Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষীপুর-২ আসনের এমপি পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার  পাপুলের উত্থান যেভাবে  একজন ‘মানবিক’ উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু  লক্ষ্মীপুরে ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা দিচ্ছে সেনাবাহিনী  লক্ষ্মীপুরে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি আজিজুর রহমান মিয়া 

এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়া ১১ বাংলাদেশি দেশে এসে যা বললেন

মুদ্রা ও মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি সাংসদ পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েতি আদালতে সাক্ষী দেয়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে শাহ আলম অন্যতম।

ওই সাংসদের অভিযোগের ব্যাপারে ১১ প্রবাসী বাংলাদেশির সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। ওই ১১ জনের সবাই সাংসদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ আনার পাশাপাশি প্রতিবছর ভিসা নবায়নের জন্য বাড়তি টাকা নেয়া, প্রতিদিন উপার্জনের একটি অংশ নেয়ার অভিযোগ এনেছেন। সম্প্রতি কাতার এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওই ভোক্তভোগীরা দেশে ফিরেছেন। কুয়েতের সিআইডি তাদের আটক করে এবং জবানবন্দি রেখে দেশে পাঠিয়ে দেন।

শাহআলম বলেন, গতবছরে রোজার ঈদের পরেই আমাকে কুয়েতে নেয়া হয়। সাড়ে সাত লাখ টাকা ধারদেনা করে টাঙ্গাইলের রাশেদ নামে একজনকে আমি টাকা দেই। রাশেদ কাজী পাপুলের কাছের লোক। আমাকে মাসিক বেতনের কথা বলে নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এখানে এসে দেখি উল্টো নির্যাতন। আমাকে কুয়েতের এয়ারপোর্টে ব্যাগ ও মালামাল টানার কাজ দেয়া হয়। এসব কাজ করলে কুয়েতিরা এক দুই দিনার দিতো। এতে প্রতিদিন তেরো, চৌদ্দ দিনার আয় হতো। কিন্তু পাপুল সাহেবের লোকজনকে এখান থেকে প্রতিদিন দশ দিনার দেয়া লাগতো।

পাপুলের কোম্পানী সুপারবাইজার ব্রাহ্মনবাড়িয়ার সামাদ ও কুমিল্লার মাহবুব এই দুইজন এসে প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে দিনার নিয়ে যেতে। যার কারণে সারাদিন কাজ করার পর থাকতো দুই দিনার তিন দিনার। এসবের প্রতিবাদ করলেই তারা নির্যাতন করতো, কাজ বন্ধ করে দিতো। পরে যখন আবার কাজের জন্য যেতাম তিন’শ দিনার দিয়ে কাজ করতে হতো। তিনি বলেন, সিআইডি যেদিন আমাদের আটক করতে আসে, সেই দিন তারা আমাদের বলেছিলোÑ তোদের যে টাকা ক্ষতি হয়েছে, সেইগুলো তুলে দিবো। এই বলে আমাদের বারোজনকে তুলে নিয়ে যায়। পরে অবশ্য একজন পালিয়ে যায়। আমাদের ১২ জনকে একটি কক্ষে রাখা হয়েছিলো।

কোর্টে স্বাক্ষ্য দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের তিনটি প্রশ্ন করা হয়েছিলো। আমাদের কাছ থেকে পাপুলের কোম্পানী টাকা নিয়েছে কিনা, তারপর এখানে শর্তমোতাবেক কাজ দিয়েছে কিনা এবং মাসিক বেতন দেয় কিনা। আমরা যা সত্য তা বলেছি। কোনো মিথ্যা কথা বলিনি।

ভুক্তভোগী শাহআলমের কাছে প্রশ্ন ছিলো, পাপুলের সঙ্গে কখনো তাদের দেখা হতো কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এয়ারপোর্টে প্রায়সময় দেখা হতো। কিন্তু তাকে সালাম দেয়া তার সঙ্গে কথা বলা সম্পূর্ন নিষেধ ছিলো। এয়ারপোর্টে তাকে সালাম দিলেই চাকরি চলে যেতো। নির্যাতন করতো। আরেক স্বাক্ষী নোয়াখালির চাটখিল উপজেলার মোঃ সোহাগ বলেন, আমি দুই বছর আগে ফকিরাপুল পাপুলের অফিসে মনিরকে সাত লাখ দিয়ে কুয়েত যাই। আমাদেরকে ১২ ঘন্টা কাজ ও ১৪০ দিনার দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কুয়েত যাওয়ার পর ১৭ ঘন্টা কাজ করতে হয়েছে। আমি একটা মার্কেটে কাজ করেছি। সেখানে সবমিলেয়ে নব্বই থেকে এক’শ দিনার পেতাম। এর মধ্যে প্রতিদিন পাপুল সাহেবের কোম্পানির লোকজন এসে চার দিনার করে নিয়ে যেতো। টাকা না দিলে নির্যাতন করতো। এসবের প্রতিবাদ কেউ করতে পারতো না। এই লকডাউনের সময় আমাদেরকে কুয়েতের কাবাত মরভূমির একটি জায়গায় রাখা হয়, যেখান থেকে আমাদেরকে সিআইডি ধরে নিয়ে যায়। পরে আমাদের কোর্টে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আমরা স্বাক্ষ্য দেই। সিআইডি টাকা আদায় করে দেয়ার কথা বলে আটক করেছে তাদেরকে। পরে টাকা দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের প্লেইনে তোলার সময় সিআইডি কাউকে আড়াই’শ দিনার কাউকে দুই’শ দিনার দিয়েছে। তখন তারা বলেছে, এই টাকা কোম্পানী থেকে বেতন ও কিছু আদায় করে দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে পাপুল নিজের নামে কিছুই করেন না। তিনি বিভিন্ন সাব-এজেন্টের মাধ্যমে মানবপাচার করিয়ে থাকেন। বিশেষ করে ক্লিনিং এবং সিকিউরিটির কাজের নামে তিনি এই মানবপাচার করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাপুল যে শুধু অবৈধ পথে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত তা নয়, তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, সব জায়গাতেই নিজের তথ্য গোপন রেখে ব্যবসা করেন