Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষীপুর-২ আসনের এমপি পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার  পাপুলের উত্থান যেভাবে  একজন ‘মানবিক’ উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু  লক্ষ্মীপুরে ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা দিচ্ছে সেনাবাহিনী  লক্ষ্মীপুরে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি আজিজুর রহমান মিয়া 

অবসরে ঘুরে আসুন ফেনীর দর্শনীয় স্থান

ব্যস্ত জীবনে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ সহসা হয়ে ওঠে না। আবার অনেকের চিত্ত থাকলে কী হবে বিত্তে এসে ঠেকায়। তাই বলে বহু দূরে না-ই বা গেলেন। ফেনীর আশপাশে এমন অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যেগুলোতে সকালে গিয়ে দুপুরে, আবার দুপুরে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসা যায়।

বিজয় সিংহ দীঘি
বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের অমর কীর্তি এ বিজয় সিংহ দীঘি। এ দীঘি ফেনী শহরের প্রায় ২ কি.মি. পশ্চিমে বিজয় সিংহ গ্রামে ফেনী সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থিত। এ দীঘির আয়তন ৩৭.৫৭ একর। অত্যন্ত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ দিঘীর চৌপাড় খুব উঁচু ও বৃক্ষ শোভিত। ১৯৯৫ সালে ফেনীর প্রাক্তন জেলা প্রশাসক এএইচএম নূরুল ইসলাম প্রচুর বৃক্ষ চারা রোপন করে বর্তমান এ পরিবেশের সৃষ্টি করেন। ফেনীর ঐতিহ্যবাহী দীঘির মধ্যে বিজয় সিংহ দীঘি অন্যতম। এ দীঘি দেখার জন্য জেলার এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা আসে। প্রবেশের জন্য টাকা গুণতে হয় না। ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট কিংবা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজি যোগে যাওয়া যায়।

রাজাঝির দীঘি ও শিশুপার্ক
ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে এ দীঘির অবস্থান। মোট ১০.৩২ একর আয়তন বিশিষ্ট এ দীঘিটি ফেনীর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের একটি। জনশ্রুতি আছে, ত্রিপুরা মহারাজের প্রভাবশালী একজন রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার মানসে প্রায় ৭শ’ বছর পূর্বে এ দিঘী খনন করা হয়। স্থানীয় ভাষায় কন্যাকে ঝি বলা হয়। ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে তার সদর দপ্তর গড়ে তোলা হয় এই রাজাঝির দীঘির পাড়ে। দীঘির পাড়ে বর্তমানে জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশুপার্ক গড়ে উঠেছে। শিশুপার্কে বসলে দীঘির দক্ষিণা বাতাসে মন-প্রাণ উতালা হয়ে উঠে। অত্যন্ত ছোট পরিসরে হলেও শিশুদের নানা ধরনের নাগর দোলাসহ প্রেমিক যুগলদের নিরিবিলি সময় কাটানোর মতো রয়েছে বৈঠকখানা।

মুহুরী সেচ প্রকল্প
ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সেচ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মুহুরী সেচ প্রকল্পকে ঘিরে গত আড়াই দশকে গড়ে ওঠে বিনোদন ও পিকনিক স্পট। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে ভ্রমণ পিপাসু লোক এবং পর্যটক বেড়াতে আসে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মুহুরী রেগুলেটরের চারদিকে বাঁধ দিয়ে ঘেরা কৃত্রিম জলরাশি, বনায়ন, মাছের অভয়ারণ্য, পাখির কলকাকলি, বাঁধের দুপাশে নীচ থেকে পাথর দিয়ে বাঁধানো এবং উপরদিকে দুর্বা ঘাসের পরিপাটি বিছানা দেখে সকলের মনে আনন্দের হিল্লোল জাগে। মুহুরীর জলরাশিতে নৌভ্রমণের সময় খুব কাছ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস এবং প্রায় ৫০ জাতের হাজার হাজার পাখির দেখা পাওয়া যায়। ফেনী নদী, মুহুরী নদী এবং কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহকে আড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ৪০ ফোক্ট বিশিষ্ট একটি বৃহদাকার পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করে ফেনী জেলার ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার কিয়দংশ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ কমানো ও আমন ফসলে অতিরিক্ত সেচ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল মুহুরী সেচ প্রকল্প। সিডা, ইইসি, বিশ্বব্যাংকের অর্থ সহায়তায় জাপানের সিমুজু কোম্পানী ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে। সেচ প্রকল্পের পাশে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প ভ্রমণ প্রেমীদের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ যেকোনো পর্যটকের মন কেড়ে নেয় নিমেষেই। দারুণ খবর হচ্ছে এখানে কোনো ফি লাগে না।

