Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
নাট্যযোদ্ধা সম্মাননা পেলেন নোয়াখালী রত্ন গোলাম কুদ্দুছ  আসামের বন্যায় নোয়াখালীর ছবি!  রায়পুরে দুই নারীর লাশ উদ্ধার  লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে ‘মা’ সমাবেশ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা 

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নোয়াখাইল্যার নালিশ

আপা আমাগো সেলাম ও শুভেচ্ছা নিয়েন। জঙ্গিবাদের উত্থানে মানুষ কিছুটা আতংকিত অইলেও আন্নের সরকারের দৃঢ় হদক্ষেপের কারণে জঙ্গিরা বার বার হরাজিত অইতেছে। মাতা তোলনের চেষ্টা কইরলেও সময়মতো সেই মাতায় বাড়ি হড়নের কারণে গুঁড়া অই যাইতেছে। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি অভিযোগ কইরতেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গিবাদ লই রাজনীতি কইরতেছে; সরকার জঙ্গিবাদ নির্মূল চায় না, এটাকে জিয়াই রাইখতে চায়। যেসব জঙ্গিহামলার ঘটনা এরই মধ্যে ঘইটছে, জঙ্গিগো আস্তানা খুঁজি বাইর করি ঘেরাও দিই অভিযান চালাইছে আইন-শৃংখলা বাহিনী; সেগুলানরে ‘ভুল’ বা ‘বাড়াবাড়ি’ বইলবার সাহস দেখাইতে হারে ন’ বিরোধীরা। তা’অইলে জঙ্গিবাদ লই নাটক করা, রাজনীতি করার কী প্রমাণ হেতেনরা হাইছেন, হাবলিক তা জানে না। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত অইছে। জঙ্গিবাদের মদদদাতা পাকিস্তান বাংলাদেশে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে সহায়তা কইরতেছে -এটা আজ বিভিন্নভাবে প্রমাণিত। একাত্তরে পাকিস্তানীরা গণহত্যা হরিচালনা করি ৩০ লক্ষ লোককে হত্যা কইরছে, হাজার হাজার মা-বোনের ইজ্জত লুন্ঠন কইরছে। বর্বর বাহিনীরে হেতারা ছাড়ি দিছিলো এসব অপরাধ করার লাই। অবশ্য হেতারা প্রথমে ভাবেনি যে, বাঙালি বিচ্ছু গেরিলারা আড়ালে- আবডালে থাই বর্বর পাক-বাহিনীর লোকদের হত্যা করি এর প্রতিশোধ নিতে হারে। বাঙালি গেরিলারা সেটা বিভিন্ন রণাঙ্গনে প্রমাণ কইরছে। পাকিস্তানের সেরা দালাল, স্বৈরাচার আইয়ুব খানের বড় চেলা পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানরে রাতের বেলা তার বাসার বারান্দায় দাঁড়ানো অবস্থায় গুলি করি হত্যা করে গেরিলারা। ২৫ মার্চের কালরাতে অপারেশন সার্চলাইট নামের বর্বর গণহত্যা অভিযান শুরু করি এক রাতেই ঢাকা শহরে লক্ষাধিক নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে। সেই অভিযানের সূত্রধরি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ ৯ মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ হত্যা কইরছে। এক কোটি লোক ভারতে আশ্রয় নিছিলো। হেতাগো থাকা-খাওয়ার বিশাল কাজ সাহসিকতার সাথে হালন কইরছে মহীয়সী নারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ লোকের প্রাণহানি অইছে এটা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা স্বীকার কইরতে চায় না। হেতারা কয়Ñ এত লোক মারা যায় ন! তবে কত মারা গেছে হিয়ানঅ’ কয় না হেতেনরা! আচানক কতা! বেগম খালেদা জিয়া হঠাৎ করি একদিন বলা নাই কওয়া নাই, বলি হালাইলেনÑ মুক্তিযুদ্ধে এত লোক মারা যায় ন’। বঙ্গবন্ধুর হত্যার হর জিয়া যে স্টাইলে ক্ষমতার মসনদে বইসছিলেন, জিয়া হত্যার হর জেনারেল এরশাদও একই স্টাইলে ক্ষমতা দখল করেন। এই দুই জেনারেলই বাংলাদেশের সংবিধানের উপর ছুরি চালান, অবৈধভাবে বিভিন্ন ধারা হরিবর্তন করেন- যার অধিকার তাদের ছিল না; জনগণ হেতাগোরে হেই ক্ষমতা দেয় ন’। জাতীয় সংসদ ২৫শে মার্চকে গণহত্যা দিবসরূপে স্বীকৃতিদান কইরছে, এটা একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এত বছর এ নিয়ে কোনো আলোচনা অয় ন’; এই সুযোগে স্বাধীনতা বিরোধীরা ২৫শে মার্চের গণহত্যা লই নানা রকম কতা চালাচালি কইরছে বিভ্রান্তমূলক তথ্য ছড়াইছে। পাকিস্তান নিজেগো দালালদের মাইধ্যমে গণহত্যার অপরাধ লঘু কইরবার চক্রান্তে নাইমছে। ইয়ার লাই ২৫শে মার্চের গণহত্যারে বিশ্বের অন্যান্য দেশে অনুষ্ঠিত গণহত্যার কাতারে স্থান করি দেঅনের