Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

নোয়াখালীতে যথেচ্ছ গতিরোধক সড়কে ঝুঁকি আর ভোগান্তি

নোয়াখালীর বিভিন্ন সড়কে অপরিকল্পিত ও নিয়মবহির্ভূতভাবে গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক যান চলাচলে যেমন বিঘœ ঘটছে, তেমনি ঝুঁকি বাড়ছে দুর্ঘটনার। যদিও দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যেই সরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগে এসব গতিরোধক নির্মাণ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এসব গতিরোধককে কিছুক্ষেত্রে বেআইনি বললেও অপসারণে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
সওজ ও এলজিইডি সূত্র জানায়, গতিরোধক নির্মাণের কোনো নিয়মনীতি নেই। দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয়রা রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে ওই স্থানে গতিরোধক দিতে দপ্তরগুলোকে বাধ্য করে। কখনো কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই স্থানীয়রা উদ্যোগী হয়ে কোনোরকম ইট গেঁথে ঢালাই দিয়ে গতিরোধক নির্মাণ করে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো করলে কিছুটা নিয়ম মেনে করে। কিন্তু স্থানীয়রা এসবের ধার ধারে না অথবা নিয়ম জানেও না।
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একাধিক বিশেষজ্ঞ ও ঠিকাদার বলেন, সড়কে শুধু গতিরোধক নির্মাণ করলেই হয় না। একে নিরাপদ ও কার্যকর করতে হলে কিছু আনুষঙ্গিক বিষয় যোগ করতে হয়, যেমনÑ দূর থেকে চালকদের চোখে পড়ে, গতিরোধকে এমন রঙ ব্যবহার করতে হয়; গতিরোধকের বেশ কয়েক গজ দূরে দৃশ্যমান স্থানে সাইনবোর্ডে নির্দেশনা লিখে দিতে হয়, যাতে চালকরা আগেই সতর্ক হন। কিন্তু এখানকার গতিরোধকগুলোয় এসব মানা হচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনা এড়ানোর জায়গায় আরো বেশি দুর্ঘটনা ঘটনার আশঙ্কা থাকছে।
সম্প্রতি জেলার বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে এমন অসংখ্য গতিরোধক চোখে পড়েছে, যেগুলো অহেতুক, নিয়মবহির্ভুত ও অপরিকল্পিত। একটি ২০ কিলোমিটার সড়কে ২০-২৫টি গতিরোধক চোখে পড়েছে। কোনো কোনো স্থানে ৫০০-৭০০ গজের মধ্যে পাঁচ-ছয়টি গতিরোধক রয়েছে। মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, এমনকি একটিমাত্র দোকান রয়েছে, এমন স্থানেও রয়েছে গতিরোধক। এসবের একটিতেও রঙ লাগানো হয়নি, নেই সাইনবোর্ড। কিছু গতিরোধক কয়েক হাত দূর থেকেও শনাক্ত করা কঠিন, কিছু এত উঁচু যে, নিয়ন্ত্রিত গতিতে পার হওয়াও কঠিন। এছাড়া বেশিরভাগ ভাঙাচোরা।
জেলার সোনাপুর জিরো পয়েন্টের দক্ষিণ পাশে মুরগির ফার্ম হয়ে পূর্বদিকে সোনাপুর-আবদুল্যাহ্ মিয়ারহাট সড়কে আধা কিলোমিটারের মধ্যে সাতটি গতিরোধক। সবগুলোই স্থানীয় উদ্যোগে নির্মাণ করা। একই অবস্থা জেলা শহর মাইজদীর শিল্পকলা একাডেমি হয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যাওয়ার সড়কটিরও। জেলা শহর থেকে একটু দূরে বছিরার দোকান থেকে কাশেম বাজার মাদ্রাসা ও এতিমখানা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার পথে অন্তত ১৫টি গতিরোধক। এর মধ্যে দানামিয়ার বাজারেই রয়েছে তিনটি। একটিতেও রঙের ব্যবহার নেই। কোথাও দেখা মেলেনি নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ডের চিহ্ন।
জেলা শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুরের বাসিন্দা রিয়াজ বলেন, মোটরসাইকেলে করে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট যেতে তার সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগার কথা। গতিরোধকের কারণে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট লাগে। তিনি বলেন, যারা এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করে, তারা গতিরোধকের অবস্থান জানে, কিন্তু নতুন কেউ এলে নির্ঘাত দুর্ঘটনায় পড়বে।
জানতে চাইলে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুর রহমান বলেন, যেকোনো ধরনের গতিরোধক নির্মাণ বন্ধ রয়েছে। জেলায় সড়ক বিভাগের যে কয়টি সড়ক রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগের মধ্যে গতিরোধক নেই বলে তার দাবি। তবে কিছু কিছু স্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটাও স্থানীয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুরোধে করা হয়েছে। গতিরোধকে রঙ ও নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, সামনে গতিরোধকগুলোয় রঙের ব্যবহার ও নির্দেশনা দেয়ার জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।
সড়কে গতিরোধক নির্মাণের নিয়মনীতি না থাকার কথা জানিয়েছেন নোয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম। তিনি সড়কে অপরিকল্পিত, নিয়মবহির্ভূত ও অহরহ গতিরোধক থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের গতিরোধকগুলো নির্মাণ করতে হচ্ছে। আবার বেশিরভাগ স্থানে স্থানীয়রাই গতিরোধক নির্মাণ করছে, যা কোনোভাবেই উচিত নয় এবং অপরাধও।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় জেলা সমন্বয় সভায় এসব বিষয় উপস্থাপন হলেও নানা কারণে অপসারণে উদ্যোগ নিতে পারছেন না তারা। তারপরও আগামীতে যেকোনো সমন্বয় সভায় গতিরোধক অপসারণের বিষয়ে আলোচনা ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
-মোবাশে^র হোসাইন বাশার