নিহাল পল্লী
ফেনীর বিনোদন পার্ক জগতের আরেক নাম নিহাল পল্লী। সকল পেশার লোকদের বিনোদনের জন্য অন্যতম বেসরকারি বিনোদন পার্ক কসকার এই নিহাল পল্লী লোক সমাগমে জমে উঠেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কসকা বাজার সংলগ্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে গড়ে উঠা বেসরকারিভাবে বিনোদন পার্ক হিসেবে এ নিহাল পল্লী ইতোমধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছে। নিহাল পল্লীর দক্ষিণা বাতাসে অনেকে আনমনা হয়ে যান। প্রবেশ পথে সবুজ ঘাসের ওপর আকর্ষণীয় নিখুঁত শিল্পীর প্রচ্ছদে স্থাপিত বাংলাদেশের মানচিত্র, হাতের ডান পাশেই সবুজ গাছ-গাছালির মাঝে দেখা যাবে বিশালাকৃতির একটি বাঘ। যার থাবায় আটকে আছে মায়াবি হরিণ। চোখ ঘুরালেই ঘাস ও পানির মাঝে মাছ শিকারের অপেক্ষায় ধ্যান করে বসে আছে সাদা বক। মন চাইবে ফাঁদ বসিয়ে এ বক ধরতে। ফলজ, বন ও ঔষুধি গাছের উৎপাদন ও বিক্রয়ের জন্য থরে থরে সাজানো শতাধিক প্রজাতির গাছের সারি দেখতে চোখ যেন সবুজে ঝলমল করে উঠতে চাইবে আপন মনে।

শিলুয়ার শিল পাথর
জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায় শিলুয়া গ্রামে রয়েছে এক প্রাচীন ঐতিহাসিক শিলামূর্তির ধ্বংসাবশেষ। শিলামূর্তির গায়ে খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় অব্দে প্রচলিত ব্রাক্ষ্মী হরফের লিপি থেকে এখানে আর্যসভ্যতা বিকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়। ব্রিটিশ আমল থেকে এ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্মৃতি চিহ্নটি প্রতœতাত্ত্বিক সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত রয়েছে। প্রত্যেক ঈদে দর্শনার্থীদের উপড়ে পড়া ভিড় জমে। যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে যেতে পারবেন। এখানে প্রবেশ ফি লাগে না।

তৃপ্তি এগ্রো পার্ক
ফেনী শহরের অদূরে নতুন রানীর হাট ফুলে ফুলে সাজানো-গোছানো পরিবেশ, পাখির কলরব, প্রজাপতির লুকোচুরি খেলা, নির্মল মৃদু বাতাস, সীমাহীন মুক্ত আকাশ, প্রশস্ত দীঘি ও লেক সমৃদ্ধ নিরিবিলি প্রকৃতিক পরিবেশ তৃপ্তি এগ্রো পার্ক। পার্কে ফাস্ট ফুড চটপটি কাবাব, গিফট শপ, নাগরদোলা, নৌকাভ্রমণ, শিশুদের খেলাধূলার ব্যবস্থাসহ রয়েছে নানা আয়োজন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে নিবিড় সবুজের সমারোহ প্রাকৃতিক অপরুপ সান্নিধ্যে উপভোগ করুন এক নতুন দিন। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি নির্ভর পার্ক তৃপ্তি এগ্রো পার্ক।

গোল্ডেন শিশুপার্ক
বিজয় সিংহ দিঘীর কোল ঘেষে রয়েছে ছোট্ট একটি শিশুপার্ক। খুব ছোট পরিসরে হলেও ভেতরে রয়েছে সব রকামের রাইডার। মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে রাইডাগুলোতে চড়া যায়। এছাড়া রয়েছে বসে সময় কাটানোর মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এখানকার প্রবেশ ফি মাত্র দশ টাকা।