Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
সরকারের সচিব হলেন লক্ষ্মীপুরের সুসন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী  লক্ষ্মীপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস পালিত  সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই -মোহাম্মদ মাসুম, ইউএনও, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা  ফেনী জেলা পরিষদ শিশু পার্ক থেকে বিমুখ স্থানীয়রা 

বৃহত্তর নোয়াখালীর বিশিষ্টজনদের ঈদ ভাবনা

ঈদ মুসলিম জাহানে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয় ঈদ আসে ঐক্য, সংহতি, ভালোবাসা আর অপার আনন্দের বার্তা নিয়ে
একমাস রমজানের কঠোর সিয়াস সাধনার পর মুমীন মুসলমান বছরের বাকি ১১ মাস সুন্দর, সুষ্ঠু সুনিয়ন্ত্রিত পথে চলার শপথ গ্রহণ করে রমজান মানুষকে পরিশুদ্ধ করে নবশক্তিতে উজ্জীবিত করে রোজা পালনের মাধ্যমে আর্ত-পীড়িত-বুভুক্ষু মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করা যায়
রমজান শেষে আসে ঈদ ঈদের আনন্দ ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, এটি সামাজিক উৎসব সবার মাঝে আনন্দ ভাগ করে দেয়া সবার সাথে শেয়ার করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে ঈদ-উৎসবের বৈশিষ্ট্য


এবারের ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বৃহত্তর নোয়াখালীর বিশিষ্টজনদের ভাবনা নিয়ে লক্ষ্মীপুর বার্তা বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুর বার্তা প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এবং জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন বিশিষ্টজনদের সাথে আলাপচারিতায় মিলিত হন; জানতে চেষ্টা করেন তাঁদের অনুভূতি যা ঈদের ভাবনা কলামে লক্ষ্মীপুর বার্তা সহকারী সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফার অনুলিখনে সন্নিবেশিত হলো


গ্রামে ঈদ উদযাপনে প্রাণের যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়, শহরের ঈদে তা নেই
-হাবিব উল্লাহ
ফাউন্ডার এমডি, সিটি হসপিটাল

আপনি যখন ছাত্র ছিলেন, তখনকার ঈদের অনুভূতি কেমন ছিল প্রশ্নের  জবাবে কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব হাবিব উল্লাহ বলেন, তখনকার ঈদ অনুভূতি বর্ণনা করা যায় না ঈদগাহে আমরা শিশু-কিশোররা যখন যেতাম, তখন পাশের দোকান থেকে নানারকম জিনিস কিনে খেতাম বেশ মজা করে দলবল নিয়ে এগুলো খেতাম বলে এর স্বাদই ছিল আলাদা ঈদগাহ থেকে এসে আমরা পাড়া মহল্লার সবার বাড়িতে যেতাম ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সে যোগাযোগ ছিল আন্তরিকতাপূর্ণ, আনন্দদায়ক
মাহে রমজানে আমরা কী শিক্ষালাভ করতে পারি এমন প্রশ্নে  হাবিব উল্লাহ বলেন, রমজান সংযমের শিক্ষা দেয়, কঠোর সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমীন মুসলমানরা নিজেকে দগ্ধ করে, সকল পাপ-তাপ নিঃশেষ করে দিয়ে খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হয় মানুষ রমজানের শিক্ষাকে ধরে রাখতে পারে না; মসজিদে হাজার হাজার মুসুল্লী, নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে আর কিছু মনে থাকে না তবে রমজানের একটা ভালো দিক হলো মানুষ পরস্পরের সাথে দেখা করে, আলাপ-আলোচনা করে, আনন্দ ভাগাভাগি করে
এবার ঈদ কোথায় করবেন জানতে চাইলে হাবিব উল্ল্াহ বলেন, এবার ঈদ ঢাকায় করব বলে ঠিক করেছি বয়সের কারণে এখন আর ছুটাছুটি করতে পারি না বয়স যখন আরও কম ছিল, তখন গ্রামে ঈদ করেছি আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে
গ্রামের ঈদ এবং শহরের ঈদের মধ্যে কী পার্থক্য দেখতে পান এমন প্রশ্নে হাবিব উল্লাহ বলেন, দুয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য গ্রামে ঈদ উদযাপনে প্রাণের যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়, শহরের ঈদে তা নেই গ্রামে নামাজ শেষে যে কোলাকুলি হয়, তাতে স্বর্গীয় দৃশ্যের আমেজ সৃষ্টি হয়; কিন্তু শহরে সে আলিঙ্গন বা কোলাকুলি যেন যান্ত্রিক, নিষ্প্রাণ
সব মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে হাবিব উল্লাহ বলেন, সব মানুষকে ঈদের আনন্দে সম্পৃক্ত করতে হলে ঈদের মর্মবাণী ধর্মীয় সভায় তুলে ধরতে হবে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ঘুচাতে হবে রমযানের মর্মবাণীকে ঈদ-উৎসবের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারলেই পাওয়া যাবে ঈদ-উদযাপনের সার্থকতা ইসলামে ধর্মীয় গোঁড়ামি সংকীর্ণতার স্থান নেই


অন্য সময়ের কোলাকুলির চেয়ে ঈদের কোলাকুলি হয় ভিন্ন  আবেগ-অনুভূতিতে সিক্ত
-এম আলাউদ্দিন
গভর্নিং বডির সভাপতি
কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

