Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

অপার সম্ভাবনার জেলা নোয়াখালী

সাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বৃহত্তর নোয়াখালী। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এই জেলার বীর সন্তানরা। কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা এ অঞ্চলের সম্ভাবনাও রয়েছে অনেক। উন্নত যোগাযোগ, উপকূলীয় অঞ্চলে অবকাঠামো গড়ে তোলাসহ এখানে অর্থনৈতিক ও পর্যটন জোন দাবি জেলাবাসীর। নোয়াখালীর নানা সমস্যা আর সম্ভাবনা নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নিচে তুলে ধরা হলো। (প্রতিবেদনটি ২০১৬ সালে তৈরিকৃত)

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে
মহিউদ্দিন চৌধুরী বাহার

জেলা কর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বাহার জানান, বিশাল চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত নোয়াখালী। এসব চর এলাকা থেকে উঠে আসছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি। এ আইনজীবী নেতার মতেÑ যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি হলে সুবর্ণচর, হাতিয়া, চরএলাহী, চর লেংটা, নিঝুমদ্বীপ, কেরিংচর এলাকায় ছোট শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটনের জন্য চেয়ারম্যানঘাট ও নিঝুমদ্বীপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ। জেলার পর্যটন শিল্প থেকে প্রতি বছর আয় করা সম্ভব কোটি কোটি টাকা। জেলা সদর সোনাপুর থেকে দক্ষিণে চরবাটা-চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। জীবনমানের উন্নতি হবে জেলাবাসীর। তারা অর্থনীতিতে আরও অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। নোয়াখালীর উন্নতি হলে বাংলাদেশের উন্নয়নে তা প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

নোবিপ্রবি হতে পারে উন্নয়নের ‘লাইট হাউস’
এম অহিদুজ্জামান

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) আগামী দিনে সম্ভাবনার বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে বলে মত প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। তিনি বলেনÑ এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত সূচনা করবে। আর এক্ষেত্রে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে উন্নয়নের ‘লাইট হাউস’। সমুদ্র ও নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এই জেলা ব্লু-ইকোনমির প্রাণকেন্দ্র হতে পারে। এখানকার সমুদ্র সম্পদ খুলে দিতে পারে সম্ভাবনার দ্বার। এখানে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন, সেক্ষেত্রে এই জেলা এবং এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে বাতিঘর। এখানকার ভৌগোলিক সুবিধাই আমাদের সেই জায়গায় নিয়ে যাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই শিক্ষাবিদ।

অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা সম্ভব
ইসমাইল হোসেন

শিল্পোদ্যোক্তা ও সমাজসেবক মোঃ ইসমাইল হোসেনের মতে, দুর্যোগপূর্ণ জেলা হিসেবে পরিচিত নোয়াখালীতে জেগে উঠছে নতুন নতুন চর। এসব চরে বনায়নের যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি ভূমিহীন পরিবারকে খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে পুনর্বাসন করা যেতে পারে। তিনি বলেন, জেলায় খাদ্যশস্যের উৎপাদনও বাড়ছে বিস্ময়করভাবে। কৃষি ও শিল্পেও সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক সম্ভাবনার। এজন্য কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগ বীজ বর্ধন খামার, লবণ সহনীয় জাত উৎপাদন, ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, পুষ্টি গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে। সুবর্ণচর উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন জরুরি। অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে দরিদ্র পরিবারগুলোর। হাতিয়া, নিঝুমদ্বীপসহ অন্য চর এলাকা হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। নতুন নতুন চরের বিস্তৃতিতে নোয়াখালী হাতছানি দিচ্ছে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার।

চরাঞ্চল ঘিরে চাই বিশেষ পরিকল্পনা
রফিকুল আলম বাবর

নোয়াখালীর উপকূলীয় সুবর্ণচর, হাতিয়া ও নিঝুমদ্বীপে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। যার পরিমাণ কয়েক হাজার বর্গমাইল। এসব জমি কাজে লাগাতে হবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে চরাঞ্চলে গড়ে তোলা যেতে পরে কৃষি, শিল্প, গবেষণা, মৎস্য ও পর্যটন শিল্প Ñএমনটাই মনে করেন সুবর্ণ এগ্রোর পরিচালক মোঃ রফিকুল আলম বাবর। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে কল-কারখানা গড়ে উঠলে তা অবদান রাখবে জাতীয় অর্থনীতিতে। সুবর্ণচর ও হাতিয়াবাসী সরকারের বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট পেলে ওই অঞ্চলে বিপ্লব ঘটবে কৃষিশিল্পে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প নোয়াখালীর নতুন নতুন চরে পরিকল্পনা অনুযায়ী করলে কৃষিতে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ থেকে উঠে আসবে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে। এসবই এখন শুধু সময়ের ব্যাপার বলেও মনে করেন রফিকুল আলম।