Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
রোহিঙ্গা ইস্যুতে লক্ষ্মীপুরে স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার সংগঠনের মানববন্ধন  লক্ষ্মীপুরে সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক মহিলা সমাবেশ  বর্ণাঢ্য আয়োজনে লক্ষ্মীপুরে সোনাপুর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী  শিক্ষিকাকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জে সহকারী শিক্ষক সমিতির মানবন্ধন  লক্ষ্মীপুরে ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল 

নোয়াখালী খাল আর নোয়াখালীর দুঃখ হয়ে থাকবে না -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দক্ষিণের জেলা নোয়াখালীর মানুষকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সঙ্কট থেকে মুক্তি দিতে নোয়াখালী খাল সংস্কার ও পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪ জানুয়ারি ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হোয়াংহো আর চীনের দুঃখ নাই। আমি চাই, নোয়াখালী খালও আর নোয়াখালীর দুঃখ হয়ে থাকবে না। ৩২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নোয়াখালী খাল এবং জেলার ২৩টি খালের পুনঃখনন করা হবে। সেই সঙ্গে ১৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় ১৮২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, বামনি নদীতে ড্রেজিং, সøুইস গেইট, ক্লোজার ও রেগুলেটর নির্মাণ এবং ১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ করা হবে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে একনেকের অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই কবিরহাট উপজেলার ধান শালিক এলাকায় খাল পুনঃখনন কাজ শুরু করা হয়। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তার আগেই তা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, নেয়াখালী অনেক পুরনো জেলা হলেও সবসময় ‘একটু অবহেলিত’ থেকে গেছে। উপকূলের কাছাকাছি বলে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে এ জেলার মানুষকে বাঁচতে হয়। এ কারণে তারা কষ্টসহিষ্ণু। যখনই আমি নোয়াখালী গিয়েছি, তখনই আমি শুনেছি নোয়াখালী খালের কথা। এই খালটা কেটে দিলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। এটা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা খালটা করে দেব।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নোয়াখালী খাল পুনঃখননে সমীক্ষা শুরু হলেও পরের মেয়াদে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-জামায়াত সরকার যে তা আর এগিয়ে নেয়নি, সে কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার আশা করছে, নোয়াখালীর খাল পুনঃখনন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।
এই প্রকল্পটি ভূমি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলেও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করেন।
ভিডিও কনফারেন্সের ঢাকা প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নোয়াখালীর এমপি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া নতুন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক। আর নোয়াখালী প্রান্তে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার মোঃ ইলিয়াছ শরীফ, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন শাহীনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।