ছোটদের আসর

পাখির ডানা
রওশন মতিন

বিজলী চমক আকাশ-চেরা
সবজু ডানায় ঘরে ফেরা
মাঠ-প্রান্তর জ্বলছে ধূ-ধূ
একটি পাখি উড়ছে শুধু
সেই পাখিটার সবুজ ডানা
দূর অজানায় হার না মানা-
যার ঠিকানা শঙ্খবিলে
দূর আকাশের গভীর নীলে
ঠোঁটে মধুর দেয় শিষ্টি
মেঘের ডানায় আনে বিষ্টি।
সবুজ ডানায় ছন্দ তুলে
ফুল ফোটাবার স্বপ্নে দুলে
ছোট্ট পাখি তোমারি জন্যে
তোমায় ডাকে মেঘ কন্যে!


আমরা হব
নুফরাত জাহান জেরীন

আমরা হব রূপালী চাঁদ
জোছনা-মাখা রাত
দীন-দুঃখীদের কষ্টে মোরা
বাড়িয়ে দেব হাত।
আমরা হব প্রজাপতির
রঙিন ডানার মত
মোদের দেখে দুঃখী সবাই
ভুলবে ব্যথা শত।
আমরা হব স্রোতের মত
মুক্ত স্বাধীন আর
খোদার পথে করব মোরা
মোদের জীবন পার।
আমরা হব ফুলের মত
উদার হবে মন
আবু বকর, আলীর মত
গড়ব এ জীবন।



আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে
বেদুঈন মোস্তফা

আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে
দেখতে ভীষণ কালো,
চৌদিকেতে নিকষ আঁধার
নেইতো কোথাও আলো।
হঠাৎ হঠাৎ ঝিলিক মিলিক
বিজলী আলোর খেলা,
ফোটায় ফোটায় বৃষ্টি পড়ে
সকাল সন্ধ্যা বেলা।
গাছের ডালে ফুটলো বেলী
কদম পারুল কেয়া,
নদীর পানি উথাল পাতাল
বন্ধ ঘাটের খেয়া।
এমন দিনে শিশু-কিশোর
মন দেয় না পাঠে,
উদাস মনে যায় হারিয়ে
তেপান্তরের মাঠে।
অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরে
সকাল দুপুর রাতে,
ওগো বৃষ্টি বন্ধু আমি
থাকবো তোমার সাথে!


ইচ্ছে করে
মিজানুর রহমান মিজান

ইচ্ছে করে মনের সুখে
বনে বনে ঘুরি
প্রজাপতির পাখায় চড়ে
নীলাকাশে উড়ি।

ইচ্ছে করে কোকিল হয়ে ডাকি,
দেশের যতো ধূমপায়িদের
থেকে দূরে থাকি।
হৃদয়টাকে যতন করে
বুকের ভেতর রাখি।


মানব সেবা   -ফরিদ হাসান পাটওয়ারী

সন্ধ্যার আঁধার ঘনিয়ে এলো, দিনের কর্ম্যবস্ততা ঝেড়ে ফেলে কর্মজীবী মানুষের বাড়ি ফেরার পালা। মাহফুজ হাসান শহরের নামকরা লোক। বাড়ি-গাড়ি, টাকা-পয়সার কোন কমতি নেই তার। অফিসের কাজ শেষে বাড়ি ফিরছেন তিনি। ছেলেকে কাছে পেয়ে মানিকের কথা জিজ্ঞেস করলেন, মানিক কেমন আছে, সন্ধ্যার খাবার দেয়া হয়েছে কিনা ইত্যাদি। মানিক তার পোষা কুকুর। এক লাখ টাকা খরচ করে আমেরিকা থেকে কুকুরটাকে এনেছেন। মানিকের থাকার জন্য আলাদা রুম বানিয়েছেন। রুমে ফ্যান লাগিয়েছেন। মোটামুটি আরামদায়ক ব্যবস্থা। মানিক সুখেই আছে। মানিককে মাহ্ফুজ সাহেব বেশ পছন্দ করেন। সবার আগে মানিকের খোঁজ-খবর নেন। মানিক মাংস বেশি খায়। সেজন্য প্রতি বেলায় তাকে মাংস, ভাজি, রুটি খাওয়ানো হয়। মাহ্ফুজ সাহেব কোথাও গেলে মানিককে সঙ্গে নিয়ে যান। আজ অফিস থেকে ফিরে চা খেতে খেতে মানিকের রুমে চলে আসেন। গিয়ে দেখলেন মানিকের সামনে খাবার পড়ে আছে। আর মানিক খাবারের সামনে হাঁটাহাটি করছে। মাহ্ফুজ সাহেবের মাথায় হাত। চিৎকার করে সারা বাড়ি মাথায় তুললেন। ভাবলেন, নিশ্চয়ই মানিকের অসুখ করেছে। নতুবা খাচ্ছে না কেন তার মানিক? দেরি না করে পশু চিকিৎসককে ফোন করে বললেন, এক্ষুণি যেন ডাক্তার চলে আসেন, ভিজিটের কথা ভাবতে হবে না তার। ডাক্তার এসে মানিককে দেখে ওষুধ দিয়ে গেলেন এবং বললেন, ও কিছু না, মানিকের ক্ষিধে নেই তাই খাচ্ছে না। ওষুধ খেলে ক্ষিধে লাগবে। মাহ্ফুজ সাহেব এখন মহাখুশি তার মানিক ভালো হয়ে যাবে। পরদিন অফিসে যাওয়ার আগে পত্রিকা পড়তে বসলেন। একটি খবর দেখে নিজেই চমকে গেলেন। খবরটার মূল কথা এই দেশে হাজারো পথশিশু ও টোকাই রয়েছে। যাদের খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান কিছুই নেই। তাদের কেউ দু’বেলা খেতে পায় না। অর্ধাহারে-অনাহারে তাদের দিন কাটে। পড়ালেখা করার সামর্থ্য নেই। তাই তাদের সাহায্য করা মানুষের মানবিক দায়িত্ব। পড়া শেষে মাহ্ফুজ সাহেবের মাথা ঘুরে গেল। একটাই চিন্তা করছেন তিনি। যে দেশে মানুষ না খেয়ে থাকে, সেই দেশে তিনি লাখ লাখ টাকা কুকুরের জন্য খরচ করছেন? তার ভেতরের মনটা ধিক্কার দিয়ে উঠলো। মন বলল- ওরে অধম, ওরে পাপী, পশু-পাখি পালন করার চেয়ে মানবসেবা বড়। তাই মাহ্ফুজ সাহেব ঠিক করলেন পশু-পাখি কুকুর ছেড়ে অনাথ গরিবদের সাহায্য করবেন। এ কথা ভাবতে তার মন আনন্দে ভরে গেল। ভাবলেন এটাইতো প্রকৃত সুখ-শান্তি।


কৌতুক

সেদিন আমরা সবাই দাদুর বাড়িতে গেলাম।

আমি বললামঃ দাদু শীতে আপনি কিভাবে গোসল করেন?

দাদুর উত্তরঃ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আয়নায় পানি ঢেলে বলি উহু কী শীত!

-সংগ্রহেঃ সৌরভ বিকাশ মজুমদার

 

 

 
lbheading