Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে এমপি পাপুল রিমান্ডে

মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুলকে রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর। কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

সম্প্রতি কুয়েত সিটির মুশরিফ এলাকার বাসা থেকে এমপি পাপুলকে আটক করে তাদের দফতরে নিয়ে যায় সিআইডি। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আটকের খবর নিশ্চিত করে। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে দায়ের হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাকে সেখানে ব্যবসায়ের কারণে উত্থাপিত একটি মামলায় সাংসদ পাপুলকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন। সিআইডি জানতে পেরেছে, কুয়েতে পাপুলের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি কুয়েতে ভিসা বাণিজ্যের নামে মানবপাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কুয়েত থেকে প্রকাশিত আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইডি কর্মকর্তারা পাঁচ বাংলাদেশিকে জেরা করে জানতে পেরেছে তাদের প্রত্যেকেই কুয়েত যেতে সাংসদ পাপুলকে তিন হাজার দিনার করে দিয়েছিলেন। এছাড়াও প্রতি বছর তারা ভিসা নবায়নের জন্য সাংসদকে বাড়তি টাকা দিয়েছেন।

তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাংসদ কাজী শহিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগ এনেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এর আগেও কুয়েতের একাধিক সংবাদ মাধ্যমে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারে জড়িত থাকার খবর প্রকাশিত হয়। গত মার্চে কুয়েতে যাওয়ার পর থেকে তিনি দেশটির সিআইডি কর্মকর্তাদের নজরবন্দি ছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, এমপি পাপুলের কুয়েতে বিরাট ব্যবসা রয়েছে। কুয়েত সিআইডির মানব ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় আরও আগে থেকেই তার নাম ছিল।

এমপি পাপুলের পরিবারের সদস্যদের তথ্য চেয়ে দুদক’র চিঠি
অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৯ জুন দুদক’র উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন তাদেরকে নোটিশ পাঠান।

দুদক’র পাঠানো চিঠিতে কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও সেলিনার বোন জেসমিন আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, টিআইএন নম্বর, আয়কর বিবরণীসহ বেশ কিছু নথিপত্র তলব করেছে। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন জানান, বিভিন্ন নথিপত্র চেয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা চিঠি দিয়েছেন। আগামি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চাহিত এসব নথিপত্র দুদকে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

দুদক থেকে পাঠানো নোটিশটি গুলশানে সেলিনা ইসলামের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়ির ঠিকানায়ও পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, হুন্ডি ব্যবসা ও মানবপাচারসহ অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক । তার বিরুদ্ধে ১৭৪ পাতার একটি অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরেফ আবাসিক এলাকা থেকে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে দেশটিতে মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর পাপুলকে আদালতে হাজির করলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মানব ও অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। সেই অভিযানেই গ্রেফতার হন পাপুল।