Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শফিউল বারী বাবুর ইন্তেকাল  ফেনী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আর নেই  করোনা ক্রান্তিকালে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল ও পুলিশ সুপার  এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জে ছাত্রদলের মানববন্ধন  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

‘মাফিয়া বসের’ মতো দৌরাত্ম্য পাপুলের প্রতিদিন শ্রমিকপ্রতি ২০০০ টাকারও বেশি চাঁদা আদায়

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের দৌরাত্ম্য ছিল ‘মাফিয়া বস’ এর মতো। নানা প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে যেতেন। আর কুয়েতে নেয়ার পর তাদের মজুরির ওপর ভাগ বসাতেন। কুয়েতে তদন্তকারীদের কাছে জবানবন্দি দেয়া কয়েকজন বাংলাদেশি সংসদ সদস্য পাপুলের এমন ভূমিকার কথাই তুলে ধরেছেন। গালফ নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য পাপুলের স্বদেশি কর্মীরা তার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মানবপাচার ও মুদ্রাপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পাপুল গরিব ও নিম্ন আয়ের কর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেন। কুয়েতি দৈনিক আল রাই পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাপুলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেয়া ব্যক্তিরা তাকে ‘মাফিয়া বস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গরিব ও নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা পাপুলকে ‘কর’ (চাঁদা) দিতে বাধ্য হতেন। জবানবন্দি দেয়া এক কর্মী বলেছেন, সংসদ সদস্য পাপুলকে প্রতিদিন তাদের আট দিনার (দুই হাজার টাকারও বেশি) করে দিতে হয়েছে। অথচ কুয়েতে নেয়ার আগে তাদের বলা হয়েছিল, দিনে আট ঘণ্টা করে কাজ এবং মাসে মজুরি ১৪০ দিনার (প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা)। কিন্তু কুয়েতে যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন প্রতিদিন তঅন্তত ১৬ ঘণ্টা করে কাজ করতে হবে। এর বিনিময়ে তিনি মজুরি পাবেন ১০০ দিনার (প্রায় ২৭ হাজার ৫০০ টাকা)। কুয়েতে নেয়ার পর তাকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করানো হতো। ওই কর্মী আরো জানান, শহিদ ইসলামের পক্ষে মাহবুব ও আমান নামে দুজন চাঁদা তুলতেন।

পাপুল সংশ্লিষ্টতায় কুয়েতি মেজর জেনারেল বরখাস্ত
মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক থাকা বাংলাদেশি এমপি মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে কুয়েতি মেজর জেনারেল মাজেন আল-জাররাহকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সেনা কর্মকর্তা কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিসেন্ট আন্ডারসেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি জারি করেছেন।

স্থানীয় পত্রিকা আল রাইয়ের বরাত দিয়ে কুয়েত টাইমস জানিয়েছে, পাপুলের মামলা তদন্ত করার সময় এই কর্মকর্তার সংশ্রিষ্টতা পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, সম্ভবত আল-জাররাহ ঘুষ নিয়েছিলেন এবং পাপুলের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।

মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে গত ৭ জুন পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ। পরে তার বিরুদ্ধে কুয়েতি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার অভিযোগও আনা হয়। পরে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে দেখতে পায় যে, পাপুল তার কুয়েতি কোম্পানির মাধ্যমে ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে দেশটিতে নিয়ে গেছেন। তিনি তাদের কাছ থেকে দৈনিক ‘সার্ভিস চার্জ’ নিতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।