Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

মোগল স্থাপত্যের শিল্প-নিদর্শন
নোয়াখালীর বজরা শাহী মসজিদ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তীর্থভূমি বাংলাদেশ। এখানে সকালে ঘাসের ডগায় বিন্দু শিশির থেকে শুরু করে রাতের আকাশে জ্যোৎস্নাময়ী চাঁদ, এসব নয়নাভিরাম সৌন্দর্য সকলের হৃদয় কাড়ে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এদেশে রয়েছে নানা স্থাপত্যের শিল্প-নিদর্শন, এসব স্থাপত্যশিল্পও দেশি-বিদেশিদের মনে কৌতুহল জাগায় একই রকমভাবে। অবিভক্ত ভারতবর্ষে মোগল সম্রাটগণ প্রায় ৩০০ বছর রাজত্ব করেন। এ দীর্ঘ সময়ে সম্রাটগণ এবং তাদের উচ্চ পদস্থরা ভারতবর্ষের বিভন্ন স্থানে অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, সমাধি, দরবার, প্রাসাদ ইত্যাদি নির্মাণ করেন। এগুলোর মধ্যে দিল্লীর শাহী জামে মসজিদ একটি অন্যতম স্থাপনা। দিল্লীর এ বিখ্যাত মসজিদের অনুকরণে দু’শ আশি বছর আগে জমিদার আমান উল্লাহ বজরা শাহী মসজিদ নির্মাণ করেন। এটি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭ নং বজরা ইউনিয়নের বজরা নামক স্থানে স্থাপত্যশিল্পের অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। ঐতিহ্যবাহী জেলা নোয়াখালীর প্রাণকেন্দ্র মাইজদী থেকে ১৫ কিঃ মিঃ উত্তরে এর অবস্থান। মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহ তার রাজত্বকালে(১৭১৯-১৭৪৮) আমান উল্লাহ ও মাগা উল্লাহ দু’ভাইকে দরবারের সহকর্মী হিসেবে বজরা অঞ্চলের দায়িত্ব দেন। আমান উল্লাহ তার বাড়ির সামনে পাড়যুক্ত ৩০ একরের একটি দিঘী খনন করেন। এ দিঘীর পশ্চিম পাড়েই মনোরম পরিবেশে আকর্ষণীয় তোরণ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এ মসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে পবিত্র মক্কা নগরীর তৎকালীন বুজর্গ আলেম হযরত মাওলানা শাহ সূফী আবুবকর সিদ্দিক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তার মৃত্যুর পর তাঁর বংশধরগণই এ মসজিদের ইমামতির দায়িত্বপালন করে আসছেন। তথ্যসূত্র মতে, ১১৫৩ হিজরী সন, ১১৩১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় এ মসজিদটি। মজবুত করার উদ্দেশ্যে ২০ ফুট নিচ থেকে এর ভীত তৈরি করা হয় বলে জানা যায়। এর গম্বুজগুলো সুদৃশ্য মার্বেল পাথর দ্বারা সুশোভিত। ধনুকাকৃতির প্রবেশপথ, কারুকার্যখচিত মেহরাবও এর সৌন্দর্যের ধারক।

এ মসজিদের প্রকৃত নাম শাহ আমান উল্লাহ মসজিদ হলেও পরবর্তীতে বজরা শাহী মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আজও তা বজরা শাহী মসজিদ হিসেবেই সুপরিচিত রয়েছে। মোগল স্থাপত্যের এ শিল্প-নিদর্শন স্বচক্ষে দেখার জন্য বাংলাদেশের মানুষের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকরাও ছুটে আসেন মুসলিম ঐতিহ্য বজরা শাহী মসজিদে। এ ঐতিহাসিক মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষার্থে দুর্লভ নিদর্শন চিহ্নসমূহ সংস্কার-সংরক্ষণ অতীব জরুরি। প্রতœতত্ত্ব বিভাগসহ যথাযথ কর্তৃৃপক্ষের সুনজর দ্বারা এ স্থানটি হয়ে উঠতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল। প্রশাসনের সদিচ্ছায় ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদের পরিচিতি, সুনাম, সুখ্যাতি, সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জেলাবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস।

জেনে নিন
দৈর্ঘ্যঃ ১১৬ ফুট, প্রস্থঃ ৭৪ ফুট, উচ্চতাঃ ২০ ফুট, দেয়ালের পুরুত্বঃ ৪ ফুট গম্বুজঃ ৩ টি, মিনারঃ মোট ২৪টি, গেইটঃ ২ টি, বিশ্রামাগারঃ ১ টি, দিঘীঃ ১ টি নির্মাণকালঃ ১১৫৩ হিজরী, ১১৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দ।
-এ. কে. আজাদ ফাহিম