Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শফিউল বারী বাবুর ইন্তেকাল  ফেনী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আর নেই  করোনা ক্রান্তিকালে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল ও পুলিশ সুপার  এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জে ছাত্রদলের মানববন্ধন  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াহিদুল হক এর ইন্তেকাল

লক্ষ্মীপুর, বৃহত্তর নোয়াখালী, তথা বাংলাদেশের অহংকার; কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াহিদুল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৩ জুলাই শুক্রবার ৮৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। ড. ওয়াহিদুল হক ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের মে মাস পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আমাদের স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ অর্থনীতিবিদ ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। প্রথমে কিছুদিন তিনি বার্কেলি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। এরপর টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

ছয় দফার পক্ষে দলিল প্রস্তুতিতে অবদান ছিল ড. ওয়াহিদুল হকের -পররাষ্ট্র মন্ত্রী
সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ড. ওয়াহিদুল হক আমার শিক্ষক ছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে এএমএ মুহিত, আব্দুর রব চৌধুরীসহ কিছু সিএসপি অফিসার একটি খসড়া দলিল প্রস্তুত করেছিলেন। এ খসড়া দলিল প্রস্তুত করার সময় ইসলামাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির শিক্ষক ড. ওয়াহিদুল হক অংশগ্রহণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুল হকের মৃত্যুতে অর্থমন্ত্রীর শোক
সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মরহুমের পরিবার-পরিজন, সন্তানসহ সবাইকে গভীর সমবেদনা জানান।

সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াহিদুল হক এর ইন্তেকালে.. লক্ষ্মীপুর বার্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক ড. এম হেলাল এর প্রতিক্রিয়া
আর কত পরে ওহে বাঙালি,
আপনার ভালো বুঝিবে আপনি!
বিশ্বশীর্ষ গণিতবিদ, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী, কানাডার টরেন্টো ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এমেরিটাস ড. ওয়াহিদুল হক এর ইন্তেকাল আরেকটি বিয়োগান্ত ঘটনা। কানাডায় ৩ জুলাই ভোরবেলায় তাঁর ইন্তেকালে অনেকেই ফোন করে আমার কাছে জানতে চাইলেন অনেক কিছু, তাঁদের স্মৃতিপট থেকে দানও করছেন কিছুমিছু। সুগভীর বিদ্যান অথচ নিরহংকারী এ মানুষটি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল মনের, বড় মাপের; বিনয়-ভদ্র ও সুউচ্চ চিন্তার অসীম মেধাসম্পন্ন নিভৃতচারি ব্যক্তিত্বের অধিকারী। মানুষ সম্পর্কে তিনি কখনো কোনো নেগেটিভ চিন্তা করতেন না, কারুর ক্ষতি করেননি কখনোই। বরং অনেকের কাছে ঠকে গিয়েও প্রতিবাদ করেননি। কেবল আমাদের অনুজদের কাছে সেই ঠক খাওয়ার গল্প বলে হেসে ফেলতেন। বলতেন, ঠকানোর চেয়ে ঠক খাওয়া ঢের ভালো...। আমার জানামতে, অনেকেই তাঁর সাহায্যদানে ধন্য হয়েছেন, বড় হয়েছেন। বাংলাদেশে এলেই আমাদের এই লক্ষ্মীপুর বার্তা অফিসে আসতেন এবং প্রাণখুলে গল্প জমাতে পছন্দ করতেন তিনি। কোনোকিছু না বলে হঠাৎ হঠাৎই চলে আসতেন। বলতেন- হেলাল তুমি কেমন আছো, তোমাকে দেখতে এসেছি। আমি উঠে দাঁড়াতেই গলা উঁচিয়ে নির্দেশ দিতেন- না, তুমি বস, কাজ সার; তারপর কথা বলবো। বড় মানুষের এরূপ বিনম্র সম্ভাষণে বিস্মিত হয়েছি, শিখেছি অফুরন্ত নম্রতা। তাইতো এই ক্যাম্পাস অফিসে স্ত্রী-কন্যাসহ তাঁর পদধূলি পড়েছে অসংখ্যবার। তারও বহুপূর্বে ছোটবেলায় আমি যখন প্রাইমারী স্কুলে পড়ছিলাম, ঐসময়েই তিনি টরেন্টো ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর; যখনই বাংলাদেশে আসতেন, লক্ষ্মীপুর জেলার ভবানীগঞ্জে গ্রামের বাড়ি গিয়ে আমার মাকে বলতেন- ভাবী, আপনার রান্না ছোট কাচকি মাছ, শাক, ভর্তা খেতে টরেন্টো থেকে এসেছি। খেতে বসে আমাকে বলতেন, তোমার স্কুলের সহপাঠী হয়ে ক্লাস শুনতে ইচ্ছে করছে। বিশাল পন্ডিত মানুষটির এরূপ শিশুসুলভ সহজ-সরল কথা ও চলাফেরায় সবাই তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আপনার চেয়েও আপন বলে ভাবতো। অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন মানুষ যখন ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ কাজের দরখাস্তের উপর তাঁর সুপারিশ চাইতে যেতেন, তখন তিনি আমাকে নিকটাত্মীয় ভেবে আলাপে আলাপে সুবোধ মনের অকৃত্রিম অনেক প্রশ্ন করতেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাজ নিয়ে এরা আমার কাছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসে কেন? আমি বাংলাদেশের তদবির-ট্রেডিসন বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলে বলতেন, ঐ মন্ত্রণালয়ের কাজে আমার নাক গলানো মানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয় কি? তাঁর এরূপ সৎ-নিষ্ঠাবান-সরল স্বগতোক্তি দেখে আমার মধ্যেও প্রশ্ন জেগেছিল, চাচার উচ্চদাম ইউরোপিয়ান ও কানাডিয়ান সরকাররা দিলেও বাংলাদেশ সরকার তাকে নিম্নদামেও কিনবে কি বেশিদিন! ঠিক তাহাই দেখতে হয়েছে মাত্র ক’মাসের মাথায়, যখন তিনি আর মন্ত্রী নন! অনুরূপভাবে তিনি আমাদের এ ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খোলামেলাভাবে উপরোক্তরূপ সারগর্ভ বক্তৃতাও করেছেন বহুবার। সেইসব বক্তৃতা শুনে কেহ কেহ মন্তব্য করতেন, তাঁর জ্ঞানবান ও পান্ডিত্যপূর্ণ কথার দাম ইউরোপ বা উন্নত দেশে সুপ্রসিদ্ধ দামী হলেও আমাদের দেশজ নীতি-নির্ধারকরা এসব কথা খাবে না। তাইতো বাংলার অজপাড়াগায়ে জন্মগ্রহণকারী এ বিরল প্রতিভার সমাধি হতে হয়েছে কানাডার মাটিতে। নোবেল পুরস্কার এর বিষয়ে তিনি বলতেন, একটি মানুষ নিজের চেষ্টায় অনেক দূর যেতে পারে, কিন্তু সেই সফলতার ফাইনাল ফার্নিশিং এর ক্ষেত্রে পরিবার এবং রাষ্ট্রের অনেক ভূমিকা থাকে; যেটি হয়তো তিনি পাননি। তাই তাঁর বিদেহী আত্মার সান্তনায় বলতে চাই-
জন্ম আপনার বাংলার গ্রামে, সমাধি কানাডার মাটিতে!
চাচা, আপনার নোবেল পুরস্কার পেয়ে যাবেন ওপারে!!
আমার সম্পাদিত পত্রিকায় তাঁর সেইরূপ বিভিন্ন সাক্ষাৎকারও ছাপা হয়েছে অনেকবার। সুহৃদবর কানাডা থেকে নাছির উদ্দিন পপি’র পোস্টে ড. ওয়াহিদুল হক চাচার মৃত্যু সংবাদের যে ছবিটি দেখতে পাচ্ছি, এটিও আমাদের অফিসে তাঁর ক্যাম্পাস লাইব্রেরি পরিদর্শনের ছবি এবং এ ছবিটিও ১৬ বছর পূর্বেকার। আসুন, সবাই এ মেধাবী নিভৃতচারী সুমহান ব্যক্তিত্বের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি....আমিন।

আমাদের বৃহত্তর পরিবারের মাথার তাজটি আজ খসে পড়লো -ড. মনোয়ার হোসেন
আমাদের বৃহত্তর পরিবারের মাথার তাজটি আজ খসে পড়লো। সাথে বাংলাদেশ তথা বিশ্ব হারালো এক প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদকে। আমাদের আইকন, যঁাঁকে দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শিখেছি, আমাদের পরিবারের প্রত্যেকেই যার কাছে ঋণী, আমার বড় নানা (আম্মার বড় মামা), বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী, টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর এমিরেটাস ড. ওয়াহেদুল হক ৩ জুলাই আনুমানিক ভোর ৫ টায় কানাডায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সর্বদা প্রচারবিমুখ অসম্ভব মেধাবী মানুষটি ছিলেন সেই আমলের ডাবল স্ট্যান্ড, স্ট্যানফোর্ড থেকে মাইক্রো ইকোনিমিক্সে পিএইচডি, টরেন্টো, ক্যালিফোর্নিয়া এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথ এবং ইকোনিমিক্সের প্রফেসর, ওয়ার্ল্ডের নামকরা ইকোনিমিস্টদের একজন। একদিন উনাকে নিয়ে রিক্সায় করে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম লক্ষ্মীপুরে, সেদিন তিনি বলেছিলেন তাঁর জীবনের অনেক কথা। বলেছিলেন, অমর্ত্য সেনের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে সেনের থিসিস পেপার এর ফাইনাল কারেকশন করে দেয়ার কথা। বলেছিলেন, তাঁর নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার কারণগুলো। সে অনুভূতির সার কথা ছিল এমন- একটি মানুষ নিজের চেষ্টায় অনেক দূর যেতে পারে, কিন্তু সেই সফলতার ফাইনাল ফার্নিশিং এর ক্ষেত্রে পরিবার এবং রাষ্ট্রের অনেক ভূমিকা থাকে; যেটি হয়তো তিনি পাননি। তা না হলে নোবেল পুরস্কার হয়তো তাঁর ঘরেও যেত। সেপ্টেম্বর ১৯৮৮- মে ১৯৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনাদের হয়তো মনে আছে, রাষ্ট্রপ্রধানের দুর্নীতির বিরোধিতা করে বাংলাদেশের একমাত্র মন্ত্রী, যিনি স্বেচ্ছায় তাঁর মন্ত্রীর দায়িত্ব পদ থেকে পদত্যাগ করে আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান। নানা; রাষ্ট্র ও পরিবারের পক্ষ থেকে আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমরা আপনাকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারিনি। আপনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহপাক আপনাকে বেহেশত নসীব করুন।