Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শফিউল বারী বাবুর ইন্তেকাল  ফেনী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আর নেই  করোনা ক্রান্তিকালে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল ও পুলিশ সুপার  এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জে ছাত্রদলের মানববন্ধন  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা

নির্মাণের পর থেকে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। নেই কোনো দৃষ্টিনন্দন তোরণও। নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে সৌন্দর্য হারিয়েছে ফেনী জেলা পরিষদের একমাত্র শিশু পার্কটি। এতো সমস্যার কবলে পড়ে এখন অনেকটা অস্তিত্ব হারানোর পথে এ পার্ক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পার্কটির পূর্ব অংশের রক্ষা দেয়াল ডেবে যাওয়ায় ওই অংশ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র উত্তর পাশ খোলা রয়েছে। পার্কের রাইডগুলোর অবস্থা খুবই জীর্ণশীর্ণ। সবগুলো ঢেকি ও নাগরদোলা ভেঙে অকেজো হয়ে গেছে।

এছাড়া পার্কে থাকা ছাতার বক্স রাইডগুলোও নষ্ট ও ভাঙা। শুধুমাত্র দুই আসনের একটি ফুলকাপ ও হেলিকপ্টার, ট্রেন, ঘোড়া এবং চেয়ার -এ রাইডগুলো কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে চলছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের মাধ্যমে রাইড চালানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে পার্কটিতে দর্শনার্থী থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রাইডগুলো চালানো সম্ভব হয় না। অনেক সময় রাইড চালু অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে বিপাকে পড়তে হয় কর্তৃপক্ষ ও দর্শনার্থীদের।

পার্কের দীঘির অংশে লোহার রেলিং থাকলেও তা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। তাই শিশুদের নিয়ে সেখানে গেলে থাকতে হয় আতঙ্কের মধ্যে। পার্কের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ ও পাতাবাহারসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ থাকলেও পরিচর্যার অভাবে গাছগুলোও ধ্বংসের পথে। দীর্ঘ দুই দশক আগে যতটুকু আয়তন নিয়ে পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে, তা থেকে আয়তনতো বাড়েনি বরং মাটি ডেবে যাওয়ায় পূর্ব অংশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নতুন ও আধুনিক রাইড না থাকায় দশনার্থীরা অন্য পার্কের দিকে ঝুঁকছে। শিশুপার্ক হলেও বর্তমানে পার্কটিতে শিশুতোষ কোনো রাইড নেই বললেই চলে। তাই অনেক অভিভাবকই পার্কে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন।

শিশু পার্ক হলেও শিশুর বদলে স্কুল-কলেজ পড়–য়া কপোত-কপতিদের জোড়ায় জোড়ায় আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। যদিও পার্কের দেয়ালে ‘ইউনিফর্ম পরে প্রবেশ নিষেধ’ লেখা আছে, তবে সেটা শুধু লেখা পর্যন্তই। বাস্তবে তা আর মানা হয় না। পার্কটির এক দর্শনার্থী রাফিয়া খাতুন নিজের শিশুকে নিয়ে পার্কটিতে ঘুরতে এসে শিশুতোষ আধুনিক কোনো রাইড না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, জেলা পরিষদের একমাত্র শিশু পার্কটির এমন করুণ দশা মানতে সত্যিই কষ্ট হয়।

আরেক দর্শনার্থী কবির আহম্মদ শিশু পার্কটিকে অশ্লীলতামুক্ত করার পাশাপাশি শিশুদের উপযোগী করে সংস্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। শহরের বাসিন্দাদের যান্ত্রিক কোলাহল থেকে মুক্ত করে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ করে দিতে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন মনোমুগ্ধকর পার্ক রয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম ফেনীতে। একটি মাত্র পার্ক থাকলেও সংস্কারের অভাবে সেটি অস্তিত্ব হারানোর পথে থাকবে এমনটি মানতে নারাজ ফেনীবাসী।

পার্কের ম্যানেজার এমরান চৌধুরী মহিন জানান, পার্কটিতে ১২ জন লোক কর্মরত আছেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদই মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয় ইজারাদারকে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া, সৌন্দর্যবর্ধন না করা এবং নতুন ও আধুনিক রাইড না থাকায় পার্কটিতে দিনকে দিন কমছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে লোকসান গুনতে হচ্ছে ইজারাদারকে। তিনি আরও জানান, পার্কটি চালুর পর এই রাইডগুলো স্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো মেরামত বা উন্নয়ন করা হয়নি। তাই ধীরে ধীরে আজ অস্তিত্ব হারানোর পথে এ পার্কটি। পার্কটি যদি সংস্কার করে যথাযথভাবে পরিচালনা করা হতো, তাহলে এতে প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় জমাতো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ঈদে নাড়ির টানে ফেরা মানুষগুলোও নিজ পরিবার নিয়ে এখানে এসে কিছুটা সময় কাটাতে পারত।