Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

আইসিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল হাসান রনি

ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী, স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান; ক্যারিয়ারিস্ট হয়ে একটা সফল জীবন গড়ে তোলার উপকরণের কোনো অভাব ছিল না। টগবগে যুবক ‘তরুণ তুর্কী’ জীবন গড়ার প্রচলিত পথে পা বাড়ালেন না, বেছে নিলেন সমাজসেবা ও জনসেবার কষ্টকর পথ। বাম রাজনীতির ধারক-বাহক, শোষণমুক্ত সমাজের সংগ্রামী নেতা এবং পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা মোসলেহ উদ্দীন নিজামের আদর্শের তিনি যোগ্য উত্তরসূরি ও সুসন্তান। পিতার নিঃস্বার্থ জনসেবার আদর্শকে পাথেয় করে এ বয়সেই জনসেবার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি হলেন ১৭নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সফল, ডায়নামিক ও তারুণ্যদীপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি। যিনি চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার সাথে তিনি একান্ত আলাপচারিতায় মিলিত হন, যা পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে তুলে ধরা হলো।

আপনার ইউনিয়ন পরিষদ কেমন চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে জনকল্যাণকামী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল হাসান রনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলছে আমাদের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৭ নং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে একটি বৃহত্তম ইউনিয়ন পরিষদ। নদীবিধৌত চরাঞ্চলের এই ইউনিয়নের বাসিন্দারা আল্লাহর রহমতে ভালোই আছে। আমার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম গতিশীলভাবে চলছে। উন্নয়নমূলক কাজকর্মের সাথে এলাকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আমরা ভূমিকা রাখছি। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি মিটিংয়ে আইন-শৃংখলা বিষয়ে আলোচনা হয়, এর অগ্রগতি সম্পর্কে সদস্যগণ আলোচনা করেন। ইউনিয়নের কোনো এলাকায় সমস্যা দেখা দেয়ার সাথে সাথে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এজন্য ইউনিয়নে শান্তি-শৃংখলা বিরাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ। ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুর জেলার মূল শহরের সকল শাকসবজির চাহিদা মেটায়। শীতকালীন শাকসবজি চাষের জন্য ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন সুপ্রসিদ্ধ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, কলা, মূলা, সিম, লাউ, আলু, টমেটো, গাজর, ধনেপাতা, লালশাক, পালংশাক ইত্যাদি শীতকালীন সকল শাকসবজির ব্যাপক চাষ হয় ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে।

আপনার ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা কী কী এবং সেগুলোর সমাধানে আপনি কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন এমন জিজ্ঞাসার জবাবে তারুণ্যদীপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, আমাদের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। অপরিকল্পিতভাবে অনেক ঘরবাড়ি নির্মাণের কারণে এসব জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষ এই জলাবদ্ধতার কারণে অনেক ভোগান্তি পোহাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছে। অনেক সময়ে এই জলাবদ্ধতার কারণে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। যখন জলাবদ্ধতা হয়, তখন ওই পানি অপসারণের জন্য নানা রকমের কোন্দল হয়, সেইসব কোন্দল ও ঝামেলা আমাকে মেটাতে হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ইতোমধ্যে আমি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। আংশিকভাবে কিছু কিছু স্থানে জলাবদ্ধতা নিরসন করেছি, শতভাগ হয়তো পারিনি; তবে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে, এটা আমার ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই অবগত আছেন।

আপনার এলাকার ভোটারগণ কোনো সমস্যা নিয়ে আপনার শরণাপন্ন হলে কীরূপ সহযোগিতা তারা পেয়ে থাকে এমন প্রশ্নের উত্তরে জনদরদী চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, আমার কাছে কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে আসলে আমি প্রত্যেকের কথা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনি। উদ্ভূত সমস্যা নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য লোকদের সাথে আলোচনা করি এবং সমাধানের একটা পথ বের করি। কেউ আমার কাছ থেকে হতাশ বা বিফল হয়ে ফিরে যায় না এবং ভবিষ্যতেও যাবে না।

আপনার ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন্ কোন্ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন এমন জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে নিষ্ঠাবান ও জননন্দিত বিচক্ষণ চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমি শিক্ষাখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি। শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য আমি ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও আসবাবপত্র ইত্যাদির ওপর গুরুত্ব দেই। ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন সকল বিদ্যালয়ের মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণসহ সব সমস্যা নিরসনে আমি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

