Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

কোম্পানীগঞ্জের চরহাজারী ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ

বর্তমান সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রভাব কেমন হবে এ নিয়ে অনেকের মন্তব্য শোনা যাচ্ছে। তারপরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন গ্রামীণ জনপদে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। স্থানীয়ভাবে মাঠে-ঘাটে, হাট-বাজারে কিংবা পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিবারের মতো এবারও চরহাজারী ইউনিয়নের ভোট প্রসঙ্গ আসতেই স্বপ্নের শহর আমেরিকাতে প্রাথমিক পর্যায়ে কে প্রার্থী হবেন এ নিয়ে নির্বাচনের সূত্রপাত শুরু হয়। আমেরিকাতে অবস্থানকারী কোম্পানীগঞ্জের চরহাজারীর বিরাট একটি অংশ নীতিনির্ধারণী ভূমিকাতে থাকতে দেখা যায়।
চরহাজারী ইউনিয়নের আবু মাঝিরহাট এলাকার বেশ কিছু আমেরিকাপ্রবাসী ভোটের সময় কোনো না কোনো প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিজয়ী হওয়ার ভূমিকা অতীতেও দেখা যেত। এবারও ব্যতিক্রম কিছু আশা করা যায় না। এক সময় অত্র ইউনিয়নে দু’হেভী ওয়েট প্রার্থী নির্বাচনী মাঠকে সরগরম রাখতে দেখা যায়। ৯০ এর দশক পর্যন্ত মরহুম আবু সায়েদ ও মরহুম মৌলভী আলী আহাম্মদকে ৩ কেন্দ্রের মধ্যে পেশীশক্তির লড়াইয়ে নির্বাচিত হতে হতো। স্থানীয় সরকারের কেন্দ্র ওয়ার্ডভিত্তিক হওয়ার সুবাদে সেই পেশীশক্তি বর্তমানে অনেকটা অকার্যকর। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬/৭ জন মেম্বার প্রার্থী হওয়ার ফলে কারো পক্ষে এককভাবে ভোট কেন্দ্রের ওপর প্রভাব ফেলে কিছু করার সুযোগ নাই। বর্তমান ভোটের বাজারে স্থানীয় ইউ পি নির্বাচনে ভোটারদের মূল্যায়ন এবং তাদের রায়ের ওপর সকলকে আস্থা রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। বরাবরের মতো এবারও যারা নিজেদেরকে আগাম প্রার্থী হিসেবে মাঠ জরিপ করে নিজের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করছেন, তারা বিভিন্ন স্থানে আলোচিত সমালোচিত হচ্ছেন।
আমেরিকা প্রবাসীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হচ্ছেন দীর্ঘদিন আমেরিকাতে অবস্থানকারী আবু মাঝিরহাট সংলগ্ন জয়নাল হাজারী (যিনি এবার আমেরিকাস্থ কোম্পানীগঞ্জ সমিতির সভাপতির পদে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে পারাজিত হন), এক সময়ের সাবেক মেম্বার তাজুল ইসলাম পারিবারিক সম্মতি পেলে ভোটে প্রার্থী হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখনো চূড়ান্ত মতামত না দিলেও আত্মীয়-স্বজনরা মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবু ছায়েদ এর বড় ছেলে মাঈনুদ্দিন পিন্টুরও প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মৌলভী আলী আহম্মদ এর ২য় ছেলে নুরুল করিম মোল্লা এলাকায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সার্কেলে আলাপ-আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
এলাকায় অবস্থানকারীদের মধ্যে গোলাম হোসেন চৌধুরী রাফেল বর্তমান ২নং ওয়ার্ড এর মেম্বার, যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরুজ্জামান স্বপন, বর্তমান চরহাজারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেম্বার নুরুল হুদা (গত ইউ.পি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী), বর্তমান চেয়ারম্যান আল হারুন এখনো এ ব্যাপারে মুখ খুলে কিছু না বললেও নিজের মাঠের অবস্থান অবলোকন করছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান। আবু মাঝিরহাট মোহামেডান ক্লাবের দু’বার এর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান সহ-সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা ঢাকাস্থ চরহাজারী ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির যুগ্ম-আহ্বায়ক জাফর উল্যাহ এর নাম তার আপন লোকদের থেকে শোনা গেলেও এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করলে মুচকি হেসে প্রার্থীতার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যান। অনেকের ধারণা চূড়ান্ত ভোটের সময় এলে মাঠে ৩/৪ জন এর বেশি প্রার্থী থাকবে না। আমেরিকাপ্রবাসী জয়নাল হাজারী ও মাঈনুদ্দিন পিন্টু একই বাড়ীর হওয়ায় সর্বশেষ সে দু’জনের মধ্যে সমঝোতা করে যে কোনো একজন প্রার্থী হতে পারেন বলে তাদের স্বজনরা জানান। এদিকে নুরুল হুদা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন বলে জানা যায়। গত নির্বাচনের চেয়ে এবারে মাঠ পর্যায়ে সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তার ঘনিষ্ঠসূত্রে জানা যায়। আবু মাঝিরহাট কেন্দ্রে সর্বশেষ যেকোনো একজন সমঝোতা হয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে পারেন বলে অনেকে মন্তব্য করেন। এলাকার স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় আবদুল কাদের হাজারীকে নির্বাচনী মাঠে নামার জন্য শান্তিরহাট এলাকার বেশকিছু লোক প্রতিবার তাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য উৎসাহিত করে থাকেন। এব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমূলক কোনো কাজ করতে গেলে মানুষের সহজাত প্রশ্ন সৃষ্টি হয়, সেই অর্থে মানুষ প্রার্থী হওয়ার কথা বলে। বর্তমানে রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থনৈতিক জোগান না থাকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নামমাত্র বলে কাদের হাজারী মন্তব্য করেন। মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের দু’জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হচ্ছেন মাওঃ শাহজাহান ও আইয়ুব আলী হায়দার। বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে ডজন খানেক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে ৩/৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে নির্বাচনী মাঠ বিশ্লেষকরা মনে করেন। সর্বশেষ দলীয় সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগের যেকোনো একজন এবং বিএনপি ও জামায়াতসহ একজন প্রার্থী হতে পারেন। এদিকে প্রবাসীদের থেকে যেকোনো একজন মাঠে নামলে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি নুরনবী বাবুল ও সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ দলের সিদ্ধান্তের ওপর ও সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন করে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেন।
-এ এইচ এম মুন্না