আসন্ন ঈদ উদযাপন সম্পর্কে কী ভাবছেন এমন প্রশ্নে প্রবীণ রাজনীতিবিদ শিক্ষাপ্রেমী ব্যক্তিত্ব এম আলাউদ্দিন বলেন, ঈদ মুসলিম জাহানে  সার্বজনীন উৎসব ত্রিশ দিনের কঠোর সিয়াম সাধনা শেষে মুমীন মুসলমানগণ ঈদুল ফিতরের যে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠে, আমিও তাতে শরিক হব বলে আশা করছি সবার সাথে মিশব, শুভেচ্ছা জানাব, ভাব-বিনিময় করব, অপার আনন্দ উপভোগ করব
শহরের ঈদ এবং গ্রামের ঈদের মধ্যে কোনো পার্থক্য অনুভব করেন কী, দুয়ের মধ্যে কোন্টিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন প্রশ্নে সর্বজনশ্রদ্ধেয় জননেতা এম আলাউদ্দিন বলেন, শহর এবং গ্রামের ঈদ উদযাপনের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে শহরের ঈদের আনন্দ থাকে সীমিত পরিবার-পরিজনের মধ্যে, অন্যদিকে মফস্বলের ঈদে সর্বস্তরের মানুষ যোগ দেয়, ঈদের সমাবেশ উৎসবের রূপ পরিগ্রহ করে গ্রামের ঈদগাহে সব মানুষের সাথে দেখা হয়, কথাবার্তা হয় জামাত শেষে মুসল্লীদের মধ্যে কোলাকুলির দৃশ্য দেখে মানুষের মন প্রশান্তিতে ভরে ওঠে
ঈদ ধর্মীয় উৎসব; উৎসবকে আনন্দঘন করে তুলতে হলে কী ধরনের পরিবেশ-পরস্থিতি বিরাজ করা প্রয়োজন এমন প্রশ্নে বর্ষীয়ান রাজনীতিক এবং উদারপ্রাণ সমাজসেবী এম আলাউদ্দিন বলেন, যেকোনো আনন্দ-আয়োজনে সুন্দর পরিবেশ প্রয়োজন ঈদ নিছক আনন্দ-অনুষ্ঠান নয়, এর সাথে ধর্মীয় অনুভূতিও জড়িত রয়েছে কাজেই ঈদের অনুষ্ঠানকে হতে হবে সুুন্দরতম দীর্ঘ সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দটা অন্যান্য আনন্দের চেয়ে বেশি উপভোগ্য হয় মুমীন মুসলমানরা প্রাণ খুলে একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করে, শুভেচ্ছা বিনিময় করে অন্য সময়ের কোলাকুলির চেয়ে ঈদের কোলাকুলি হয় ভিন্ন আবেগ-অনুভূতিতে সিক্ত এজন্য ঈদের দিনের পরিবেশ সুন্দর, উপভোগ্য আনন্দঘন করে রাখতে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, নাগরিকগণও নিজেদের স্বার্থেই সরকারি কর্মসূচির সাথে সহযোগিতা করবেন বলে আশা করা যায় শুধু সরকারের ওপর সবকিছু ছেড়ে দিলে চলবে না, জনসাধারণকেও কিছু কিছু কাজ সাগ্রহে করতে হবে


ঈদে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে
-এ কে এম টিপু সুলতান
সাবেক জেলা প্রশাসক, লক্ষ্মীপুর

আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন নিয়ে কী ভাবছেন এমন প্রশ্নে লক্ষ্মীপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক কে এম টিপু সুলতান বলেন, বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ্র জন্য ঈদুল ফিতর একটি বৃহৎ সর্বজনীন ধর্মীয়, সামাজিক সাংস্কৃতিক উৎসব দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আগত এই উৎসব সব সময়ই মুসলমানদের নিকট অন্য যে কোনো উৎসবের তুলনায় ভিন্ন আমেজের অত্যন্ত আকাঙ্খিত একটি দিন প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পূর্ণ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে জেলার নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত সকল শ্রেণির মানুষ যাতে উপভোগ্য, আনন্দ স্বস্তির সাথে এই উৎসব উদযাপন করতে পারে -সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখাসহ সার্বিক সহযোগিতা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে একইভাবে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিকট উৎসবকে সর্বজনীন রূপ দেয়ার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে ব্যক্তিগতভাবে আমার সকল আত্মীয়-স্বজনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগির মাধ্যমে উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখারও পরিকল্পনা রয়েছে
শহরে ঈদ উদযাপন এবং নিজ গ্রামে বা মফস্বলে  ঈদ উদযাপনের মধ্যে কোনো পার্থক্য অনুভব করেন কী? দুটোর মধ্যে কোনটিতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক টিপু সুলতান বলেন, স্বনির্ভর গ্রাম-সমাজের গর্ভেই নগর সমাজের অভ্যুদয় বাঙালি জাতি সকল স্বার্থের উর্ধ্বেমাএর আসন সমুন্নত রাখে -এটাই আমার বদ্ধমূল ধারণা মা সমতুল্য গ্রাম বা মফস্বলের ঈদ উদযাপন শহরের ঈদ উদযাপনের তুলনায় ভিন্ন এবং আনন্দদায়ক হয়ে থাকে কারণ বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ ভাগ মুসলমানের শিকড় গ্রামেই প্রোথিত ছোট বেলার খেলার সাথী, গ্রামের সহজ-সরল মানুষ তাদের আতিথেয়তা, অকৃত্রিম ভালোবাসা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য সম্প্রীতি, সবুজ প্রকৃতি, বিস্তীর্ণ মাঠ, নির্মল বাতাস একাকার হয়ে গ্রামের ঈদ উদযাপনকে শহরের ঈদ উদযাপনের তুলনায় অধিকতর অপরূপ সৌন্দর্য, আনন্দ অকৃত্রিম বর্ণাঢ্যতায় প্রস্ফুটিত করে তোলে ব্যক্তিগতভাবে আমি অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে আধার অকৃত্রিমতার মাঝে বেড়ে ওঠা গ্রামের সহজ-সরল অতিথিপরায়ণ মানুষদের সাথে ঈদ উদযাপন করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি
এবারের ঈদ উপভোগ্য, আনন্দ স্বস্তিদায়ক হতে হলে কী ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করা দরকার বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে দূরদর্শী জেলা প্রশাসক টিপু সুলতান বলেন, মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপভোগ্য, আনন্দ স্বস্তিদায়ক হোক -এটা সকলেরই কাম্য মানুষ নির্ভয়ে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব উদযাপন করবে -সেটা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক এর জন্য দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানের ন্যায় স্থিতিশীল রাখতে হবে বর্তমান সরকার বিষয়ে সদা তৎপর এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে এবং গরিব, দুস্থ, ছিন্নমূল মানুষদের আসন্ন ঈদ উদযাপন উপভোগ্য আনন্দদায়ক করার ক্ষেত্রে সরকার তথা সমাজের বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন সম্ভব সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে আশা করছি, লক্ষ্মীপুরের মানুষ আসন্ন ঈদুল ফিতর যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্ম, বর্ণ ধনী-গরিব নির্বিশেষে পূর্ণাঙ্গ উৎসবের আমেজে উদযাপন করতে সক্ষম হবে ইনশাল্লাহ


গ্রামে ঈদ উদযাপনের মধ্যে প্রাণের ছোঁয়া আছে; সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাই না
-হারুন অর রশীদ বেপারী
আইনজীবী, জেলা জজ আদালত, লক্ষ্মীপুর
সহ-সভাপতি, লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি

ঈদুল ফিতর উদযাপন সম্পর্কে বিশিষ্ট আইনজীবী হারুন অর রশীদ বেপারী বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানরা উৎসবের আমেজে উদযাপন করে কঠোর সিয়াম সাধনা শেষে ঈদের মাঠে নামাজ আদায় করেই তারা তৎপরতা  শেষ করে না, তারা ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে যায় গ্রামের প্রতি বাড়ি বাড়ি আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশিরা পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আমিও ঈদের দিন এরকম একটা আনন্দ-অনুভূতির কথাই ভাবছি
ছোটবেলায় নতুন জামা-কাপড়, জুতো পেয়েছি, ঈদি পেয়েছি, আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে সে টাকা সমবয়সিদের নিয়ে খরচ করে ফেলেছি শৈশব-কৈশোর-যৌবন পেরিয়ে এখন বয়সে পাওয়ার আনন্দ লাভের আর সুযোগ নাই এখন দেয়ার আনন্দেই সন্তষ্ট থাকতে হবে
শহরে ঈদ উদযাপন আর নিজ গ্রাম বা মফস্বলে ঈদ উদযাপনের মধ্যে আপনি কোন্টাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন জিজ্ঞাসায় হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা তিন ভাই; দুভাই ঢাকায় থাকেন, ঈদের সময় আমরা লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে চলে আসি আমাদের বাড়ি খুব পরিচিত, আমরা অনেক সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রাজনীতিতেও আমরা অনেক সক্রিয় গ্রামের মসজিদে আমরা ঈদের নামাজ পড়ি আমার বাবা মসজিদ কমিটির সভাপতি এজন্য আমরা ঈদে গ্রামে চলে আসি মফস্বল শহরে ঈদ উদযাপনের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস নেই গ্রামের ঈদ উদযাপনের মধ্যে প্রাণের ছোঁয়া আছে; সেখানে প্রাণ খুলে আলাপ করা যায়, সুখ-দুঃখের কথা বলা যায়, প্রাণের আবেগে কোলাকুলি করা যায় এই সুযোগগুলো আমি হাতছাড়া করতে চাই না; শহরের নিষ্প্রাণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে ঈদের আনন্দকে আবদ্ধ করতে চাই না আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের ধারায় ঈদকে গণমানুষের উৎসবপর্ব হিসেবে দেখতে চাই, যার সাথে যুক্ত হয়েছে ধর্মের বিশেষ অনুভূতি আমাদের পরিবারের সবাই গ্রামে ঈদ উদযাপনকে প্রাধান্য দেয় এবং পরম আনন্দে ঈদ উৎসবে অংশ নেয়
এবারের ঈদ উপভোগ্য, আনন্দ স্বস্তিদায়ক হতে হলে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করা দরকার তবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যারা প্রাণ হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে তাদের স্বজনদের আহাজারিতে ঈদের বাতাস এবার ভারি থাকবে যারা ঈদের মাঠে যাবে তাদেরকেও আতংকের মধ্যে থাকতে হবে ব্যক্তিগতভাবে আমি ভালো আছি, এখনও গুলি খাইনি, জেলে যাইনি; কিন্তু পাশের লোক যদি শান্তি-স্বস্তিতে না থাকে, হামলা-মামলার মধ্যে থেকে ঈদের আনন্দ থেকে দূরে সরে যায় -তাহলে আমার ঈদ উদযাপন কতটুকু স্বস্তিদায়ক হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যায় সবাই শান্তি স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারলে সেটি হবে সত্যিকারের আনন্দদায়ক