তাছাড়া সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। কেননা যানবাহন চলাচল সচল থাকলে এলাকার যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর তার শুভ প্রতিফলন পড়বে। সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এনজিও ইউনিয়ন পরিষদের সাথে কাজ করে। আমরা তাদের সাথে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে তাদের সহযোগিতা নিয়ে থাকি। এভাবে আমার ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ও যাতায়াত সমস্যার সমাধানকল্পে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও মেরামতসহ উন্নয়নের খুঁটিনাটি সকল বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকি আমি। আপনার এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলবেন কি এমন প্রশ্নের জবাবে ডায়নামিক চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আমার এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। আমি পরপর দুইবার এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছি। এখন পর্যন্ত এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করেছে বা এলাকার শান্তি নষ্ট করেছে। অত্র এলাকায় আইন-শৃংখলা উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা জনগণের নিরাপত্তা দিতে সমর্থ হয়েছি। ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের আইন-শৃংখলা নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই। জনগণ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে -এটি আজ বড় সত্য। তিনি বলেন শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক ও সমাজকর্মী সবার সহযোগিতা নিয়ে আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমার এলাকার মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি খুবই চমৎকার। এলাকার পরিবেশ খুবই শান্তিপূর্ণ। আমার ইউনিয়নের মানুষ খুবই শান্তিকামী। এলাকার আপামর জনগণ যৌথভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সদা সচেষ্ট থাকে।

ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর দু’একটা সফল কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করবেন কি, যা অন্যদের কাছে প্রেরণার উৎস হতে পারে এমন জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে সফল চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মসূচির আওতায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় একটি করে ভবন নির্মাণ করে দিয়েছি। আমি মনে করি, শিক্ষা ক্ষেত্রে এটি আমার একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আমার সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে, আমার ইউনিয়নের মানুষের জন্য আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পেরেছি। আমার উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অর্থায়ন করে আমাদেরকে একটি পানির ট্যাংকি স্থাপন করে দিয়েছে। আমি মনে করি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এই ক্ষেত্রেও সফলতা অর্জন করেছি।

তিনি আরো বলেন আইসিটি খাতে ২০১৫ সালে উপজেলায় সেরা ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি স্বীকৃতিলাভ করেছি। মৎস্য চাষে সেরা উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছি। ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের ম্যানেজার হিসেবে উপজেলায় সেরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জেলার চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতায় এসব সফলতা লাভে আমি সক্ষম হয়েছি। তাই এসব কাজের স্বীকৃতিলাভের পর আমার কাজের গতি ও উদ্যম আরও বেড়ে গেছে। লক্ষ্মীপুরে নদীবন্দর স্থাপিত হলে লক্ষ্মীপুরবাসী কতটুকু উপকৃত হবে বলে আপনি মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে সফল ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, লক্ষ্মীপুরে নদীবন্দর স্থাপিত হলে লক্ষ্মীপুরবাসী অবশ্যই উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি। আমাদের একটা ব্রিজ আছে, ওটা হলে সরাসরি নদীবন্দরের সাথে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের একটা সম্পর্ক স্থাপিত হবে। আমি জানি, ঐ ব্রিজটা নির্মাণ করার জন্য সরকারের একটা পরিকল্পনা আছে। নদীবন্দর নির্মাণ হলে শুধু ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন কিংবা লক্ষ্মীপুর জেলাই নয়; আমি মনে করি, বৃহত্তর নোয়াখালীর সকল জেলাই এর সুফল ভোগ করবে।

আপনার ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন এমন জিজ্ঞাসার উত্তরে আইসিটিতে শ্রেষ্ট চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, আমার ইউনিয়নের তথ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণ খুবই উপকৃত হচ্ছে। সরকারের আইসিটি খাতের সহায়তায় ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন থেকে শুরু করে কৃষি ও চিকিৎসা সহায়তাসহ নানা ধরনের তথ্যসেবা দেয়া হয়। মানুষের চাহিদা মোতাবেক সরকারি এসব তথ্য সেবা দেয়া হয়। তথ্যসেবা কেন্দ্র বিনামূল্যেই সকল সেবা ইউনিয়ন পর্যায়ের সাধারণ জনগণকে দিয়ে আসছে।

করোনাকালে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে সাইফুল হাসান রনি বলেন, করোনাকালে আমরা শিশু খাদ্য বিতরণ করেছি। ধাপে ধাপে গরিব মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। বিশেষ করে গরিব সিএনজি চালক, রিকশাচালক, দিনমজুর যারা দিনে আনে দিনে খায়, তাদের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেছি। মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। মাস্ক পড়ার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করেছি। আমরা বিনামূল্যে জনসাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছি।

