Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন 

আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন ইট ভাটার মালিক মামুন

কাঠ পোড়ানো! বাংলা চিমনিসহ কৃষি জমিতে ইট ভাটা স্থাপন নিষেধ হলেও, আইনের প্রতি কোনো তোয়াক্কা না করে দিব্বি ইট পুড়িয়ে যাচ্ছেন মালিক মামুনুর রশিদ।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জের দক্ষিণে সুতার গোপটা নামক স্থানের পশ্চিমে “আল্লার দান” নামক ইটভাটায় চলছে পরিবেশ আইনের পরিপন্থি কাজ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐ ইটভাটায় দু’টি বাংলা চিমনি রয়েছে, যা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ধারা (২) এর উপধারা (ঘ) এর পরিপন্থি। উল্লেখিত আইনের ৬ নং ধারায় (জ্বালানী কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধ) রয়েছে আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইটপোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কোনো জ্বালানী কাঠ ব্যবহার করিতে পারিবে না। ১৬ নং ধারায় রয়েছে যদি কোনো ব্যক্তি ৬ নং ধারা লঙ্ঘন করিয়া ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানী কাঠ ব্যবহার করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৩ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ৩ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন। অথচ আল্লাহর দান ইট ভাটায় দেদারছে জ্বালানী কাঠের ব্যবহার হচ্ছে। ধারা ৮ উপধারা ১ এ উল্লেখ্য রয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ছাড়পত্র থাকুক বা না থাকুক, এই আইন কার্যকর হইবার পর নিম্নবর্ণিত এলাকার সীমানার অভ্যন্তরে কোনো ব্যক্তি কোনো প্রকার ইটভাটা স্থাপন করিতে পারিবে না। ধারা ০৮ উপধারা ০১ (এক) এর (ঘ) তে উল্লেখ্য রয়েছে কৃষিজমি, (ঙ) তে উল্লেখ্য রয়েছে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। ধারা ০২ এর উপধারা (ঝ) তে উল্লেখ্য রয়েছে “কৃষিজমি” অর্থ এমন কোনো জমি যা বছরে একাধিকবার কৃষিপণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
আল্লাহর দান ইট ভাটার আশপাশের জমিতে বর্তমানে ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপ করে জানা যায়- ধানের পরে মটর ডাল এবং শীতের মৌসুমে নানা প্রকার সবজির চাষ করা হয় এসব জমিতে। কৃষিনির্ভর ঐ এলাকার মানুষ জানায়, মামুনের ইট ভাটার কারণে কৃষিজমিতে আমরা ঠিকমতো ফসল পাচ্ছি না। বিশেষ করে ইটভাটার চার পাশের জমিতে ইটের ধুলা-বালি এবং বাংলা চিমনির কালো ধোঁয়ায় আমাদের কৃষি পণ্যগুলির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, আল্লাহর দান ইট ভাটার মালিক- মামুনুর রশিদ ভূঁইয়ার বাড়ি ভবানীগঞ্জ এলাকার ওয়াপদা অফিসের পাশে হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করতে পারছি না। কারণ আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ভবানীগঞ্জ, চৌরাস্তা এবং লক্ষ্মীপুরে যেতে হয়। উল্লেখিত জায়গায় মামুনের অনৈতিক প্রভাব রয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করলে মামুন এসব জায়গায় আমাদেরকে আটকাবে, মারধর করবে, এ ভয়ে আমরা নিজেদের ক্ষতি সত্ত্বেও মুখ বন্ধ করে আছি। এলকাবাসী আরো বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকেরা এসব ইটভাটা থেকে প্রতিবছর মোটা অংকের টাকা নেয়। না হয় বাংলা চিমনি দিয়ে কেউ ইটভাটা চালানোর ক্ষমতা রাখে না। কারণ কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপস্থিত কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান- আমরা এমন বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে পত্রিকার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করি.
-জাহাঙ্গীর লিটন