ব্যবস্থা করণ দরকার। জাতিসংঘ লেভেলে এ চেষ্টা কইরতে অইবো। আন্নে ভারত ভ্রমণে যাইতেছেন, অনেক আশা-ভরসা লই। তিস্তা চুক্তি এ সফরে অইবো বলি বিশেষজ্ঞরা আশা কইরতেছে না। তবে চুক্তির প্রাথমিক কাজ অইবো -এটা সবাই আশা করে। বিএনপি নেতারা ভারতের লগে কোনো চুক্তি মাইনবো না বলি কোনো কোনো নেতা কইতেছেন। হেতেনরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন, ভারতের লগে কোনো সমইস্যার সমাধান কইরতে হারেন ন’। ছিট মহল সমইস্যা, গঙ্গার হানিবন্টন, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, স্থলচুক্তি এসব আন্নের সরকারের আমলে সম্পাদিত অইছে। আন্নের এই সফরের সময়ও জঙ্গিবাদ প্রতিহত করার লক্ষ্যে সহযোগিতা চুক্তি অইবো বলি আশা করা যায়। বাংলাদেশের পণ্যের বড় বাজার রইছে ভারতে, একে বাণিজ্য শুল্কমুক্ত কইরতে অইবো আমাগো স্বার্থের দিকে লক্ষ্য রাখি। সমুদ্রে আমাগো বেশুমার সম্পদ রইছে, যেগুলা আহরণের মাইধ্যমে সম্পদে হরিণত করা যায়। ভারতের লগে এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করা যায়। ভারতের লগে চুক্তির মাইধ্যমে পাটের একটা বড় বাজার লাভ-করণ যায়। বর্তমান উৎপাদন তিনগুণ বাড়াইতে হাইরলে পাট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাইখতে হাইরবো। ‘সোনালী আঁশ, কৃষকের গলার ফাঁস’ বলি একসময় হা-হুতাশ করা অইতো; অহন নতুন সম্ভাবনা দেখা দিছে, পাট আবার এর গৌরব হিরি হাইবো। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচন লই নানা কতাবার্তা, নানা গুজব, স্পেকুলেশন সৃষ্টি অইছিল। সেসবের অবসান অইছে, বিএনপি মেয়র প্রার্থী সাক্কু কুসিক-এ জয়ী অইছেন; ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমারে হরাজিত কইরছেন। নতুন নির্বাচন কমিশনের কাছে এটা ছিল একটা চ্যালেঞ্জ; হেতারা হেই চ্যালেঞ্জে জয়ী অইছে। এতে আরেকবার প্রমাণিত অইলো আন্নের সরকারের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদসহ সব নির্বাচন নিরপেক্ষ, চাপমুক্ত, প্রভাবমুক্তভাবে অনুষ্ঠান সম্ভব। সারাবিশ্বে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত অয়; তত্ত্বাবধায়ক, সহায়ক, অস্থায়ী -এ নামীয় কোনো সরকার থাকে না। বিএনপি এ জাতীয় অনির্বাচিত সরকার তৈরি কইরতে চায় রাজনীতিতে গ্যাঞ্জাম সৃষ্টির লাই। ইলেকশন কইরবো ইলেকশন কমিশন, সরকারের এখানে কিছু করার নাই। নির্বাচন কমিশন প্রভাবমুক্ত, চাপমুক্ত থাইকলে বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের মাইধ্যমে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, কুসিক নির্বাচন হেই ইংগিত দিতেছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর দিকে আন্নে নেক নজর রাইখতে শুরু কইরছেন। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর ভ্রমণে আসি আগের প্রতিশ্রুত প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কইরছেন। এ্যাইচ্যা ২৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন-ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি এলাকায় জাগরণ সৃষ্টি কইরছেন। লক্ষ্মীপুরে সন্ত্রাস পুরোপুরি নির্মূল অয় ন’ অহনও মাঝে মাঝে মাতাচাড়া দিতে চায়। মাদক সমস্যা আইজঅ’ নির্মূলকরণ সম্ভব অয় ন’। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার। লক্ষ্মীপুরে সরকারের সহযোগিতায় ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠাকরণ দরকার। বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত কইরলে হেতেনরাও এই জোন প্রতিষ্ঠা কইরতে হাইরবেন। কর্মক্ষম মাইনষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা অইলে সামাজিক অনেক অপরাধ কমি যাইবো, মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন অইবো, দেশের অর্থনীতিতে লক্ষ্মীপুর তথা বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ অবদান রাইখতে সক্ষম অইবো। আইজ ইয়ানে শেষ করি; আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু। -এম মোস্তফা