সামাজিক ও ক্রীড়া বিষয়ক কর্মকা- সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্রীড়ামোদি চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, আমি ভবানীগঞ্জ কলেজ ও মাদ্রাসার সাথে বিদ্যোৎসাহী হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখি। লক্ষ্মীপুর জেলার ক্রীড়া ক্ষেত্রে আমার বাবা মরহুম নিজামউদ্দিন সাহেব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত চৌরাস্তা ক্লাব ক্রীড়ামোদীদের একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ক্লাব। আমি বর্তমানে সেই ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হিসেবে আমি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছি। লক্ষ্মীপুর জেলা ক্রিকেট উপ-কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ন্যাশনাল টিমে লক্ষ্মীপুর জেলার একজন খেলোয়াড় আছে। লক্ষ্মীপুর ক্রিকেট একাডেমিতে আমি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছি। আগামীতে ইনশাল্লাহ আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখব বলে আশা রাখি। আমার বাবার নামে একটা প্রাথমিক বৃত্তি আছে, যেটা প্রতিবছর দেয়া হয়। এবার করোনার কারণে অবশ্য তা দেয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু এর আগে প্রতিবছর এটা ধারাবাহিকভাবে দেয়া হয়েছে। বৃহত্তর ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের যতগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, সেগুলোর মেধাবী ছাত্রদের এই বৃত্তি দেয়া হয়। ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করাই আমার মূল উদ্দেশ্য।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে আশাবাদী চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, রামগতি ও কমলনগরে মেঘনার ভাঙ্গনের ফলে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার লোকজন ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে এসে বসতবাড়ি নির্মাণ করছে। এতে আমাদের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে জনসংখ্যার চাপ অনেক বেড়ে গেছে। এতে দেখা গেছে যে, ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে যত ভোটার, লক্ষ্মীপুর জেলার আর কোনো ইউনিয়নে এত ভোটার নেই। আমি মনে করি আমার ইউনিয়নে যত ভোটার আছে, লক্ষ্মীপুর জেলার অন্য ইউনিয়ন দুইটির ভোটার সংখ্যা যোগ করলেও এত ভোটার হবে না। অতীতে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল এই ভোটার সংখ্যা অধিক হওয়ার কারণে। আমার মনে হয়, ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নকে আবার দুই ভাগে ভাগ করার সময় হয়ে এসেছে। সরকারের সেবা কার্যক্রমগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে জনসংখ্যা বিষয়ক যে নীতিমালা, তাতে আর একটা ইউনিয়ন হওয়ার প্রয়োজন অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে বলে আমি মনে করি। দুইটি ইউনিয়ন হওয়া এখন সময়ের দাবি। দুইটি ইউনিয়ন হলে দুইটিই অগ্রসর হয়ে যাবে, এটা একেবারে সুনিশ্চিত। তাই ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নকে দুই ভাগে ভাগ করার কার্যক্রমে আমি ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হয়েছি। সরকার যদি মনে করে যে দুইটি ইউনিয়নের প্রয়োজন, তাহলে এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। আমার ইউনিয়নের শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়ে গেছে। আমি জলাবদ্ধতা নিরসনে আংশিকভাবে কিছু কাজ করেছি, কিন্তু এটার জন্য অবশ্যই একটা মাস্টার প্ল্যান প্রয়োজন। বাজারগুলোর পানি অপসারণ, ড্রেনেজ সিস্টেমের পানি অপসারণ এবং দুর্বৃত্তায়নের কারণে যে জলাবদ্ধতা, সেসব অপসারণ করে একটা মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে আমরা এই জলাবদ্ধতা নিরসনে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। সর্বপরি আমি বলতে চাই ইউনিয়নের উন্নয়নে আমি যে অবদান রেখেছি, তার স্বীকৃতিস্বরূপ জনগণ আমাকে পুনরায় জয়যুক্ত করবে বলে আমি আশাবাদী।

লক্ষ্মীপুর বার্তা সম্পর্কে মূল্যায়ন জানতে চাইলে এলাকাপ্রেমী ব্যক্তিত্ব সাইফুল হাসান রনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর মুখপত্র লক্ষ্মীপুর বার্তা লক্ষ্মীপুরের মানুষের প্রিয় পত্রিকা। আমি বাবার কাছে শিশুকাল থেকেই লক্ষ্মীপুর বার্তা দেখে আসছি। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই লক্ষ্মীপুর বার্তা দেখছি। ছাত্র অবস্থা থেকেই লক্ষ্মীপুর বার্তা পড়ছি। শুধু বৃহত্তর নোয়াখালী নয়; আমি মনে করি, সারাদেশ ও বিশ্বজুড়ে লক্ষ্মীপুর বার্তা’র একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে। লক্ষ্মীপুর বার্তা বৃহত্তর নোয়াখালীর শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকা-গুলো তুলে ধরে উন্নয়ন অগ্রগতিতে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে। লক্ষ্মীপুর বার্তা সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে, আরো সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দেবে, এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমি লক্ষ্মীপুর বার্তা’র উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করি।