শহরের চেয়ে গ্রামের ঈদ অনেক বেশি জমজমাট, অনেক আনন্দঘন
-শাহ মিজান শাফিউর রহমান
পুলিশ সুপার, লক্ষ্মীপুর

আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন নিয়ে আপনি কী ভাবছেন এমন প্রশ্নে লক্ষ্মীপুরের জনপ্রিয় পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, এবার লক্ষ্মীপুরের মানুষ শান্তি ও স্বস্তির মধ্যদিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পারবেন। কারণ বিগত কয়েক বছরের তুলনায় লক্ষ্মীপুরের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। বাহিনী নামধারী অনেকে নাশকতার পথ ছেড়েছে, তারা স্বাভাবিক জীবনের সাথে একাত্ম হবার চেষ্টা করছে। এর ফলে এবার ঈদুল ফিতর ভিন্ন আঙ্গিকে উদযাপিত হবে। ঈদের সময় আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছি। আশা করি, গোটা জেলার ওপর এর প্রভাব থাকবে।
শহরের ঈদ উদযাপন আর গ্রামের ঈদ উদযাপনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নজরে আসে কী, আপনি কোনটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন প্রশ্নে  চৌকস পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, শহর ও গ্রামের ঈদ উদযাপনের মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। শহরের চেয়ে গ্রামের ঈদ অনেক জমজমাট হয়, বিপুল লোক সমাগম হয়; শহরের অনেকে গ্রামে ঈদ করেন। তাদের সাথে গ্রামবাসীর আন্তরিক আলাপ হয়, সুখ-দুঃখের কথা হয়। এতে প্রাণের স্পর্শ থাকে। গ্রামের ঈদকে আমি পছন্দ করি।
ঈদকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য প্রথমতঃ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে জনজীবনকে শংকামুক্ত রাখতে হবে। দ্বিতীয়তঃ দুর্বিষহ যানজটের কবলে পড়ে মানুষ অনেক ভোগান্তির শিকার হয়। ঈদের সময় যানবাহন চলাচলে শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করা দরকার -যাতে মানুষ শান্তিতে ঈদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারে। ঈদ বাজারে যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারে, নিরাপদে বাসস্থানে পৌঁছাতে পারে -সে ব্যাপারে আমরা লক্ষ্য রাখব। ঈদের বাজারে স্থানীয় লোকজন রাতেও কেনাকাটা করতে পারবেন; সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। বিগত সময়ের চেয়ে তারা অধিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকেন। এটিই লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য এবারের ঈদের আনন্দ-বার্তা।


শৈশব-কৈশোরে ঈদের দিনে কিছু পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতাম, এখন দিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় আমাদের
-মোহাম্মদ আবুল খায়ের
চেয়ারম্যান
এয়ার ট্রিপ ইন্টারন্যাশনাল

ঈদের অনুভূতি ব্যক্ত করে ব্যবসা জগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব এম আবুল খায়ের বলেন, এখন আমাদের বয়স হয়েছে; শৈশব-কৈশোরে ঈদের দিনে আমরা কিছু পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতাম এখন দিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় আমাদের ছোট বেলায় মা-বাবার কাছ থেকে একটা শার্ট বা গেঞ্জি পেলেই খুশির জোয়ারে ভাসতাম এখন দেয়ার মধ্যেই সে খুশি উচ্ছ্বসিত হয় দুটোই আনন্দ! আল্লাহ দেয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন, দিয়ে যে আনন্দ কুড়িয়ে নিতে পারছি -এজন্য আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি
ছোট বেলাকার ঈদের স্মৃতি স্মরণ করে আবুল খায়ের বলেন, ঈদের সকালে নতুন জামাকাপড় পরে যে বেরুতাম -সন্ধ্যা পর্যন্ত সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে মাঠে মাঠে ছুটাছুটি করতাম, খাওয়া-দাওয়ার কথা ভুলেই যেতাম নামাজের মাঠে গিয়ে বাঁশি কিনতাম, নানারকম মিষ্টি কিনতাম, সবাই মিলে মজা করে খেতাম শহরে আমরা পাশের বাড়ির মানুষের খোঁজ রাখি না, আর গ্রামে এর ভিন্নরূপ; পুরো গ্রামটাই নিজের মনে হয়, সবাই সবাইকে চেনে, সুখ-দুঃখের খবর রাখে মনে পড়ে, বাবা আমাদেরকে খুব ভোরে নিয়ে যেতেন ঈদগাহ পরিষ্কার করতে ঈদগাহ ছিল আমাদের বাড়ির খুব কাছে, এজন্য এটি পরিষ্কারের দায়িত্বও আমাদের ওপর পড়ত আমরা ঝাড়–, বালতি, কোদাল ইত্যাদি নিয়ে ঈদগাহে চলে যেতাম বড়রা ঈদের নামাজ পড়বেন, এজন্য ঈদগাহকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত করতে হবে ঈদ জামাতের আগেই সেজন্য আমাদের ব্যস্ততা থাকত
সব মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে আবুল খায়ের বলেন, ঈদের মর্মবাণী আমাদের বুঝতে হবে ঈদে ব্যক্তিগত আনন্দ আছে ঠিকই, কিন্তু কমিউনিটির আনন্দ এখানে প্রধান ঈদের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ধনী-গরিবের বৈষম্য ভুলে ঈদকে সর্বজনীন রূপ দিয়ে উৎসবের আয়োজন করা হবে; যেখানে শুধু মুসলিম নয়, অন্য ধর্মমতাবলম্বীরাও অংশগ্রহণ করতে পারবে ইসলাম উদারনৈতিক ধর্ম, এর আদর্শ সৌন্দর্য অন্য ধর্মের মানুষকে আকর্ষণ করে এজন্য ঈদকে শুধু ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সর্বজনীনরূপ দেয়া প্রয়োজন


যান্ত্রিক শহরে ঈদের আনন্দ নামাজ আদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় শেষ হয়
-এড. মু. হাফিজুর রহমান
প্রাক্তন সেক্রেটারি
জেলা আইনজীবী সমিতি, লক্ষ্মীপুর

আসছে ঈদুল ফিতরের কথা কী ভাবছেন? এবারকার ঈদ কোথায় উদযাপন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে এডভোকেট মু. হাফিজুর রহমান বলেন, ঈদ মানে আনন্দ আর তা ভাগাভাগি করে নেয়া হলো বড় আনন্দের পরিবার-পরিজন নিয়ে বরাবরের মতো এবারো মফস্বলে সকলের সাথে ঈদ উদযাপনের চিন্তা করছি
গ্রাম শহরের ঈদের মধ্যে কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করেন কি, আপনি কোন্টাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে এডভোকেট হাফিজুর বহমান বলেন, শহরের বেশিরভাগ মানুষই চার প্রাচীরের মধ্যে নিজকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় তাই যান্ত্রিক শহরে ঈদের আনন্দ মূলতঃ ঈদের নামাজের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমেই সমাপ্তি ঘটে অথচ মফস্বলের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো এখনো দেখা যায়, গ্রামের ছেলে-মেয়েরা জোট বেঁধে বাড়ি বাড়িতে যায় মুরব্বিদের নিকট থেকে ঈদের সেলামী আদায় করে হৈ-চৈ এর মাধ্যমে পুরো গ্রামকে মাতিয়ে রাখে নানা রঙের সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন পোষাকে নতুনভাবে নিজকে উপস্থাপন করে ধনী-গরিব সকলেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় নাড়ীর টানে অনেকেই আবার শহর ছেড়ে মফস্বলে ছুটে আসে প্রিয়জনের কাছে যেন এক মহামিলন মেলা এক কথায় পুরো গ্রামই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত এবং যার অবগাহনের মাধ্যমে নেমে আসে পরিপূর্ণ তৃপ্তি তাই মফস্বলে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন আমার নিকট বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের
ঈদ উপভোগ্য, আনন্দ স্বস্তিদায়ক হতে হলে কী ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করা দরকার - প্রসঙ্গে এডভোকেট মু. হাফিজুর রহমান বলেন, সর্বাগ্রে জীবনের নিরাপত্তা এবং বাক স্বাধীনতাসহ আইনের সুশাসন বিদ্যমান না থাকলে কোনো মানুষের মনেই শান্তি আসার কথা নয় আর মন অশান্ত থাকলে ঈদ উদযাপন নিছক এক আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়ায় তাই দেশের আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক উন্নতিসহ সকল মানুষের জন্য আইনের সমপ্রয়োগ, নিরপরাধীর মুক্তি এবং পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি



শহরের অধিকাংশ মানুষ ঈদে গ্রামে চলে আসেন, তাই গ্রামের ঈদ হয় শহর-গ্রামের মেলবন্ধন
-ডাঃ মোহাম্মদ শাহজাহান
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লক্ষ্মীপুর আধুনিক হাসপাতাল

আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন নিয়ে আপনি কী ভাবছেন এমন প্রশ্নে লক্ষ্মীপুরের জনপ্রিয় পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, এবার লক্ষ্মীপুরের মানুষ শান্তি স্বস্তির মধ্যদিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পারবেন কারণ বিগত কয়েক বছরের তুলনায় লক্ষ্মীপুরের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অনেক ভালো বাহিনী নামধারী অনেকে নাশকতার পথ ছেড়েছে, তারা স্বাভাবিক জীবনের সাথে একাত্ম হবার চেষ্টা করছে এর ফলে এবার ঈদুল ফিতর ভিন্ন আঙ্গিকে উদযাপিত হবে ঈদের সময় আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছি আশা করি, গোটা জেলার ওপর এর প্রভাব থাকবে
শহরের ঈদ উদযাপন আর গ্রামের ঈদ উদযাপনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নজরে আসে কী, আপনি কোনটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন প্রশ্নে  চৌকস পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, শহর গ্রামের ঈদ উদযাপনের মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে শহরের চেয়ে গ্রামের ঈদ অনেক জমজমাট হয়, বিপুল লোক সমাগম হয়; শহরের অনেকে গ্রামে ঈদ করেন তাদের সাথে গ্রামবাসীর আন্তরিক আলাপ হয়, সুখ-দুঃখের কথা হয় এতে প্রাণের স্পর্শ থাকে গ্রামের ঈদকে আমি পছন্দ করি
ঈদকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য প্রথমতঃ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে জনজীবনকে শংকামুক্ত রাখতে হবে দ্বিতীয়তঃ দুর্বিষহ যানজটের কবলে পড়ে মানুষ অনেক ভোগান্তির শিকার হয় ঈদের সময় যানবাহন চলাচলে শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করা দরকার -যাতে মানুষ শান্তিতে ঈদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারে ঈদ বাজারে যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারে, নিরাপদে বাসস্থানে পৌঁছাতে পারে -সে ব্যাপারে আমরা লক্ষ্য রাখব ঈদের বাজারে স্থানীয় লোকজন রাতেও কেনাকাটা করতে পারবেন; সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে বিগত সময়ের চেয়ে তারা অধিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকেন এটিই লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য এবারের ঈদের আনন্দ-বার্তা


নিজেরা যেমন উৎসবের আমেজে ঈদ উদযাপন করব, তেমনি গরিবদের মাঝে সে আনন্দ ছড়িয়ে দেব
-মোঃ হাবিবুর রহমান সবুজ
উপাধ্যক্ষ
লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ

আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন নিয়ে কী ভাবছেন এমন প্রশ্নে হাবিবুর রহমান সবুজ বলেন, ঈদ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব। ঈদ ধনী-গরিবের ভেদাভেদ দূর করে মুসলিমদেরকে এক কাতারে দাঁড় করায়। গরিবরা এদিনে ধনীদের সদকা-ফিতরা লাভে, নতুন জামাকাপড় পেয়ে আনন্দ উপভোগ করতে পারে। ঈদের দিনে আমার ব্যক্তিগত ভাবনা হলো- নিজেরা যেমন উৎসবের আমেজে ঈদ উদযাপন করব, তেমনি গরিবদের মাঝে ঈদের আনন্দ বিলিয়ে দিতে সচেষ্ট থাকব।
শহর এবং গ্রামের ঈদের মধ্যে কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করেন কী, এ দু’টোর মধ্যে কোনটাতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে  শিক্ষাব্রতী হাবিবুর রহমান বলেন, অবশ্যই দু’টোর মধ্যে পার্থক্য আছে। শহরে সচ্ছল লোকদের বসবাস; ঈদের আনন্দের মধ্যেও কর্পোরেট আনন্দ, কর্পোরেট আয়োজন, কর্পোরেট উদযাপন লক্ষ্য করা যায়। শহরের ঈদে প্রাণের অভাব থাকে। অন্যদিকে গ্রামের ঈদে সকল স্তরের মানুষের সমাবেশ হয়; ঈদ হয় প্রাণবন্ত। ঈদের বাজারে, ঈদের জমায়েতে অনেক মানুষের সমাবেশ হয়। ধনী-গরিব সবাই এক কাতারে নামাজ আদায় করেন, প্রাণভরে কোলাকুলি করেন, এতে স্বর্গীয় আনন্দ উপভোগ করতে পারেন মু’মীন মুসলমানরা। এ জন্যই শহরের ঈদের তুলনায় গ্রামের ঈদ অনেক আনন্দবহ ও অর্থবহ।
ঈদ সুন্দর-সুষ্ঠুভাবে উদযাপন করতে যে রকম পরিবেশ-পরিস্থিতি প্রয়োজন, দেশে সে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লক্ষ্মীপুরেও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখতে জেলার পুলিশ প্রশাসন খুবই তৎপর। লক্ষ্মীপুরকে সন্ত্রাসের জনপদ থেকে শান্তির জনপদে উন্নীত করতে তারা সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে।
রমজানে নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ বেড়ে যায় -এটি যদি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যায় তা হলে গরিব-মধ্যবিত্তরাও আনন্দের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। এজন্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে রোজাদার এবং সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে যদি নিজেরা দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে না দেন তাহলে তারা হবেন প্রশংসার যোগ্য।



প্রশাসন নিরপেক্ষতা বজায় রাখলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠবে, ঈদও তখন সবার ঈদ হয়ে উঠবে
-মোঃ হাসিবুর রহমান
আইনজীবী, জেলাজজ আদালত, লক্ষ্মীপুর
সাংগঠনিক সম্পাদক, লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি

আসন্ন ঈদুল ফিতর উৎযাপন নিয়ে কী ভাবছেন এমন প্রশ্নে  এডভোকেট হাসিবুর রহমান বলেন, দেশে শান্তি-স্বস্তিতে ঈদ উদযাপনের পরিবেশ নেই। দেশে গণতন্ত্র নেই, হামলা-মামলায় বিরোধী দল বিপর্যস্ত; তারা অবদমিত হয়ে আছে। দেশে বাক-স্বাধীনতা নেই; বিরোধীদলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের ঈদ উদযাপনের কোনো ভাবনা নেই। বেঁচে থাকাটা একটা যুদ্ধ; আমরা সেই যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছি।
শহরে এবং গ্রামে ঈদ উদযাপনের মধ্যে কোনো পার্থক্য অনুভব করেন কি; ঈদ উদযাপনে আপনি কোনটাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারুণ্যদীপ্ত আইনজীবী এডভোকেট হাসিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে সমাজে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে ঈদের কোনো আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। যেখানে আনন্দ নেই, সেখানে শহর আর গ্রামের অবস্থার তুলনার অবকাশ কোথায়?
স্বস্তি ও আনন্দে ঈদ উদযাপনে কী ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে আশাবাদী রাজনীতিবিদ এডভোকেট হাসিবুর রহমান বলেন, যদি সরকারের সদিচ্ছা থাকে -তাহলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সরকার যদি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবিলম্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেন -তাহলে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি। ভয়, আতংক, অনিশ্চয়তার মধ্যে ঈদের মতো আনন্দদায়ক অনুষ্ঠান কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে! আমাদের হাজার নেতা-কর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছে গ্রেফতার এড়াতে, অন্যরা জেলে বন্দী। সেসব পরিবারে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে ঈদ আনন্দে অবগাহন করা কি সম্ভব? এ পরিস্থিতিতে যদি সরকার বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা তুলে নিয়ে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেন, তাহলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূলনীতি অনুসরণ করে সরকারের প্রশাসনযন্ত্র নিরপেক্ষতা বজায় রাখলে কাক্সিক্ষত পরিবেশ গড়ে উঠবে। ঈদও তখন সবার ঈদ হয়ে ইঠবে।


শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, স্থিতিশীল অবস্থা, সহনীয় দ্রব্যমূল্য মানুষের ঈদ আনন্দকে উচ্ছ্বসিত করে
-এডভোকেট মোঃ জসিম উদ্দিন
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)
জেলা জজ আদালত, লক্ষ্মীপুর

আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপনে আপনি কী ভাবছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট আইনজীবী পিপি এডভোকেট জসিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতরের আনন্দানুষ্ঠান মুমীন মুসলমানরা সিয়ামের কঠোরতার পর ঈদের কোমলতা অনুভব করেন খোলা মন নিয়ে তিনি বলেন ঈদুল ফিতরের আনন্দে ঘরে ঘরে মানুষ মেতে উঠবে, ঈদ তাদের জন্য হয়ে উঠবে আনন্দময়, স্বস্তিময় স্বচ্ছন্দ
শহরের এবং গ্রামের ঈদ উদযাপনের মধ্যে কোনো পার্থক্য অনুভব করেন কি; দুটোর মধ্যে কোনটিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন প্রশ্নে এডভোকেট জসিম উদ্দিন বলেন, শহরে দুধরনের মানুষ দুভাবে ঈদ উদযাপন করে শহরবাসী বিত্তশালী মানুষদের ঈদ উদযাপনে সর্বদিক থেকে জৌলুস দেখা যায় পোশাকে-আশাকে, খানা-পিনায়; তারা একটু বেশি খরচ করে অন্যদিকে শহরের বস্তিবাসীসহ নিম্নআয়ের লোকদের চাহিদা খুব কম, সীমিত আয় বলে তারা খরচে বেসামাল হতে পারে না গ্রামের চিত্রও প্রায় একই রকম গ্রামের বিত্তবানরা জাঁকজমকের সাথে ঈদের আয়োজনে শামিল হন গ্রামে সাধারণত ঈদগাহে ঈদের জামাত আদায় হয়; যেখানে মাঠ নেই, সেখানে মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় হয় নামাজ শেষে মুসুল্লীগণের পরস্পরের কোলাকুলিতে আবদ্ধ হয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা হয়, তাতে স্বর্গীয় আনন্দ-অনুভূতির স্পর্শ লাভ করা যায়
ঈদকে আনন্দদায়ক করে তুলতে, সব মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে বিশিষ্ট আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করলে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকলে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকলে সমাজে স্বস্তি বিরাজ করবে; ঈদ অনুষ্ঠানের ওপর অনুকূল প্রভাব পড়বে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে সন্ত্রাসী তৎপরতা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেদিকে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তবেই ঈদ আনন্দময়, স্বস্তিময়, সুখময় হয়ে উঠবে তাতেই থাকবে রহমত বরকতের প্রতিফলন


গরিব-দুঃখীদের নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে একীভূত হয়ে ঈদ পালনের  মধ্যে রয়েছে ঈদের সার্থকতা
-আ মোশতাকুর রহমান
চেয়ারম্যান, লক্ষ্মীপুর মডেল হাসপাতাল
সাবেক সভাপতি, লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব

ঈদুল ফিতর উদযাপন নিয়ে কী ভাবছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মোশতাকুর রহমান বলেন, ছোট বেলায় ঈদ উদযাপন নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করা হতো নতুন জামা, জুতা ক্রয় এবং পুরাতনগুলো সুন্দর করে ধুয়ে ইস্ত্রি করে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হতো এখন অনেক ভাবনা থাকলেও আগের মতো অনুভূতি হয় না আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য মাসব্যাপী যে রোজা পালন, তারই মহামিলন হলো ঈদুল ফিতর; জীবনকে সুন্দর করে দেখার এক মহানদিন একা একা ঈদ পালন করার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই, সমাজের গরিব-দুঃখীদের নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে একীভূত হয়ে ঈদ পালনের মধ্যেই রয়েছে ঈদের সার্থকতা
গ্রামের ঈদ এবং শহরের ঈদের মধ্যে কী পার্থক্য দেখতে পান এমন প্রশ্নে মোশতাকুর রহমান বলেন, গ্রামে ঈদ আসে, একইভাবে শহরেও ঈদ আসে আমি মনে করি, দুটোর ধরন আজও আলাদা হাজারো কৃত্রিম যান্ত্রিকতার মাঝে শহরে ঈদ উদযাপন হয় অথচ গ্রামে মাঠে-হাঠে-বাজারে সর্বত্র ঈদের মিলনমেলা দেখা যায়, যা শহুরে জীবনে নাই বললেই চলে গ্রামীণ-জীবনে মানুষ সবুজ-শ্যামলে আনন্দে মেতে ওঠে, শহরের যান্ত্রিক জীবনে তা খুঁজে পাওয়া বড়ই কঠিন
সব মানুষের মাঝে এবারের ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে মোশতাকুর রহমান বলেন, শুধু এবার নয় -সবসময় ঈদ উপভোগ্য, আনন্দ স্বস্তিদায়ক করতে হলে সামাজিক স্থিতিশীলতা খুবই জরুরি রাজনৈতিক অস্থিরতা হানাহাণির কারণে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের দাপট শহর-গ্রাম সর্বত্র বিরাজ করছে বাড়ি ফেরারও সাহস পাচ্ছে না অনেকে এমন পরিস্থিতি কারও কাম্য হতে পারে না সামাজিক পারিবারিক বিভেদ ভুলে ঐক্যের সুমহান বাতাস আমাদের দুঃখের ক্ষতগুলো মুছে দিলেই ঈদ হবে উপভোগ্য, আনন্দ স্বস্তিদায়ক


ঈদের আনন্দ সবার মাঝে বিলিয়ে দেয়াতে রয়েছে ঈদ উদযাপনের সার্থকতা
-এড. আজগর হোসেন মাহমুদ
ভাইস-প্রিন্সিপাল
লক্ষ্মীপুর আইডিয়াল কলেজ

ঈদ উদযাপন সম্পর্কে  এডভোকেট আজগর হোসেন মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ একমাস কঠোর সীয়াম সাধনার পর আসে ঈদের আনন্দ ধনী-গরিব সবাই মিলে ঈদের আনন্দে শরিক হয় রমজানের রোজার মাধ্যমে মুসলিমরা আত্মদহনে খাঁটি হয়ে বেরিয়ে আসে, সারা  বছরের পাপ-পংকিলতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে এরকম একটা পবিত্র পরিবেশে ঈদ উদযাপনের কথা ভাবছি
শহর এবং গ্রামে ঈদ উদযাপনের মধ্যে কোনো পার্থক্য অনুভব করেন কী, আপনি কোন্টাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এমন জিজ্ঞাসায় আজগর হোসেন মাহ্মুদ বলেন, শহর এবং গ্রামের ঈদ উদযাপনের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে গ্রামে ঈদ উদযাপনে বিশেষ আনন্দ লাভ করা যায় সেখানে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে গরিব-ধনী সবার সাথে দেখা হয়, অনেকের সাথে দেখা হয় দীর্ঘদিন পর গ্রামে শিশুদেরকেও আনন্দ-উৎসবে যুক্ত করা যায় শহরের জীবনে অনেক জটিলতা রয়েছে, যান্ত্রিক জীবনের মধ্যে আনন্দ খুঁজে বের করা কঠিন শহরে পাশের বাড়ির লোকের খোঁজ রাখা হয় না, কথাবার্তা হয় না, মেলামেশাতো দূরের কথা শহরের তুলনায় গ্রামের ঈদ উদযাপনে প্রচুর আনন্দ আছে সেজন্য আমি গ্রামে ঈদ উদযাপনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি শহরের ঈদ আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে
ঈদ উপভোগ্য, আনন্দ স্বস্তিদায়ক হতে হলে কী ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করা দরকার বলে মনে করেন এমন প্রশ্নে এডভোকেট আজগর হোসেন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক সময় গ্রামে ঈদ উদযাপন সম্ভব হয়ে ওঠে না রাজনৈতিক ইস্যুতে বিভক্ত সমাজে অনেক সময় নিরাপত্তার কারণেও অনেকে মফস্বলে ঈদ উদযাপন করতে যেতে পারেন না
ঈদের আনন্দ সবার মাঝে বিলিয়ে দেয়াতেই রয়েছে ঈদ উদযাপনের সার্থকতা ঈদ উৎসবের সময় পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে, সংঘর্ষ-হানাহানিমুক্ত পরিস্থিতি যাতে সর্বত্র বিরাজ করে তার ব্যবস্থা করতে হবে এখানে প্রশাসনের ভূমিকা কম নয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যারা থাকেন, তাদের দায়িত্ব তখন বেড়ে যায় ঈদের আনন্দে যাতে কোনো ছেদ না পড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা দেখতে হবে