Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

অতিবৃষ্টিতে সুবর্ণচরে শসা চাষ ব্যাহত

সুবর্ণচর উপজেলায় এবার শসা চাষ ব্যাহত হওয়ায় এনজিও ঋণের দায়ে হতাশায় উপজেলার কৃষকরা। উপজেলার মোহাম্মদপুর ও চর ক্লার্ক ইউনিয়নের কৃষকগণ গত কয়েক বছর পর্যন্ত শসা চাষ করে লাভবান হয়ে আসছেন। ফলন ভালো, দামও বেশি পাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকগণ প্রতি বছরের ন্যায় এবার ৯৫০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ ও অন্যান্য সবজি যেমন ছিছিংগা ৪৫ হেক্টর, ধুন্ধুল ৩০ হেক্টর, বরবটি ৩৩ হেক্টর, ঝিংগা ২৫ হেক্টর, কলমির শাক ২৫ হেক্টর, করলা ২৬ হেক্টর, পুঁই শাক ২৫ হেক্টর ও অন্যান্য সবজি মিলিয়ে ৯৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কিশোর কুমার মজুমদার জানান, চলতি সবজি মৌসুমে উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ করে কৃষকেরা। এর মধ্যে শসা অন্যতম।
উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে চর আলাউদ্দিন গ্রামের মোস্তান নগর, আক্রাম উদ্দিন, চর লক্ষ্মী ও চর ক্লার্ক ইউনিয়নের চর তোরাব আলী গ্রামে সবচেয়ে বেশি শসা চাষ করা হয়। কিছুদিন আগে বয়ে যাওয়া নিম্নচাপ কোমেনের প্রভাবে অতি বৃষ্টি ও লোনা জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে শসাসহ অন্যান্য সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে গাছ লালচে বর্ণ ধারণ করে, গাছে থাকা ফল পঁচন ধরে পানিতে ভেসে যায়। উপজেলার কৃষকগণ ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়ে চাষে লোকসান গুনছে। চলতি বর্ষাকালে সবজি মৌসুমে ৯৫০ হেক্টর জমিতে শসাসহ অন্যান্য সবজি চাষ করা হয়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৩ হাজার ৯’শ ৩ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ক্ষতি হয়েছে ৪১৬ হেক্টর জমি। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৯’শ ৯২ মেট্রিক টন কম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঋণের দায়ে আবদ্ধ কৃষকের অবস্থা খুবই নাজুক। চর আলাউদ্দিনের মোস্তান নগর এলাকার কৃষক সোলেমান মাঝি জানান ৭ একর জমিতে শসার চাষ করে তার খরচ পড়েছে ৫৬ হাজার টাকা, বিক্রয় করেছেন তিনি ২৫ হাজার টাকা। বন্যার কারণে তার লোকসান হয়েছে ৩১ হাজার টাকা। চর আলাউদ্দিনের কৃষক বোরহান উদ্দিন জানান, ৫ একর জমিতে শসা চাষ করেছেন, খরচ পড়েছে ৩৫ হাজার টাকা, তিনি বিক্রয় করেছেন ১৫ হাজার টাকা, ২০ হাজার টাকা তার লোকসান হয়েছে। চর আকরাম উদ্দিন গ্রামের কৃষক বেলাল উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, সাহিদা খাতুন, নাছির মাঝি, ইউসুফ/ঠান্ডা মিয়া জানান, নিজ উদ্যোগে শসা চাষ করে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করে কোনোরকমে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বপ্ন দেখি। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া কোমেনের আঘাতে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। যে সমস্ত এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছি যেমন- ইউনাইটেড লিজিং কোম্পানি, ব্রাক, আশা, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করি। ঘূর্ণিঝড় কোমেনের কারণে আশানুরূপ ফলন ঘরে তুলতে না পারায় মহাজন ও আড়ৎদারদের দেনার দায়ে কৃষকেরা হতাশাগ্রস্ত। অন্যদিকে আড়ৎদার শেখ ফরিদ মিয়া ব্যাপারী, আড়ৎদার আবুল কাশেম, জামাল মেম্বার, আবু তাহের মাঝি, জসিম মাঝি জানান, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আড়ৎ খুলেছি কৃষকদের কাছ থেকে শসা পাওয়ার আশায়, মণ প্রতি ২০ টাকা কমিশনের আশায় দাদন দিয়েছি। বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কৃষকেরা আড়তে শসা দিতে পারছে না। আমাদের আড়ৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। কীভাবে কৃষকেরা দাদনের টাকা পরিশোধ করবে এই চিন্তায় আছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন মেয়াদে কিস্তির মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করার সুযোগ করে দেন এবং সরকার যদি কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করেন ও মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তার তদারকি বাড়িয়ে দেন, তাহলে সুবর্ণচরে ২ হাজার শসা চাষী তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে। এই ব্যাপারে কৃষকেরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।