| চিঠিপত্র |
|
|
মোঃ সিরাজ উল্যাকে অভিনন্দন

বৃহত্তর নোয়াখালীর বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর লক্ষ্মীপুর বার্তা’র জুন-আগস্ট সংখ্যায় লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান বিসিআইসি’র সাবেক অর্থ পরিচালক মোঃ সিরাজ উল্যা এক সাক্ষাৎকারে লক্ষ্মীপুরের সম্ভাবনা সম্পর্কে মূল্যবান বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, লক্ষ্মীপুরবাসী বেশ ক’জন স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি রয়েছেন, যারা সিরিয়াসলি চেষ্টা করলে এলাকায় শিল্প গড়ে উঠতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনভিত্তিক শিল্প স্থাপনে শিল্পোদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহিত করা উচিত।
‘সয়াবিনের রাজধানী’ খ্যাত লক্ষ্মীপুরে দেশের মোট উৎপাদিত সয়াবিনের শতকরা ৮০ ভাগই জন্মায়। এ জেলায় সয়াবিনভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের উচিত লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা। স্থানীয় শিল্পপতি ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা অবশ্যই এলাকাপ্রেমী ও দেশপ্রেমীও বটে। কাজেই নিজ এলাকায় শিল্প স্থাপনে তাঁরা আগ্রহী হবেন; প্রয়োজন শুধু তাদেরকে আগ্রহশীল করে এ অঙ্গনে নিয়ে আসা।
মোঃ সিরাজ উল্যা’র বক্তব্যে লক্ষ্মীপুরে শিল্প স্থাপনে সম্ভাবনার কথা নতুন করে উত্থাপিত হলো। তাঁকে আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।
-মঈনুল মোরশেদ কল্লোল
মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
|
নিঝুম দ্বীপের হরিণ
চল্লিশের দশকের গোড়ার দিকে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দক্ষিণ কোণে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠে নিঝুম দ্বীপ। ধীরে ধীরে দ্বীপে অপরূপ নৈসর্গিক শোভাম-িত বন সৃষ্টি হলে ১৯৭৮ সালে সেখানে চার জোড়া চিত্রা হরিণ ছেড়ে দেয়া হয়। হরিণখেকো কোন প্রাণীর অস্তিত্ব নেই বলে ৩০ বছরে নিঝুম দ্বীপে দেখা যায় হরিণ-বন্যা। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এখনও বেঁচে আছে ৪০ হাজার হরিণ। এত হরিণ এখন নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে। মাত্রাতিরিক্ত হরিণ দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। খাদ্য হিসেবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বৃক্ষ নিধন হওয়ায় হরিণের খাদ্যাভাব প্রকট হয়ে উঠছে। হরিণের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুপেয় পানি ও পরিচর্যার ব্যবস্থা। বন্যা-ঘূর্ণিঝড়-সাইক্লোনের আঘাত, কুকুরের আক্রমণ, প্রভাবশালীদের শিকার ইত্যাদি কারণে হরিণগুলো রয়েছে হুমকির মুখে। দ্বীপের এ মাত্রাতিরিক্ত হরিণ এরই মধ্যে রফতানির আশা জাগিয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একটি মা হরিণ বছরে দু’বার কমপক্ষে দু’টি করে মোট ৪টি বাচ্চা দেয়। দ্বীপে ১৫ হাজারের মত মা হরিণ রয়েছে। এ হিসাবে বছরে ৬০ হাজারের মতো হরিণ জন্মানোর কথা। এর এক-তৃতীয়াংশ বেঁচে থাকলেও বছরে বৃদ্ধি পায় ২০ হাজার হরিণ। এ হিসাবে এই দ্বীপ থেকে বছরে স্বাভাবিকভাবে ২০ হাজার হরিণ রফতানির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে এবং মূল্যবান হরিণগুলোর স্বাভাবিক বেঁচে থাকার স্বার্থেও হরিণ রফতানি জরুরি। প্রতিটির দাম গড়ে ২৫ হাজার টাকা করে ধরা হলেও এখান থেকে ৫০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। সুতরাং আশা করব, কর্তৃপক্ষ নিঝুম দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় হরিণ রফতানি করে অর্থ উপার্জনের সিদ্ধান্ত নেবে।
-মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ
দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
|
মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পদোন্নতি
আমি ১৯৯৯ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করে অদ্যাবধি কর্মরত আছি। চাকরির অভিজ্ঞতা প্রায় ১২ বছর। কিন্তু এখনও পদোন্নতি হয়নি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার মতো অনেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানই সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কোন বছরই প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় কাউকে পদোন্নতি দেয়া হয় না। শুধুমাত্র কোটাবিহীন সিনিয়রিটি হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। বিদ্যমান নিয়মে ৩৫ শতাংশ সরাসরি এবং ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা মানা হলেও ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির ক্ষেত্রে তা মোটেই মানা হয় না -যা আমাদের দারুণভাবে হতাশ করে। এ নিয়ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এবং বৈষম্যমূলক পদোন্নতি ব্যবস্থা। তাই প্রধানমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর মহোদয়ের কাছে আবেদন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে, সর্বকালৈর সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ এবং মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে কর্মরত সব মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সহকারী শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার আলোকে ভিন্ন গ্রেডেশন তালিকা গঠনপূর্বক ৩০ শতাংশ কোটায় চলতি বছর থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দানের জন্য অনুরোধ জানাই।
-শরীফ, কমলনগর, লক্ষ্মীপুর
|
লক্ষ্মীপুর জেলায় রেললাইন চাই
লক্ষ্মীপুর জেলার নানামুখী সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে উন্নতির কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। এ অঞ্চলে রয়েছে নারিকেল, সুপারি, সয়াবিন ও বাদামভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার অপার সম্ভাবনা। জাতীয় মাছ ইলিশ সবচেয়ে বেশি আহৃত হয় এ জেলার বিভিন্ন মৎস্যঘাট ও অবতরণকেন্দ্র থেকে। উন্নয়ন তথা সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে পৌঁছতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন আধুনিক ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু এ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত আধুনিক ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সড়কপথে রাজধানী ঢাকা যেতে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করে কুমিল্লা জেলার লাকসাম হয়ে যেতে হয়। অথচ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে গৃহীত লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরীপুর (দাউদকান্দি) মহাসড়কটি বাস্তবায়িত হলে মাত্র ২-৩ ঘন্টায় ঢাকা যেতে পারত লক্ষ্মীপুরসহ চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার মানুষ। বর্তমান সরকার সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই অবহেলিত ও উন্নয়নে পশ্চাৎপদ এ জেলাকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে অনতিবিলম্বে এ জেলাকে রেল সংযোগের আওতায় আনা এ অঞ্চলের মানুষের দাবি। চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-চৌমুহনী (নোয়াখালী)-ফেনী রুটে এ রেললাইন বাস্তবায়িত হলে লক্ষ্মীপুর মূল রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসা ছাড়াও চাঁদপুর ও নোয়াখালীর সঙ্গে চট্টগ্রামের সহজ রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
-ফয়সল হাসান, দক্ষিণ বাঞ্ছানগর, লক্ষ্মীপুর
|
মাদ্রাসাটিকে এমপিওভুক্ত করুন
্ফেনী জেলার ফাজিলপুরের শিবপুর ভূঁইয়ারহাট সংলগ্ন মুহুরী নদীর পশ্চিম পার্শ্বে অত্যন্ত মনোরম স্থানে একটি দ্বীনি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন শিবপুর নিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও ধার্মিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মোস্তফা। ১৯৮৫ সালে বিশ্ববিখ্যাত আশেকে রাসূল (সাঃ) নামানুসারে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। হজরত ওয়ায়েস ক্বরনী (রহ.) সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে বিগত বছরে সরকারি পরীক্ষাগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীরা চমৎকার রেজাল্ট করেছে (অন্য মাদ্রাসার মাধ্যমে)। বিগত বছরগুলোতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রাণপণে সহযোগিতা দিয়ে আসছে এ মাদ্রাসাকে। বর্তমানে কারিকুলামে পরিচালিত এ মাদ্রাসাটিকে অনুমোদন প্রদানসহ এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হোক। মাদ্রাসাটিকে সরকারি সহযোগিতা দানসহ এটির অবকাঠামোর উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
-মাওলানা আজিজুল হক
সুপার, শিবপুর হজরত ওয়ায়েস ক্বরনী সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফেনী
|
|
| |
|
|
|