Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
রোহিঙ্গা ইস্যুতে লক্ষ্মীপুরে স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার সংগঠনের মানববন্ধন  লক্ষ্মীপুরে সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক মহিলা সমাবেশ  বর্ণাঢ্য আয়োজনে লক্ষ্মীপুরে সোনাপুর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী  শিক্ষিকাকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জে সহকারী শিক্ষক সমিতির মানবন্ধন  লক্ষ্মীপুরে ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল 

বছরের পর বছর অকেজো ফেনীর ৬ সরকারি হাসপাতালের এক্সরে যন্ত্র

ফেনীতে চার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ছয়টি সরকারি হাসপাতালের এক্সরে যন্ত্রগুলো বছরের পর বছর অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এরফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দরিদ্র রোগীদের বেশি টাকা খরচ করে বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র ও ক্লিনিক থেকে এক্সরে করতে বাধ্য হচ্ছে।
ফেনী জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে সোনাগাজী, দাগনভূঞা, ফুলগাজী ও পরশুরাম এই চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং জেলার বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে গত ৫ থেকে ১০ বছর ধরে এক্সরে যন্ত্র নষ্ট। অপরদিকে ২৫০ শয্যার ফেনী সদর হাসপাতাল ও ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে যন্ত্র থাকলেও রেডিওলজিস্ট না থাকায় সেগুলোও অকেজো পড়ে আছে।
ফেনী সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে গরিব ও অসহায় রোগীদের এক্সরে করতে কোনো ফি নেয়া হয় না। কিন্তু অপেক্ষাকৃত সচ্ছল রোগীদের জন্য এক্সরে করতে ফি দিতে হয় ৫৫ থেকে ৭০ টাকা। তবে এক্সরে যন্ত্র নষ্ট থাকায় গরিব রোগীরা এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বেসরকারি ক্লিনিকে এক্সরে করাতে খরচ পড়ে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলম বলেন, গত ১০ বছর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে যন্ত্র দু’টি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টও নেই এ হাসপাতালে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি।
পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক বছর ধরে এক্সরে যন্ত্র নষ্ট রয়েছে। পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল খালেক মাছুম বলেন, গত ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নতুন এক্সরে যন্ত্র স্থাপন করা হলেও চার মাসের মাথায় সেটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর একাধিকবার লেখালেখি হলেও এটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। হাসপাতালে দু’টি এক্সরে যন্ত্রই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। তবে এ হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছে।
ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াছ বলেন, গত প্রায় আড়াই বছর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে যন্ত্র দু’টি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এক্সরে বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্টকেও ঢাকার একটি হাসপাতালে প্রেষণে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। একই অবস্থা দাগনঞূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও। দাগনভূঞা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল খায়ের মিয়াজী বলেন, এক্সরে যন্ত্র দু’টি দীর্ঘদিন নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই।
ফেনী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের এক্সরে যন্ত্রটি ২০১০ সাল থেকে নষ্ট বলে জানান সেখানকার জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্টও নেই। রোগীদের প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ফেনী শহরে গিয়ে এক্সরে করাতে হয়।
অপরদিকে ফেনীর ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারের এক্সরে যন্ত্র এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়নি। গত ৮ থেকে ৯ বছর ধরে যন্ত্রটি এভাবেই পড়ে আছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় যন্ত্রটি চালু হয়নি। ফেনীর সিভিল সার্জন বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে যন্ত্র নষ্ট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিন থেকে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালের এক্সরে যন্ত্রগুলো ঠিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো ফল হয়নি। ফলে জেলার সাধারণ মানুষ বেশি টাকা খরচ করে প্রাইভেট সেন্টারগুলো থেকে এক্সরে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে।