সম্পাদকীয়

লক্ষ্মীপুর-আলেকজান্ডার-সোনাপুর মহাসড়কের উন্নয়ন

লক্ষ্মীপুর-আলেকজান্ডার-সোনাপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ২০০২ সালে এ রাস্তার নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ শুরু হয়ে ২০০৭ সালে তা সম্পন্ন হয়। কিন্তু নির্মাণের দু’বছরের মাথায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। ভবানীগঞ্জ থেকে শুরু করে আলেকজান্ডার পর্যন্ত পুরো রাস্তা খানা-খন্দকে ভরে ওঠে। এতে সড়ক হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ, ঘটতে থাকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। পূর্ণগতিতে যানবাহন চলতে না পারার কারণে অর্থ, সময় ও শ্রমের ক্ষতি হচ্ছে সবার। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-আলেকজান্ডার-সোনাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ এলাকার ৮ লক্ষ মানুষ সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যার কারণে চরম ভোগান্তির মধ্যে বসবাস করছে, তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক এ মহাসড়কটি সংস্কার, ক্ষেত্রবিশেষে পুনঃনির্মাণ প্রয়োজন। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে মহাসড়কের সংস্কার অপরিহার্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি।

 

line

সেচ প্রকল্পে কৃষকের দুর্ভোগ

এক সময়ের আশা জাগানিয়া সেচ প্রকল্প এখন অধিবাসীদের গলার কাঁটা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হাজীমারা রেগুলেটর নানারকম সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছে। রেগুলেটরের বাহিরে নদীতে পলি জমে ভরাট হবার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, প্রকল্প এলাকার ৬টি উপজেলায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। প্রকল্পের ভেতরের অধিকাংশ খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ব্যাহত হয়, পানির অভাবে মাঠের ধান জ্বলে যায়। প্রকল্পের ভেতরে ৫৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি ও ৫০ লাখ লোকের বসবাস রয়েছে। হাজীমারা রেগুলেটর কার্যকর না থাকায় প্রতিবছর কোন নো কোন ক্ষেত্রে অধিবাসীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে মাঠের ইরি ধান জ্বলে যাচ্ছে; টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় জমির আউশ ধান, শাক-সব্জি, বীজতলা, পানের বরজ তলিয়ে যাচ্ছে; ভেসে যাচ্ছে মৎস্য চাষীদের পুকুরের মাছ। পুনঃপুনঃ ক্ষতির ধাক্কায় উৎপাদক শ্রেণীর অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।


     
lbheading