Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
রোহিঙ্গা ইস্যুতে লক্ষ্মীপুরে স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার সংগঠনের মানববন্ধন  লক্ষ্মীপুরে সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক মহিলা সমাবেশ  বর্ণাঢ্য আয়োজনে লক্ষ্মীপুরে সোনাপুর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী  শিক্ষিকাকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জে সহকারী শিক্ষক সমিতির মানবন্ধন  লক্ষ্মীপুরে ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল 

লক্ষ্মীপুরে রহমতখালী খালের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, বাজার ও ফসলি মাঠ

লক্ষ্মীপুরে রহমতখালি খালের তীব্র ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এছাড়াও বিলীন হচ্ছে শত শত ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, বাজার ও ফসলি মাঠ; হুমকির মুখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ। ভাঙ্গনের ফলে গৃহহারা হয়েছে শত শত পরিবার। গত কয়েক বছর ধরে এই ভাঙ্গন চলে আসলেও এখন এ ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করেছে। রহমতখালী খালের ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে অতিবৃষ্টির কারণে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর জেলার পানি সরতে গিয়ে রহমতখালী খাল দিয়ে প্রবল বেগে স্রোতের কারণে এ ভাঙ্গন তীব্র হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় জরুরিভিত্তিতে ব্লক ও পাথর বাঁধ দেয়া হলে রোধ হতে পারে ভাঙ্গন। পানি উন্নয়ন বোর্ড লক্ষ্মীপুর জেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলার দাগনভূইয়া, নোয়াখালী জেলার সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, বেগমগঞ্জ ও চাটখিল উপজেলাসহ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ, সদর উপজেলার একমাত্র পানি প্রবাহের মাধ্যম রহমত খালী খাল। এই রহমতখালী দিয়ে এই তিন জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পানি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট এলাকা দিয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে। গত চার দশকেও এই খালটির পলি অপসারণ না করায় খালের নাব্য কমে যাওয়ায় পানি প্রবাহে বিঘœ ঘটছে। এতে খালের দুই পাড়ে পানির স্রোত আঘাত করে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট এলাকা পর্যন্ত এই বিশাল এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে রহমত খালী খালের ভাঙ্গন। কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মাঠ ও পাশর্^বর্তী শেখপুর গ্রামের বেশকিছু এলাকায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ব্রিজ বর্তমানে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এছাড়া আন্ডারঘর কামার হাট সড়কের আন্ডারঘর ব্রিজ, দিঘলী এলাকায় মান্দারী দাসের হাট সড়কের দিঘলী ব্রিজ মান্দারী-তেয়ারীগঞ্জ সড়কে অবস্থিত ওয়াফদা আমিন বাজার ও ওয়াফদার ব্রিজ, জকসিন-ভবানীগঞ্জ সড়কের যুগীরহাট বাজার ব্রিজ ও চাঁদখালী এ রব উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদখালী বাজার তীব্র ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে। লাহার কান্দি ইউনিয়নের চাঁদখালী, রামানন্দি ও আটিয়াতলী এবং লাহারকান্দি গ্রামের কয়েকশ পরিবার ইতোমধ্যে রহমত খালীর ভাঙ্গনে বসতভিটাহারা হয়েছে। এই এলাকার ভাঙ্গন মেঘনা উপকূলের ভাঙ্গনকেও হার মানিয়েছে। এই এলাকার প্রায় ৫০ একর জমি ইতোমধ্যে রহমত খালী খালে বিলীন হয়ে গেছে। চাঁদখালী-লক্ষ্মীপুর সড়কটিও এই খালে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন মানুষ লক্ষ্মীপুর শহরে যাতায়াত করতে পারছে না। স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন পাটওয়ারী মশু জানান, এই ভাঙ্গন রোধ করতে স্থানীয়ভাবে বাঁশ ও গাছের গুড়ি এবং বালুর বস্তা ফেলেও কোনো কাজ হয়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান সম্প্রতি ভাঙ্গন কবলিত আটিয়াতলী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, একটি খাল এভাবে রাক্ষুসী হয়ে উঠতে পারে, তা না দেখলে বিশ^াস করা যায় না। এছাড়া টুমচর ইউনিয়নের পেয়ারাপুর খালের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের্^ তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এরফলে লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের পেয়ারাপুর ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই ইউনিয়নের কালির চর, তুলাতলী, টুমচর ও লক্ষ্মীপুর শহরের আইয়ূব আলী পুল এলাকায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে আইয়ূব আলীর পুল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া চররমনী মোহন ইউনিয়নের চরআলী হাসান গ্রামেও ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। চরআলী হাসান থেকে পশ্চিম দিকে মজু চৌধুরীর হাটে অবস্থিত রহমত খালী রেগুলেটরের মুখ পর্যন্ত এই ভাঙ্গন বিস্তৃত রয়েছে। এই বিশাল এলাকাজুড়ে ভাঙ্গনের কারণে অনেক মানুষ ঘর বাড়ি হারা হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়াল জানান, লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য এক সময় রহমত খালী নদী ছিল জমে থাকা পানি সরানোর রহমত। এখন তিনটি জেলার পানি সরতেই রহমত খালী নদীর ভাঙ্গনে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। পানির স্রোতের তোড়ে ভাঙছে বাড়িঘরসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও। ভাঙ্গনের ফলে এলাকার গরিব-অসহায় ও বেকারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাঙ্গন রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকেীশলী গাজি ইয়ার আলী জানান কুমিল্লা, লাকসাম, নোয়াখালীর পানি লক্ষ্মীপুর রহমত খালী নদী হয়ে মজুচৌধুরীর হাট হয়ে মেঘনা নদীতে প্রবাহিত হয়। গত বছরের তুলনায় এবার প্রস্তাবিত নৌ-বন্দর মজুচৌধুরীর হাট এলাকার বেড়িবাঁধসহ টুমচর, কালির চর এলাকা ইতোমধ্যে ভাঙ্গনরোধে বরাদ্দ চেয়ে প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে। ভাঙ্গন ঠেকাতে চলতি মৌসুমে সদর উপজেলার যুগীর হাট ব্রিজ এর দক্ষিণ পাড়ে রামনন্দি গ্রামের ২০০ মিটার এলাকায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে গাছের বল্লি ও বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে চাঁদখালী এ রব উচ্চ বিদ্যালয় এর সামনে একই কায়দায় বাঁধ দেয়া হয়েছিল।
-মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম