Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নোয়াখাইল্যার নালিশ

আপা, আংগো সেলাম ও শুভেচ্ছা নিয়েন। জাতিসংঘ মাতাইয়া আইছেন, বিশ্বনেতৃবৃন্দের লগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির কতা কইছেন, আহবান জানাইছেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ কইরতে। বাংলাদেশ যে বিনিয়োগের উত্তম এবং নিরাপদ স্থান-এটা বুঝাইছেন। কানাডার প্রেসিডেন্টের লগে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাঝে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী নূর চৌধুরীরে দেশে হিরাই আননের ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কইরছেন। কানাডা সরকার নূর চৌধুরীকে হিরাই দিতে চায়, তয় কিছু নিয়মনীতি হালন শেষে এ কাজটা কইরতে অইবো। বাংলাদেশের মানুষ অনেক ধৈর্যশীল, হেতারা আরও অপেক্ষা কইরবো-তবু বঙ্গবন্ধুর সব খুনীগো বিচার দেখি যাইতে চায়।একাত্তরে মানবতা বিরোধীগো ট্রাইবুনালে বিচার অইতেছে দেখি মানুষ সন্তুষ্ট ও আশান্বিত। যেইচ্চা বঙ্গবন্ধুর খুনীগো বিচার ইমডেমনিটি দি’ বন্ধ কইরছিল জিয়া- মোশতাক সরকার, খুনীগো বিচার না করি হেতাগোরে বিদেশে পাঠানো অইলো, দূতাবাস ও অন্যান্য সংস্থায় উচ্চ বেতনের চাকরির ব্যবস্থা করি দেয়া অয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার যারা বেনিফিসিয়ারি বা সুবিধাভোগী, হেতেনরা নিজেগোরে আড়াল করি রাইখছিলেন; হেতাগো মুখোশ খুলি হইড়তে দেরি অয়-ন’। হেতেনরা সংসদভবনের প্রধান স্থপতি লুই কান-এর মূল নকশা দেখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে ন’, এ এলাকার মধ্যে মন্দির-মসজিদ-কবরস্থানের কোনো সুযোগ আছে কি-না। হেতেনরা আর দেরি কইরতে হাইরলেন না, তড়িঘড়ি করি জিয়ারে কবর দিলেন নিষিদ্ধ স্থানে। যেখানে জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধুর মাজার স্থাপিত অইলো পারিবারিক গোরস্থানে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে; সেখানে জিয়ার মাজার কেন জোর করি সংসদ চত্বরে স্থাপিত অইবো! হেতেনের হার্টির লোকরা ইয়ানের জবাব দিতে হারে ন’। অন্যদিকে হুমকি দিতেছে- জিয়ার মাজার যদি সংসদ এলাকাতুন সরানো অয়, তা’অইলে সারাদেশব্যাপী... জ্বইলবো! হেতেরা আরও কত ইস্যুতে এইভাবে জ্বালাইবার হুমকি দিছে, কিন্তু একাবার অ’ জ্বালাইবার হারে ন’, হেতনগো গোদা হায়ের লাথির মাজেজা হাবলিক বুঝি গেছে! আবেগের তাড়নায় তড়িঘড়ি করি তহন কবর দিছেন, ভুল অই গেছে, অহন হেই ভুল সংশোধন করি নেন, হেতেনের লাশ বগুড়ার হারিবারিক গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন। বঙ্গবন্ধুর মাঝারে যাইতে গাড়ির যানজট লাগি যায়, পাড়াগাঁয়ে অনুন্নত এলাকা বলি ভক্তরা বঙ্গবন্ধুর মাজার জেয়ারত তুন বিরত অইতেছে না। জিয়া সাহেবের মাজার বগুড়ার হারিবারিক কবরস্থানে পুনঃদাফন করা অইলে সেখানেও প্রকৃত ভক্ত ও অনুসারীগো যাইতে ভিড় লাগি যাইবো। আরামপ্রিয় কিছু নেতা-নেত্রী দূরের গ্রামে যাইতে রাজি না অইলেঅ’ সহজ-সরল ভক্তরা অবশ্য হিয়ানে যাইবো। জিয়া প্রকৃত ভক্ত ও অনুসারী যদি রাখি যাই থাকেন, তা’ অইলে ওনার মাজারে ফুল ও সম্মাননা ঠিকই হাওয়া যাইবো।
কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন লই নানা মহল তুন বিরোধিতা করা অইতেছে, তাপ উৎপাদনের আগেই বিষয়টি গরম অই উইঠছে। বিএনপির হাতে আন্দোলনের কার্যকর ইস্যু না থাঅনে হেতেনরা মাঠগরমের হুশিয়ারি দিতেছে। বর্তমান সরকার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সরকার, আপনেগো দেশপ্রেম সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন ওঠার বিষয় ন’। আন্দোলনকারীগো তুন আপনাগো দেশপ্রেম কি কম? ইয়ারলাই বইলতেছি, সুন্দরবনের উপরে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া কিরকম অইতে হারে তা গভীরভাবে ভাবি দেখন দরকার। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি কইরবো না, কিংবা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট কইরবো না- সেটা অইলে সাহসিকতার সাথে আগাই যান। ইয়ার মইধ্যে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো উদ্বেগ প্রকাশ করি বাংলাদেশ সরকারের কাছে তুন জাইনতে চাইছে-রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের কি রকম ক্ষতি কইরতে হারে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এর জবাবে জানাইছে যে, সর্বশেষ অত্যাধুনিক হদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন অইবো, ভারত তুন কয়লা আনা অইবো মংলা বন্দর দি’। কাজেই সুন্দরবনের উপরে ক্ষতিকর প্রভাব হড়ইবো না।
আন্দোলনকারীরা কিংবা হতাশ রাজনীতিকরা একসময় বুইঝতে হাইরবো হেতারা স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়াইছিল। হেই ঘটনার হর হেতারা সত্য কথা বইললে অ হেই কতা হাবলিক বিশ্বাস কইরবো না।
গরিবের কল্যাণে ১০ ট্যাঁয়া কেজি চাইল বিতরণ কর্মসূচি চালু কইরছিলেন, দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি অইছিল। শোনা যায়-১০ ট্যাঁয়ার চাইল অহন কালো বাজারে বিক্রি অইতেছে, ধনীকৃষকও কার্ড করি হালাইছে দশট্যাঁয়া দামের চাইলের লাই। কি ভয়াবহ কান্ড! এই ব্যাপারে যথাযত তদন্ত করি দোষী ব্যক্তিগো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করেন। একটা কল্যাণকর কর্মসূচি যা কোনো নেতা কইরতে হারেন ন বা করেন ন, তা নষ্ট করার লাই কিছু লোক হাঁয়তারা কইরতেছে। এরা দেশে যাতে হর্যটন স্পটের উন্নয়ন অয় তা’ চায় না; দেশ-বিদেশের বিনিয়োগ আসুক হেতেনরা তা’ চায় না। প্রবাসীরা বেশি বেশি রেমিটেন্স পাঠায়, এতে হেতেনদের গাত্রদাহ অয়। এ দেশের খাই, এদেশের হরি এদেশের স্বার্থ-বিরোধী কাজ করা দেশদ্রোহিতার শামিল। তয় এসব লোককে জনগণ তুন বিচ্ছিন্ন করি ফেইলতে অইবো।
জঙ্গিদমনে সরকারের সাফল্য বিশ্বজুড়ি সুনাম অর্জন কইরছে। বিশ্ববাসী আস্থা স্থাপন কইরছে যে, শেখ হাসিনা জঙ্গিদমনে পারদর্শী। তয় আমেরিকার দিলের মইধ্যে অহন অ’ কালি রই গেছে বলি মনে অয়। ডাল মে কুচ কালা! শত চেষ্টা করেন, শত বোঝান, হেতেনরা ভদ্রলোকের এ কথার লাহান বলিই যাইতেছেন- বাংলাদেশে এহনও পোশাক শিল্পের সংস্কারের বাকি আছে! তোফায়েল সাব আমেরিকার বর্তমান ভূমিকারে রাজনৈতিক আখ্যায়িত কইরছেন। জিএসপি সুবিধারে যদি চড়ষরঃরপধষরুব করি হালান,তা’ অইলে সত্য তুন সরি আইসবেন- এতে কোনো সন্দেহ নাই।
এইবার বৃহত্তর নোয়াখালীর উন্নয়ন সম্পর্কে কিছু বিষয় আন্নের সামনে উত্থাপন কইরবো। উন্নয়নের দিক তুন নোয়াখালী অহন অনেক হিছাই গেছে। অথচ নোয়াখালী কর্মঠ মাইনষের অঞ্চল। এলাকার মানুষ পরিশ্রমী, সৎ, নীতিবান এবং দেশপ্রেমিক। বিদেশে চাকরি কইরতে যাইঅ’ হেতেনরা নিয়োগকর্তার কাছ তুন সুনাম অর্জন করেন। বাংলাদেশের শ্রমিক, বিশেষ করি নোয়াখালীর শ্রমিকরে বিদেশি নিয়োগকারীরা হছন্দ করেন। দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিকের অঞ্চলে শিল্প গড়ি উইঠতেছে না, এটি বিস্ময়ের বিষয়। আননে ইকোনোমিক জোন গড়ার ঘোষণা দিছেন- কিন্তু বর্তমান নোয়াখালী জেলা ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ইকোনোমিক জোন ঘোষণা না করায় মানুষ উৎকন্ঠায় আছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইতে বড় একটি ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ চইলছে যাতে ফেনীর ক্ষুদ্র কিছু জায়গা যোগ অইছে। ফেনীর কিছু উপকার এতে অইলেও ফেনীতে পূর্ণাঙ্গ একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ি তোলা যায়; সোনাগাজীর বিস্তৃত চরাঞ্চলে এটি প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ আছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আননের ধারণা সময়োপযোগী, কল্যাণমুখী এবং দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত করি গড়ার কাজে সহায়ক। ডিজিটাল বাংলাদেশ গইড়তে অইলে সব সেক্টরে কাজ আগাই নিতে অইবো। এ ক্ষেত্রে বৃহত্তর নোয়াখালী আননের সাথে আছে। হেতারা মুক্তিযুদ্ধে যেমন ভূমিকা রাইখছে, দেশগড়ার ক্ষেত্রেও হেতাগো ভূমিকা অইবো ইতিবাচক। আইজ ইয়ানে শেষ কইরছি; আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু।
-এম মোস্তফা