Sun Mercury Venus Ve Ves
বিশেষ খবর
লক্ষ্মীপুরে মডেল থানা পুলিশের আলোচনা সভা ও আনন্দ উদযাপন  লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের সংবাদ সম্মেলন  লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় ওসি (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার যোগদান  ঘর মেরামতে ঢেউটিন উপহার পেলেন লক্ষ্মীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম  রায়পুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত 

কৃষিকেন্দ্রিক শিল্পঃ আগামী নোয়াখালীর সম্ভাবনার সড়ক

[পূর্ব (অক্টোবর ২০১৫, পৃষ্ঠা ২৬) প্রকাশিতের পর]
প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য গড়ে তোলা সবুজ বেষ্টনী উপকূলের মানুষের একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা। একে রক্ষা করা ও নতুন নতুন বনাঞ্চল সৃজনের মাধ্যমে এর সম্প্রসারণ জরুরি। বনাঞ্চলের কারণে জমির স্থায়িত্ব, উৎপাদনশীলতা, বনজ সম্পদ সৃষ্টি, জ্বালানী কাঠ, জীব বৈচিত্রের উন্নয়ন আমাদের পরিবেশ সুরক্ষা করবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে জনপদকে রক্ষা করবে। নিঝুম দ্বীপ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। বনায়নের কারণে নিঝুম দ্বীপে একটি বিশেষ সম্ভাবনাময় অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে। পশু, পাখির স্বাধীন বিচরণ ক্ষেত্র হয়েছে। শীতের পাখিরা নিয়ে আসছে আমাদের জন্য আনন্দ সংবাদ। আমাদের পরিবেশ হয়ে উঠছে সবার বাসের উপযোগী। নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশ পর্যটন বিকাশে রাখতে পারে খুব ভালো ভূমিকা। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা আরো অনেক নতুন নতুন অভয়ারণ্য তৈরি করতে পারি। গড়তে পারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। রক্ষা করতে পারি জীববৈচিত্র এবং আমাদের বেঁচে থাকার সুরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ।
বয়ারচর আগামী সময়ের একটি বড় সম্ভাবনার জায়গা। এ চরে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ টাকার কলা উৎপাদন হয়। প্রতিবছর শুধুমাত্র শিমের বিচি উৎপাদন হয় কমবেশি তিনশ’ মণ। কিন্তু এসবই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এর প্রধান কারণ। বর্তমানে চর বসতি স্থাপন ও পুর্নবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার বয়ারচরে কাজ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের একটি পরিকল্পিত সভ্যতা তৈরিতে ভূমিকা রাখা জরুরি। বয়ারচরকে কেন্দ্র করে কমিয়ে আনা সম্ভব হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপের যোগাযোগ দূরত্ব। বয়ারচরে পূর্ব ও দক্ষিণদিক গভীর মেঘনার পাশে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখানে গড়ে তোলা সম্ভব একটি সমুদ্র বন্দর, যা নোয়াখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এখানে সমুদ্র বন্দর তৈরি হলে নোয়াখালীর শিল্প যোগাযোগ সমস্যার অনেকখানি সমাধান হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দিকে ঝুঁকেছে যুবকদের একটি অংশ। তারা স্থানীয় সম্পদ ও বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলছে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষেত্র। নারীদের একটি বিশাল অংশ যুক্ত হয়েছে কুটির শিল্প সংশ্লিষ্ঠ কাজে। অনেকে হোগলা পাতা, বাঁশ-বেত, পাটিপাতা ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে তা দিয়ে ব্যবসা করছে।
শেষ কথা
আজকের পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক, দারিদ্র্যমুক্ত ও সামাজিক ন্যায্যতা অভিমুখী লক্ষ্যে পৌঁছানোর নোয়াখালীর এ যাত্রাপথে প্রয়োজন ব্যাপক ঐকমত্য। আমাদের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। জলাবদ্ধতা, ভূমিহীনতা, লবণাক্ততা, খাসজমি বন্টনে অব্যবস্থাপনা, অনুন্নত যোগাযোগ, অপরিকল্পিত জেলাশহর ইত্যাদি সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাহলে সম্ভবনার ক্ষেত্রসমূহকে আমরা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে পারব।
-সমাপ্ত