Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

লক্ষ্মীপুরে কেউ শিল্প স্থাপন করতে চাইলে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব -শাহজাহান কামাল

১৬ জুন ঢাকা লেডিস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিল। সমিতির ডায়নামিক সভাপতি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল, লক্ষ্মীপুর-১ সংসদ সদস্য লায়ন এম এ আউয়াল, সাবেক মন্ত্রী আ স ম আব্দুর রব, সাবেক এমপি এম এ গোফরান, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক শামসুল ইসলাম, সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ, অধ্যাপক ডাঃ তোফায়েল আহমেদ, এ জে গ্রুপ এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, গ্রেটওয়াল সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ এর এমডি সামছুল হুদা, সজিব কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান এম এ হাসেম, লক্ষ্মীপুর বার্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল, বায়োফার্মা লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ আনোয়ারুল আজিম, সাবেক বীমা নিয়ন্ত্রক শামসুদ্দীন আহমেদ, এনটিভি’র নিউজ এডিটর আবদুস শহিদ, বিজেম এর ফাউন্ডার মীর্জা তারেকুল কাদের, কবি নাহিদ রোকসানা, এডভোকেট এম এন জামান, এডভোকেট রেজাউল করিম নিজাম প্রমুখ।
আরও উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির তিন সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাব্বত উল্যাহ্ সিআইপি, এ কে এম জসীম উদ্দিন, এডভোকেট শফিক মাহমুদ পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফকরুল হায়দার চৌধুরীসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও সুশৃঙ্খল এ ইফতার মাহফিলে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তারা এ সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য যে, উক্ত অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সজিব কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান এম এ হাসেম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফকরুল হায়দার চৌধুরী।
ইফতার মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা রাখেন লক্ষ্মীপুরবাসীদের সুখ-দুঃখের চিরসাথী, স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা, জননন্দিত-নীতিনিষ্ঠ-প্রবীণ রাজনীতিবিদ এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি। তিনি বলেন লক্ষ্মীপুরে কেউ শিল্প স্থাপন করতে চাইলে তাঁকে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। বিসিক শিল্পনগরীতে বিনামূল্যে প্লট এর ব্যবস্থা করে দেব, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব; প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁকে নিয়ে যাব। তিনি বলেন সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ্মীপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মজুচৌধুরীর হাটে আন্তর্জাতিক মানের নৌবন্দর স্থাপনসহ যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধন ঘোষণা করেন, সেসব প্রকল্প দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নে আমি সরকারের মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছি এবং উন্নত ও আধুনিক লক্ষ্মীপুর প্রতিষ্ঠায় আমি নিরলস কাজ করছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমার কাছে যেমনি আপনাদের অনেক দাবি আছে, তেমনি আপনাদের নিকটও আমার কিছু দাবি আছে। সে হিসেবে লক্ষ্মীপুরে একটি করে শিল্প-কারখানা স্থাপন করার জন্য আমি লক্ষ্মীপুরের সকল শিল্পপতি ও বিত্তশালীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। লক্ষ্মীপুরের যেকোনো উন্নয়নকর্মে আমি আপনাদের সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
তিনি আরও বলেন একসময় লক্ষ্মীপুরের দুর্নাম রটেছিল সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে। সে দুর্নাম ঘুচিয়ে নতুন প্রত্যয়ে নতুন প্রজন্ম দেখতে চায় নতুন লক্ষ্মীপুরকে। দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় লক্ষ্মীপুরকে শান্তির জনপদে পরিণত করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছি।
আ স ম আব্দুর রব বলেন লক্ষ্মীপুরের সন্তান হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণ করেছি বলেই আমি আ স ম আব্দুল রব হতে পেরেছি। লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতি অন্যান্য জেলা সমিতির কাছে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। আমি এ সমিতির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
সভাপতির বক্তব্যে ত্যাগী সমাজসেবী, শিক্ষার একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, উদারপ্রাণ শিক্ষাদ্যোক্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিল্প-বাণিজ্যের পুরোধা, লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির ডায়নামিক সভাপতি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতি অন্যান্য জেলা সমিতির কাছে একটি অনুসরণীয়-অনুকরণীয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন আজকের ইফতার আয়োজনে আমরা কোনো চাঁদা নেইনি; সমিতির নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিগত অর্থায়নে ও উদ্যোগে আজকের এ ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির নিজস্ব ৬ তলা একটি বিল্ডিং আমরা তৈরি করেছি। সেখান থেকে কিছু অর্থ আয় হচ্ছে, যা আমরা অন্যখাতে ব্যয় না করে লক্ষ্মীপুরের গরিব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানসহ শিক্ষার উন্নয়নে ব্যয় করছি। আমি অনুরোধ করব পরবর্তীতে যাঁরা এ সমিতির দায়িত্বে আসবেন, তাঁরাও এ অর্থ অন্যখাতে ব্যয় না করে শিক্ষার উন্নয়নেই ব্যয় করবেন। এতে শিক্ষার ক্ষেত্রে লক্ষ্মীপুরের অতীত গৌরব পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।