কাদের

জন্ম ও শিক্ষা ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ওবায়দুল কাদের। বাবা মোশারফ হোসেন সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে জনশিক্ষা প্রসারের স্বার্থে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন। ওবায়দুল কাদের বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। অতঃপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
ছাত্র-রাজনীতি কলেজ জীবন থেকে ছাত্র-রাজনীতি শুরু করেন ওবায়দুল কাদের। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) অধিনায়ক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন। ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যার পর এক নাগাড়ে দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরপর দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।
লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনা তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত থাকেন। দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। রচনা করেছেন ৮টি গ্রন্থ। গ্রন্থগুলি হলো ইধহমষধফবংয: অ জবাড়ষঁঃরড়হ ইবঃৎধুবফ যা ১৯৭৬ সালে কলকাতা মনীষা পাবলিশার্স প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশের হৃদয় হতে, পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু, এই বিজয়ের মুকুট কোথায়, তিন সমুদ্রের দেশে, মেঘে মেঘে অনেক বেলা। রচনা সমগ্র কারাগারে লেখা অনুস্মৃতি: যে কথা বলা হয়নি, নির্বাচিত কলাম ও গাংচিল
রাজনৈতিক জীবন ওবায়দুল কাদের বিগত ১২ জুন ’৯৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২৩ জুন ’৯৬ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিনে যুব-ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সৎ ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। ২০০২ সালের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন থেকে ২০০৯ এর সম্মেলন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ১/১১ পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তিনি ২০০৭ সালের ৯ মার্চ জরুরি বিধিতে গ্রেফতার হয়ে ১৭ মাস ২৬ দিন কারাবরণ করেন। ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন। কারাগারে থাকাকালে কারাজীবনের বর্ণনা দিয়ে “অনুস্মৃতিঃ যে কথা বলা হয়নি” লেখেন। তিনি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর পুনরায় দ্বিতীয়বারের মতো নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন।
মহাজোট সরকারের মন্ত্রী ও স্বপ্নের পদ্মাসেতুর চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালন ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর বঙ্গভবনে মহাজোট সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, যা একটি চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব; যার অধীনে রয়েছে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের দুনিয়া-কাঁপানো শেখ হাসিনার ঘোষণা। বিশ্বব্যাংকে চ্যালেঞ্জ করেই এ সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা। চীনের কারিগরি সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। সেই পদ্মাসেতুর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে ওবায়দুল কাদেরের উপর। সৈয়দ আবুল হোসেন পদ্মাসেতুর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ায় কিছুটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ওবায়দুল কাদেরকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার পর অবস্থা রাতারাতি পাল্টে গেল। ইতোমধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা দুনিয়া-কাঁপা ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর বাস্তবায়ন করবে। স্তম্ভিত হলো বিশ্বের সচেতন মানুষ। এওকি সম্ভব! কিন্তু বঙ্গবন্ধু-কন্যার নির্দেশনায় সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলছেন ওবায়দুল কাদের। পদ্মাসেতুর কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। বাংলাদেশে বিশাল প্রকল্প, এটি বাংলাদেশের সম্মান ও গৌরবকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সারাক্ষণ অফিসে থাকেন না, অফিসিয়াল কাজেই তিনি বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন, কাজের অগ্রগতি দেখেন, বিভিন্ন সমস্যা পর্যালোচনা করেন, তাৎক্ষণিক সমাধান দেন অথবা সমাধান দেয়ার জন্য টেক-আপ করেন। ওবায়দুল কাদের কিছুদিনের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন স্বাধিকার, স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আন্দোলন-সংগ্রামে পোড়-খাওয়া সংগঠন। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের ২০১৬-২০১৯ মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে যে দলের অভিযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী সেই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন। তৃণমূলে এ নেতার সারাদেশব্যাপী রয়েছে লক্ষ লক্ষ ভক্ত-অনুরাগী, সমর্থক, সহযোগী, সহযোদ্ধা যারা তাঁর ডাকে অকুন্ঠচিত্তে সাড়া দেয়, সবকিছু ফেলে ছুটে আসে। বিশেষ করে বৃহত্তর নোয়াখালীর তরুণরা তাঁর উপর অবিশ্বাস্য আস্থার পরিচয় দিয়েছে। ওবায়দুল কাদের এদেরকে ভালোভাবে দেশের কাজে লাগাতে পারবেন। দেশের প্রাচীনতম সর্বাধিক জনপ্রিয় দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব লাভের পর ওবায়দুল কাদের একে দীর্ঘদিনের ছাত্র-রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিরাট অর্জন বলে মনে করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করেন, শেখ হাসিনা সঠিকভাবে ওবায়দুল কাদেরের মূল্যায়ন করেছেন। দায়িত্বভার গ্রহণের পর ওবায়দুল কাদের আরও বিকশিত হয়ে উঠছেন, বিরোধীদের নেতিবাচক রাজনীতির পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছেন; বিরোধীদলের জাঁদরেল নেতারাও তাঁর সাথে পাল্লা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। মাঠের রাজনীতির সফল সংগঠক ওবায়দুল কাদের মন্ত্রিত্বের গুরুদায়িত্বের পাশাপাশি নিজ সংগঠন আওয়ামী লীগকেও সাংগঠনিক রূপ দিচ্ছেন, ঢেলে সাজাচ্ছেন। মূল দল ও অঙ্গসংগঠনসমূহে ব্যাড ইলিমেন্ট ঢুকে পড়েছে; এরা ক্ষমতাসীন দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে লিপ্ত হচ্ছে; এরা আওয়ামী লীগের আদর্শের রাজনীতি করে না; এরা সুকৌশলে দলে উপদল তৈরি করে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। তৃণমূলের নেতা ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় নতুন আশায় উদ্দীপ্ত হলো দলের লাখো নেতা-কর্মী। তারা আশায় বুক বাঁধল এবার সংগঠন তৃণমূল থেকে কর্মকান্ড শুরু করবে। এটাত’ অস্বীকার করা যায় না যে, কর্মসূচি ঘোষণা করে কোনো কোনো দলের নেতা-কর্মীরা বাসার বাইরে আসেন না, নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে ফিরে যান, সিনিয়রদের পিছটানের নিন্দা করেন। কর্মসূচি ঘোষণা করে সিনিয়ররা যদি ঘুমিয়ে থাকেন, কিংবা যদি বিদেশি ছবির সিরিয়াল উপভোগ করেন, তাহলে তাদের সম্পর্কে ক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়া এমনটিই আশা করা যায়। ওবায়দুল কাদের অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, তাঁর নেতা-কর্মীদেরকে তাঁর সম্পর্কে এমনটি ভাবতে হয় না। ওবায়দুল কাদের অবিরাম কাজ করে যান, তাঁর অবসর নেই। তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্বকে তিনি নিয়েছেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে। এ অদম্য তরুণ নেতৃত্ব জাতীয় নেতৃত্বে অভিষিক্ত হবার পর রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। ব্যক্তি ও ভবন-কেন্দ্রিক নেতিবাচক রাজনীতির দিন শেষ হয়ে আসছে। ওবায়দুল কাদের তৃণমূল থেকে তরুণদেরকে আকর্ষণ করছেন সুস্থ রাজনীতির মহাসড়কে। ওবায়দুল কাদের দল গোছানোর কাজেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, আওয়ামী লীগের ভেতরের জটিলতা দূর করা তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় বলে মনে করেন তিনি। খুব সাহসিকতার সাথে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তিনি দল ও অংগসংগঠনসমূহকে পুনঃগঠিত করবেন, আদর্শহীন লোক দিয়ে যে আওয়ামী লীগের মতো গণভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত দল কার্যকরভাবে চলতে পারে না, তা তাঁর কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য জোড়াতালি দেয়া কোনো সমাধানের দিকে না গিয়ে তিনি এর স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করবেন এটিই প্রত্যাশা।
নোয়াখালীর অহংকার ওবায়দুল কাদের বৃহত্তর নোয়াখালীর রাজনীতিতে নেতৃত্বশূন্যতা বা নেতৃত্ব সংকট বিরাজ করছে। সিনিয়র নেতারা যাঁরা সারাদেশের নেতৃত্ব দিতেন, তাঁদের প্রায় সবাই বিদায় নিয়েছেন। নতুন নেতৃত্ব তেমন গড়ে উঠছে না, যারা ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরবেন। এমন সময়ে ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখিয়েছে, তাতে তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওবায়দুল কাদের প্রবীণদের দলে চলে যাননি; তিনি তরুণ, সম্ভাবনাময়, প্রতিশ্রুতিশীল নেতৃত্বের মূল্যায়ন করে তাদেরকে নিয়ে রাজনীতির মাঠে থাকতে চান। বিশাল কর্মীবাহিনী তাঁকে ঘিরে গড়ে উঠছে, যারা শেখ হাসিনার দেশগড়ার নিবেদিত সৈনিক। ওবায়দুল কাদের দলের নেত্রীর কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলিষ্ঠগতিতে। ওবায়দুল কাদের তাঁর নেত্রীকে হতাশ করবেন না, তাঁর ক্যারিশমেটিক কার্যক্রম দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গণতন্ত্র চর্চাকে সহজ করে তুলবেন, অবহেলিত অঞ্চল বৃহত্তর নোয়াখালীকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে তাঁর মেধা, মনন, ধীশক্তিকে কাজে লাগাবেন এটি বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীদের প্রত্যাশা। -প্রতিবেদনঃ মোহাম্মদ মোস্তফা