Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

নোয়াখালীর জেলেরা জলদস্যু বাহিনীর হাতে জিম্মি

মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরে নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২০ হাজার জেলে জলদস্যু বাহিনীর হাতে জিম্মি। জলদস্যুরা জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ মৌসুমে কয়েক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। চাঁদা না দিলে জেলেদেরকে নদী ও সাগরে মাছ ধরতে দিচ্ছে না দস্যুবাহিনী। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকার করে তাদের ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। হত্যা, গুম, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও লুটপাটের শিকার হন জেলেরা। গত ১০ জুলাই সুবর্ণ চর উপজেলার চর মজিদে জেলে নৌকার মাঝি আলাউদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করে দস্যুরা। গত ১০ আগস্ট সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন নোয়াখালীর পুলিশ প্রশাসন।
১০ আগস্ট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ ইলিয়াছ শরিফ জানান, হাতিয়া উপজেলার দস্যুবাহিনীর প্রধান কামাল ওরফে কাওয়া কামাল ও তার কয়েকজন সহযোগী চট্টগ্রাম শহরের ইপিজেড, হালি শহর ও বন্দর এলাকায় আত্মগোপন করে মোবাইল ফোন ও বিকাশ-এর মাধ্যমে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে -এ তথ্য জানার পর শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত জসিম উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নোয়াখালীর পুলিশ চট্টগ্রাম শহরে দস্যুদের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালিয়ে সাত জলদস্যুকে গ্রেফতার করে। এদের কাছ থেকে জেলেদের নামের তালিকা ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের হিসাবপত্র, অস্ত্র ক্রয়ের টাকার হিসাব এবং চাঁদা আদায়ের প্রায় এক হাজার টোকেন উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নোয়াখালীর উপকূলীয় ও পার্শ্ববর্তী সন্দ্বীপ এলাকায় হাতিয়ার কামাল বাহিনী ও সন্দ্বীপের জাহিদ বাহিনী জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। গত ১০ দিনে ১৭ জন জলদস্যুকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ও গণপিটুনীতে ১৭ দস্যু নিহত হয়। নিহতরা জেলার হাতিয়া, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলার অধিবাসী।
দস্যুদের বিরুদ্ধে জেলার হাতিয়া ও চর জব্বার থানায় ৪০টি অস্ত্র ও ডাকাতি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী জেলা লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানায় আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি দস্যু গ্রুপের চাঁদা আদায়ের যে হিসাব পাওয়া যায়, তাতে করে অন্য দুটি দস্যু গ্রুপও যে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায় করছে তা সহজে অনুমেয়। জেলা পুলিশ সুপারের মতে, কামাল বাহিনীর ৩৫/৪০ জন দস্যু জলপথে অপরাধে জড়িত। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, কামাল বাহিনীসহ সন্দ্বীপ এলাকার জাহিদ ও মাকসুদ বাহিনীর শতাধিক দস্যু চাঁদাবাজি, খুন, গুম, অপহরণ, মুক্তিপণ, ডাকাতি, জেলেদের মারধর ও নৌকা এবং ট্রলার ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত রয়েছে। এরা ইলিশ মৌসুমে জেলেদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কোটি টাকার চাঁদা আদায় করে থাকে। চলতি ইলিশ মৌসুমে শুরু থেকে এ পর্যন্ত দস্যুরা ৩০/৪০ জন জেলেকে অপহরণ করে। পরে জেলেরা দস্যুদেরকে মুক্তিপণ দিয়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করে। মূলত নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় এক সময়ের ত্রাস সৃষ্টিকারী বন ও জলদস্যু সর্দার বাশার মাঝি, মুন্সিয়া চোরা, নোব্বা চোরা, সোলেমান ডাকাত ও জাহাঙ্গীর ডাকাত পুলিশের গুলিতে ও দলীয় কোন্দলে নিহত হবার পর তাদের বাহিনীর সদস্যদের অনেকে আত্মগোপন করে।
পরে তারা উপ-দলে বিভক্ত হয়ে নদীপথে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। পরে তারা কামাল বাহিনীতে যুক্ত হয়ে নদীপথে ডাকাতি, অপহরণ, লুটপাট ও চাঁদাবাজি শুরু করে। বর্তমানে এ দস্যুবাহিনী এবং সন্দ্বীপের জাহিদ ও মাকসুদ বাহিনী নদী ও সাগরে ত্রাস সৃষ্টি করছে। এক সময়ের সন্দ্বীপ এলাকার ত্রাস সৃষ্টিকারী জাসু ২০১৩ সালে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৩ সহযোগীসহ নিহত হয়। এ সময় র‌্যাব তাদের কাছ থেকে ৪৭, এসএমজিসহ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। জাসু নিহত হবার পর জাহিদ ও মাকসুদ বাহিনীর উত্থান ঘটে। তারা নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
জেলা পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ আগস্ট জলদস্যু দমন ও নদীসাগর পথে আইন-শৃংখলা রক্ষার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপারসহ র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।